Wednesday, November 2, 2016

কোরান যথেষ্ঠ। (২)




বিশ্বাসীদের জন্য শুধুমাত্র আল্লাহ যেমন যথেষ্ঠ , তেমনি ধর্মীয় নির্দেশনার জন্য একমাত্র কিতাব কোরান যথেষ্ঠ।

আল্লাহ কোরানে বলেছেন , "আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়।"(৩৯:৩৬)

 তিনি আরো বলেন ,"হে মানুষ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।  (৩৫:৩)

 আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য প্রভু হিসাবে যথেষ্ঠ , "বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক?"(৬:১৬৪)

যতক্ষন পর্যন্ত বিশ্বাসীদের জন্য একমাত্র প্রভু আল্লাহ যথেষ্ঠ , ততক্ষন পর্যন্ত একমাত্র কিতাব কোরান ও তাদের জন্য যথেষ্ঠ। "এটাকি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্যে রহমত ও উপদেশ আছে।"(২৯:৫১)

উল্লেখ্য , উপরের সম্মানিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে নাবোধক প্রশ্নের মাধ্যমে পরিস্কার জানাচ্ছেন যে , আল্লাহ ছাড়া তাদের যেমন অন্য কোন প্রতিপালক নেই , তেমনি কোরান ছাড়াও আর কোন কিতাব নেই। এবং এই কোরানে তাদের জন্য রয়েছে উপদেশ ও রহমত। কোরানের বাইরে মানবরচিত কোন কিতাবকে অনুসরন করার কথা কোরানের কোথাও বলা হয়নি।            চলবে....

Friday, October 28, 2016

কোরান যথেষ্ঠ। (১)



 ধর্মীয় উপদেশ , বিধি নিষেধ ও  দিগনির্দেশনা জানার জন্য কোরান যথেষ্ঠ। এটা আমার কথা নয় বা হাদীসে বিশ্বাসীদের দোষারোপ করার জন্য ও নয় , বরং  কোরানের পরিস্কার আয়াত দিয়ে বংশ পরম্পরায় প্রচলিত কুসংস্কার ও মিথ্যা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে সকল পাঠক এই সত্যে উপনীত হতে চায় , তাদের সাথে আলোচনা করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।

 বর্তমানের প্রায় সকল মুসলমান বিশ্বাস করে কোরানের সাথে সাথে হাদীসকে অনুসরন করা অত্যাবশ্যক , কারন নবীর নামে প্রচলিত হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা এবং হাদিসের মাধ্যমে আমরা নবীর সুন্নত জানতে পারি। (নবীর নামে প্রচলিত হাদীস যে নবীর নিজস্ব কথা ও নয় বা তার সুন্নত ও নয় , তা একটু পড়াশুনা বা গবেষনা করলে জানা সম্ভব। সে আলোচনা আরেকদিন।)  আরেকদল আছেন যারা বিশ্বাস করেন কোরান যথেষ্ঠ , তবে এর বাইরে হাদীস বা আলেম উলামা ও ঈমামদের লেখা বই থেকে ভাল কিছু গ্রহন করার ভিতরে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আমরা যদি কোরানে বর্ণীত আল্লাহর পরিস্কার বাণী নিয়ে চিন্তা করি , তাহলে নিশ্চিত ভাবে জানতে পারি যে কোন মানব রচিত গ্রন্থের দরকার নেই। কারন কোরান পরিস্কার ব্যাখ্যা ও উপমা সহকারে লিখিত একটি বই এবং এতে প্রয়োজনীয় কোন কিছুই লিখতে বাদ দেয়া হয়নি। চলুন কোরানের আয়াত নিয়ে পর্যালোচনা করা যাক -

 আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই এবং মুসলমানদের জন্য কোরান ছাড়া কোন বই নেই....

 আল্লাহ বলেছেন , " নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না। আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।" ১৮:২৬-২৭
দেখা যাচ্ছে নবীর কাছে ও তার সাহাবিদের পাঠ করার জন্য একটিই কিতাব ছিল, সেটা কোরান। সে সময়ে বা ইসলামের প্রথম ৩০০ বছর না ছিল বুখারি মুসলিমদের হাদিস বই বা ঈমামদের কোন বই। কোরানের বাক্য পরিবর্তন করার কেউ না থাকলেও পরবর্তীরা আল্লাহর এই নির্দেশ উপেক্ষা করে কিছু কিছু আয়াতকে ঈমামরা বাতিল ঘোষনা (মানসুখ) করেছেন। আল্লাহ তার কর্তৃত্বে শরীক করেন না , এমনকি আমাদের নবীকেও। যেকারনে কোরানের আয়াত নাসেখ মানসুখ বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা নবীর নেই।        চলবে.......

Monday, September 28, 2015

ইসলাম ধর্মে জবরদস্তি নেই



    কোরান থেকে--

    ২:২৫৬ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন। 

    ১০:৯৯ আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসত সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? 

    ৬:১০৭ যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন। 

    ৭:১৯৯ আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক। 

    ১৭:৫৪ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি। 

    ৩৯:৪১ আমি আপনার প্রতি সত্য ধর্মসহ কিতাব নাযিল করেছি মানুষের কল্যাণকল্পে। অতঃপর যে সৎপথে আসে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই আসে, আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজেরই অনিষ্টের জন্যে পথভ্রষ্ট হয়। আপনি তাদের উকিল নন।

    ১০৯:৬ তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। 


    ইসলামের নবী এসেছিলেন ধর্ম প্রচার করতে , জোর জবরদস্তি করে কাউকে মুসলমান বানাতে নয় বা কেউ যদি নবীর বা কোরানের অবমাননা করে তার গর্দান কাটতে ও নয়। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা যারা ইসলামের অনুসারী তাদের ও কাউকে জোর করে মুসলমান বানানো বা ধর্মের অবমাননার জন্য গর্দান কাটার অধিকার আল্লাহ দেন নি। এ ব্যাপারে কোরানের নির্দেশ খুবি পরিস্কার -

    ৪:১৪০ আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন। 

    স্বাধীন ইচ্ছা / Free Will

    বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে শুরু থেকে এই পৃথিবীতে ভাল মন্দ বিভৎস যা কিছু ঘটছে , ঘটেছে ও ঘটবে , তার সবকিছুই আল্লাহ ঘটিয়েছেন , ঘটাচ্ছেন ও ঘটাবেন। আমাদের নিজস্ব কোন ইচ্ছা নেই বা কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। বুদ্ধিমানরা একটু চিন্তা করলেই একথাগুলো যে কত সত্য তা বোধগম্য হওয়ার কথা। আমাদের নিজস্ব কোন ইচ্ছাই নেই। আমরা সকলেই আল্লাহর হাতের পুতুল। সুতরাং নিঃসন্দেহে এই উপসংহারে আসা যায় যে আস্তিক কর্তৃক নাস্তিকের চাপাতির আঘাতে মৃত্যু ও আল্লাহর ইচ্ছায়ই ঘটেছে।

    আবার ভেবে বসেন না এগুলো আমার বানানো কথা। নিচের সুস্পষ্ট আয়াতগুলো পড়ুন--

    ৫৭:২২ পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

    ৩৭:৯৬ অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।

    ৭৬:৩০ আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

    ৮১:২৯ তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।

    ২৮:৬৮ আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তোমাদের কোন ক্ষমতা নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে উর্ধ্বে।


    স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই। বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমাদের মনে হয় , আমরাই বুঝি আমাদের ইচ্ছার মালিক । যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। না পারি না। এ সকলি মায়া। ইচ্ছা নির্ভর করে মানুষের জন্ম , বেড়ে ওঠা , শিক্ষা , পারিপার্শিকতা , কি ফলাফল বয়ে আনবে তার বিবেচনা ইত্যাদির উপরে। যার কোনটার উপরেই মানুষের হাত নেই। আমার দাদার সাথে আমার দাদির বিয়ে না হয়ে অন্য কোন মেয়ের বিয়ে হলে আমার জন্মই হোত না। এমনটি আপনি ও এই পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে একি পরিস্থীতিতে মানুষ বারংবার একি স্বীদ্ধান্ত নেবে। উপরে দেয়া ৭৬:৩০ ও ৮১:২৯ আয়াতদুটিতে স্পষ্ট বলা আছে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে আমাদের কোন ইচ্ছাই নেই।
    মুহাম্মাদ সাদাত
    "যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।"
    "যে ইচ্ছা করে, সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক।"
    "প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী।" [যথাক্রমে ১৮:২৯, ২৫:৫৭, ৭৪:৩৮ আয়াতের প্রাসঙ্গিক অংশ]


    ইচ্ছা করলেই যদি সৎপথে আসা যেত বা কাফের হওয়া যেত , তাহলে ইচ্ছা করে দেখুনতো কাফের হতে পারেন কিনা? আর যাদের অন্তর আল্লাহ সীল করে দিয়েছেন তারা কিভাবে বিশ্বাস স্থাপন করবে? এমনটি হলে ফুলবানু ও আকাশ মালিক অনেক আগেই মুমিন হয়ে যেত!! আল্লাহ চেয়েছেন বলেই আপনি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। আল্লাহ চেয়েছেন বলেই ফুলবানু ও আকাশ মালিক আল্লাহর বিরোধিতা করে চলেছে। এ থেকে এদের বা কারোরই মুক্তি নেই। 

    এ পৃথিবির প্রতিটি ঘটনার স্রষ্টা আল্লাহ। মানুষের জন্ম , মৃত্যু ও মৃত্যুর স্থান ও নির্দিষ্ট করা আছে। একারনে আপনার দাদার সাথে আপনার দাদিরই বিয়ে হতে হবে অন্য কারো হলে হবে না। আপনার বাবার সাথে আপনার মারই বিয়ে হতে হবে। নইলে আপনার জন্মই হোত না। আপনার বদলে বা আমার বদলে অন্য কেউ এখন এই পৃথিবীতে বিচরন করত।

    গত বছর গাড়িতে আগুনে বোমায় পুড়ে যে লোকগুলো ও শিশুগুলি মারা গিয়েছিল , তাদের ঐ গাড়িতেই ঐ সময়েই চড়তে হবে। অন্য গাড়িতে বা অন্য সময়ে নয়। যে বোমা মেরেছিল , তার অন্য কোন ইচ্ছাই হবে না। তাকে ঐ সময়েই বোমা মারতে হবে , অন্য কোন কাজ বা নিজের বৌর সাথে একদন্ড বেশি খোশ গল্প করে দেরি করার অবকাশ নেই।


    ৮:১৭ সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

    আরোপিত হাদিস (ইসনাদ)

    আরবিতে হাদিস বলতে বুঝায় - যে কোন ধরনের কথাবার্তা ,গাল গল্প , বিবৃতি ইত্যাদি। আমরা মুসলমানরা হাদিস বলতে বুঝি আমাদের নবী মুহাম্মদের কথা , নির্দেশ , বিবৃতি এবং বিভিন্ন সাহাবী কর্তৃক বিবৃত নবীর জীবণে ঘটা বিভিন্ন ঘটনার বিবরন , যাকে নবীর সুন্নাত বলা হয়ে থাকে। আজকের জমানায় লিখিত আকারে নবীর হাদিসের লিখিত যে বইগুলো পাওয়া যায় যেমন , বুখারি মুসলিমের সহীহ হাদিস গ্রন্থ , এগুলো সঙ্কলন ও লেখা হয়েছে নবীর মৃত্যুর ২০০/২৫০ বছর পরে। নবীর মৃত্যুর এত বছর পরে হাদীস লেখার পরে যখন এগুলোকে নবীর কথা ও কাজ বলে আরোপ করা হয় , তখন স্বভাবতই এগুলোর সত্যতা নিয়ে সকলের মনে সন্দেহ জাগাটাই স্বাভাবিক। এই সন্দেহ দুর করতেই ইসনাদের আগমন। ইসনাদ অর্থ ঠেকা দেয়া। , যেমন পড়ন্ত দেয়ালকে বাশ দিয়ে ঠেকা দেয়া , তেমনি হাদিসকে বাতিল হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ইসনাদ দিয়ে ঠেকা দেয়া হয়। ইসনাদ হলো , নবীর সময় থেকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে সকল লোক মুখে মুখে নবীর হাদিস মুখস্ত করে এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে পৌছায়ে দিয়েছে তাদের নাম ধাম। একেক প্রজন্মের সময় কাল ৪০ বছর করে ধরলে নবীর সময় থেকে বুখারী মুসলিমের সময়কাল পর্যন্ত ৫-৬ প্রজন্ম পেরিয়ে গেছে। এই ৫-৬ প্রজন্মের মাঝে কেউ বানিয়ে বানিয়ে কোন কথা ও কাজকে নবীর নামে চালিয়েছে কিনা বা নবীর কথার কোন পরিবর্তন করেছে কিনা তা বুখারি মুসলিমদের পক্ষে যতই গবেষনা করুক বা বাছ বিচার করুক না কেনো , জানা অসম্ভব। সুতরাং ইসনাদ দিয়ে কতটুকু হাদিসকে বাতিল হওয়া থেকে ঠেকা দেয়া গেছে তা জ্ঞানীদের গবেষনার বিষয়।

    ভূমিকা--

    ৮৩৩ সাল। আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের শাসনকাল। কবি আল-আত্তাবি বাগদাদের রাস্তায় মুড়ি খেতে খেতে হেটে প্রধান বাজার এলাকায় পৌছালেন। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ে খেতে খেতে হাটাকে খারাপ চোখে দেখা হোত বা বলা যায় মানীদের ইজ্জত চলে যেত। 

    কবির এক বন্ধু তার এই খেতে খেতে বাজারে আসা দেখে বল্লেন , কেমন তোমার আক্কেল ? তুমি খাচ্ছ আর লোকজন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। এটা কি ভাল হলো?

    কবি তাচ্ছিল্যের সাথে জবাব দিল , এরা আবার লোকজন হলো কবে? এরা তো গরু।

    বন্ধু তার এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করলে কবি বল্লেন , দাড়াও ! তোমাকে এক্ষুনি প্রমাণ করে দেখাচ্ছি , এরা মানুষ নাকি গরু?

    কবি বাজারের মাঝে উচুমতো এক জায়গায় উঠে চেচাতে লাগলেন , এই সকলে এদিকে আসেন , আজ আমি আপনাদের আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ মুস্তাফা (দঃ) সম্পর্কে কিছু বলব। একথা শুনে বাজারের লোকজন দৌড়ে এসে তার চারপাশে ভিড় জমালো। তিনি বলতে লাগলেন , আমি এক লোককে জানি যে তার বাপের কাছ থেকে শুনেছে , তার বাপ শুনেছে দাদার মামাত ভাইর কাছে , দাদার মামাত ভাই শুনেছে এক হুজুরের কাছে, হুজুর আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছে নবীর এই হাদিস টি। এই ভাবে তিনি একের পর এক আবু হুরায়রা , আয়েশা , ইবনে আব্বাস , আল খুদরি বর্ণীত হাদিস ইসনাদ সহকারে বলতে থাকলেন। উপস্থিত জনতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কথা শুনতে লাগল। তিনি সাইদি হুজুরের মতো এমনি মোহ বিস্তার করলেন যে ডান হাত উচু করলে উপস্থিত সকলের মাথা ডান দিকে ঘুরে আর বাম হাত উচু করলে বাম দিকে ঘুরে যায়। এ সময়ে তিনি অনেকের কাছ থেকে শোনা একটি মুতাওয়াতির হাদিস ইসনাদ সহকারে বর্ণনা করলেন - নবী বলেছেন , যে ব্যাক্তি তার জিহ্বার ডগা দিয়ে নিজের নাক চাটতে পারবে , সে নিশ্চিত বেহেস্তে যাবে। একথা শোনার সাথে সাথে সকলে জিহ্বা দিয়ে যার যার নাক চাটার চেষ্টা করতে লাগল। তখন তিনি পাশে দাড়ানো বন্ধুকে ফিসফিস করে বল্লেন , আমি তোমারে বলছিলাম না , এরা গরু। গরু যেমন জিহ্বা দিয়ে নিজের নাক চাটে, উপস্থিত এই জনতাকে ঠিক তেমনই গরুর মতো দেখাচ্ছে না!!


    কি এমন ঘটলো? এই লোকগুলোর বিচার বুদ্ধি কি কারনে লোপ পেলো যে তারা গরুর মতো জিহ্বা দিয়ে নাক চাটার চেষ্টা করতে লাগল? কারন টা আর কিছু না। ইসনাদ সহকারে হাদিস শুনলেই তাদের বিচার বুদ্ধি লোপ পায়। তারা ভেবে ও দেখেনা , নবী এমন কথা বলতে পারেন কী না বা এমন কথা কোরানের তথা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী কী না

    Monday, April 13, 2015

    মোল্লা VS নাস্তিক

    ফেসবুক থেকে পাওয়া--
    সৌজন্যে- গোলাম তারেক হাসান তমাল।


    (মোহাম্মদপুরের কোন এক চায়ের দোকানে কিছু তরুণ বসে আলোচনা করছে)
    ১ম তরুণঃ তাহলে বুঝছ তো? আল্লাহ যদি থাকতই, তাহলে সমাজে কি গরীব থাকতো? ঐ লোকটার কি দোষ যে আল্লাহ তাকে গরীব করে বানাইছে?
    (কথাটা কানে যেতেই দাঁড়িয়ে পড়ল মোল্লা। ভাল করে খেয়াল করল তরুণকে। মুখে ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি, DON 2 এর শাহরুখ খানের মত ঝুঁটি বাঁধা চুল, চে গুয়েভারার গেঞ্জি গায়ে... যাকে বলা হচ্ছে, সে সাধারণ একজন তরুণ। তাদেরকে ঘিরে বসে আছে আরও কয়েকজন, সবাইকে ভার্সিটি পড়ুয়াই মনে হল... বসল গিয়ে চায়ের দোকানে।)
    উৎসুক শ্রোতা পেয়ে ১ম তরুণ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল...
    মোল্লাঃ ভাই, আপনার যুক্তিটা তো বুঝলাম না। সমাজে গরীব আছে বলে স্রষ্টা নেই, এটা কেমন কথা হল?
    ১ম তরুণঃ স্রষ্টা থাকলে তিনি কি আর গরীব লোকদের কষ্ট দেখে চোখ বুজে থাকতেন? অবশ্যই তিনি তার সৃষ্টিকে কষ্ট দিতেন না।
    মোল্লাঃ এটা কোন কথাই হলনা। অনেক মানুষের অনেক টাকা পয়সা আছে, তারপরও তারা কষ্টে আছে। খালি গরীব হলেই কষ্ট, এটা ভুল। কষ্ট নাই, এমন কোন মানুষ পাইনি আমার জীবনে। কারো চেহারা নিয়ে কষ্ট, কারো টাক নিয়ে কষ্ট, কারো GF/BF কে না পাওয়া নিয়ে কষ্ট।
    (.. উৎসুক শ্রোতারা, আশেপাশের আরও কয়েকজন, যারা এতক্ষণ নাস্তিকতার কথা শুনছিল, কিন্তু পাল্টা যুক্তি দেখাতে না পেরে মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিল, সবাই মনোযোগ দিল)
    ...আপনার লজিকটা ভুল। অনেকটা এইরকম, NOKIA N8, N97 আর 6210 নিজেদের মধ্যে আলাপ করতেছে, “আমাদের মধ্যে যেহেতু বৈচিত্র্য আছে, সেহেতু NOKIA COMPANY বলে কিছু নাই”। এটা কোন কথা হল?
    (বিন্দুমাত্র না দমে...)
    ১ম তরুণঃ কিন্তু আল্লাহ আছে, এই প্রমাণ কেউ করতে পারেনি, এর কোন প্রমাণই নেই, আপনার কাছেও প্রমাণ নেই, খালি অন্ধ বিশ্বাস।
    মোল্লাঃ (দৃঢ়ভাবে) জী না, আমার কাছে প্রমাণ আছে। বরং স্রষ্টায় না বিশ্বাস করাটাই অন্ধ বিশ্বাস।
    পাশ থেকে কেউ একজন : “ কিভাবে?? Zakir Nayek এর logic দিবেন তো? ওইটা তো Zakir Nayek না, Joker Nayek, ওর logic এর অনেক flaw আছে।’’
    মোল্লাঃ আমি জাকির নায়েকের logic দিবনা। বরং আমি আপনাকে এমন প্রমাণ দিব যা আমাদের বাস্তবতা (Reality)কে পর্যবেক্ষণ করে নেয়া, যা চূড়ান্তভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করবে।
    (এবার তারা কিছুটা উৎসাহিত হল)
    দুইজন (সমস্বরে): কিভাবে?
    মোল্লাঃ দেখেন, আমাদের এই মহাবিশ্বটার যদি শুরু থাকে, তবে এই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে যে, তা কিভাবে শুরু হল?
    ১ম তরুণঃ কিন্তু মহাবিশ্ব তো শুরু নাও হতে পারে, অনন্তকাল ধরেও তো চলে আসতে পারে?
    মোল্লাঃ না, মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে চলে আসতে পারেনা, এর অবশ্যই অবশ্যই শুরু আছে।
    ১ম তরুণঃ আপনি এত Sure হলেন কিভাবে?
    (বাকিরা উৎসাহী নয়নে চেয়ে আছে...)
    মোল্লাঃ মনে করেন, আপনি বাসে উঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার সামনে আরও ৫ জন। আপনি কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
    কেউ একজনঃ ৫ জনের পর।
    মোল্লাঃ যদি আপনার সামনে ১০ জন থাকে, তাহলে??
    ১ম তরুণঃ ১০ জনের পর।
    মোল্লাঃ কিন্তু যদি আপনার সামনে অসীম সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে থাকে? তাহলে, কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
    (ব্যাপারটা হজম করতে সময় লাগল, কেউ কথা বলছেনা)
    মোল্লাঃ তারমানে আপনি কোনদিন বাসে উঠতে পারবেন না। কারণ আপনার সামনের লাইন কোনদিনই শেষ হবেনা (যেহেতু অসীম)। সুতরাং আপনার serial কখনই আসবেনা। এখন এই মহাবিশ্ব যদি অনন্তকাল ধরে চলে থাকে, তবে একটা প্রশ্ন করি, পৃথিবীর জন্ম কবে হয়েছে? উত্তর হবে, পৃথিবীর জন্ম এখনও হয়নাই, কখনই হবেনা, কারণ পৃথিবীর জন্ম হওয়ার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটতে হবে। আর অসীম মানে যার কোনও শেষ নাই, সেই ক্ষেত্রে পৃথিবীকে অনন্তকাল জন্ম হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যেরকম আপনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বাসে উঠার জন্য। আপনার সামনের লাইন কোনদিনও শেষ হবেনা, আপনিও বাসে উঠতে পারবেন না, পৃথিবীর সামনের লাইনও কোনদিন শেষ হবেনা। এখন মনে করি, পৃথিবীর সামনে সূর্য দাঁড়িয়ে আছে, জন্ম হওয়ার অপেক্ষায়, তারও কোনদিন জন্ম হবেনা, কারণ তার সামনের লাইনও তো অসীম! অসীমের সাথে ১ যোগ করলেও অসীম, ১ বিয়োগ করলেও অসীম, তাহলে আগের ঘটনাগুলোই যদি এখনও শেষ না হয়, তাহলে আমি, আপনি , পৃথিবী, সূর্য কোন কিছুরই অস্তিত্ব সম্ভব হতনা। অবশ্যই একটা ঘটনার মাধ্যমে মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে, তারপর ১, ২, ৩, ৪, করে করে ঘটনাগুলো ঘটতে আরম্ভ করেছে... এখন আমি আপনি চায়ের দোকানে আলাপ করছি!
    মাঝখান থেকে একজনঃ ভাই, আরেকটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
    মোল্লাঃ কঠিন হয়ে গেল? আচ্ছা, মনে করেন, আপনি শত্রু পক্ষের কাউকে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলি করবেন। আপনার উপর ৫ জন BOSS আছে, পর্যায়ক্রমে যাদের অনুমতি পেলে আপনি গুলি করবেন। এখন আপনাকে যদি অসীম সংখ্যক BOSS এর permission নিতে হয়, তাহলে আপনি কখন গুলি করবেন? আপনার permission নেয়াও শেষ হবেনা, গুলিও কোনদিন করতে পারবেন না। আপনার বাসায় যদি অসীম সংখ্যক মালামাল থাকে তাহলে কোনদিনই বাসা change করতে পারবেন না। কারণ মালামাল নামানো কোনদিনই শেষ হবেনা।
    (চায়ের দোকানদারকে)... ভাই, এক গ্লাস পানি দাও তো...
    তারমানে কোনও একটা ঘটনা যদি ঘটে, বুঝতে হবে যে তার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটেনি, ঘটেছে সীমিত সংখ্যক ঘটনা, আর সীমিত ঘটনা মানেই, একটা শুরু আছে, তারপর ঘটনা গুলো ঘটতে ঘটতে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে। সুতরাং মহাবিশ্বের অবশ্যই শুরু আছে। যেরকম ৫ জনের বা ১০ জনের পর আপনি বাসে উঠতে পারছেন, সেইরকম ৫টা, ১০টা বা ১০০টা ঘটনা ঘটার পর পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহাবিশ্বের শুরু আছে, এটা অনন্তকাল ধরে চলে আসা কোনও মহাবিশ্ব নয়।
    (বিংশ শতাব্দীর শুরুতে গণ্ডমূর্খ নাস্তিক INTELLECTUAL দের, যে যুক্তি, উঠতি তরুণ সমাজের মাঝে নাস্তিকতার হাওয়া যুগিয়েছিল, তার এরকম পতন দেখে হতবাক হয়ে গেল তরুণগুলো)
    (একটু নমনীয় সুরে...)
    ১ম তরুণঃ আপনার কথা ঠিক আছে... (অজানা ভয়ে... আমতা আমতা করে...) কিন্তু এতেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা আছে।
    মোল্লাঃ এখন অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা চলেই আসে, তাহলে মহাবিশ্ব কিভাবে শুরু হল, মানে সৃষ্টি হল। সে কি নিজেকে নিজে তৈরি করেছে, অর্থাৎ শুন্য থেকে নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে নাকি অন্য কেউ তাকে তৈরি করেছে?
    ১ম তরুণঃ আপনার যুক্তিটা কি? Stephen Hawkings কিন্তু বলেছেন যে, কোন স্রষ্টা ছাড়াই এই মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে তৈরি করেছে।
    মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে...) Grand Design বইটার কথা বলছেন তো? ঐ বইয়ের সমালোচনার জবাবে হকিংস নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন যে,
    “ স্রষ্টা নেই, এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা। কিন্তু বিজ্ঞান স্রষ্টাকে অপ্রয়োজনীয় বলে রায় দিয়েছে।’’
    সুতরাং, ঐ বই থেকেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা নেই। বরং লেখক নিজেই বলছেন যে, স্রষ্টাকে আমাদের দরকার নেই। দরকার নেই, আর স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই, দুইটা তো এক জিনিষ না। আর তাছাড়া বইটাতে বোকামিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
    (ব্যাপারটা হজম করতে না পারলেও, এই মোল্লার দৌড় যে শুধু মসজিদ পর্যন্ত না, তা তারা ভালই বুঝতে পেরেছে।)
    মোল্লাঃ তা ভাই, আপনার নামটা যেন কি?
    ১ম তরুণঃ রুম্মান।
    মোল্লাঃ চা চলবে ভাই?... এই মামা, চা দাও সবাইকে...
    রুম্মানঃ যা বলছিলেন, হকিংস...
    মোল্লাঃ ও, হ্যাঁ। উনি বলেছেন যে, Gravityর কারণে এ মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে।
    রুম্মানঃ তো, এতে সমস্যা কোথায়? Virtual Gravitons এর কারণে এই Gravity তৈরি হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি, শূন্য থেকে।
    মোল্লাঃ সমস্যা আছে। Gravity একটা গাণিতিক সমীকরণ। দুইটা বস্তুর মাঝে ভর অনুপাতে আকর্ষণ বুঝাতে এটা ব্যবহৃত হয়। তো মহাবিশ্ব যদি শূন্য থেকেই আসে, তাহলে সেখানে কোন বস্তু ছিলনা, তো Gravity কোত্থেকে আসল সেই সময়? এইখানে আপনি বলছেন যে Virtual Gravitons ছিল, তো সেই প্রশ্ন এসে যায়, এরা কি অনন্তকাল ছিল? অনন্তকাল ধরে থাকতে পারেনা। আর একটা জিনিষ নাই, ছিলনা, আবার সেটা হইল, আবার নাই আবার হইল, এইটাত পুরাই Irrational কথাবার্তা। আপনার সামনে আমি দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম, আবার দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম... Science দেখি সিন্দাবাদের দৈত্যের মত কথা বলছে, Infact তার চেয়েও আজগুবি কথা বলেছে হকিংস। এই কারনেই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বেরনেস গ্রিনফিল্ড হকিংস কে তালিবানদের সাথে তুলনা করে বলেছেন যে, “যা খুশি তারা বলতে পারে, তালিবানদের মত তারা যখন বলে আমাদের কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে, তখন তা আসলেই অস্বস্তিকর।’’ মানে Comment করতে তো আর পয়সা লাগেনা। Science বুঝেনা এরকম নাস্তিকরাই আসলে হকিংস রে নিয়ে কাউ কাউ করে। Richard Dawkins এইরকম একজন। আমাদের দেশের নাস্তিকগুলাও না বুইঝা ফালাফালি করে। অনেক বিজ্ঞানীই হকিংসের সাথে একমত না।
    ... আর gravity না হয় gravitons থেকে হইল, যেটার কারণে মহাবিশ্ব হইল, তাহলে gravitons কোত্থেকে হইলো? দ্বিতীয় আরেকটা প্রশ্ন হল, হকিংস শূন্য বলতে যে Quantum vacuum বুঝিয়েছেন, তা কিন্তু আসলেই শূন্য (nothing) না। সেখানে energy বিরাজ করত। এখন, energy আর gravity এই মহাবিশ্বেরই অংশ। হকিংসের কথার সাদামাটা মানে হল, আপনি নিজেকে তৈরি করেছেন শূন্য থেকে, নিজেকে তৈরি করার আগে আপনার হাত আগে থেকেই ছিল (যেটা আপনারই অংশ), তারপর সেই হাত আপনাকে তৈরি করেছে। তো প্রশ্ন হল, হাত কিভাবে ছিল? এটা একটা অবাস্তব কথাবার্তা।
    মহাবিশ্বের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত একটা জিনিষ, মহাবিশ্ব তৈরি হওয়ার আগে থেকেই ছিল, এরপর মহাবিশ্বকে তৈরি করে সে নিজেই মহাবিশ্বের পেটের ভেতর ঢুকে পড়েছে, How Funny??? Seems like fairy tales!! অর্থাৎ আপনি আগে থেকেই ছিলেন, এরপর আপনার মাকে আপনি বানাইছেন, বানাইয়া তার পেটের ভেতর ঢুকে বসে আছেন, আর মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি নিয়ে বেঁচে আছেন। LOL, মজা পাইলাম।
    (পুরা দোকান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে, কেউ বুঝতেছে, কেউ বুঝতেছেনা, তবে সাধারণ জনগণ চাচ্ছে মোল্লাই জিতুক। চায়ে চুমুক দিয়ে...)
    এর চেয়ে অবাস্তব কথা আর কি হতে পারে? এ থেকেই বুঝা যায়, মহাবিশ্ব শূন্য থেকে আপনা আপনি তৈরি হয়েছে, এরকম কোন সত্য প্রমাণ বিজ্ঞানের কাছে আদৌ নেই। এটা শুধু থিওরি হিসেবে হকিংসের কল্পনায় (Fantasy) আছে, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। না হলে কি আর হকিংস সাহেব বলতেন, “স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব নয়”
    এজন্যই আল্লাহ কুরআনে সুরা আত তুরে বলেছেন, “ তারা কি এমনি এমনিই তৈরি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? না তারা নভোমডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করেনা।’’
    রুম্মানঃ (ব্যঙ্গ করে), এ কথা আপনি মহাজ্ঞানী বুঝলেন, আর হকিংস বুঝলনা??
    মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে) হকিংস অজ্ঞানান্ধ (বিজ্ঞানে অন্ধ= অজ্ঞানান্ধ)। একজন রিকশাওয়ালাও তার চেয়ে Rational। এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিলো, “ চাচা, আল্লাহ আছে, এটা বুঝলেন ক্যামনে?” কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি উত্তর দিলেন,
    “ বাবারে, আমি প্যাডেল চাপি, চাক্কা ঘুরে, আর এতবড় দুনিয়া ঘুরতাছে, প্যাডেল তো কেউ একজন মারতাছে...”
    হকিংস সাহেবের এই বোধ বুদ্ধিটাও নাই। হাহাহাহাহা, দেখেন না, এখন কমেডি শোতে অভিনয় করা শুরু করেছেন! এদের ব্যাপারেই আল্লাহ কুরআনে সুরা আল আরাফে বলেছেন, “ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোজখের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করেনা, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখেনা, তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শুনেনা। তারা চতুষ্পদ জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, উদাসীন।’’
    ২য় তরুণঃ তাহলে কি দাঁড়ালো? মহাবিশ্ব অসীম নয়, এর শুরু আছে। শুরুটা সে নিজে নিজে করেনি। তারমানে অবশ্যই কেউ একজন এই মহাবিশ্বকে শুরুতে সৃষ্টি করেছেন। ... (কিছুক্ষণ ভেবে) কিন্তু একটা সমস্যা তো রয়েই যাচ্ছে। তাহলে ঐ স্রষ্টা আসল কোত্থেকে? উনাকে কে বানাইছে?
    ★ (মোল্লাকে আটকানো গেছে ভেবে কতগুলো চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। বাকিরা দম বন্ধ করে ফেলল)
    (চায়ে ধীরেসুস্থে চুমুক দিল মোল্লা। সবাই উৎসুক চোখে চেয়ে আছে।)
    পাশ থেকে একজন খোঁচা মেরে বললঃ এটা তো শয়তানের প্রশ্ন। তুই তো শয়তান হয়ে গেলিরে।
    (হাসির রোল উঠল...)
    মোল্লাঃ স্রষ্টাকে যদি অন্য কেউ বানায়, তাহলে প্রশ্ন আসে, তাকে কে বানাল? সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এবং এভাবে ব্যপারটা আবার অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে। একটু আগেই কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, কোন অসীম সংখ্যক ঘটনা সম্ভব নয়। তারমানে হোল, এই মহাবিশ্বের যিনি স্রষ্টা, তার কোন স্রষ্টা নেই।
    রুম্মানঃ তাহলে তিনি অস্তিত্বে আসলেন কিভাবে? তিনি কি নিজেকে নিজেই বানিয়েছেন ?
    মোল্লাঃ তাও সম্ভব নয়। একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেকে নিজে কিভাবে বানাবে? আর নিজে যদি নিজেকে বানায়, তারমানে, নিজেকে বানানোর আগে তিনি ছিলেন না। নিজেকে যখন বানালেন তখন থেকে তার শুরু, তো কি দিয়ে বানালেন? আর শুরু মানেই তিনি সীমিত। আর তাকে যদি কেউ বানায়, তা নিজেই নিজেকে বানাক আর অন্য কেউ তাকে বানাক, এখানে physical properties চলে আসে। physical properties মানে তিনি নিয়ন্ত্রিত, তার উপর বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়েছে, তাকে অন্য কারো ইশারায় চলতে হয়, তিনি স্বাধীন না। অথচ স্রষ্টা হতে হলে তাকে হতে হবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন এবং অনির্ভরশীল। আর মূল কথা হল, একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেরে কিভাবে, কি দিয়ে বানাবে? শূন্য থেকে আপনা আপনি কিছু হয়না, এটা তো আমরা একটু আগেই আলোচনা করলাম।
    রুম্মানঃ তাহলে স্রষ্টা আসল কোথা থেকে?
    মোল্লাঃ তিনি অসৃষ্ট। তিনি কোথাও হতে আসেন নাই। তিনি আগে থেকেই ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
    (গুঞ্জন উঠল ভিড়ের মধ্যে, “এটা কি হল, বুঝলাম না”... “অসৃষ্ট মানে?”...“তাহলে মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়...?”)
    (কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল মোল্লার।)
    মোল্লাঃ আমার বক্তব্যটা একটু গুছিয়ে বলি। মহাবিশ্বকে Study করে আমরা বুঝলাম যে তার একজন স্রষ্টা আছে, তাইনা?
    (আশপাশে তাকিয়ে তেমন একটা support পেলনা মোল্লা। দুই একজন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল)
    মহাবিশ্ব, স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব না। এখন এই স্রষ্টাকে, হয়, কেউ তৈরি করেছে, না হয় তিনি নিজেকে নিজে তৈরি করেছেন। এ দুইটা বাদ দিলে মাত্র একটাই Option থাকে। আর তা হল স্রষ্টা অসৃষ্ট। এর বাইরে আর কোন Option নাই। প্রথম দুইটা Point যে ভুল, তা আমি আলোচনা করেছি। আর বাকি একটাই Option থাকে যে, তিনি একজন অসৃষ্ট স্রষ্টা (Uncreated Creator)। তিনি যদি অসৃষ্ট (Uncreated) না হন, তাহলে তিনিও ‘সৃষ্টি’ (Created) হয়ে যান। আমাদের বুঝতে হবে যে, ‘স্রষ্টা’ (Creator) আর ‘সৃষ্টির’ (Created) মধ্যে পার্থক্য আছে। সৃষ্টি মানেই সীমাবদ্ধতা (Limitation), নির্ভরশীলতা (Dependency), দুর্বলতা (weakness)। কিন্তু স্রষ্টা এসকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে। এজন্যই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করা যায়না। তাকে হতে হবে অসৃষ্ট (Uncreated)।
    (এতক্ষণে কয়েকজন বুঝল, কিন্তু প্রশ্ন শেষ হয়নি)
    রুম্মানঃ মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়? আর স্রষ্টার যে বৈশিষ্ট্য আপনি বলেছেন, তা তো কল্পনায়ও আনতে পারছিনা। পুরোপুরি বোধগম্যও হচ্ছেনা!
    মোল্লাঃ মহাবিশ্বের ব্যপারটা তো বললামই, সে সীমিত (Finite), সে অস্তিত্বের জন্য নির্ভরশীল। আর যে অস্তিত্বের জন্য অন্য কারো উপর নির্ভরশীল, সে তো সৃষ্টি (Created)। এজন্যই তো সে অসৃষ্ট (Uncreated) নয়, তার একজন স্রষ্টাকে দরকার, কিন্তু স্রষ্টার অন্য কোন স্রষ্টাকে দরকার নেই। আর স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য বোধগম্য হচ্ছেনা, স্বাভাবিক। স্রষ্টার Reality আর আমার আপনার Reality এক না। একটা Unknown Reality কে আপনি Known Realityর সাথে Match করাতে পারবেন না।
    ২য় তরুনঃ বুঝলাম না।
    মোল্লাঃ মনে করেন আপনি কোনদিন আমেরিকার সাদা চামড়ার মানুষ দেখেন নি। এখন কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, আমেরিকার মানুষের চামড়া সাদা, তো, আপনি কি বুঝবেন? আপনি বলবেন, দুধের মত সাদা? সে বলবে, না লাল সাদা। আপনি হয়ত বলবেন, দুধের মধ্যে আলতা দিলে যেরকম হয়, সেরকম?
    (চায়ে চুমুক দিয়ে মোল্লা দেখল চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। পাশে রেখে দিল)
    মোদ্দা কথা হচ্ছে, একটা অজানা Reality সম্পর্কে যদি আপনাকে এসে বলা হয়, আর আপনি যদি তা Sense করতে না পারেন, তবে কোনদিনই বুঝবেন না ঐ Reality কেমন। ঐ Reality বুঝতে হলে আপনাকে ঐ Reality তে অবস্থান করতে হবে। স্রষ্টার Reality আমাদের বুঝার বাইরের Reality, যা আমরা কখনই বুঝবনা। এজন্যই, হাদিসে, আল্লাহ কেমন, কিভাবে কাজ করেন, কেমনে থাকেন এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ একটা অজানা Reality সম্পর্কে চিন্তা করতে গিয়ে আমরা শুধু Fantasy নিয়ে পড়ে থাকব... এ কারনে আমরা মহাবিশ্বকে Study করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারি, কিন্তু তিনি কেমন, কিভাবে থাকেন, কিভাবে কাজ করেন, তা প্রমাণ করতে পারিনা, এটা আমাদের আয়ত্তের বাইরে।
    মাঝখান থেকে একজনঃ ও, সেজন্যই বুঝি স্রষ্টার কোন মূর্তি থাকতে পারেনা! ছবি থাকতে পারেনা? কারণ, তাকে যদি নাই দেখলাম, তার বাস্তবতা যদি নাই বুঝলাম, তাহলে তার মূর্তি বানালে তো তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়। তাকে তো দেখিইনাই কোনদিন, মূর্তি বানাব কেমনে? মূর্তি তো বানাব আমার কল্পনা দিয়ে, কিন্তু সেটা তো আর স্রষ্টা নয়!
    (প্রশংসার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল মোল্লা, ভাবল, “নাহ, সব নাস্তিক গাধা না।”)
    মোল্লাঃ Exactly! আপনি সঠিক Point টাই ধরেছেন। এ কারণেই ইসলাম বলেছে স্রষ্টার সাথে এ মহাবিশ্বের কোন কিছুর তুলনা করা যায়না। তিনি অতুলনীয়। তাই, মূর্তি বানালে স্রষ্টার উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়।
    (রঙ্গমঞ্চে এবার নতুন একজন আবির্ভূত হলেন।)
    তিনি বললেনঃ তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent?
    (মোল্লা ঘুরে তার দিকে তাকাল। মাঝবয়সী ভদ্রলোক, এক কোণায় বসে মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিলেন এতক্ষণ। এঁর কাঁচাপাকা চুলও ঝুঁটি বাঁধা, চওড়া কপাল, ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি, ফুলরীমের চশমা সেইরকম একটা ভাব এনে দিয়েছে চেহারায়... মোল্লা বুঝল, Tough Guy... মজাটা শুরু হবে এখন...)
    মোল্লাঃ জী, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent।
    (মৃদু হাসলেন ভদ্রলোক)
    মাঝবয়সী বাবুঃ আপনি কি Quark এর কথা শুনেছেন? Quark কে কিন্তু আমরা প্রকৃতিতে আলাদাভাবে ... মানে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পাইনা। সুতরাং একে আপনি Limited বলতে পারবেন না। আবার একে নিয়ন্ত্রণও করা যায়না, মানে অন্য কেউ ওর উপর খবরদারি করতে পারেনা, সুতরাং একে Independent বলতে পারেন। তাহলে কি বলতে চাচ্ছেন, Quarkই আপনার আল্লাহ?? (হা হা হা)
    মোল্লাঃ আপনার এই কথাটাই Atheist Bangladesh Group এর Admin আমাকে বলেছিল। তখন আমি Quark সম্পর্কে জানতাম না। তাই একটু ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি, (হাত দিয়ে মাছি তাড়াবার ভঙ্গি করল মোল্লা)। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, Quark কে Laboratory তে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, এর ভর আছে, এর ঘূর্ণন আছে। সুতরাং একে আপনি Independent বলতে পারেন না। আর ধারণা করা হয়, Big Bang এর শুরুতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে এরা প্রকৃতিতে বিরাজ করেছিল, সুতরাং ‘Unlimited’ একটা জিনিষ ‘Limited’ মহাবিশ্বে বিরাজ করতে পারেনা। আপনি আমার আলোচনা এতক্ষন শুনে থাকলে বুঝবেন।
    মাঝবয়সী বাবুঃ আল্লাহর ও তো বৈশিষ্ট্য আছে, তিনি কি জানি... (মনে করার ভান করলেন) আর রহমান, আর রহিম, বেগারা, বেগারা, তাহলে তাকে Dependent আর Limited বলছেন না কেন?
    (ব্যাটার নির্বুদ্ধিতায় বিরক্ত হল মোল্লা, ভাবল, “গাধা কি আর গাছে ধরে?” চেহারায় ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ)
    মোল্লাঃ উনি যে রহমান, রহিম এগুলা উনার Personality, এগুলা কোন Physical বৈশিষ্ট্য না। Quark এর বৈশিষ্ট্যগুলা Physical বৈশিষ্ট্য, Personality না। আর ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্য মানেই এগুলো আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে, তার মানে আপনি Independent না, আপনি খাঁচার ভেতর অচিন পাখি। আপনার হাত দেড় ফুট লম্বা, এটা Physical বৈশিষ্ট্য, কিন্তু আপনি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করেন, এটা আপনার Personality, Physical Property কাউকে Limited করে তোলে কিন্তু Personality কাউকে Limited করেনা।
    (একটু যেন দমে গেলেন ভদ্রলোক)
    মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু... সবপারে, অর্থাৎ Omnipotent একজন স্রষ্টার কিন্তু সমস্যা আছে। আত্মবিরোধের সমস্যা।
    (মোল্লা বুঝতে পারল অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা এবার ধেয়েই আসছে...)
    মাঝবয়সী বাবুঃ বলেন, আল্লাহ কি এমন কোন পাথর তৈরি করতে পারেন, যেটা উনি ধ্বংস করতে পারেন না? আপনি যদি বলেন, পাথর তৈরি করতে পারে, তাইলে তিনি ধ্বংস করতে পারবেনা, আর যদি বলেন এমন পাথর তৈরি করতে পারেন না, তাইলে তো আর এই স্রষ্টা সবকিছু পারেনা। দুইদিকেই সমস্যা। আত্মবিরোধ, সুতরাং আল্লাহ সবকিছু পারেন না!
    (সবগুলা চোখ এখন মোল্লার দিকে)
    মোল্লাঃ এটা একটা Logical প্রশ্ন, রাইট?
    মাঝবয়সী বাবুঃ (মৃদু হেসে) হ্যাঁ।
    মোল্লাঃ Logic সবসময় একটা Premise এর উপর ভর করে চলে। এই প্রশ্নটার Premise হল, “আল্লাহ সবকিছু পারেন”। এই কথাটার উপর ভিত্তি করে প্রশ্নটা করা হয়েছে। আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দিব, তার আগে বলেন, আল্লাহ সবকিছু পারে, এটা আপনাকে কে বলেছে?
    মাঝবয়সী বাবুঃ তারমানে, আল্লাহ সবকিছু পারেনা?
    মোল্লাঃ না, আল্লাহ সবকিছু পারেনা।
    (বোম্ব ফাটল যেন। উল্লাসধ্বনি শোনা গেল নাস্তিক শিবির থেকে। এই স্বীকারোক্তিতে মাঝবয়সী বাবুও হতভম্ব হয়ে গেলেন। আস্তিকরা দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। মোল্লা চুপচাপ, শান্ত।)
    মাঝবয়সী বাবুঃ তাহলে আপনার আল্লাহ সবকিছু পারেনা? হাহা (ব্যঙ্গ করে), তাহলে তিনি স্রষ্টা হওয়ার যোগ্যতা হারালেন। এরকম অযোগ্য স্রষ্টার দরকার নেই।
    (রুম্মান চুপচাপ, সে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। বুঝতে পারল, এত সহজে ঘায়েল করা যাবেনা মোল্লাকে)
    মোল্লাঃ আল্লাহ সবকিছু পারেন না। তিনি ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না, মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, অবিচার করতে পারেন না। কারণ এ কাজগুলো যদি তিনি করেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকেন না। এ কাজগুলো যদি তিনি পারেন, তবে তিনিও আমাদের মত ঘুম, খাওয়া দাওয়া স্বার্থপরতা এইসবের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। আর স্রষ্টার পক্ষে এই ধরনের কাজ সাজেনা। সব কিছু যদি উনি পারেন, তাহলে উনার পক্ষে স্রষ্টা হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে, আমি আপনি না হয় স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বলি, ক্লান্ত হলে ঘুমাই, কিন্তু স্রষ্টার মিথ্যা বলার দরকার কি? ঘুমানোর দরকার কি? তিনি এসব দুর্বলতা থেকে মুক্ত বলেই তিনি স্রষ্টা। এই ব্যপারে কুরআনে আয়াতুল কুরসিতে বলা আছে। এইসব কাজ স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাঙ্ঘর্শিক। তিনি এই ধরনের Ungodly কাজ করতে পারেন না। আর আল্লাহ নিজেও কখনও দাবি করেন নি যে, তিনি “সব পারেন” বরং তিনি বলেছেন, “সবকিছুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।’’ মানে সবকিছুকে control করার, destroy করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
    (একটু ইতঃস্তত ভাব যেন দেখা গেলো মাঝবয়সী বাবুর মাঝে, তবে হার মানতে নারাজ তিনি)
    মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু আমার প্রশ্নের সাথে তো আপনার উত্তরের কোন মিলই নাই। আমি কি জিজ্ঞাসা করলাম, আর আপনি কি উত্তর দিলেন?
    মোল্লাঃ আমি ভেবেছিলাম, আপনি জ্ঞানী, বুঝে নিবেন। (দুইপাশে হাত ছড়িয়ে) যাই হোক, ঐ যে বলছিলাম, প্রশ্নটার premise ভুল। এই প্রশ্নে ধরা হয়েছে যে, “স্রষ্টা সবকিছু পারে”। এই ভিত্তিতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “স্রষ্টা কি এমন কোন পাথর বানাতে পারে যা তিনি ধ্বংস করতে পারেন না?’’ premise ভুল এই কারনে যে, আমি একটু আগেই বললাম, স্রষ্টা আসলে সবকিছু পারেনা, উনি Ungodly জিনিস করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, এই প্রশ্নটার structure এও ভুল আছে। এই প্রশ্নটা logical প্রশ্ন। একটা Universal truth কে base ধরে এই method এ logic দাঁড় করান হয়। এই method কে বলা হয় logical deduction method। কিন্তু এই প্রশ্নটায় universal truth কে base ধরে করা হয়নি।
    (একটু চিন্তা করে)
    যেমন ধরুন, ‘মানুষ মরনশীল’ এটা একটা সার্বজনীন সত্য। এটাকে premise ধরে প্রশ্ন করা হল, ‘রহিম একজন মানুষ, রহিম কি মরণশীল?’.. কিন্তু আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তাতে বলা হয়েছে, এমন কোন বস্তু তৈরি করা যাবে কিনা, যা স্রষ্টা ধ্বংস করতে পারেনা? আমাদের আশপাশে এমন কোন উদাহরন নাই যেখানে কেউ কোন কিছু বানাল অথচ তা নষ্ট করতে পারেনা। আপনি যদি একটা গ্লাস বানান, আপনি জানেন, কত জোরে আঘাত করলে তা ভেঙ্গে যাবে। আপনি একটা কম্পিউটার বানালে জানেন যে, পানিতে চুবাইলে এইটা শেষ। এটা কখনই সম্ভব না যে, কেউ কোন একটা জিনিসকে তৈরি করেছে অথচ তা ধ্বংস করতে পারছেনা। তৈরি করার সাথে সাথেই ঐ জিনিষটার দুর্বলতা এবং নাড়ী নক্ষত্র স্রষ্টার জানা হয়ে যায়, যেভাবে আপনি জানেন আপনার তৈরি করা মেশিনটা কয়দিন সার্ভ করবে, কি করলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা স্রষ্টার দুর্বলতা নয়, বঋরং সৃষ্টির, স্রষ্টাকে অতিক্রম করতে না পারার অক্ষমতা!
    (ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন মাঝবয়সী বাবু। এ প্রশ্নের এরকম উত্তর তিনি জীবনেও শুনেন নি। মোল্লা যেভাবে প্রশ্নটার সার্জারি করে আবর্জনার স্তূপে ছুঁড়ে ফেলল, তাতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। অথচ এ প্রশ্ন দিয়েই তিনি কত তরুণকে নাস্তিক বানিয়েছেন, কত হুজুরকে ঘোল খাইয়েছেন, অপমান করেছেন!)
    ফ্যাকাসে হাসি হাসলেন বাবু।
    মাঝবয়সী বাবুঃ বুঝলাম, কিন্তু স্রষ্টা থাকলেই যে, তাকে মানতে হবে, এমন কোন কথা নেই।
    মোল্লাঃ তারমানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, এ মহাবিশ্ব তৈরির পেছনে কোন objective নেই?
    মাঝবয়সী বাবুঃ না কোন objective নাই।
    মোল্লাঃ কেন আপনার এরকম মনে হল?
    মাঝবয়সী বাবুঃ Objective থাকলে কি আর মানবজাতির মধ্যে এত হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি হত? যে যার মত খুশি, চলে। Objective থাকলে কি আর এরকম হত?
    মোল্লাঃ (কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গীতে) তাহলে তো নাস্তিকরা মানবজাতির জন্য বড় উপকার করে যেতে পারে!
    মাঝবয়সী বাবুঃ কিভাবে? (সন্দেহপূর্ণ দৃষ্টি)
    মোল্লাঃ যেহেতু নাস্তিকদের জীবনের কোন অবজেক্টিভ নাই, সেহেতু আপনারা এক কাজ করলেই পারেন। গণহারে সবাই গলায় দড়ি দিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান হবে।, আপনারা মরে গিয়ে তেল, গ্যাস হবেন, আমাদের জ্বালানী সমস্যার সমাধান হবে। পৃথিবীতে আস্তিক নাস্তিকের মারামারিও থাকবেনা।
    ...... তো আপনারা মানবজাতির বিশাআআআআআআল উপকার সাধন করতে পারেন।
    ( এ কথা শুনে সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগল। চা দোকানদারের পান খাওয়া লাল দাঁত ও বেরিয়ে পড়ল)
    মোল্লাঃ কি মামু? তোমার দোকানে না হয় দুই কাপ চা কম বিক্রি হবে, মাইন্ড কইরনা।
    (দাঁত ৩২ টাই বের হল এবার)
    (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন মাঝবয়সী বাবু)
    মাঝবয়সী বাবুঃ ওরে বাপরে! সাড়ে এগারটা বেজে গেল। এবার উঠতে হয়, ভাই...
    (সবাই মোচড় দেয়া শুরু করল)
    মোল্লাঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাকেও উঠতে হবে......... তা আপনি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করছেন?
    মাঝবয়সী বাবুঃ না, আমি সংশয়বাদী, কোনদিন clear cut প্রমাণ পেলে করব।
    মোল্লাঃ দেইখেন আবার, নিজের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে থাইকেন না আবার! (বলেই বুঝল খোঁচাটা মারা ঠিক হয়নি)
    মাঝবয়সী বাবুঃ তা আজ আসি। (বলেই ঘুরলেন, কি যেন মনে পড়ে গেলো মোল্লার, ডাক দিলেন.........পেছন ফিরে তাকাল বাবু)
    মোল্লাঃ ভাই, আপনার জন্য একটা সুসংবাদ আছে।
    মাঝবয়সী বাবুঃ (সন্দেহপূর্ন দৃষ্টি) কি?
    (তার চুলের দিকেই কিনা ঠিক বোঝা গেলনা, শাহাদাত আঙ্গুল তাক করল মোল্লা)
    মোল্লাঃ আপনাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন, “ সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই হেচড়িয়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুল ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের চুল!...... অপরাধীর পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা দেখে, তাদের পাকড়াও করা হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে”

    Monday, March 9, 2015

    সুবহানাল্লাহ অর্থাৎ শুন্যই আল্লাহ

    আমরা কোন কারনে মুগ্ধ বা আশ্চর্য্যন্বীত হলে বলে থাকি সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহ মানে কী? কেউকি আমরা এটা জানি?

    সুব্হ আরবি শব্দ , যার অর্থ শুন্য (sabh, meaning void)। সুবহান আল্লাহ মানে শুন্যই আল্লাহ।

    আমাদের জানা সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে। আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। কেমনে কী? মাথাটা ঠিক আছে তো? এই বলছেন সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে , আবার বলছেন আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। যুক্তি বিদ্যা বলে একটা বিদ্যা আছে , সেটা কি জানেন? মুক্তমনার বোকা মেয়ের ৬০ টি প্রশ্নের একটি , যদিও ইদানিং প্রশ্নগুলোর লিঙ্ক মুক্তমনার প্রথম পাতায় আর দেখা যাচ্ছে না।

    সমস্যা হলো আস্তিক নাস্তিক সকল যুক্তিবাদীরা ভেবে নিয়েছে আল্লাহ একটা কিছু (a thing) , সেকারনেই ধাঁধায় পড়ে যান। আসলে আল্লাহ কিছুই না , no thing. শুন্য। শুন্যের যেমন শুরু নেই জন্ম নেই , তেমনি আল্লাহর ও শুরু নেই জন্ম নেই। শূন্য যেন আমাদের দিয়েছে অসীমকে জানার প্রেরণা। আসলে শূন্য আর অসীম – একই সাথে পরস্পরের প্রতিচ্ছবি ও প্রতিপক্ষ।
    সৃষ্টির আদিতে কিছুই ছিল না ইহসংসারে – এক শূন্য ছাড়া। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে ‘শূন্য’ থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি। অর্থাৎ ‘নাই’তেই ‘আছে’র জন্ম। ধাঁধার মতো লাগছে তো? ধাঁধাই বটে, কিন্তু মিথ্যে নয়। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার মহাপণ্ডিতদের দৃঢ় বিশ্বাস যে তার সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রকৃতির মাঝেই প্রতীয়মান শুধু নয়, বহুলাংশে দৃশ্যমানও।
    ( ref: "শুন্য থেকে মহাবিশ্ব" লেখক মীজান রহমান / অভিজিৎ রায়)


    In quantum physics, a quantum fluctuation (or quantum vacuum fluctuation or vacuum fluctuation) is the temporary change in the amount of energy in a point in space, as explained in Werner Heisenberg's uncertainty principle.
    Quantum fluctuation - Wikipedia, the free encyclopedia
    en.wikipedia.org/wiki/Quantum_fluctuation

    কুয়ান্টাম ফিজিক্সের শুন্য যেমন শুন্য নয় , কারন শুন্য থেকে কিছুই সৃষ্টি হয় না। এই শুন্যের ভিতরে শক্তি আছে , যার কুয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের ফলে ভার্চুয়াল পার্টিকেল তৈরি হয়। তেমনি আল্লাহ ও শুন্য নন , কারন আল্লাহ কোন তথ্য নন। Non information. তিনি নিজে তথ্য নন কিন্তু সকল তথ্যই ( মানুষ গরু ছাগল সহ এই মহাবিশ্ব ও এর ভিতরে যা কিছু দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব কিছুই) তার সৃষ্টি। 

    আল্লাহর প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। এ কারনেই শুন্য। ওয়ালাম ইয়াকুন লাহু কুফুয়ান আহাদ। তিনি কারোর মতোই নন। তিনি সাদা নন কাল ও নন , তিনি আয়তাকার চতুর্ভূজ নন গোলাকার ও নন অর্থাৎ নিরাকার , তার শুরু নেই শেষ ও নেই অর্থাৎ তিনিই আলফা তিনিই ওমেগা , তিনি গুপ্ত গোপনীয় অপ্রকাশিত মিশরীয় গড আমুন, তিনি সর্বশক্তিমান কাহ্হার গ্রীক এপোলো , তিনিই ধ্বংসকারী শিব , তিনিই তাও .......... তবে যারা ভেবে থাকেন মেঘের উপরে আধশোয়া কোন বুড়ো গড বা সপ্তম আসমানের শেষ প্রান্তে কড়ই গাছের আড়ালে থেকে আল্লাহ বা চার মাথা ওয়ালা বিষ্ণু এই বিশ্বব্রমাণ্ড সৃষ্টি করেছেন , তারা ভুল লোককেই গড আল্লাহ বা ভগবান ভেবে বসে আছেন।