Thursday, March 6, 2014

ইসলামের প্রথম জমানা থেকেই হাদিস বিরোধীতার শুরু

সম্প্রতি কিছু লোক আছে যারা হাদিস মানে না , তাফসির মানে না , তার পরে আবার নিজেদের মন মত কোরানের বানীর অর্থ করে। ভাবখানা আল্লাহ নতুন করে তাদের কাছে কোরান নাজিল করছে। সেটা না করে অবশ্য উপায়ও নেই , প্রচলিত কোরান , হাদিস , তাফসির গ্রহন করলে ইসলামের যে চেহারা দাড়ায় তা তাদেরকে লজ্জায় ফেলে দেয়।


যেমন একদল আছে যারা কোরানের নাসিক - মানসুক ( আয়াত রহিত/রদকরন ) মানে না। কারন এসব মানলে ইসলামের এমন চেহারা দাড়ায় যা সভ্য সমাজে গ্রহনযোগ্য হয় না। মুস্কিল হলো সাধারন মানুষ যারা কোরান হাদিস পড়ে না তারা কিন্তু এটা জানে না। আর মোল্লারা যারা এটা জানে , তারা বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে সাধারন মানুষের সামনে নাগাড়ে মিথ্যাচার করে যায়। বিষয়টা একটু ব্যখ্যা করা যাক---------

সম্প্রতি নয় , ইসলামের শুরু থেকেই হাদিস ও তাফসির না মানা মুসলমান বিদ্যমান ছিল। এদের হাতেই ছিল ইসলামের নবীর  মৃত্যু পরবর্তি শাসন ক্ষমতা। ইতিহাস থেকে জানা যায়- নবী জীবিত থাকা কালিন নবীর নির্দেশে আবুবকর ওমর সহ সকল সাহাবি তাদের কাছে রক্ষিত স্বলিখিত সকল হাদিস পুড়িয়ে ফেলেন। ওমর তার শাসনামলে সকল ধরনের হাদিস বর্ণনা ও প্রচার নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর কারন হিসাবে তিনি বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর বই 'কোরান' যথেষ্ঠ এবং তিনি চান না মুসলমানরা পূর্বের জাতিগুলোর ন্যায় রসূলের হাদিসকে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর বাণীকে গুরুত্বহীন করে ফেলুক। একারনে আমরা দেখতে পাই আবু হুরায়রা নিজেই স্বীকার করেছেন যে  বেতের ভয়ে ওমরের শাসনামলে তিনি কোন হাদিস বর্ণনা করেন নি। (উল্লেখ্য আব্বাসীয় আমলে বিব্লিওক্লাজম বা সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে ইসলামের শুরু থেকে পরবর্তী  ১৫০-২০০ বছরের যে ইতিহাস আমরা জানি তার সাথে সত্যের মিল সামান্যই বলে মনে হয়)

 অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে  যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষনের মাধ্যমে  ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত দলটি ইতিহাসে মুতাজিলা নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে ইব্রাহিম নাজ্জাম নামে এক বিখ্যাত মুতাজিলা নেতা ছিলেন , যিনি কোরানই ইসলামের একমাত্র উৎস বলে প্রচার করতেন এবং প্রচন্ডভাবে হাদিস ও সুন্নাহ বিরোধী ছিলেন। বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ সকল মুতাজিলাই কোরান অনলি মুসলমান ছিলেন।

সুন্নি ও শিয়া সুত্রানুসারে - মুতাজিলারা 'আহলে আদল ওয়া তাওহিদ' বা 'ন্যায় বিচার ও একেশ্বরবাদী' দল নামে পরিচিত। খলিফা আল মামুনের সময় মুতাজিলা মতবাদ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় ও বিস্তার লাভ করে। কাজি আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর সাথে মুতাজিলাদের রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটে। 

হাদিস বিরোধীতার সবচেয়ে পুরানো যে দলিল পাওয়া যায় , সেটা হলো ৭৬হিঃ/৬৯৫খৃঃ খলিফা আব্দুল মালেককে লেখা আব্দুল্লা ইবনে ইবাদের লেখা একটা চিঠি। উক্ত চিঠিতে কুফাবাসীদেরকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে কোরানকে পরিত্যাগ করে হাদিসকে ধর্মের ভিত্তি হিসাবে গ্রহন করার জন্য।"তারা এমন একটি বইতে বিস্বাস করে  যা আল্লাহর থেকে নয় , মানুষের হাত দ্বারা রচিত এবং এটাকে রসূলের বাণী বলে দাবী করে।"(Michael Cook, Muslim Dogma, Cambridge University Press, Cambridge, 1981)  


আব্বাসীয় আমলে ও পরবর্তিতে সেলজুক খলিফাদের শাসনামলে হাদীস বিরোধীদের  সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে হাদীস বিরোধী লেখা পাওয়া যায় না। তবে এদের উপস্থিতী ও যুক্তি সম্পর্কে জানা যায় শরিয়া আইনের জনক ও প্রবর্তক ইমাম শাফেয়ীর বই 'জিমা আল ইলম' ও ইবনে কুতাইবার লেখা থেকে। তাদের লেখা থেকে জানা যায় তাদের সময়ে হাদীস বিরোধীতা ছিল সর্বব্যাপি এবং তাদের লেখায় তারা হাদীস বিরোধীদের যুক্তিকে খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন।

 চতুর্দশ শতাব্দির দুই স্কলার আব্দুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ুতি (লেখক 'তাদরিব আর রাওয়ি' ১৩৭৯সাল) ও ইবনে হাজার ( লেখক 'হায়দাল-সারি' ১৩৮৩সাল) এবং বিংশ শতাব্দির পাক ভারত উপমহাদেশের সাইয়িদ আহমদ খান (১৮১৭-১৮৯৮) ও মিশরের মুহাম্মদ তৌফিক সিদকির ("al-Islam huwa ul-Qur'an Wahdahu" "Islam is the Qur'an Alone"১৯২০) লেখা পাওয়া যায়। এরা সকলেই হাদীস বিরোধী ও সমালোচক ছিলেন।

বর্তমানে পাকভারতের গুলাম মুহাম্মদ পারভেজ , ডাঃ শাব্বির , মিশরের রাশাদ খালিফা , আহম্মদ মনসুর , তুরষ্কের এডিপ ইয়ুকসেল হাদীস বিরোধী লেখা ও সমালোচনার জন্য অবদান রেখেছেন।

নবী মুহাম্মদ ভবিষ্যত (গায়েব) জানতেন কী?

কোরান থেকে উত্তর -

৫:১০৯ যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

৬:৫০ আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?

৭:১৮৮ আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। 

১০:২০ বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

১১:৩১ আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

২৭:৬৫ বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।

৪৬:৯ বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

 ভবিষ্যত ও ভবিষ্যতের জ্ঞান কেবল আল্লাহই জানেন এবং আমরা ততটুকুই অবগত যতটুকু আল্লাহ আয়াত/রেভেলেশনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। (3:44, 3:179, 11:49, 12:102, 30:2, 72:26-28)

যারা হাদীসে বিশ্বাসী , তাদের জন্য একটি সহী হাদিস-

বুখারি: ভল্যুম-৯, বই-৯৩,  নং-৪৭৭

Narrated Masruq:

'Aisha said, "If anyone tells you that Muhammad has seen his Lord, he is a liar, for Allah says: 'No vision can grasp Him.' (6.103) And if anyone tells you that Muhammad has seen the Unseen, he is a liar, for Allah says: "None has the knowledge of the Unseen but Allah."

মাসরুক বর্ণনা করেছেন:

'আয়েশা বল্লেন, "যদি কেউ বলে যে মুহাম্মদ আল্লাহকে দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না (৬:১০৩)। এবং কেউ যদি তোমাদেরকে বলে যে মুহাম্মদ অদৃশ্য দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো অদৃশ্যের জ্ঞান নেই"।

Saturday, March 1, 2014

হাজার বছরের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের বোঁঝা

মানুষের সহজাত ধর্ম হলো বাপদাদার ধর্মকে আকড়ে থাকা এবং তাদের ধর্মীয় স্কলারদের মতামতকে অন্ধভাবে অনুসরন করে নিজের ধর্মকেই সর্বশ্রেষ্ঠ গন্য করা। আজকের মুসলমানরাও এর ব্যাতিক্রম নয় , তারা ও শয়তানের ঐ একি ফাঁদে পড়েছে। তাদের দাবী গত হাজার বছর ধরে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের কাছ থেকে তারা যা কিছু উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে , তার সবই ইসলাম। হাজার হাজার খন্ড বই লেখা হয়েছে অতীতের এইসকল ঈমাম ও স্কলারদের ধার্মিকতা , ভক্তি ও ধর্মের জন্য অমানুষিক পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মহিমা বর্ননা করে। এই লোকগুলো ধার্মিক ও চিন্তায় সৎ ছিলেন কিনা তা আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন , তবে আজকের মুসলমানদের দাবী যেহেতু তারা ধার্মিক ও অধিকাংশ মুসলমানের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলেন , তাই তারা যে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তাই সত্য এবং এর কোন নড়চড় করা যাবে না। এই যুক্তির দুর্বলতা হলো একটি মানুষ ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্যে কোন ব্যাখ্যা বা নির্দেশ দিলে সেই ব্যাখ্যা বা নির্দেশ যে সঠিক হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই , কারন তার চিন্তা বা বিশ্লেষনে ভুল থাকতে পারে। তাই যদি না হবে তাহলে তো সকল ধর্মই সঠিক , কারন প্রতিটি ধর্মের স্কলার ও নেতারা বাহ্যিক ভাবে ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই যার যার ধর্মের প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন।

কোরানে আল্লাহ এই ভুল যুক্তির একটি সহজ উত্তর দিয়েছেন -
“সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।” (২:১৪১)

মজার বিষয় হলো , আজকের মুসলমানরা বহুধা বিভক্ত হলেও , প্রতিটি গোষ্ঠিই কোরানকে ঐশীগ্রন্থ হিসাবে মানে। কোরান নিয়ে তাদের কোন মতভেদ নেই , মতভেদ হলো স্ব স্ব ঈমাম ও স্কলারদের নির্দেশিত পথ ও ব্যাখ্যা নিয়ে। এইসকল স্কলার ও ঈমামদের মতের উপর ভিত্তি করে একজন আরেকজনকে কাফের , যিন্দিক আখ্যা দিতে তাদের বিন্দুমাত্র বুক কাপে না। আল্লাহ্‌র বানী তাদের কাছে মুখ্য নয় , তাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের দেখানো পথই মূখ্য। তাই যখনই কোরানের আয়াত দিয়ে তাদেরকে কোন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের ভুল দেখানো হয় , তখন তাদের জবাব হলো – গত হাজার বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলাররা যা করে চলেছেন তা ভুল হতে পারে না। এর অর্থ দাড়ায় কোরানের বানীর থেকে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের ধারনাই বেশি সত্য।

পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক , এই ধারনাই যূগে যূগে আল্লাহ্‌র বানীকে গ্রহন করতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা বিবেচিত হয়েছে। যখনি আল্লাহ কোন নবী বা রসূল কোন সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছেন , তারা , “পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক”, এই যুক্তিতেই ঐ নবী বা রসূলকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন।

“আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না। আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।“(২”১৭০)

যখন নূহ নবী তাদেরকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের জবাব -
“….আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি।” ২৩:২৪

যখন হূদ নবী আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ্‌র সাথে আর কাউকে পূজা করতে নিষেধ করলেন-
“তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই?” ৭:৭০

একি উত্তর নবী সালেহ ও নবী শোয়েবকে দেয়া হয়েছিল।
“…আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর?..” (১১:৬২)
“তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত?…” (১১:৮৭)


ইব্রাহিম নবী যখন চাঁদ সূর্যের উপমা দিয়ে যুক্তির মাধ্যমে এক আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের একটাই উত্তর -
“তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।” (২৬:৭৪)

যখনি মানুষ আল্লাহ্‌র বানীর মাধ্যমে নুতন কিছু শোনে , তখনি আশ্চর্য হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে , কারন তারা এমন কথা তাদের স্কলারদের কাছ থেকে কখনো শোনেনি। নবী মুহাম্মদ ও যখন কোরানের বানী প্রচার শুরু করেন , তখনো একি জবাব-
“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়।” (৩৪:৪৩)

আল্লাহ্‌র এই যে বিধান (সুন্নাতাল্লাহ) এর কোন পরিবর্তন নেই। এটা সর্বযূগে একি ছিল , আছে ও থাকবে।
“পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।” (৩৫:৪৩)

আজ তাফসীর ও হাদীসের হাজার হাজার বইয়ের ধুলার নিচে কোরান চাপা পড়ে গেছে। এর থেকে কোরানকে মুক্ত করা এত সোজা নয়।

Monday, September 30, 2013

কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ)


খুব সম্ভবত ইসলামের নবীর সাথে মক্কার কোন সম্পর্ক নেই। কারন কোরান পড়ে মনে হয় নবী কোন দিন মক্কায় যান নি বা মক্কায় তার জন্ম হয়েছে এমন কথা ও কোরানে লেখা নেই। এ আলোচনা অন্যদিন। আজ পর্যালোচনা করব কালো পাথরের চারিদিকে ৭ পাকে ঘোরা ও পাথরে চুমু খাওয়ার মতো প্যাগান প্রথা কিভাবে ইসলাম ধর্মে ঢুকে পড়ল তা নিয়ে।

ঠিক কি ঘটেছিল সেটা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে কোরানে বর্ণীত আমাদের জীবন সম্পর্কে দেয়া বিভিন্ন উদাহরন। সাধারনত যেটা ঘটে থাকে , যূগে যূগে বিভিন্ন  নবী রসূল একেশ্বরবাদ প্রচার করে গত হওয়ার পরে পরেই মানুষ আবারো দেব দেবী পাথর পুজা শুরু করে বা বলা যায় প্যাগান ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে। কোরান থেকে জানতে পারি নবীর সময়ের আরবের লোকেরা 'আল্লাত' 'আলউজ্জা' এবং 'মানাত' নামের দেব দেবীর পুজা করত (৫৩:১৯-২০) এবং প্রত্নতাত্বিক খননের ফলে এদের কিছু মূর্তিও পাওয়া গেছে। ইসলাম আরব থেকে এই সকল দেব দেবীর পুজা সম্পুর্ন রুপে বন্ধ করতে পেরেছিল এমন কোন তথ্য কোরানে নেই। বরং অমুসলিম সুত্র থেকে জানা যায়  নবী পরবর্তি উমাইয়া আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে প্যাগান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নুতন উদ্যমে বিস্তার লাভ করতে থাকে।

প্যাগান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখেই চলুন দেখা যাক বর্তমানের মক্কায় কি ঘটছে। আপনি যদি মক্কায় যান তাহলে দেখতে পাবেন , নিশি দিন মানুষ কিউব আকৃতির একটি পাথুরে ঘরের (ক্বাবা) চারিদিকে ৭ বার পাক দিচ্ছে। এই ঘরটি একটি কালো কাপড়ে (কিসওয়াহ) আচ্ছাদিত। এই ঘরের পূর্ব-দক্ষিন কোনে শীত কালীন সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কালো পাথর গাঁথা আছে , যাকে সকলে 'হাজরে আসওয়াদ' নামে জানে। 'হাজরে আসওয়াদের' মানে হলো- কালো পাথর। দেখতে পাবেন এই কালো পাথরে চুমু দেয়ার জন্য হাজিরা ঠেলাঠেলি করছেন বা অত্যাধিক ভিড়ের কারনে দুর থেকে হাত উচু করে ছালাম দিচ্ছেন। আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞসা করেন কেন পাথরে  চুমু খাচ্ছেন , তাহলে উত্তর পাবেন -  চুমু দিলে সকল গোনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে।

শীত কালীন সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে কালো পাথরটি যে নির্ভুল ভাবে বসানো আছে , সেটা  কাকতালীয়  নয়। নবীর সময়ে আরবের লোকেরা 'আল্লাত' নামের যে দেবীর পুজা করত , সেই দেবী হলেন উর্বরতার দেবী (fertility goddess)। এই দেবীর আচার অনুষ্ঠান সূর্য কেন্দ্রিক। প্যাগানদের বিশ্বাস শীত কালীন সূর্যোদয় সূর্যের পুনর্জন্মের জায়গাকেই নির্দেশ করে। কালো পাথরটিকে নিকট থেকে পর্যবেক্ষন করলে একে দেখায় প্রসবকালীন স্ত্রীজননেন্দ্রীয়ের মতো  , যার ভিতরে বাচ্চার মাথা দেখা যাচ্ছে। 

আরো একটু কাছে থেকে দেখুন। দেখবেন মানুষজন  জন্ম নিচ্ছে এই বাচ্চা দেবতার মাথায় চুমু খাচ্ছে। মাথায় চুমু খেয়ে মাফ চাওয়া আরবদের এক প্রাচীন প্রথা। আরব প্যগানরা নবজাতক শিশুর মতো সকল পাপ মুক্ত হওয়ার জন্য এই কালো পাথরের নবজাতক শিশুর মাথায় চুমু খেত।

কালো পাথরের চারিদিকে ৭ পাক ঘোরার এই প্রথাও অনেক প্রাচীন। কোরানপূর্ব  চতুর্থ শতাব্দিতে এপিফ্যনিয়াসের (Epiphanius) লেখা পান্ডুলিপিতে সূর্যের শীতকালীন দক্ষিনায়নের সময় (winter solstice) নাবাতিয়ান আরবের দেবী আল্লাত ও ধুশারার জন্মোৎসবের অংশ হিসাবে ৭ পাক ঘোরার বর্ণনা পাওয়া যায়।  আজো আরবের অনেক লোকে 'ছুবু' নামে এক উৎসব পালন করে, যেখানে এপিফ্যনিয়াসের বর্ণনা মতোই বাচ্চা জন্মের সপ্তম দিনে নবজাতককে কোলে নিয়ে বাড়ির চারিদিকে ৭ পাক ঘোরে।

উর্বরতার দেবী আল্লাত প্রাচীন কালে  সারা বিশ্বে ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পুজিত হতো। গ্রীসে- আফ্রোদিত, রোমে- ভেনাস, মেসোপটেমিয়ায়- ইশতার, ভারতে- মা কালী, আনাতোলিয়ায় - সিবেল এবং নর্স রুপকথায়- ফ্রিগা। এই দেবীর সাথে কালো পাথরের যোগ আছে। আজো সাইপ্রাসের পাফোসের নিকটে আফ্রোদিতের মন্দিরে একটি পবিত্র কালো পাথর সযতনে রাখা আছে।

মজার ব্যাপার হলো গ্রীক রুপকথা অনুযায়ী আফ্রোদিতের সৌন্দর্য এক কালো কিউবে রাখা আছে। কোরান পরবর্তি অষ্টম শতাব্দির রোমান খৃষ্টান সুত্র থেকে জানা যায় উমাইয়া খলিফাদের শাসন আমলে ও আরব প্যাগানরা আল্লাত তথা আফ্রোদিতের পুজা করত।

এই সাইপ্রাসে 'হালা সুলতান টেক্কে' নামে মুসলমানদের একটি পবিত্র তীর্থ স্থান আছে। এটি একটি মসজিদ মাজার কমপ্লেক্স এবং এটি এক নারীর সাথে জড়িত। কথিত আছে এই নারীর নাম উম্ম হারাম , যিনি ছিলেন নবী মুহম্মদের দুধ মা ও উবাদা বিন আল-সামিতের স্ত্রী। এখানে ও একটি পবিত্র কালো পাথর আছে এবং ভক্তরা একে মসজিদে নববির পরে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মনে করে।

উর্বরতার দেবীর সাথে শুক্রবার বা ফ্রাইডের যোগসুত্র আছে। উর্বরতার দেবী ফ্রিগার নামানুসারে এই দিনের নাম রাখা হয় ফ্রিগডে>ফ্রাইডে। কে জানে হয়তো বা শুক্রবার একারনেই মুসলমানদের জন্য এক পবিত্র দিন।

১২:১০৬- অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।


শয়তান বোকাও নয় বা চুপচাপ বসেও নেই। নিষ্পাপ হওয়ার ভালই টোপ ফেলেছে। সময় এসেছে ভাবার- শয়তানের টোপ গিলে হজ্বের নামে মক্কায় যেয়ে নিষ্পাপ হওয়ার লোভে আমরা পাথর পুজায় লিপ্ত হয়ে শিরক করছি কি না?




Hala Sultan Tekke

Wednesday, September 25, 2013

হাল ছেড়োনা বন্ধু


অজানা বিদেশি কবির কবিতা অবলম্বনে-


যখন সবি হয় ভুল 
কখনো সখনো তা হবে
তখন সোজা যে রাস্তায় চলেছ
বন্ধু তা চড়াই হয়ে যাবে।

যখন পকেটে নেই পয়সা
ঋনের ভারে করছ হাসফাঁস
তখন হাসতে চাইলে ও বন্ধু
বেরোবে শুধুই দীর্ঘশ্বাঁস।

দায়িত্বের ভারে যখন 
মানসিক ভাবে কিছুটা দুর্বল
বিশ্রাম যদি নিতেই হয়, নাও
তবে ছেড়ো নাকো হাল।

জীবনটাই অদ্ভুত চলে একে বেঁকে
জ্ঞানী মূর্খ সকলে এ থেকেই শেখে।

অনেক ব্যার্থতা 
সফলতায় রুপ নেবে
এর জন্য তোমায় 
লেগে থাকতে হবে।

চলার কষ্টে যখন 
পা পড়বে টলমলো
সাফল্য আসবেই 
আরেকটিবার পা ফেলো।

লক্ষ্য অতটা দুরে নয়
যতটা ভাবছে দুর্বল চিত্ত
হতাশ হয়ে হাল না ছাড়লে
জয় ছিল করায়ত্ব।

জানলে তবে দেরি করে
রাত যখন উকি মারে
ছিলে তুমি বড়ই কাছে
সোনার মুকুটের ধারে।

সফলতা আর কিছু নয়
বিফলতার ভিতর বার
রূপালি আভায় সিক্ত জেনো
সন্দেহের মেঘের অপর পার। 

বলতে তুমি পারবে নাকো
ছিলে তুমি কত কাছে
দুর মনে হলেও অত দুরে নয়
জয় নিকটেই, এটা যে বুঝেছে।

আঘাত যত তীব্র হবে
যুদ্ধ কর তত জোরে
এর চেয়ে খারাপ কি আর হবে
হালটি ধর আরো শক্ত করে।



When things go wrong , as they sometimes will,
when the road you're  trudging seems all uphill.

When the funds are low
     and the debts are high.
And you want to smile,
     but you have to sigh.

When care is pressing you down a bit,
Rest, if you must, but don't you quit.

Life is queer with
    its twists and turns,
As every one of us
    sometimes learns.

And many a failure turns about,
When he might have won had he stuck it out;
Don't give up though the pace is slow--
You may succeed with another blow.

Often the goal is nearer than,
It seems to a faint and faltering man.
Often the struggler has given up,
When he might have captured the victor's cup.

And he learned too late when the night slipped down.
How close he was to the golden crown.
Success is failure turned inside out--
The silver tint of the clouds of doubt.

And you never can tell how close you are,
It may be near when it seems so far.
So stick to the fight when you're hardest hit,
It's when things seem worst that you must noy quit.


http://www.flickspire.com/m/MBT/DontQuitPoem?lsid=1e96a249cf10dee05ee80f03be10dd2d

Thursday, September 12, 2013

ইসালামের নবীর সাক্ষাৎকার


সা= সাংবাদিক
ম= নবী মুহাম্মদ
---------------------------------------------------------------------------------------------------

ইসলামের নবী মুহাম্মদ বর্তমানের বহুধা বিভক্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন--

সা-  ও আমাদের প্রিয় নবী।  আপনাকে কিছু প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  আপনার এই দয়ার কথা কখনো ভুলবো না।

ম-  যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। (১:২)

সা-  হ্য , তাতো বটেই।  দুঃখিত এমন প্রশ্নের জন্য--এখন আপনি কি আমাদের বলবেন , আপনি কে এবং ইসলাম ধর্মে আপনার অবস্থান কোথায়? 

ম-  বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।(৭:১৫৮)

সা-  বোঝা গেল আপনি আল্লাহ প্রেরিত রসূল। তো... রসূল হিসাবে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

ম-  আমি তাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি, তার কোন একটি যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই কিংবা আপনাকে উঠিয়ে নেই, তাতে কি? আপনার দায়িত্ব তো পৌছে দেয়া এবং আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।(১৩:৪০)

সা-  আপনি বলছেন আপনার দায়িত্ব হলো শুধুই কোরানের বাণী পৌছে দেয়া? না না , তা কি করে হয়!! আবার বলেন না কোন রকম ব্যাখ্যা ও শিক্ষা দেয়া ছাড়াই তোতা পাখির মতো কোরান আবৃত্তি করাই আপনার দায়িত্ব?

ম-  প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নির্দেশাবলী ও যাবুর এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।(১৬:৪৪)

সা-  ওকে ... তাহলে কোরানের বাণী আপনি মানুষের কাছে কিভাবে বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করেন? 

ম-  আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।(১৬:৬৪)

 সা-  ওয়াও! এর মানে দাড়ালো এই গ্রন্থ দিয়েই আপনি পরিষ্কার বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করে দেন। কিন্তু .. তা কিভাবে সম্ভব?

ম-  সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।(১৬:৮৯)

     আমি এই কোরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপমা দ্বারা সব রকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি।(১৭:৮৯)

          অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।  এরপর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্ব।(৭৫:১৮-১৯)


সা-  দেখা যাচ্ছে কোরান নিজেই নিজের ব্যাখ্যা দেয় এবং এর বিষদ বর্ণনা দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহর। হুম ..  কিন্তু যাই বলেন ,  শুধুমাত্র একটি পিয়নের ভূমিকা আপনার হতে পারে না।  আপনার সম্পর্কে কত ভাল ভাল অত্যাশ্চর্য ঘটনা শুনেছি , তা তো আর মিথ্যা হতে পারে না।

ম-  আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।(৩:১৪৪)

সা-  দাড়ান দাড়ান ,  আপনি একি বলছেন? এত দিন যা শুনে এসেছি জেনে এসেছি তার কিছুর সাথেই তো মিলছে না। শুধু একটা --

ম-  আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়। আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।   অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভু-মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না।   অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (১২:১০৩-১০৬)

সা-  তাইতো বলি ,  আল্লাহর নামের সাথে কেন আপনার নাম ও উচ্চারিত হয় তা এখন বোধগম্য হচ্ছে।  আমাদের ধর্মগুরুরা বলে থাকেন আপনার ব্যাখ্যা ছাড়া কোরান বোঝা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

ম-   তারা আপনার কাছে কোন সমস্যা উপস্থাপিত করলেই আমি আপনাকে তার সঠিক জওয়াব ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি।(২৫:৩৩)

সা-  আপনি বলছেন কোরানের ব্যাখ্যা কোরান  নিজেই। ওয়াও!! পরীক্ষা করে  দেখা যাক কোরানে সকল সমস্যার জবাব আছে কি না? না না আমি আপনাকে টেলিভিশন খারাপ হলে কিভাবে ঠিক করতে হবে সে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব না , সে প্রশ্নটি থাকুক ফ্যসাদসৃষ্টিকারীদের জন্য।  কিন্তু তারপরেও  .. আমি শুনেছি কোরান বোঝা খুব কঠিন , মানে বলতে চাচ্ছি অন্য কেউ ব্যাখ্যা করে না দিলে কোরান বোঝা সম্ভব নয়।

ম-  আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (৫৪:১৭)

সা-   বিষ্ময়কর!  মুসলিম উম্মাহ ও ধর্মগুরুরা বলছে এক কথা আর আল্লাহ বলছেন সম্পুর্ন বিপরিত কথা।  এখন অন্য প্রসঙ্গে যাই -- 
আপনি ইসলামের রোল মডেল , যাকে নাকি অনুকরন ও অনুসরন করা লাগবে?

ম-  যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (৩৩:২১)


সা-  মুসলমানদের অনুকরন ও  অনুসরনের জন্য আপনিই কি একমাত্র উত্তম নমুনা?

ম- তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। (৬০:৪)

    তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ বেপরওয়া, প্রশংসার মালিক। (৬০:৬)


সা-  যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাদের বলবেন  , আপনাকে কোন মডেল কি  দেয়া হয়েছিল ? 

ম-  অতঃপর আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, ইব্রাহীমের দ্বীন অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং শিরককারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। (১৬:১২৩)

সা-  এক মিনিট .....মুসলমানদের আপনাকে মডেল মেনে অনুসরন করতে হবে এবং আপনি মডেল হিসাবে ইব্রাহিমকে অনুসরন করেন।  এর অর্থ কি এই , আপনি যেভাবে ঘুমাতেন ঠিক সেভাবেই ঘুমাতে হবে বা কোলগেট দিয়ে দাত মাজা যাবে না?

ম-  আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন ওহী আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।(১০:১০৯)

সা-  তাই বলেন!! আসলেইতো  .....আপনি অনুসরন করেন কোরানকে আর মুসলমানদের অনুসরন করতে হবে আপনাকে অর্থাৎ  কোরানকেই।   ধর্মগুরুরা বলে থাকেন আপনার মতো করে কাপড় পরতে হবে বা খেতে হবে , যেগুলা আমরা কোরানে পাইনা। এব্যপারে আপনি আল্লাহকে কি বলবেন?

ম-  রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে। (২৫:৩০)

সা-   ও নবী আমার তো কান্না পাচ্ছে এসব শুনে। কোরানের পরিস্কার আয়াত শোনার পরেও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আমাদের কি করার আছে?  প্লিজ সাহায্য করুন।

ম-  অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে পরিস্কার ভাবে সতর্ক করেছি এবং আমি জানি না, তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী।( ২১:১০৯)

  আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই। (৬:৬৬)


সা-   আরো অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করার ছিল , কিন্ত সময় শেষ। আশা করি ভবিষ্যতে যদি সুযোগ পাই তাহলে আপনাকে নিয়ে যে সকল রূপকথা ও গল্প চালু আছে , সে ব্যাপারে আপনার মতামত জানব ইনশাল্লাহ।

ম-  বলুনঃ আমাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। সুতরাংতোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে? (২১:১০৮)



সা-   হে প্রিয় নবী আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। ছালাম।








                   

Sunday, August 11, 2013

বেহেশত/জান্নাতের বিবরন


বেহেশত ও বেহেশত নিয়ে আলোচনার চেয়েও সুন্দর , মজাদার আর কি আছে.....এর আকাঙ্খা বুকে ধারন করেই অধিকাংশ মুসলমান নরকসম এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে যাত্রা করে।

প্রায় সকল ইসলামি পন্ডিতগণ বেহেশতের সুখ , বিলাসিতা এবং আনন্দদায়ক বর্ণনা সম্বলিত কোরানের আয়াতসমূহের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করে থাকেন তাদের 'পার্থিব' জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। এগুলো হলো- ঝুলন্ত পাকা টসটসে খেজুর , আঙ্গুর ও বিভিন্ন উপাদেয় ফল মূল সমৃদ্ধ বৃক্ষসমূহ , যার জন্য হাত বাড়িয়ে পাড়াও লাগবে না শুধু পাওয়ার ইচ্ছার অপেক্ষা, খাওয়ার ইচ্ছা হলেই এগুলো নিজে নিজেই মুখের ভিতরে ঢুকে যাবে , ঠান্ডা ঝর্ণার মুক্তার মতো স্বচ্ছ পানি , তাজা দুধ মদ ও মধুর নদী , ৭০টা কুমারী হুরী .....

যাই হোক ,  কোরান আমাদের 'সীমাবদ্ধ' এই বুঝের ব্যাখ্যা বহু আয়াতেই দিয়েছে। আল্লাহ বলেছেন , বেহেশতের বর্ণনাগুলো সাদৃশ্য বা রূপক ছাড়া আর কিছুই নয় ,  পার্থিব বাস্তবতা নয়।

৭৪:১৫ পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার সাদৃশ্য (مَثَلُ) নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?


বেহেশতের এই বর্ণনা হলো সাদৃশ্য বা রূপক।  বাস্তবের বেহেশত আমাদের সকলের কল্পনা ও জ্ঞানের উর্ধে। বাস্তবের এমন কোন ফুটন্ত পানির কথা আমরা জানিনা যা নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমন কোন শরাবের কথা জানিনা যা সুস্বাদু।

৩২:১৭ কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।
 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বেহেশতের সুখ ও আনন্দ লুক্কায়িত , গুপ্ত। যেমনটি দোযখের আযাব ও।  দোযখে আগুনের মাঝখানে 'জাকুম' নামে এক গাছ আছে যার ভিতরে ফুটন্ত পানি আছে যা পোড়ায়।

বাস্তবে এমন কোন গাছের কথা কি জানি যা আগুনের মাঝে জন্মে ও ফুটন্ত পানি ধারন করে?

যারা জননাঙ্গের দৃষ্টিকোন থেকে বেহেশতে যৌণসুখের কল্পনায় বিভোর , তাদের স্মরন করিয়ে দিতে চাই -  বেহেশতে বাচ্চা জন্ম দেয়ার কোন ব্যাপার স্যাপার নেই অর্থাৎ নুতন কোন বাচ্চা জন্মাবে না বা কেউ প্রেগন্যান্ট হবে না  বা প্রসব বেদনা ও থাকবে ন। যেকারনে বেহেশতে জননাঙ্গের প্রয়োজনীয়তাও নেই হয়ে যাবে। যেমনটি নেই হয়ে যাবে মলনালী/rectum, কারন বেহেশতে কেউ পায়খানা করবে না। বেহেশত যেহেতু শান্তির আবাস , সেহেতু থাকবে না কোন রোগ শোক , ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস। ফলে দরকার হবে না শরীরের রোগপ্রতিরোধক অঙ্গের (immune system)। হয় এসব অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ নাই হয়ে যাবে বা অব্যাবহারের ফলে এপেনডিক্সের মতো অবিকশিত rudimentary হয়ে যাবে।

১৫:৪৭ তাদের অন্তরে যে হিংসা ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে।

এর অর্থ দাড়ায় পরজন্মে শারীরিক অঙ্গের মতো মানসিক চিন্তার ও পরিবর্তন ঘটবে। সুতরাং নুতন সৃষ্টিতে (Nash'a Ukhra) আমরা ভিন্ন জন্ম ও ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক গঠনই মনে হয় পেতে যাচ্ছি।

৭৫:২২-২৩ সেদিন অনেক মুখমন্ডল সুখি হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকায় সুখ!! এমনি হবে পরজন্মের উচ্চ মার্গের সুখ , যা এই পৃথিবীতে আমাদের বুঝে আসে না।


পরকালের সুখ যে এমনি হবে তা পরিস্কার ভাবে আল্লাহ বুঝিয়েছেন পাপীদের উদ্দেশ্যে বলা নিচের এই আয়াতে- 
৩:৭৭ আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টিও দেবেন না।
এমনি কঠিন শাস্তি ও দুর্ভোগ পাপীরা রোজ হাশরের ময়দানে উপলব্ধি করবে।


আমরা কেমনে পালনকর্তা আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকব?  এটা কি আমাদের এই মানবিক চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকব , যা কিনা শুধু মাত্র দুরত্ব ও আকৃতি (shapes) দেখতে পারে? নাকি অন্তরের চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকব? এটাই রহস্য। এই রহস্যের উত্তর জানতে হলে আমাদের রোজ হাশরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা লাগবে এবং এই তাকিয়ে থাকার মধ্যে যে চরম সুখ ও শান্তি , তার গভীরতা রোজ হাশরের আগে পর্যন্ত গুপ্ত লুক্কায়িতই থেকে যাবে।

বেহেশত ও দোযখ গুপ্ত, এখনো সৃষ্টিই হয় নি। এর সাদৃশ্য হলো গুটি পোকা ও নয়ন জুড়ানো প্রজাপতির সৌন্দর্যের মাঝের সাদৃশ্যের মতোই। কুৎসিত গুটিপোকা দেখে কি প্রজাপতির সৌন্দর্যের কথা কল্পনায় আসে , যদি ও এরা একি প্রাণী।

৭৬:১৯ তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা।
 

ইসলাম বিদ্বেষীদের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় আক্রমনের লক্ষ্য হলো এই আয়াতটি , যা তাদের অসুস্থ সমকামী যৌণকামনার  বহিঃপ্রকাশ। চোখের সামনে নিজের বা পরের ছোট বাচ্চা কিশোর ঘুরঘুর করতে দেখে ও তাদের সাথে (যৌণতা মুক্ত) খেলা করে আনন্দ পায় না এমন লোক খুজে পাওয়া দুষ্কর। সিরিয়াল খুনী ও নিজের বাচ্চাকে আদর করে , ভালবাসে।  মনে রাখা দরকার , বেহেশতে যেহেতু নুতন বাচ্চা জন্ম নেবে না , সেকারনে কিশোর সঙ্গের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হওয়ার জন্যই এই ব্যাবস্থা।(সত্যি সত্যিই কিশোর থাকবে  নাকি কিশোর সঙ্গের আনন্দকে বোঝানোর জন্য এই সাদৃশ্য আয়াত , আমি জানি না)

বেহেশতের সুখ ও শান্তি পেট ও চ্যাটের আকাঙ্খা পূরনের জন্য যে নয় তা বুঝতে হলে কোরানের সকল বাণী অনুধাবন করা প্রয়োজন। আমরা ভ্রমনে আছি , লক্ষ্য পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছানো।

৮৪:৬হে মানুষ, তোমরা পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই নিরন্তর এগিয়ে চলেছ।"O humans, you are irreversibly heading for a meeting with your Lord." (84:6)

অনেক দুর পথ পাড়ি দেয়া লাগবে। আল্লাহ যেহেতু চিরজীবি চিরস্থায়ী , সেহেতু মনে হয় এই যাত্রা ও অনন্তকাল ধরেই চলতে থাকবে। বেহেশতের বাসিন্দা পূন্যবান নারী ও পুরুষ বলবে - 
৬৬:৮ তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন।


এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে , এই ভ্রমন এই যাত্রা বেহেশতে ও দোযখেও চলতে থাকবে। যে পূণ্যবান সে বেহেশতের সুখ ও আনন্দের মাঝে থেকে এই পথ পাড়ি দেবে , আর পাপী দোযখের কষ্টের মাঝে থেকে এই পথ পাড়ি দেবে।

তোমার প্রভুর কাছেই সমাপ্তি।