Monday, March 9, 2015

সুবহানাল্লাহ অর্থাৎ শুন্যই আল্লাহ

আমরা কোন কারনে মুগ্ধ বা আশ্চর্য্যন্বীত হলে বলে থাকি সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহ মানে কী? কেউকি আমরা এটা জানি?

সুব্হ আরবি শব্দ , যার অর্থ শুন্য (sabh, meaning void)। সুবহান আল্লাহ মানে শুন্যই আল্লাহ।

আমাদের জানা সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে। আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। কেমনে কী? মাথাটা ঠিক আছে তো? এই বলছেন সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে , আবার বলছেন আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। যুক্তি বিদ্যা বলে একটা বিদ্যা আছে , সেটা কি জানেন? মুক্তমনার বোকা মেয়ের ৬০ টি প্রশ্নের একটি , যদিও ইদানিং প্রশ্নগুলোর লিঙ্ক মুক্তমনার প্রথম পাতায় আর দেখা যাচ্ছে না।

সমস্যা হলো আস্তিক নাস্তিক সকল যুক্তিবাদীরা ভেবে নিয়েছে আল্লাহ একটা কিছু (a thing) , সেকারনেই ধাঁধায় পড়ে যান। আসলে আল্লাহ কিছুই না , no thing. শুন্য। শুন্যের যেমন শুরু নেই জন্ম নেই , তেমনি আল্লাহর ও শুরু নেই জন্ম নেই। শূন্য যেন আমাদের দিয়েছে অসীমকে জানার প্রেরণা। আসলে শূন্য আর অসীম – একই সাথে পরস্পরের প্রতিচ্ছবি ও প্রতিপক্ষ।
সৃষ্টির আদিতে কিছুই ছিল না ইহসংসারে – এক শূন্য ছাড়া। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে ‘শূন্য’ থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি। অর্থাৎ ‘নাই’তেই ‘আছে’র জন্ম। ধাঁধার মতো লাগছে তো? ধাঁধাই বটে, কিন্তু মিথ্যে নয়। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার মহাপণ্ডিতদের দৃঢ় বিশ্বাস যে তার সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রকৃতির মাঝেই প্রতীয়মান শুধু নয়, বহুলাংশে দৃশ্যমানও।
( ref: "শুন্য থেকে মহাবিশ্ব" লেখক মীজান রহমান / অভিজিৎ রায়)


In quantum physics, a quantum fluctuation (or quantum vacuum fluctuation or vacuum fluctuation) is the temporary change in the amount of energy in a point in space, as explained in Werner Heisenberg's uncertainty principle.
Quantum fluctuation - Wikipedia, the free encyclopedia
en.wikipedia.org/wiki/Quantum_fluctuation

কুয়ান্টাম ফিজিক্সের শুন্য যেমন শুন্য নয় , কারন শুন্য থেকে কিছুই সৃষ্টি হয় না। এই শুন্যের ভিতরে শক্তি আছে , যার কুয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের ফলে ভার্চুয়াল পার্টিকেল তৈরি হয়। তেমনি আল্লাহ ও শুন্য নন , কারন আল্লাহ কোন তথ্য নন। Non information. তিনি নিজে তথ্য নন কিন্তু সকল তথ্যই ( মানুষ গরু ছাগল সহ এই মহাবিশ্ব ও এর ভিতরে যা কিছু দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব কিছুই) তার সৃষ্টি। 

আল্লাহর প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। এ কারনেই শুন্য। ওয়ালাম ইয়াকুন লাহু কুফুয়ান আহাদ। তিনি কারোর মতোই নন। তিনি সাদা নন কাল ও নন , তিনি আয়তাকার চতুর্ভূজ নন গোলাকার ও নন অর্থাৎ নিরাকার , তার শুরু নেই শেষ ও নেই অর্থাৎ তিনিই আলফা তিনিই ওমেগা , তিনি গুপ্ত গোপনীয় অপ্রকাশিত মিশরীয় গড আমুন, তিনি সর্বশক্তিমান কাহ্হার গ্রীক এপোলো , তিনিই ধ্বংসকারী শিব , তিনিই তাও .......... তবে যারা ভেবে থাকেন মেঘের উপরে আধশোয়া কোন বুড়ো গড বা সপ্তম আসমানের শেষ প্রান্তে কড়ই গাছের আড়ালে থেকে আল্লাহ বা চার মাথা ওয়ালা বিষ্ণু এই বিশ্বব্রমাণ্ড সৃষ্টি করেছেন , তারা ভুল লোককেই গড আল্লাহ বা ভগবান ভেবে বসে আছেন।

Friday, May 9, 2014

নাস্তিকতা - কতটুকু যৌক্তিক?

আমরা এমন এক যুগে বাস করি যেখানে সব কিছুই যুক্তি নির্ভর হতে হয়। অযৌক্তিক কোন বিষয়কেই মেনে নেয়া হয় না, কেউ সেটা মানলে সেটা তার ব্যাক্তিগত ব্যপার হতে পারে। যে কোন ধর্মের প্রথম শর্তই হলো অন্ধ বিশ্বাস, ইসলামেরও তাই।-সুরত আলী


নাস্তিকতার সাথে 'সর্বজনীন না' (universal negative) জড়িত যেটা যৌক্তিকভাবে ভুল/মিথ্যা বিশ্বাস (logical fallacy)  'আল্লাহ নেই' - নাস্তিকের এই ঘোষনার সাথে বিজ্ঞান বা বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। এটা নাস্তিকের একটি ভুল বিশ্বাস। কোন যুক্তি তর্ক ও বৈজ্ঞানিক গবেষনার উপরে ভিত্তি করে নাস্তিক এই ঘোষনাটি দেয় না বরং এই ঘোষনাটি দেয় অন্ধ বিশ্বাস থেকে।

বাস্তবতার বহু ডাইমেনশন আছে। বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ১০ টি ডাইমেনশনের খোজ পেয়েছেন বা বলা যায় কল্পনা করতে পেরেছেন। এর বাইরে যে ডাইমেনশন নেই বা আল্লাহর অস্তিত্ব নেই সেই দাবী করতে হলে নাস্তিককে বা বিজ্ঞানীকে বাস্তবতার সবকিছুই জানতে হবে , তারপরে ও সেকি যৌক্তিকভাবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে দাবী করতে পারে তার জানার বাইরে আর কোন অস্তিত্ব নেই?  না , পারে না। কারন জানার শেষ নেই। একারনেই 'সর্বজনীন না' (universal negative) একটি যৌক্তিক হেত্মাভাস (logical fallacy)।

কিছু নাস্তিক দৃঢ়তার সাথে বলে থাকে আল্লাহ নেই এবং বাকি নাস্তিকরা অন্ধ বিশ্বাসে তাদের অনুসরন করে।  আল্লাহ নেই , নিজস্ব জ্ঞান থেকে এই ঘোষনা কেউ দিতে চাইলে তাকে সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞানী এবং মহাবিশ্বের সকল জায়গায় একি সময়ে ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হাজির হওয়া লাগবে। কেন সেটা বুঝতে চাইলে ঐ নাস্তিককে প্রশ্ন করা যেতে পারে , সে কখনো ওয়াশিংটনস্থ লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসে গিয়েছে কিনা? উল্লেখ্য এই লাইব্রেরিতে ৭ কোটির উপরে বই , জার্নাল , ম্যাগাজিন ইত্যাদি আছে এবং এগুলো জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা যেমন : বিজ্ঞান , সাহিত্য , দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানী রথী মহারথীরাই লিখেছেন। এরপরে তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় -  লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের সকল বই , জার্নাল , ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে লিখিত সম্মিলিত জ্ঞানের কত শতাংশ আপনার নিজস্ব জ্ঞান হবে? উত্তর হবে জানি না বা যদি সাহসী হয় তাহলে বলবে ১%এর ভগ্নাংশ হতে পারে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যায় - আপনার নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বাইরে যে ৯৯.৯৯% জ্ঞান বিদ্যমান তার ভিতরে আল্লাহর প্রমান নেই , সেটা কি যৌক্তিকভাবে বলা যায়? 

আল্লাহ নেই নাস্তিকের এই দাবী যৌক্তিকভাবে বা বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ সম্ভব নয়। এটা একটা অন্ধ বিশ্বাস। কোন নাস্তিকেরই নাস্তিক হওয়ার মতো যথেষ্ঠ জ্ঞান নেই। যেমন ধরুন আমি যদি দাবী করি আপনার ঘরে কোন সরিষার দানা নেই , তাহলে এই দাবী করার আগে আমাকে আপনার ঘরের প্রতি বর্গমিলিমিটার জায়গা তন্ন তন্ন করে খুজতে হবে। যদি আপনার ঘর সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই না থাকে তাহলে এই দাবী কি ধোপে টিকবে? এই মহাবিশ্ব ও এর বাইরে যা আছে তার কতটুকু একজন নাস্তিক জানে যে সে দাবী করে আল্লাহ নেই?  কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই সে বিশ্বাস করে , এ মহাবিশ্ব নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে , এ জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই , মানে নেই , গন্তব্য নেই , নৈতিকতার কোন মাপকাঠি নেই।  এর থেকে বড় অন্ধ বিশ্বাস আর কি হতে পারে?

নাস্তিকের চিন্তা ও দাবী সেই জেলের মতো ,  যে দাবী করে সাগরে ১ ইঞ্চির ছোট কোন মাছ বা প্রাণী নেই। তার জালের ছিদ্র ১ ইঞ্চি এবং সেই জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতার আলোকেই সে এই দাবী করে। কারন তার জালে কখনোই ১ ইঞ্চির ছোট কোন প্রাণী  ধরা পড়েনি। লোকজন স্বভাবতই তার কথা বিশ্বাস করেনি এবং বলেছে সাগরে হাজারো প্রাণী আছে যা ১ ইঞ্চির ছোট। কে শোনে কার কথা? জেলের এক কথা , আমার জালে যা ধরা পড়ে না , সেটা মাছ না। নাস্তিকের ও এক কথা -  যা আমি দেখি না বা আমার বুঝে আসে না , তার অস্তিত্ব নেই। তার প্রকৃতির উপর এমনি অন্ধ বিশ্বাস যে অতিপ্রাকৃতিক (supernatural), আধ্যাত্মিক , অলৌকিক কোন কিছুর অস্তিত্ব সে আগেই নাকচ করে বসে আছে। 

নির্দিষ্ট করে বললে প্রতিটি নাস্তিক হলো এক একজন প্রকৃতিবাদী। প্রকৃতির বাইরে কোন কিছুর অস্তিত্ব সে তর্কে নামার আগেই বাতিল করে বসে আছে। সকল কিছুর ব্যাখ্যা ও প্রমাণ সে বিজ্ঞানের মধ্যেই খোজে। সেটা কেমন তা এক প্রফেসর ও তার ছাত্রের মাঝের এই কাল্পনিক বাতচিতেই ফুটে উঠেছে-

প্রফেসর: মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা কখনো ঘটে না। তুমি কি জান না , বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে অলৌকিক ঘটনা অসম্ভব , প্রকৃতিবিরুদ্ধ। তারপরেও তুমি কিভাবে বিশ্বাস করো আল্লাহ প্রার্থনার জবাব দেন , যীশু মৃত মানুষকে জীবিত করেন , ইত্যাদি--


ছাত্র: স্যার , জবাব দেয়ার আগে বিজ্ঞানের সংজ্ঞা নিয়ে দেখি একমত হতে পারি কিনা। এটা কি ভুল হবে যদি বলি , মহাবিশ্বে আমাদের চারপাশে আমরা যা কিছু পর্যবেক্ষন করি  তার প্রকৃতি ও কার্যকারন জানার জন্য মানুষের চেষ্টা ও কর্মযজ্ঞই  হলো বিজ্ঞান।

প্রফেসর: খুবি সুন্দর বলেছ। এটাই বিজ্ঞান।

ছাত্র: আর মিরাকল হলো এমন কোন ঘটনা , যা প্রকৃতির বাইরের কেউ ঘটিয়ে থাকে।

প্রফেসর: হ্যা , মিরাকলের এমন সংজ্ঞা মেনে নেয়া যায়।

ছাত্র: কিন্তু , আপনি তো প্রকৃতির বাইরে কোন কিছুর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না , যেকারনে আপনার কাছে মিরাকল অসম্ভব মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কী?

একজন সৎ নাস্তিক কখনো যৌক্তিকভাবে 'আল্লাহ নেই' এই দাবী করতে পারেনা। সে বরং বলতে পারে আল্লাহ আছে কি নেই আমি জানি না বা থাকলেও তিনি এই মহাবিশ্বের কোন কিছুতেই হস্তক্ষেপ করেন না। এদেরকে বলা হয় এগ্নস্টিক , যেমনটি আমার ব্লগের স্বঘোষিত আদিল মাহমুদ। এগ্নস্টিক ও কেন যৌক্তিকভাবে ভুল বিশ্বাস , তা নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।

A Muslim Convert Once More: Mu'tazilah: The Rise of Muslim Rationalism

A Muslim Convert Once More: Mu'tazilah: The Rise of Muslim Rationalism

Thursday, March 6, 2014

ইসলামের প্রথম জমানা থেকেই হাদিস বিরোধীতার শুরু

সম্প্রতি কিছু লোক আছে যারা হাদিস মানে না , তাফসির মানে না , তার পরে আবার নিজেদের মন মত কোরানের বানীর অর্থ করে। ভাবখানা আল্লাহ নতুন করে তাদের কাছে কোরান নাজিল করছে। সেটা না করে অবশ্য উপায়ও নেই , প্রচলিত কোরান , হাদিস , তাফসির গ্রহন করলে ইসলামের যে চেহারা দাড়ায় তা তাদেরকে লজ্জায় ফেলে দেয়।


যেমন একদল আছে যারা কোরানের নাসিক - মানসুক ( আয়াত রহিত/রদকরন ) মানে না। কারন এসব মানলে ইসলামের এমন চেহারা দাড়ায় যা সভ্য সমাজে গ্রহনযোগ্য হয় না। মুস্কিল হলো সাধারন মানুষ যারা কোরান হাদিস পড়ে না তারা কিন্তু এটা জানে না। আর মোল্লারা যারা এটা জানে , তারা বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে সাধারন মানুষের সামনে নাগাড়ে মিথ্যাচার করে যায়। বিষয়টা একটু ব্যখ্যা করা যাক---------

সম্প্রতি নয় , ইসলামের শুরু থেকেই হাদিস ও তাফসির না মানা মুসলমান বিদ্যমান ছিল। এদের হাতেই ছিল ইসলামের নবীর  মৃত্যু পরবর্তি শাসন ক্ষমতা। ইতিহাস থেকে জানা যায়- নবী জীবিত থাকা কালিন নবীর নির্দেশে আবুবকর ওমর সহ সকল সাহাবি তাদের কাছে রক্ষিত স্বলিখিত সকল হাদিস পুড়িয়ে ফেলেন। ওমর তার শাসনামলে সকল ধরনের হাদিস বর্ণনা ও প্রচার নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর কারন হিসাবে তিনি বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর বই 'কোরান' যথেষ্ঠ এবং তিনি চান না মুসলমানরা পূর্বের জাতিগুলোর ন্যায় রসূলের হাদিসকে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর বাণীকে গুরুত্বহীন করে ফেলুক। একারনে আমরা দেখতে পাই আবু হুরায়রা নিজেই স্বীকার করেছেন যে  বেতের ভয়ে ওমরের শাসনামলে তিনি কোন হাদিস বর্ণনা করেন নি। (উল্লেখ্য আব্বাসীয় আমলে বিব্লিওক্লাজম বা সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে ইসলামের শুরু থেকে পরবর্তী  ১৫০-২০০ বছরের যে ইতিহাস আমরা জানি তার সাথে সত্যের মিল সামান্যই বলে মনে হয়)

 অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে  যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষনের মাধ্যমে  ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত দলটি ইতিহাসে মুতাজিলা নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে ইব্রাহিম নাজ্জাম নামে এক বিখ্যাত মুতাজিলা নেতা ছিলেন , যিনি কোরানই ইসলামের একমাত্র উৎস বলে প্রচার করতেন এবং প্রচন্ডভাবে হাদিস ও সুন্নাহ বিরোধী ছিলেন। বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ সকল মুতাজিলাই কোরান অনলি মুসলমান ছিলেন।

সুন্নি ও শিয়া সুত্রানুসারে - মুতাজিলারা 'আহলে আদল ওয়া তাওহিদ' বা 'ন্যায় বিচার ও একেশ্বরবাদী' দল নামে পরিচিত। খলিফা আল মামুনের সময় মুতাজিলা মতবাদ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় ও বিস্তার লাভ করে। কাজি আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর সাথে মুতাজিলাদের রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটে। 

হাদিস বিরোধীতার সবচেয়ে পুরানো যে দলিল পাওয়া যায় , সেটা হলো ৭৬হিঃ/৬৯৫খৃঃ খলিফা আব্দুল মালেককে লেখা আব্দুল্লা ইবনে ইবাদের লেখা একটা চিঠি। উক্ত চিঠিতে কুফাবাসীদেরকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে কোরানকে পরিত্যাগ করে হাদিসকে ধর্মের ভিত্তি হিসাবে গ্রহন করার জন্য।"তারা এমন একটি বইতে বিস্বাস করে  যা আল্লাহর থেকে নয় , মানুষের হাত দ্বারা রচিত এবং এটাকে রসূলের বাণী বলে দাবী করে।"(Michael Cook, Muslim Dogma, Cambridge University Press, Cambridge, 1981)  


আব্বাসীয় আমলে ও পরবর্তিতে সেলজুক খলিফাদের শাসনামলে হাদীস বিরোধীদের  সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে হাদীস বিরোধী লেখা পাওয়া যায় না। তবে এদের উপস্থিতী ও যুক্তি সম্পর্কে জানা যায় শরিয়া আইনের জনক ও প্রবর্তক ইমাম শাফেয়ীর বই 'জিমা আল ইলম' ও ইবনে কুতাইবার লেখা থেকে। তাদের লেখা থেকে জানা যায় তাদের সময়ে হাদীস বিরোধীতা ছিল সর্বব্যাপি এবং তাদের লেখায় তারা হাদীস বিরোধীদের যুক্তিকে খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন।

 চতুর্দশ শতাব্দির দুই স্কলার আব্দুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ুতি (লেখক 'তাদরিব আর রাওয়ি' ১৩৭৯সাল) ও ইবনে হাজার ( লেখক 'হায়দাল-সারি' ১৩৮৩সাল) এবং বিংশ শতাব্দির পাক ভারত উপমহাদেশের সাইয়িদ আহমদ খান (১৮১৭-১৮৯৮) ও মিশরের মুহাম্মদ তৌফিক সিদকির ("al-Islam huwa ul-Qur'an Wahdahu" "Islam is the Qur'an Alone"১৯২০) লেখা পাওয়া যায়। এরা সকলেই হাদীস বিরোধী ও সমালোচক ছিলেন।

বর্তমানে পাকভারতের গুলাম মুহাম্মদ পারভেজ , ডাঃ শাব্বির , মিশরের রাশাদ খালিফা , আহম্মদ মনসুর , তুরষ্কের এডিপ ইয়ুকসেল হাদীস বিরোধী লেখা ও সমালোচনার জন্য অবদান রেখেছেন।

নবী মুহাম্মদ ভবিষ্যত (গায়েব) জানতেন কী?

কোরান থেকে উত্তর -

৫:১০৯ যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

৬:৫০ আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?

৭:১৮৮ আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। 

১০:২০ বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

১১:৩১ আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

২৭:৬৫ বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।

৪৬:৯ বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

 ভবিষ্যত ও ভবিষ্যতের জ্ঞান কেবল আল্লাহই জানেন এবং আমরা ততটুকুই অবগত যতটুকু আল্লাহ আয়াত/রেভেলেশনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। (3:44, 3:179, 11:49, 12:102, 30:2, 72:26-28)

যারা হাদীসে বিশ্বাসী , তাদের জন্য একটি সহী হাদিস-

বুখারি: ভল্যুম-৯, বই-৯৩,  নং-৪৭৭

Narrated Masruq:

'Aisha said, "If anyone tells you that Muhammad has seen his Lord, he is a liar, for Allah says: 'No vision can grasp Him.' (6.103) And if anyone tells you that Muhammad has seen the Unseen, he is a liar, for Allah says: "None has the knowledge of the Unseen but Allah."

মাসরুক বর্ণনা করেছেন:

'আয়েশা বল্লেন, "যদি কেউ বলে যে মুহাম্মদ আল্লাহকে দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না (৬:১০৩)। এবং কেউ যদি তোমাদেরকে বলে যে মুহাম্মদ অদৃশ্য দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো অদৃশ্যের জ্ঞান নেই"।

Saturday, March 1, 2014

হাজার বছরের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের বোঁঝা

মানুষের সহজাত ধর্ম হলো বাপদাদার ধর্মকে আকড়ে থাকা এবং তাদের ধর্মীয় স্কলারদের মতামতকে অন্ধভাবে অনুসরন করে নিজের ধর্মকেই সর্বশ্রেষ্ঠ গন্য করা। আজকের মুসলমানরাও এর ব্যাতিক্রম নয় , তারা ও শয়তানের ঐ একি ফাঁদে পড়েছে। তাদের দাবী গত হাজার বছর ধরে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের কাছ থেকে তারা যা কিছু উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে , তার সবই ইসলাম। হাজার হাজার খন্ড বই লেখা হয়েছে অতীতের এইসকল ঈমাম ও স্কলারদের ধার্মিকতা , ভক্তি ও ধর্মের জন্য অমানুষিক পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মহিমা বর্ননা করে। এই লোকগুলো ধার্মিক ও চিন্তায় সৎ ছিলেন কিনা তা আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন , তবে আজকের মুসলমানদের দাবী যেহেতু তারা ধার্মিক ও অধিকাংশ মুসলমানের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলেন , তাই তারা যে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তাই সত্য এবং এর কোন নড়চড় করা যাবে না। এই যুক্তির দুর্বলতা হলো একটি মানুষ ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্যে কোন ব্যাখ্যা বা নির্দেশ দিলে সেই ব্যাখ্যা বা নির্দেশ যে সঠিক হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই , কারন তার চিন্তা বা বিশ্লেষনে ভুল থাকতে পারে। তাই যদি না হবে তাহলে তো সকল ধর্মই সঠিক , কারন প্রতিটি ধর্মের স্কলার ও নেতারা বাহ্যিক ভাবে ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই যার যার ধর্মের প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন।

কোরানে আল্লাহ এই ভুল যুক্তির একটি সহজ উত্তর দিয়েছেন -
“সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।” (২:১৪১)

মজার বিষয় হলো , আজকের মুসলমানরা বহুধা বিভক্ত হলেও , প্রতিটি গোষ্ঠিই কোরানকে ঐশীগ্রন্থ হিসাবে মানে। কোরান নিয়ে তাদের কোন মতভেদ নেই , মতভেদ হলো স্ব স্ব ঈমাম ও স্কলারদের নির্দেশিত পথ ও ব্যাখ্যা নিয়ে। এইসকল স্কলার ও ঈমামদের মতের উপর ভিত্তি করে একজন আরেকজনকে কাফের , যিন্দিক আখ্যা দিতে তাদের বিন্দুমাত্র বুক কাপে না। আল্লাহ্‌র বানী তাদের কাছে মুখ্য নয় , তাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের দেখানো পথই মূখ্য। তাই যখনই কোরানের আয়াত দিয়ে তাদেরকে কোন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের ভুল দেখানো হয় , তখন তাদের জবাব হলো – গত হাজার বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলাররা যা করে চলেছেন তা ভুল হতে পারে না। এর অর্থ দাড়ায় কোরানের বানীর থেকে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের ধারনাই বেশি সত্য।

পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক , এই ধারনাই যূগে যূগে আল্লাহ্‌র বানীকে গ্রহন করতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা বিবেচিত হয়েছে। যখনি আল্লাহ কোন নবী বা রসূল কোন সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছেন , তারা , “পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক”, এই যুক্তিতেই ঐ নবী বা রসূলকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন।

“আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না। আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।“(২”১৭০)

যখন নূহ নবী তাদেরকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের জবাব -
“….আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি।” ২৩:২৪

যখন হূদ নবী আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ্‌র সাথে আর কাউকে পূজা করতে নিষেধ করলেন-
“তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই?” ৭:৭০

একি উত্তর নবী সালেহ ও নবী শোয়েবকে দেয়া হয়েছিল।
“…আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর?..” (১১:৬২)
“তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত?…” (১১:৮৭)


ইব্রাহিম নবী যখন চাঁদ সূর্যের উপমা দিয়ে যুক্তির মাধ্যমে এক আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের একটাই উত্তর -
“তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।” (২৬:৭৪)

যখনি মানুষ আল্লাহ্‌র বানীর মাধ্যমে নুতন কিছু শোনে , তখনি আশ্চর্য হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে , কারন তারা এমন কথা তাদের স্কলারদের কাছ থেকে কখনো শোনেনি। নবী মুহাম্মদ ও যখন কোরানের বানী প্রচার শুরু করেন , তখনো একি জবাব-
“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়।” (৩৪:৪৩)

আল্লাহ্‌র এই যে বিধান (সুন্নাতাল্লাহ) এর কোন পরিবর্তন নেই। এটা সর্বযূগে একি ছিল , আছে ও থাকবে।
“পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।” (৩৫:৪৩)

আজ তাফসীর ও হাদীসের হাজার হাজার বইয়ের ধুলার নিচে কোরান চাপা পড়ে গেছে। এর থেকে কোরানকে মুক্ত করা এত সোজা নয়।

Monday, September 30, 2013

কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ)


খুব সম্ভবত ইসলামের নবীর সাথে মক্কার কোন সম্পর্ক নেই। কারন কোরান পড়ে মনে হয় নবী কোন দিন মক্কায় যান নি বা মক্কায় তার জন্ম হয়েছে এমন কথা ও কোরানে লেখা নেই। এ আলোচনা অন্যদিন। আজ পর্যালোচনা করব কালো পাথরের চারিদিকে ৭ পাকে ঘোরা ও পাথরে চুমু খাওয়ার মতো প্যাগান প্রথা কিভাবে ইসলাম ধর্মে ঢুকে পড়ল তা নিয়ে।

ঠিক কি ঘটেছিল সেটা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে কোরানে বর্ণীত আমাদের জীবন সম্পর্কে দেয়া বিভিন্ন উদাহরন। সাধারনত যেটা ঘটে থাকে , যূগে যূগে বিভিন্ন  নবী রসূল একেশ্বরবাদ প্রচার করে গত হওয়ার পরে পরেই মানুষ আবারো দেব দেবী পাথর পুজা শুরু করে বা বলা যায় প্যাগান ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে। কোরান থেকে জানতে পারি নবীর সময়ের আরবের লোকেরা 'আল্লাত' 'আলউজ্জা' এবং 'মানাত' নামের দেব দেবীর পুজা করত (৫৩:১৯-২০) এবং প্রত্নতাত্বিক খননের ফলে এদের কিছু মূর্তিও পাওয়া গেছে। ইসলাম আরব থেকে এই সকল দেব দেবীর পুজা সম্পুর্ন রুপে বন্ধ করতে পেরেছিল এমন কোন তথ্য কোরানে নেই। বরং অমুসলিম সুত্র থেকে জানা যায়  নবী পরবর্তি উমাইয়া আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে প্যাগান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নুতন উদ্যমে বিস্তার লাভ করতে থাকে।

প্যাগান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখেই চলুন দেখা যাক বর্তমানের মক্কায় কি ঘটছে। আপনি যদি মক্কায় যান তাহলে দেখতে পাবেন , নিশি দিন মানুষ কিউব আকৃতির একটি পাথুরে ঘরের (ক্বাবা) চারিদিকে ৭ বার পাক দিচ্ছে। এই ঘরটি একটি কালো কাপড়ে (কিসওয়াহ) আচ্ছাদিত। এই ঘরের পূর্ব-দক্ষিন কোনে শীত কালীন সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কালো পাথর গাঁথা আছে , যাকে সকলে 'হাজরে আসওয়াদ' নামে জানে। 'হাজরে আসওয়াদের' মানে হলো- কালো পাথর। দেখতে পাবেন এই কালো পাথরে চুমু দেয়ার জন্য হাজিরা ঠেলাঠেলি করছেন বা অত্যাধিক ভিড়ের কারনে দুর থেকে হাত উচু করে ছালাম দিচ্ছেন। আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞসা করেন কেন পাথরে  চুমু খাচ্ছেন , তাহলে উত্তর পাবেন -  চুমু দিলে সকল গোনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে।

শীত কালীন সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে কালো পাথরটি যে নির্ভুল ভাবে বসানো আছে , সেটা  কাকতালীয়  নয়। নবীর সময়ে আরবের লোকেরা 'আল্লাত' নামের যে দেবীর পুজা করত , সেই দেবী হলেন উর্বরতার দেবী (fertility goddess)। এই দেবীর আচার অনুষ্ঠান সূর্য কেন্দ্রিক। প্যাগানদের বিশ্বাস শীত কালীন সূর্যোদয় সূর্যের পুনর্জন্মের জায়গাকেই নির্দেশ করে। কালো পাথরটিকে নিকট থেকে পর্যবেক্ষন করলে একে দেখায় প্রসবকালীন স্ত্রীজননেন্দ্রীয়ের মতো  , যার ভিতরে বাচ্চার মাথা দেখা যাচ্ছে। 

আরো একটু কাছে থেকে দেখুন। দেখবেন মানুষজন  জন্ম নিচ্ছে এই বাচ্চা দেবতার মাথায় চুমু খাচ্ছে। মাথায় চুমু খেয়ে মাফ চাওয়া আরবদের এক প্রাচীন প্রথা। আরব প্যগানরা নবজাতক শিশুর মতো সকল পাপ মুক্ত হওয়ার জন্য এই কালো পাথরের নবজাতক শিশুর মাথায় চুমু খেত।

কালো পাথরের চারিদিকে ৭ পাক ঘোরার এই প্রথাও অনেক প্রাচীন। কোরানপূর্ব  চতুর্থ শতাব্দিতে এপিফ্যনিয়াসের (Epiphanius) লেখা পান্ডুলিপিতে সূর্যের শীতকালীন দক্ষিনায়নের সময় (winter solstice) নাবাতিয়ান আরবের দেবী আল্লাত ও ধুশারার জন্মোৎসবের অংশ হিসাবে ৭ পাক ঘোরার বর্ণনা পাওয়া যায়।  আজো আরবের অনেক লোকে 'ছুবু' নামে এক উৎসব পালন করে, যেখানে এপিফ্যনিয়াসের বর্ণনা মতোই বাচ্চা জন্মের সপ্তম দিনে নবজাতককে কোলে নিয়ে বাড়ির চারিদিকে ৭ পাক ঘোরে।

উর্বরতার দেবী আল্লাত প্রাচীন কালে  সারা বিশ্বে ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পুজিত হতো। গ্রীসে- আফ্রোদিত, রোমে- ভেনাস, মেসোপটেমিয়ায়- ইশতার, ভারতে- মা কালী, আনাতোলিয়ায় - সিবেল এবং নর্স রুপকথায়- ফ্রিগা। এই দেবীর সাথে কালো পাথরের যোগ আছে। আজো সাইপ্রাসের পাফোসের নিকটে আফ্রোদিতের মন্দিরে একটি পবিত্র কালো পাথর সযতনে রাখা আছে।

মজার ব্যাপার হলো গ্রীক রুপকথা অনুযায়ী আফ্রোদিতের সৌন্দর্য এক কালো কিউবে রাখা আছে। কোরান পরবর্তি অষ্টম শতাব্দির রোমান খৃষ্টান সুত্র থেকে জানা যায় উমাইয়া খলিফাদের শাসন আমলে ও আরব প্যাগানরা আল্লাত তথা আফ্রোদিতের পুজা করত।

এই সাইপ্রাসে 'হালা সুলতান টেক্কে' নামে মুসলমানদের একটি পবিত্র তীর্থ স্থান আছে। এটি একটি মসজিদ মাজার কমপ্লেক্স এবং এটি এক নারীর সাথে জড়িত। কথিত আছে এই নারীর নাম উম্ম হারাম , যিনি ছিলেন নবী মুহম্মদের দুধ মা ও উবাদা বিন আল-সামিতের স্ত্রী। এখানে ও একটি পবিত্র কালো পাথর আছে এবং ভক্তরা একে মসজিদে নববির পরে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মনে করে।

উর্বরতার দেবীর সাথে শুক্রবার বা ফ্রাইডের যোগসুত্র আছে। উর্বরতার দেবী ফ্রিগার নামানুসারে এই দিনের নাম রাখা হয় ফ্রিগডে>ফ্রাইডে। কে জানে হয়তো বা শুক্রবার একারনেই মুসলমানদের জন্য এক পবিত্র দিন।

১২:১০৬- অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।


শয়তান বোকাও নয় বা চুপচাপ বসেও নেই। নিষ্পাপ হওয়ার ভালই টোপ ফেলেছে। সময় এসেছে ভাবার- শয়তানের টোপ গিলে হজ্বের নামে মক্কায় যেয়ে নিষ্পাপ হওয়ার লোভে আমরা পাথর পুজায় লিপ্ত হয়ে শিরক করছি কি না?




Hala Sultan Tekke