Saturday, February 8, 2025

জানেন কি , কাদের সাথে আল্লাহ কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না?


সূরা আল ইমরান ৩:৭৭ "যারা আল্লাহর অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।"


এরা তারাই , যারা আল্লাহর অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে। কারা এরা? আমরা সাধারন মুসসলমানরা তো জানিইনা আল্লাহর অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা , বেচা তো পরের কথা। জানতে হলে তো কুরআন বুঝে পড়া লাগবে , যে কাজটা আজকের মুসলমানরা করে না। এই সুযোগটাই নিয়েছে একদল ধর্ম ব্যাবসায়ী , যারা ধর্মের ওয়াজ মাহফিল করে , মসজিদে ইমামতি করে খুতবার মাধ্যমে আল্লাহ যা বলেননি সেগুলোকেই আল্লাহর অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা বলে বিক্রি করছে। পরের আয়াতেই আল্লাহ এই লোকদের পরিচয় দিয়েছেন। এরা যে কিতাব থেকে পাঠ করে তা কুরআন নয়। এগুলো বানোয়াট সহীহ সিত্তার হাদিসের বই , খুতবার বই ইত্যাদি। এরা বলে নামাজ বেহেশতের চাবি , নবীর শাফায়াত ছাড়া কেউ বেহেশতে যাবে না , এই দোয়া পড়লে সমুদ্রের ফেনা পরিমান গুনাহ মাফ হয়ে যাবে , কাল পাথরে চুমু দিলে নিষ্পাপ হয়ে যাবে ইত্যাদি এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে কিন্তু এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে নয়। 


৩:৭৮ "আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তার কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহরই প্রতি মিথ্যারোপ করে।"


আলেম উলামা , ওয়াজীনে কারাম ও মোল্লা মৌলভি ধর্ম ব্যাবসায়ীগণ আল্লাহকে ভয় করুন। 




Saturday, February 1, 2025

ধর্মের নামে অধর্ম

 আমাদের দেশে ধর্মের নামে চলছে অধর্ম। ইসলামের মূল মন্ত্র হল - এক আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস এবং সৎকাজ। কুরআনের বহু আয়াতে বলা হয়েছে এদের ভয় নেই ও দুঃখ করা লাগবে না। কুরআনে সৎ কাজের বর্ননা ও দেয়া আছে : মিথ্যা না বলা , মিথ্যা সাক্ষী না দেয়া , ওজনে মাপে কম না দেয়া , বাপ মার যত্ন নেয়া এমনকি 'উফ' বলে বিরক্ত ও না হওয়া , গীবত না করা , দান করা যার পুরষ্কার আল্লাহর কাছে রক্ষিত থাকবে বলে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন , ইত্যাদি। এটাই ধর্ম। পড়ুন সূরা আলআনাম ৬:১৫১ থেকে ১৫৩ ও সূরা ইস্রাইল ১৭:২২ থেকে ৩৯ আয়াতগুলো।

পক্ষান্তরে ধর্মীয় নেতারা কলেমা , নামাজ , রোজা , হজ্ব ও যাকাতকে বানিয়েছে ইসলামের মূল স্তম্ভ , যা পরিস্কার অধর্ম। কারন কুরআনের কোথাও এমন কথা বলা হয় নি বা যেভাবে যে নিয়মে এগুলো পালন করে থাকে তার বর্ননা কুরআনে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ও খুজে পাবেন না। যে বিধান কুরআনে নেই , তা আল্লাহর বিধান নয়। মানুষের তৈরি বিধান ধর্মের নামে চালানোই অধর্ম। যদি কেউ বলে কলেমা , নামাজ , রোজা , হজ্ব ও যাকাতের নিয়মাবলী রাসুল দিয়েছেন , তাহলেও এটা অধর্ম। কারন রাসুল ও মানুষ এবং তার ধর্মীয় বিধান দেয়ার এখতিয়ার নেই। সর্বোপরি কুরআনের কোথাও বলা হয়নি রাসুল তোমাদেরকে বলে দেবেন বা দেখিয়ে দেবেন কিভাবে কলেমা , নামাজ , রোজা , হজ্ব ও যাকাত করতে হয় বা দিতে হয়। যদি এমনটা হয় , তাহলে রাসুল উপাস্য হিসাবে গন্য হবেন। এই অধর্ম মানুষকে ধর্ম থেকে দুরে রাখছে এবং সত্যবাদী , সৎ , পরোপকারী হতে অনুৎসাহিত করছে।
{২৫:২০ আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।}
{৪১:৬ বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ}
{১৮:১১০ বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।}

Tuesday, January 28, 2025

ভাবুন কি করবেন.....


মুসলমান মাত্রই সালাত বলতে বোঝে নামায পড়া। হাদিস অনুসারী মুশরিকদের প্রথম প্রশ্নই হল , "নামায পড়িস ব্যাটা? পড়লে কুরআন থেকে দেখা কোন নামায কয় রাকাত ও কিভাবে পড়তে হবে?" এই প্রশ্নের মাধ্যমে তারা কুরআনকে অসম্পুর্ন এবং হাদিস ছাড়া ইসলাম অচল এটা প্রমান করে থাকে। কুরআনকে অসম্পুর্ন প্রমান করতে চাওয়ার মাধ্যমে এরা পারতপক্ষে আল্লাহর বাণীকে অস্বীকার করে। কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী কাফেররাই আল্লাহর বাণী অস্বীকার করে। পড়ুন-

৬:১১৫-১১৬ "আপনার প্রতিপালকের বাণী পূর্ণ , সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।"


অনেক কুরআন অনুসারীদের  ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে শুনবেন , কুরআনে নামাযের নিয়ম সব আছে। সত্য হল কুরআনে নামাযের কোন বিবরন নেই। থাকবে কি করে? থাকা সম্ভব না। কারন নামায মানুষের বানানো উপাসনার পদ্ধতি, আল্লাহর নয়। আল্লাহ মানুষকে নামায পড়তে বলেন নি। 


কুরআনের আলোকে বলা যায় প্রচলিত নামায পড়া মদ খাওয়ার চেয়েও গুরুতর নেশা - পাপ। নেশা ছাড়ানো যেমন কষ্টকর , তেমনি নামায পড়া বন্ধ করা। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ঈমানদারদের সালাতের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন আল্লাহ , কারন নামাযে কি বলছে তা ৯৯.৯৯% বাঙালি মুসাল্লি বোঝে না। আর নেশা , জুয়া , প্রতিমাকে আল্লাহ এড়িয়ে চলতে বলেছেন। একটি সরাসরি আল্লাহর নিষেধ , অন্যটি কল্যানপ্রাপ্ত হওয়ার উপদেশ।  ভাবুন কি করবেন.....


"হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন সালাতের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,.."(৪:৪৩)


"হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।"(৫:৯০)

Sunday, January 26, 2025

আত্মশুদ্ধি

 পরকালে মুক্তির সাথে আত্মশুদ্ধি যাকে আরবিতে বলে 'আতু যাকাত' অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কুরআনে বারে বারে 'আকিমুস সালাতে'র সাথে 'আতু যাকাত' বলে আল্লাহ আমাদের শুদ্ধ হওয়ার আদেশ করেছেন , উপদেশ দিয়েছেন। আল্লাহর সকল বিধান মানার (আকিমুস সালাত) মাধ্যমেই আমরা নিজেদের শুদ্ধ করতে পারি। নামাজ পড়ে নয় বা হজ্ব করেতো নয়ই। 


আত্ম শুদ্ধির প্রথম করনীয় হল অপরকে শুদ্ধ করার চেষ্টা না করা। এ কাজটি বাস্তবিকই কঠিন। নিজের থেকে অন্যকে শুদ্ধ করার চেষ্টায় আমাদের আগ্রহ বেশি। একারনে আল্লাহ বলেছেন:


২:৪৪ "তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?"


নিজের জন্য পরকালে কি অপেক্ষা করছে সেটা না জানলেও অপরের চিন্তায় আমরা বেশি চিন্তিত। নিজে শুদ্ধ হই ,  নিজের চিন্তা করি। এমনটি আল্লাহর উপদেশ বলতে পারেন ,  নির্দেশ ও বলতে পারেন। পড়ুন-


৫:১০৫ হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে বলে দেবেন, যা কিছু তোমরা করতে।

Thursday, January 23, 2025

জানেন কি আল্লাহ কাদের ভালবাসেন?

 যারা এই শীতের ভোরে লেপের ভিতরের উষ্ণ গরম থেকে অতিকষ্টে বেরিয়ে ঠান্ডা পানিতে ওজু করে ঠকঠক করে কাপতে কাপতে মসজিদে দৌড়াচ্ছেন ফজর নামাজ ধরার জন্য , আর ভাবছেন আল্লাহ এমন লোকদেরকেই ভালবাসেন , এদেরকেই আল্লাহ জান্নাতের চাবি দিবেন। তাহলে ভুল ভাবছেন এবং ভুল ওয়াজ শুনেছেন। এমন লোকদের ভালবাসার কথা কুরআনে বলা নেই। নামাজ জান্নাতের চাবি - এটা শয়তানের ওয়াদা , আল্লাহর নয়। 


আল্লাহ কাদের ভালবাসেন? জানতে হলে পড়ুন-


"নিশ্চয় আল্লাহ্ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।"

(সূরা মায়িদাহ ৫: ৪২)


"আর যারা সবর করে আল্লাহ্ তাদেরকে ভালোবাসেন।"

(সূরা আলে ইমরান ৩: ১৪৬)


"অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।"

(সূরা আলে ইমরান ৩: ১৫৯)

Sunday, January 12, 2025

সাকার

 আপনার সন্তানকে নামাজ পড়া নয়, তাকে শেখান অভাবীকে খাবার দিতে। 

কেন? 

তাহলে আপনি আপনার সন্তানকে সাকার থেকে বাচাতে পারবেন।

কুরআন থেকে নিচের আয়াতটি পড়েন.......


"তুমি কি জানো 'সাকার' কি? সাকার হচ্ছে এমন জাহান্নাম, যার আগুন মরতেও দেবেনা, বাঁচতেও দেবেনা। দেহের চামড়া ঝলসাবে শুধু।"[মুদ্দাসির:২৭-২৯]


যখন অপরাধীদের জিজ্ঞাসা করা হবে কী কারণে তাদেরকে সাকারে নিক্ষেপ করা হলো,তারা বলবে-


"অপরাধীদের সম্পর্কে বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে সাকারে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। অভাবীদের খাবার দিতাম না। আমরা অবান্তর আজেবাজে কথায় লিপ্ত থাকতাম। আর কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা বিভ্রান্তিতেই নিমজ্জিত ছিলাম।"

[মুদ্দাসসির: ৪১-৪৭]


N.B- মুসল্লি হল তারাই , যারা কুরআনে আল্লাহ যা করার আদেশ দিয়েছেন তা করে , আর যা নিষেধ করেছেন তা করে না। মুসল্লি মানে নামাজ পড়ুয়া নয় , যেমনটি হুজুররা দাবী করে থাকে। 

Thursday, November 24, 2022

একটি নুতন বিবর্তনবাদ – ভিন্ন চিন্তা

 ফেব্রুয়ারী 15, 2011


কেমন হয় , যদি বলি বিবর্তনবাদ সত্য , তবে ডারউইন যেটা বলেছিলেন , তার থেকে কিছুটা ভিন্ন?

কেমন হয় , যদি বিবর্তনের এমন একটা নুতন মডেল থাকত , যেটায় জীবাশ্ম ( fossils ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ বছর ধরে জীবের প্রায় কোনই পরিবর্তন না ঘটার ….. অতঃপর হটাৎ ঘটে যাওয়া ক্যাম্ব্রিয়ান বিষ্ফোরনের (Cambrian Explosion) ব্যাখ্যা থাকত? ক্যাম্ব্রিয়ান বিষ্ফোরন: প্রায় রাতারাতিই হাজার হাজার নুতন জীবের প্রেক্ষাপটে আগমন।

কেমন হয় , যদি “বিবর্তনবাদ বনাম সৃষ্টিতত্ত্ববাদ” , হয় এটা নয় ওটা এই অবস্থান না নিয়ে “দুটৈ+আরো কিছু” অবস্থান নিতে পারি?

কেমন হয় , যদি জীবাশ্ম নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক না করে , আমরা ‘1’ ও ‘0’ র মতৈ নির্ভুলভাবে বিবর্তনের ইতিহাস জানতে পারতাম?

কেমন হয় , বিজ্ঞান ও বিশ্বাস যদি অনন্তর পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত না থাকে?

এ সকল কিছুই শুধু সম্ভব-ই নয় , বরং বর্তমানের বাস্তবতা। আমি জানি এটা একটা অসম্ভব দাবী , তবে সকলের কাছে অনুরোধ , একটু ধৈর্য ধরে আমার কথাগুলো পড়ে দেখুন নির্বোধের মতো কিছু বলছি কি না।

সত্যি সত্যিই আমার কাছে বিবর্তনের একটি নুতন থিওরী আছে। শুধু তাই নয় , এই নুতন থিওরীর সাহায্যে আগামি ৩-২০ বছরে নুতন কি আবিষ্কৃত হবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব হবে।

ডারউইন ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে , জীবাশ্মের সাহায্যে দেখানো সম্ভব হবে , কিভাবে সরল এককোষী জীব নিয়মিত গতিতে ক্রমে ক্রমে বহুকোষী ও জটিল জীবে বিবর্তিত হয়েছে। এখন এটা সর্বজন বিদিত যে , নিয়মিত গতিতে বিবর্তন না ঘটে লাফ দিয়ে দিয়ে বিবর্তন ঘটেছে , অর্থাৎ লম্বা সময় স্থিতীশীল থেকে হটাৎ হটাৎ সামনে ঝাপ দিয়েছে।

স্টিফেন জে গৌল্ড এর নাম দিয়েছেন ‘বিরাম ভারসাম্য’ (punctuated equilibrium)। ঐ সময়ে এটা কিভাবে ঘটেছিল , তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আজ আমাদের হাতে অনেক যোগসুত্র ( clues ) আছে , যার সাহায্যে এর উত্তর পাওয়া সম্ভব।

ডারউইন বলেছিলেন বিবর্তনের চালিকাশক্তি হলো বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি (random mutation) ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের যোগফল।

ডারউইনের এই মতবাদ আধা সঠিক এবং আধা ভুল। ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ব্যাপারে অবশ্যই সঠিক ছিলেন।

পক্ষপাতহীন ভাবে বল্তে গেলে প্রাকৃতিক নির্বাচন যে সঠিক , এটা জানতে রকেট সায়েন্স জানা লাগে না। দুর্বলের মৃত্যু ঘটে আর সবলেরা বেচে থাকে। আমার মনে হয় আমাদের গুহা মানবেরা ও এর সাথে পরিচিত ছিল।

(রহিম করিমের মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করল এবং মেরে ফেলল। অতঃপর দুজনেই ক্ষুধার্ত বাঘের পেটে গেল। Survival of the fittest…. এটাই স্বাভাবিক।)

প্রাকৃতিক নির্বাচনের কোন সৃজনশক্তি নেই , যেটা করে তা হলো প্রসবকৃত শাবকগুলোর ক্ষুদ্রতমটিকে বা বামন গাছটিকে মেরে ফেলা।

বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তির রহস্য বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির (random mutation) মাঝেই নিহিত হতে হবে।

ডারউইন , তার সময়ে, বিশ্বাস করতেন বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির বা ভিন্নতার ( variation ) মধ্য দিয়েই সকল প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে। তিনি বলেছিলেন : বেশিরভাগ সময় এটা ক্ষতিকারক , কিন্তু কখনো কখনো এটা সকল ধরনের সুন্দর ও নুতন আকার দিতে সাহায্য করে , মনে হয় যেন নকশা করা।

বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি কি? সকল জীববিজ্ঞানের বইয়ে বলা হয়েছে- এটা দুর্ঘটনাজনিত ‘ডিএনএ’র ভুল নকল বা প্রতিলিপি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী , এটা আসলে অবিশুদ্ধ ডাটা ( corrupted data ), যা মাঝে মাঝে ক্ষতি না করে , উপকার করে।

এখানেই ডারউইন ও জীববিজ্ঞানের বইগুলো ভুল করছে।

একজন প্রকৌশলীর দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে এটা ১০০% ভুল। প্রকৌশলের এমন কোন বিভাগ নেই , যেখানে দেখানো সম্ভব অবিশুদ্ধ ডাটা ক্ষতির বদলে উপকার করে। এটা সব সময় ক্ষতিকারক। ভুল নকল বা ভুল ডাটা প্রেরন (data transmission) কখনোই সঙ্কেতকে (signal) কে সাহায্য করে না। তারা শুধু ক্ষতিই করে।

অনুগ্রহ করে ভুল বুঝবেন না। আমি বলছিনা যে বিবর্তন ঘটে নি বা ঘটবে না। এটাই বলতে চাচ্ছি যে , ডারউইন যেভাবে বলেছিলেন , ঠিক সেভাবে ঘটেনি। ভিন্নভাবে বিবর্তন ঘটেছে।

কিভাবে বিবর্তন ঘটেছে তা বিস্তারিতভাবে বলার আগে , বিক্ষিপ্ততা (randomness ) কিভাবে তথ্যকে জঞ্জাল (garbage) বানিয়ে ফেলে তার ব্যাখ্যা করা দরকার।

আমরা নিচের বাক্য দিয়ে শুরু করতে পারি।

“The quick brown fox jumped over the lazy dog”

এখন যদি আমরা বিক্ষিপ্ত বা এলোপাতাড়িভাবে এই বাক্যের বর্ণগুলো পরিবর্তন বা মিউটেট করি , তাহলে নিম্নের বাক্যগুলোর মতো দেখা যাবে।

The 6uHck brown fox jukped over the lazyHdog
Tze quick bro0n foL juXped over the lazy doF
Tae quick browY fox jumped oGer tgePlazy dog
The iuick brown fox jumped lver the lazy dog
The quiikQbKowSwfox .umped oveh the lazy dog

আপনি দুনিয়ার সকল প্রাকৃতিক নির্বাচন এর পরে প্রয়োগ করার পরেও একটি সুন্দর বাক্যকে ধ্বংশ ছাড়া কোন বোধগম্য বাক্য তৈরী করতে পারবেন না। www.RandomMutation.com এই ওয়েবসাইটে যেয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

এটা কেন কাজ করে না? কারন হলো , একেকবারে একটি বর্ণ পরিবর্তন করে একটি বাক্য তৈরি করা কখনৈ সম্ভব নয় , ইচ্ছাকৃত ভাবে চেষ্টা যদি করেন তবু ও।

প্রযুক্তিগতভাবে , এটা হয় কারন সকল বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি (random mutation) হলো গোলমেলে বা অতিরিক্ত শব্দ (noise) , যা সঙ্কেতকে (signal) ধ্বংশ করে। ক্লড শ্যানন এটাকে বলেছেন – তথ্য এন্ট্রপি। এন্ট্রপি কখনো বিপরিতমুখী হয় না। অতিরিক্ত শব্দ কখনৈ সঙ্কেতের উন্নতি করে না , বরং সঙ্কেতকে গোবর বানিয়ে ফেলে।

বিবর্তন সফল হওয়ার একটাই রাস্তা , আর তা হলো যদি বিবর্তন ভাষার নিয়ম অনুসরন করে।

সুতরাং.. সফল বিবর্তন ঘটলে বাক্যটি এমনটাই দেখাবে

The fast brown fox jumped over the slothful dog.
The dark brown fox jumped over the light brown dog.
The big brown fox leaped over the lazy dog.
The quick black fox sped past the sleeping dog.
The hot blonde fox sauntered past the sunbathing man.

ইংরেজিতে সফল বিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদের নির্ভুল প্রতিস্থাপন এবং ভাষার নিয়ম অনুসরন করা।

‘ডিএনএ’ ও এর ব্যাতিক্রম নয়। কারন ‘ডিএনএ’র নিজস্ব ভাষা আছে। ফ্যাক্ট হলো , হাজার হাজার ভাষাবিদ মানব জেনোম প্রজেক্টে জীনের ডিকোড বা অর্থোদ্ধারে সাহায্য করেছেন। ডজন ডজন ভাষার বইতে বর্ননা করা হয়েছে ‘ডিএনএ’ ও মানুষের মুখের ভাষার মধ্যেকার রহস্যজনক সাদৃশ্য নিয়ে।

পরের পর্বে নুতন বিবর্তনবাদ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখা হবে।

Newsweek Magazine: “Was Darwin Wrong About Evolution?”
http://www.newsweek.com/id/180103

“Darwin: Brilliantly Half Right, Tragically Half Wrong”
http://www.cosmicfingerprints.com/blog/darwin-half-right/

“A 3rd Way” – James Shapiro’s 21st century view of evolution
http://shapiro.bsd.uchicago.edu/Shapiro.1997.BostonReview1997.ThirdWay.pdf


নুতন বিবর্তনবাদ –
“পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে জীবের ডিএনএ’তে বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি (random mutation) নয় বরং পরিকল্পিত বদল বা প্রতিকল্পন ঘটে থাকে।”
(There is a mutation algorithm in DNA that makes *intelligent*
substitutions when species need to adapt to their environment.)

গত পোস্টে একটি উদাহরন দিয়েছিলাম যেখানে –
“The quick brown fox jumped over the lazy dog”
সফল বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছিল নিম্নের বাক্যে-
“The hot blonde fox sauntered past the sunbathing man.”

এই সফল বাক্যটি পাওয়া গিয়েছিল পরিকল্পিত ভাবে বিশেষ্য ও ক্রিয়া বদলের মাধ্যমে , যা বিক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণ বদলের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।

ডিএনএ’তে ও পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে , একই ভাবে ব্যাকরণের নিয়ম মেনেই বিক্ষিপ্ত ভাবে কোন একটি নিওক্লেইক এসিডের পরিবর্তে পুরো একটি ডিএনএ অনুক্রমের (Transposon) পরিকল্পিত বদল ঘটে থাকে।

এটা নুতন কোন তথ্য ও নয় বা থিওরী ও নয়। এটাই ঘটনা ,ফ্যাক্ট।

এটা আসলে ৬০ বছরের ও বেশি পুরনো। যারা আগে শোনেন নি , তাদের কাছেই শুধু এটা নুতন ঘটনা।

জীববিজ্ঞানী বারবারা ম্যাকক্লিনটক ১৯৪৪ সালে এটা আবিস্কার করেন এবং এই আবিস্কারের জন্য ১৯৮৩ সালে নোবেল প্রাইজ পান। তার ছবি আমেরিকার ডাক টিকেটে ছাপা হয়েছে এবং তিনি ইতিহাসের এক অন্যতম জীববিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃত।

তার এই আবিস্কার এতটাই র‌্যডিকেল ও ডারউইনের থিওরীর পরিপন্থী ছিল যে , বারবারা ম্যাকক্লিনটক তার এই আবিস্কার প্রচার না করে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে তখনকার বৈজ্ঞানিক সমাজে একঘরে হওয়ার ভয়েই তিনি এমনটি করেছিলেন।

কেউ কেউ এমন প্রশ্ন করতে পারেন – জীববিজ্ঞানের ক্লাশে এগুলো পড়ানো হয় না কেন?

ভাল প্রশ্ন।

শুধু এটুকুই বলা যায় – জীববিজ্ঞানের ক্লাশে এগুলো পড়ানো হয় না , এর কারন এটা নয় যে এটার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয় বা এমন ও নয় যে বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির মডেল (random mutation) কাজ করে। আসলে বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির মডেল (random mutation) কাজ করে না। এখনো এমন কোন সত্যিকারের গবেষনা বা পরীক্ষার কথা কেউ বল্তে পারবে না , যার মাধ্যমে দেখানো সম্ভব বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি বিবর্তনকে চালনা করে।(কারো এমন কোন গবেষনার কথা জানা থাকলে , জানালে উপকৃত হব।) দুঃখের সাথে বল্তে হয় , বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির থিওরী একটি শহুরে লৌকিক উপাখ্যান (যার সত্যতা নিরূপন দুরূহ) ছাড়া আর কিছু নয়।

মজার কিছু তথ্য – 

পরিকল্পিত বিবর্তন যে উপায়ে ঘটে , ঠিক সেই উপায়েই আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) সম্পুর্ণ নুতন জীবাণুর (যার সাথে আগে কখনো মোলাকাত হয় নি) সাথে যুদ্ধের অস্ত্র (এন্টিবডি) তৈরির জ্ঞান অর্জন করে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন সংযুক্তির (combination) মাধ্যমে চেষ্টা করে আক্রমনকারী জীবাণুর কোড ভাঙ্গতে। যখনই এই কোড ভাঙ্গা সম্ভব হয় , তখন পরবর্তি প্রজন্মের কোষে (daughter cells.) ডিএনএ’র নুতন পুনর্বিন্যাসের তথ্য সরবরাহ করা হয়।

আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের একটি ক্ষুদ্রাকার প্রতিরূপ বা মডেল।

চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ জেমস্‌ শাপিরোর একটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ আবিস্কারের কথা উল্লেখ না করলেই নয় –
“প্রোটোজোয়া পরিবেশের চাপে পড়লে নিজের ডিএনএ’কে কেটে প্রায় ১লক্ষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরো করে ফেলে। অতঃপর পরিবেশের শত শত পরিবর্তনীয়কে (variables) ধর্তব্যে এনে ডিএনএ’কে এমনভাবে পুনঃসংযোজন করে , যাতে একটি নুতন আরো ভাল ও সক্ষম প্রোটোজোয়ায় বিবর্তিত বা বিকশিত হয়।”

ভাল করে আর একবার পড়ে এর গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা করুন। প্রটোজোয়া নিজের ডিএনএ’কে নিজেই রিপ্রোগ্রাম করে বিবর্তিত হয়। গত পোস্টে অভিজিতের সাথে আমার বিতর্কের কথা মনে আছে? এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাক্টেরিয়ার উদ্ভব ও একি প্রকৃয়ায় ঘটে থাকে। আমাদেরকে ব্যাক্টেরিয়ার জনপুন্জে সুদুর ভবিষ্যত পর্যন্ত যত এন্টিবায়োটিক আবিস্কার হবে , তার প্রত্যেকটির একটি/কয়েকটি করে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থীতি আগে থেকেই বিদ্যমান , এমন উদ্ভট দাবীতে আর বিশ্বাস না রাখলেও চলবে।