Monday, April 13, 2015

মোল্লা VS নাস্তিক

ফেসবুক থেকে পাওয়া--
সৌজন্যে- গোলাম তারেক হাসান তমাল।


(মোহাম্মদপুরের কোন এক চায়ের দোকানে কিছু তরুণ বসে আলোচনা করছে)
১ম তরুণঃ তাহলে বুঝছ তো? আল্লাহ যদি থাকতই, তাহলে সমাজে কি গরীব থাকতো? ঐ লোকটার কি দোষ যে আল্লাহ তাকে গরীব করে বানাইছে?
(কথাটা কানে যেতেই দাঁড়িয়ে পড়ল মোল্লা। ভাল করে খেয়াল করল তরুণকে। মুখে ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি, DON 2 এর শাহরুখ খানের মত ঝুঁটি বাঁধা চুল, চে গুয়েভারার গেঞ্জি গায়ে... যাকে বলা হচ্ছে, সে সাধারণ একজন তরুণ। তাদেরকে ঘিরে বসে আছে আরও কয়েকজন, সবাইকে ভার্সিটি পড়ুয়াই মনে হল... বসল গিয়ে চায়ের দোকানে।)
উৎসুক শ্রোতা পেয়ে ১ম তরুণ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল...
মোল্লাঃ ভাই, আপনার যুক্তিটা তো বুঝলাম না। সমাজে গরীব আছে বলে স্রষ্টা নেই, এটা কেমন কথা হল?
১ম তরুণঃ স্রষ্টা থাকলে তিনি কি আর গরীব লোকদের কষ্ট দেখে চোখ বুজে থাকতেন? অবশ্যই তিনি তার সৃষ্টিকে কষ্ট দিতেন না।
মোল্লাঃ এটা কোন কথাই হলনা। অনেক মানুষের অনেক টাকা পয়সা আছে, তারপরও তারা কষ্টে আছে। খালি গরীব হলেই কষ্ট, এটা ভুল। কষ্ট নাই, এমন কোন মানুষ পাইনি আমার জীবনে। কারো চেহারা নিয়ে কষ্ট, কারো টাক নিয়ে কষ্ট, কারো GF/BF কে না পাওয়া নিয়ে কষ্ট।
(.. উৎসুক শ্রোতারা, আশেপাশের আরও কয়েকজন, যারা এতক্ষণ নাস্তিকতার কথা শুনছিল, কিন্তু পাল্টা যুক্তি দেখাতে না পেরে মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিল, সবাই মনোযোগ দিল)
...আপনার লজিকটা ভুল। অনেকটা এইরকম, NOKIA N8, N97 আর 6210 নিজেদের মধ্যে আলাপ করতেছে, “আমাদের মধ্যে যেহেতু বৈচিত্র্য আছে, সেহেতু NOKIA COMPANY বলে কিছু নাই”। এটা কোন কথা হল?
(বিন্দুমাত্র না দমে...)
১ম তরুণঃ কিন্তু আল্লাহ আছে, এই প্রমাণ কেউ করতে পারেনি, এর কোন প্রমাণই নেই, আপনার কাছেও প্রমাণ নেই, খালি অন্ধ বিশ্বাস।
মোল্লাঃ (দৃঢ়ভাবে) জী না, আমার কাছে প্রমাণ আছে। বরং স্রষ্টায় না বিশ্বাস করাটাই অন্ধ বিশ্বাস।
পাশ থেকে কেউ একজন : “ কিভাবে?? Zakir Nayek এর logic দিবেন তো? ওইটা তো Zakir Nayek না, Joker Nayek, ওর logic এর অনেক flaw আছে।’’
মোল্লাঃ আমি জাকির নায়েকের logic দিবনা। বরং আমি আপনাকে এমন প্রমাণ দিব যা আমাদের বাস্তবতা (Reality)কে পর্যবেক্ষণ করে নেয়া, যা চূড়ান্তভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করবে।
(এবার তারা কিছুটা উৎসাহিত হল)
দুইজন (সমস্বরে): কিভাবে?
মোল্লাঃ দেখেন, আমাদের এই মহাবিশ্বটার যদি শুরু থাকে, তবে এই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে যে, তা কিভাবে শুরু হল?
১ম তরুণঃ কিন্তু মহাবিশ্ব তো শুরু নাও হতে পারে, অনন্তকাল ধরেও তো চলে আসতে পারে?
মোল্লাঃ না, মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে চলে আসতে পারেনা, এর অবশ্যই অবশ্যই শুরু আছে।
১ম তরুণঃ আপনি এত Sure হলেন কিভাবে?
(বাকিরা উৎসাহী নয়নে চেয়ে আছে...)
মোল্লাঃ মনে করেন, আপনি বাসে উঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার সামনে আরও ৫ জন। আপনি কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
কেউ একজনঃ ৫ জনের পর।
মোল্লাঃ যদি আপনার সামনে ১০ জন থাকে, তাহলে??
১ম তরুণঃ ১০ জনের পর।
মোল্লাঃ কিন্তু যদি আপনার সামনে অসীম সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে থাকে? তাহলে, কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
(ব্যাপারটা হজম করতে সময় লাগল, কেউ কথা বলছেনা)
মোল্লাঃ তারমানে আপনি কোনদিন বাসে উঠতে পারবেন না। কারণ আপনার সামনের লাইন কোনদিনই শেষ হবেনা (যেহেতু অসীম)। সুতরাং আপনার serial কখনই আসবেনা। এখন এই মহাবিশ্ব যদি অনন্তকাল ধরে চলে থাকে, তবে একটা প্রশ্ন করি, পৃথিবীর জন্ম কবে হয়েছে? উত্তর হবে, পৃথিবীর জন্ম এখনও হয়নাই, কখনই হবেনা, কারণ পৃথিবীর জন্ম হওয়ার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটতে হবে। আর অসীম মানে যার কোনও শেষ নাই, সেই ক্ষেত্রে পৃথিবীকে অনন্তকাল জন্ম হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যেরকম আপনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বাসে উঠার জন্য। আপনার সামনের লাইন কোনদিনও শেষ হবেনা, আপনিও বাসে উঠতে পারবেন না, পৃথিবীর সামনের লাইনও কোনদিন শেষ হবেনা। এখন মনে করি, পৃথিবীর সামনে সূর্য দাঁড়িয়ে আছে, জন্ম হওয়ার অপেক্ষায়, তারও কোনদিন জন্ম হবেনা, কারণ তার সামনের লাইনও তো অসীম! অসীমের সাথে ১ যোগ করলেও অসীম, ১ বিয়োগ করলেও অসীম, তাহলে আগের ঘটনাগুলোই যদি এখনও শেষ না হয়, তাহলে আমি, আপনি , পৃথিবী, সূর্য কোন কিছুরই অস্তিত্ব সম্ভব হতনা। অবশ্যই একটা ঘটনার মাধ্যমে মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে, তারপর ১, ২, ৩, ৪, করে করে ঘটনাগুলো ঘটতে আরম্ভ করেছে... এখন আমি আপনি চায়ের দোকানে আলাপ করছি!
মাঝখান থেকে একজনঃ ভাই, আরেকটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
মোল্লাঃ কঠিন হয়ে গেল? আচ্ছা, মনে করেন, আপনি শত্রু পক্ষের কাউকে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলি করবেন। আপনার উপর ৫ জন BOSS আছে, পর্যায়ক্রমে যাদের অনুমতি পেলে আপনি গুলি করবেন। এখন আপনাকে যদি অসীম সংখ্যক BOSS এর permission নিতে হয়, তাহলে আপনি কখন গুলি করবেন? আপনার permission নেয়াও শেষ হবেনা, গুলিও কোনদিন করতে পারবেন না। আপনার বাসায় যদি অসীম সংখ্যক মালামাল থাকে তাহলে কোনদিনই বাসা change করতে পারবেন না। কারণ মালামাল নামানো কোনদিনই শেষ হবেনা।
(চায়ের দোকানদারকে)... ভাই, এক গ্লাস পানি দাও তো...
তারমানে কোনও একটা ঘটনা যদি ঘটে, বুঝতে হবে যে তার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটেনি, ঘটেছে সীমিত সংখ্যক ঘটনা, আর সীমিত ঘটনা মানেই, একটা শুরু আছে, তারপর ঘটনা গুলো ঘটতে ঘটতে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে। সুতরাং মহাবিশ্বের অবশ্যই শুরু আছে। যেরকম ৫ জনের বা ১০ জনের পর আপনি বাসে উঠতে পারছেন, সেইরকম ৫টা, ১০টা বা ১০০টা ঘটনা ঘটার পর পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহাবিশ্বের শুরু আছে, এটা অনন্তকাল ধরে চলে আসা কোনও মহাবিশ্ব নয়।
(বিংশ শতাব্দীর শুরুতে গণ্ডমূর্খ নাস্তিক INTELLECTUAL দের, যে যুক্তি, উঠতি তরুণ সমাজের মাঝে নাস্তিকতার হাওয়া যুগিয়েছিল, তার এরকম পতন দেখে হতবাক হয়ে গেল তরুণগুলো)
(একটু নমনীয় সুরে...)
১ম তরুণঃ আপনার কথা ঠিক আছে... (অজানা ভয়ে... আমতা আমতা করে...) কিন্তু এতেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা আছে।
মোল্লাঃ এখন অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা চলেই আসে, তাহলে মহাবিশ্ব কিভাবে শুরু হল, মানে সৃষ্টি হল। সে কি নিজেকে নিজে তৈরি করেছে, অর্থাৎ শুন্য থেকে নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে নাকি অন্য কেউ তাকে তৈরি করেছে?
১ম তরুণঃ আপনার যুক্তিটা কি? Stephen Hawkings কিন্তু বলেছেন যে, কোন স্রষ্টা ছাড়াই এই মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে তৈরি করেছে।
মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে...) Grand Design বইটার কথা বলছেন তো? ঐ বইয়ের সমালোচনার জবাবে হকিংস নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন যে,
“ স্রষ্টা নেই, এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা। কিন্তু বিজ্ঞান স্রষ্টাকে অপ্রয়োজনীয় বলে রায় দিয়েছে।’’
সুতরাং, ঐ বই থেকেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা নেই। বরং লেখক নিজেই বলছেন যে, স্রষ্টাকে আমাদের দরকার নেই। দরকার নেই, আর স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই, দুইটা তো এক জিনিষ না। আর তাছাড়া বইটাতে বোকামিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
(ব্যাপারটা হজম করতে না পারলেও, এই মোল্লার দৌড় যে শুধু মসজিদ পর্যন্ত না, তা তারা ভালই বুঝতে পেরেছে।)
মোল্লাঃ তা ভাই, আপনার নামটা যেন কি?
১ম তরুণঃ রুম্মান।
মোল্লাঃ চা চলবে ভাই?... এই মামা, চা দাও সবাইকে...
রুম্মানঃ যা বলছিলেন, হকিংস...
মোল্লাঃ ও, হ্যাঁ। উনি বলেছেন যে, Gravityর কারণে এ মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে।
রুম্মানঃ তো, এতে সমস্যা কোথায়? Virtual Gravitons এর কারণে এই Gravity তৈরি হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি, শূন্য থেকে।
মোল্লাঃ সমস্যা আছে। Gravity একটা গাণিতিক সমীকরণ। দুইটা বস্তুর মাঝে ভর অনুপাতে আকর্ষণ বুঝাতে এটা ব্যবহৃত হয়। তো মহাবিশ্ব যদি শূন্য থেকেই আসে, তাহলে সেখানে কোন বস্তু ছিলনা, তো Gravity কোত্থেকে আসল সেই সময়? এইখানে আপনি বলছেন যে Virtual Gravitons ছিল, তো সেই প্রশ্ন এসে যায়, এরা কি অনন্তকাল ছিল? অনন্তকাল ধরে থাকতে পারেনা। আর একটা জিনিষ নাই, ছিলনা, আবার সেটা হইল, আবার নাই আবার হইল, এইটাত পুরাই Irrational কথাবার্তা। আপনার সামনে আমি দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম, আবার দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম... Science দেখি সিন্দাবাদের দৈত্যের মত কথা বলছে, Infact তার চেয়েও আজগুবি কথা বলেছে হকিংস। এই কারনেই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বেরনেস গ্রিনফিল্ড হকিংস কে তালিবানদের সাথে তুলনা করে বলেছেন যে, “যা খুশি তারা বলতে পারে, তালিবানদের মত তারা যখন বলে আমাদের কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে, তখন তা আসলেই অস্বস্তিকর।’’ মানে Comment করতে তো আর পয়সা লাগেনা। Science বুঝেনা এরকম নাস্তিকরাই আসলে হকিংস রে নিয়ে কাউ কাউ করে। Richard Dawkins এইরকম একজন। আমাদের দেশের নাস্তিকগুলাও না বুইঝা ফালাফালি করে। অনেক বিজ্ঞানীই হকিংসের সাথে একমত না।
... আর gravity না হয় gravitons থেকে হইল, যেটার কারণে মহাবিশ্ব হইল, তাহলে gravitons কোত্থেকে হইলো? দ্বিতীয় আরেকটা প্রশ্ন হল, হকিংস শূন্য বলতে যে Quantum vacuum বুঝিয়েছেন, তা কিন্তু আসলেই শূন্য (nothing) না। সেখানে energy বিরাজ করত। এখন, energy আর gravity এই মহাবিশ্বেরই অংশ। হকিংসের কথার সাদামাটা মানে হল, আপনি নিজেকে তৈরি করেছেন শূন্য থেকে, নিজেকে তৈরি করার আগে আপনার হাত আগে থেকেই ছিল (যেটা আপনারই অংশ), তারপর সেই হাত আপনাকে তৈরি করেছে। তো প্রশ্ন হল, হাত কিভাবে ছিল? এটা একটা অবাস্তব কথাবার্তা।
মহাবিশ্বের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত একটা জিনিষ, মহাবিশ্ব তৈরি হওয়ার আগে থেকেই ছিল, এরপর মহাবিশ্বকে তৈরি করে সে নিজেই মহাবিশ্বের পেটের ভেতর ঢুকে পড়েছে, How Funny??? Seems like fairy tales!! অর্থাৎ আপনি আগে থেকেই ছিলেন, এরপর আপনার মাকে আপনি বানাইছেন, বানাইয়া তার পেটের ভেতর ঢুকে বসে আছেন, আর মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি নিয়ে বেঁচে আছেন। LOL, মজা পাইলাম।
(পুরা দোকান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে, কেউ বুঝতেছে, কেউ বুঝতেছেনা, তবে সাধারণ জনগণ চাচ্ছে মোল্লাই জিতুক। চায়ে চুমুক দিয়ে...)
এর চেয়ে অবাস্তব কথা আর কি হতে পারে? এ থেকেই বুঝা যায়, মহাবিশ্ব শূন্য থেকে আপনা আপনি তৈরি হয়েছে, এরকম কোন সত্য প্রমাণ বিজ্ঞানের কাছে আদৌ নেই। এটা শুধু থিওরি হিসেবে হকিংসের কল্পনায় (Fantasy) আছে, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। না হলে কি আর হকিংস সাহেব বলতেন, “স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব নয়”
এজন্যই আল্লাহ কুরআনে সুরা আত তুরে বলেছেন, “ তারা কি এমনি এমনিই তৈরি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? না তারা নভোমডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করেনা।’’
রুম্মানঃ (ব্যঙ্গ করে), এ কথা আপনি মহাজ্ঞানী বুঝলেন, আর হকিংস বুঝলনা??
মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে) হকিংস অজ্ঞানান্ধ (বিজ্ঞানে অন্ধ= অজ্ঞানান্ধ)। একজন রিকশাওয়ালাও তার চেয়ে Rational। এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিলো, “ চাচা, আল্লাহ আছে, এটা বুঝলেন ক্যামনে?” কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি উত্তর দিলেন,
“ বাবারে, আমি প্যাডেল চাপি, চাক্কা ঘুরে, আর এতবড় দুনিয়া ঘুরতাছে, প্যাডেল তো কেউ একজন মারতাছে...”
হকিংস সাহেবের এই বোধ বুদ্ধিটাও নাই। হাহাহাহাহা, দেখেন না, এখন কমেডি শোতে অভিনয় করা শুরু করেছেন! এদের ব্যাপারেই আল্লাহ কুরআনে সুরা আল আরাফে বলেছেন, “ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোজখের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করেনা, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখেনা, তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শুনেনা। তারা চতুষ্পদ জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, উদাসীন।’’
২য় তরুণঃ তাহলে কি দাঁড়ালো? মহাবিশ্ব অসীম নয়, এর শুরু আছে। শুরুটা সে নিজে নিজে করেনি। তারমানে অবশ্যই কেউ একজন এই মহাবিশ্বকে শুরুতে সৃষ্টি করেছেন। ... (কিছুক্ষণ ভেবে) কিন্তু একটা সমস্যা তো রয়েই যাচ্ছে। তাহলে ঐ স্রষ্টা আসল কোত্থেকে? উনাকে কে বানাইছে?
★ (মোল্লাকে আটকানো গেছে ভেবে কতগুলো চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। বাকিরা দম বন্ধ করে ফেলল)
(চায়ে ধীরেসুস্থে চুমুক দিল মোল্লা। সবাই উৎসুক চোখে চেয়ে আছে।)
পাশ থেকে একজন খোঁচা মেরে বললঃ এটা তো শয়তানের প্রশ্ন। তুই তো শয়তান হয়ে গেলিরে।
(হাসির রোল উঠল...)
মোল্লাঃ স্রষ্টাকে যদি অন্য কেউ বানায়, তাহলে প্রশ্ন আসে, তাকে কে বানাল? সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এবং এভাবে ব্যপারটা আবার অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে। একটু আগেই কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, কোন অসীম সংখ্যক ঘটনা সম্ভব নয়। তারমানে হোল, এই মহাবিশ্বের যিনি স্রষ্টা, তার কোন স্রষ্টা নেই।
রুম্মানঃ তাহলে তিনি অস্তিত্বে আসলেন কিভাবে? তিনি কি নিজেকে নিজেই বানিয়েছেন ?
মোল্লাঃ তাও সম্ভব নয়। একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেকে নিজে কিভাবে বানাবে? আর নিজে যদি নিজেকে বানায়, তারমানে, নিজেকে বানানোর আগে তিনি ছিলেন না। নিজেকে যখন বানালেন তখন থেকে তার শুরু, তো কি দিয়ে বানালেন? আর শুরু মানেই তিনি সীমিত। আর তাকে যদি কেউ বানায়, তা নিজেই নিজেকে বানাক আর অন্য কেউ তাকে বানাক, এখানে physical properties চলে আসে। physical properties মানে তিনি নিয়ন্ত্রিত, তার উপর বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়েছে, তাকে অন্য কারো ইশারায় চলতে হয়, তিনি স্বাধীন না। অথচ স্রষ্টা হতে হলে তাকে হতে হবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন এবং অনির্ভরশীল। আর মূল কথা হল, একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেরে কিভাবে, কি দিয়ে বানাবে? শূন্য থেকে আপনা আপনি কিছু হয়না, এটা তো আমরা একটু আগেই আলোচনা করলাম।
রুম্মানঃ তাহলে স্রষ্টা আসল কোথা থেকে?
মোল্লাঃ তিনি অসৃষ্ট। তিনি কোথাও হতে আসেন নাই। তিনি আগে থেকেই ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
(গুঞ্জন উঠল ভিড়ের মধ্যে, “এটা কি হল, বুঝলাম না”... “অসৃষ্ট মানে?”...“তাহলে মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়...?”)
(কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল মোল্লার।)
মোল্লাঃ আমার বক্তব্যটা একটু গুছিয়ে বলি। মহাবিশ্বকে Study করে আমরা বুঝলাম যে তার একজন স্রষ্টা আছে, তাইনা?
(আশপাশে তাকিয়ে তেমন একটা support পেলনা মোল্লা। দুই একজন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল)
মহাবিশ্ব, স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব না। এখন এই স্রষ্টাকে, হয়, কেউ তৈরি করেছে, না হয় তিনি নিজেকে নিজে তৈরি করেছেন। এ দুইটা বাদ দিলে মাত্র একটাই Option থাকে। আর তা হল স্রষ্টা অসৃষ্ট। এর বাইরে আর কোন Option নাই। প্রথম দুইটা Point যে ভুল, তা আমি আলোচনা করেছি। আর বাকি একটাই Option থাকে যে, তিনি একজন অসৃষ্ট স্রষ্টা (Uncreated Creator)। তিনি যদি অসৃষ্ট (Uncreated) না হন, তাহলে তিনিও ‘সৃষ্টি’ (Created) হয়ে যান। আমাদের বুঝতে হবে যে, ‘স্রষ্টা’ (Creator) আর ‘সৃষ্টির’ (Created) মধ্যে পার্থক্য আছে। সৃষ্টি মানেই সীমাবদ্ধতা (Limitation), নির্ভরশীলতা (Dependency), দুর্বলতা (weakness)। কিন্তু স্রষ্টা এসকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে। এজন্যই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করা যায়না। তাকে হতে হবে অসৃষ্ট (Uncreated)।
(এতক্ষণে কয়েকজন বুঝল, কিন্তু প্রশ্ন শেষ হয়নি)
রুম্মানঃ মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়? আর স্রষ্টার যে বৈশিষ্ট্য আপনি বলেছেন, তা তো কল্পনায়ও আনতে পারছিনা। পুরোপুরি বোধগম্যও হচ্ছেনা!
মোল্লাঃ মহাবিশ্বের ব্যপারটা তো বললামই, সে সীমিত (Finite), সে অস্তিত্বের জন্য নির্ভরশীল। আর যে অস্তিত্বের জন্য অন্য কারো উপর নির্ভরশীল, সে তো সৃষ্টি (Created)। এজন্যই তো সে অসৃষ্ট (Uncreated) নয়, তার একজন স্রষ্টাকে দরকার, কিন্তু স্রষ্টার অন্য কোন স্রষ্টাকে দরকার নেই। আর স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য বোধগম্য হচ্ছেনা, স্বাভাবিক। স্রষ্টার Reality আর আমার আপনার Reality এক না। একটা Unknown Reality কে আপনি Known Realityর সাথে Match করাতে পারবেন না।
২য় তরুনঃ বুঝলাম না।
মোল্লাঃ মনে করেন আপনি কোনদিন আমেরিকার সাদা চামড়ার মানুষ দেখেন নি। এখন কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, আমেরিকার মানুষের চামড়া সাদা, তো, আপনি কি বুঝবেন? আপনি বলবেন, দুধের মত সাদা? সে বলবে, না লাল সাদা। আপনি হয়ত বলবেন, দুধের মধ্যে আলতা দিলে যেরকম হয়, সেরকম?
(চায়ে চুমুক দিয়ে মোল্লা দেখল চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। পাশে রেখে দিল)
মোদ্দা কথা হচ্ছে, একটা অজানা Reality সম্পর্কে যদি আপনাকে এসে বলা হয়, আর আপনি যদি তা Sense করতে না পারেন, তবে কোনদিনই বুঝবেন না ঐ Reality কেমন। ঐ Reality বুঝতে হলে আপনাকে ঐ Reality তে অবস্থান করতে হবে। স্রষ্টার Reality আমাদের বুঝার বাইরের Reality, যা আমরা কখনই বুঝবনা। এজন্যই, হাদিসে, আল্লাহ কেমন, কিভাবে কাজ করেন, কেমনে থাকেন এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ একটা অজানা Reality সম্পর্কে চিন্তা করতে গিয়ে আমরা শুধু Fantasy নিয়ে পড়ে থাকব... এ কারনে আমরা মহাবিশ্বকে Study করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারি, কিন্তু তিনি কেমন, কিভাবে থাকেন, কিভাবে কাজ করেন, তা প্রমাণ করতে পারিনা, এটা আমাদের আয়ত্তের বাইরে।
মাঝখান থেকে একজনঃ ও, সেজন্যই বুঝি স্রষ্টার কোন মূর্তি থাকতে পারেনা! ছবি থাকতে পারেনা? কারণ, তাকে যদি নাই দেখলাম, তার বাস্তবতা যদি নাই বুঝলাম, তাহলে তার মূর্তি বানালে তো তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়। তাকে তো দেখিইনাই কোনদিন, মূর্তি বানাব কেমনে? মূর্তি তো বানাব আমার কল্পনা দিয়ে, কিন্তু সেটা তো আর স্রষ্টা নয়!
(প্রশংসার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল মোল্লা, ভাবল, “নাহ, সব নাস্তিক গাধা না।”)
মোল্লাঃ Exactly! আপনি সঠিক Point টাই ধরেছেন। এ কারণেই ইসলাম বলেছে স্রষ্টার সাথে এ মহাবিশ্বের কোন কিছুর তুলনা করা যায়না। তিনি অতুলনীয়। তাই, মূর্তি বানালে স্রষ্টার উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়।
(রঙ্গমঞ্চে এবার নতুন একজন আবির্ভূত হলেন।)
তিনি বললেনঃ তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent?
(মোল্লা ঘুরে তার দিকে তাকাল। মাঝবয়সী ভদ্রলোক, এক কোণায় বসে মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিলেন এতক্ষণ। এঁর কাঁচাপাকা চুলও ঝুঁটি বাঁধা, চওড়া কপাল, ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি, ফুলরীমের চশমা সেইরকম একটা ভাব এনে দিয়েছে চেহারায়... মোল্লা বুঝল, Tough Guy... মজাটা শুরু হবে এখন...)
মোল্লাঃ জী, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent।
(মৃদু হাসলেন ভদ্রলোক)
মাঝবয়সী বাবুঃ আপনি কি Quark এর কথা শুনেছেন? Quark কে কিন্তু আমরা প্রকৃতিতে আলাদাভাবে ... মানে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পাইনা। সুতরাং একে আপনি Limited বলতে পারবেন না। আবার একে নিয়ন্ত্রণও করা যায়না, মানে অন্য কেউ ওর উপর খবরদারি করতে পারেনা, সুতরাং একে Independent বলতে পারেন। তাহলে কি বলতে চাচ্ছেন, Quarkই আপনার আল্লাহ?? (হা হা হা)
মোল্লাঃ আপনার এই কথাটাই Atheist Bangladesh Group এর Admin আমাকে বলেছিল। তখন আমি Quark সম্পর্কে জানতাম না। তাই একটু ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি, (হাত দিয়ে মাছি তাড়াবার ভঙ্গি করল মোল্লা)। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, Quark কে Laboratory তে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, এর ভর আছে, এর ঘূর্ণন আছে। সুতরাং একে আপনি Independent বলতে পারেন না। আর ধারণা করা হয়, Big Bang এর শুরুতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে এরা প্রকৃতিতে বিরাজ করেছিল, সুতরাং ‘Unlimited’ একটা জিনিষ ‘Limited’ মহাবিশ্বে বিরাজ করতে পারেনা। আপনি আমার আলোচনা এতক্ষন শুনে থাকলে বুঝবেন।
মাঝবয়সী বাবুঃ আল্লাহর ও তো বৈশিষ্ট্য আছে, তিনি কি জানি... (মনে করার ভান করলেন) আর রহমান, আর রহিম, বেগারা, বেগারা, তাহলে তাকে Dependent আর Limited বলছেন না কেন?
(ব্যাটার নির্বুদ্ধিতায় বিরক্ত হল মোল্লা, ভাবল, “গাধা কি আর গাছে ধরে?” চেহারায় ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ)
মোল্লাঃ উনি যে রহমান, রহিম এগুলা উনার Personality, এগুলা কোন Physical বৈশিষ্ট্য না। Quark এর বৈশিষ্ট্যগুলা Physical বৈশিষ্ট্য, Personality না। আর ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্য মানেই এগুলো আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে, তার মানে আপনি Independent না, আপনি খাঁচার ভেতর অচিন পাখি। আপনার হাত দেড় ফুট লম্বা, এটা Physical বৈশিষ্ট্য, কিন্তু আপনি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করেন, এটা আপনার Personality, Physical Property কাউকে Limited করে তোলে কিন্তু Personality কাউকে Limited করেনা।
(একটু যেন দমে গেলেন ভদ্রলোক)
মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু... সবপারে, অর্থাৎ Omnipotent একজন স্রষ্টার কিন্তু সমস্যা আছে। আত্মবিরোধের সমস্যা।
(মোল্লা বুঝতে পারল অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা এবার ধেয়েই আসছে...)
মাঝবয়সী বাবুঃ বলেন, আল্লাহ কি এমন কোন পাথর তৈরি করতে পারেন, যেটা উনি ধ্বংস করতে পারেন না? আপনি যদি বলেন, পাথর তৈরি করতে পারে, তাইলে তিনি ধ্বংস করতে পারবেনা, আর যদি বলেন এমন পাথর তৈরি করতে পারেন না, তাইলে তো আর এই স্রষ্টা সবকিছু পারেনা। দুইদিকেই সমস্যা। আত্মবিরোধ, সুতরাং আল্লাহ সবকিছু পারেন না!
(সবগুলা চোখ এখন মোল্লার দিকে)
মোল্লাঃ এটা একটা Logical প্রশ্ন, রাইট?
মাঝবয়সী বাবুঃ (মৃদু হেসে) হ্যাঁ।
মোল্লাঃ Logic সবসময় একটা Premise এর উপর ভর করে চলে। এই প্রশ্নটার Premise হল, “আল্লাহ সবকিছু পারেন”। এই কথাটার উপর ভিত্তি করে প্রশ্নটা করা হয়েছে। আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দিব, তার আগে বলেন, আল্লাহ সবকিছু পারে, এটা আপনাকে কে বলেছে?
মাঝবয়সী বাবুঃ তারমানে, আল্লাহ সবকিছু পারেনা?
মোল্লাঃ না, আল্লাহ সবকিছু পারেনা।
(বোম্ব ফাটল যেন। উল্লাসধ্বনি শোনা গেল নাস্তিক শিবির থেকে। এই স্বীকারোক্তিতে মাঝবয়সী বাবুও হতভম্ব হয়ে গেলেন। আস্তিকরা দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। মোল্লা চুপচাপ, শান্ত।)
মাঝবয়সী বাবুঃ তাহলে আপনার আল্লাহ সবকিছু পারেনা? হাহা (ব্যঙ্গ করে), তাহলে তিনি স্রষ্টা হওয়ার যোগ্যতা হারালেন। এরকম অযোগ্য স্রষ্টার দরকার নেই।
(রুম্মান চুপচাপ, সে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। বুঝতে পারল, এত সহজে ঘায়েল করা যাবেনা মোল্লাকে)
মোল্লাঃ আল্লাহ সবকিছু পারেন না। তিনি ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না, মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, অবিচার করতে পারেন না। কারণ এ কাজগুলো যদি তিনি করেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকেন না। এ কাজগুলো যদি তিনি পারেন, তবে তিনিও আমাদের মত ঘুম, খাওয়া দাওয়া স্বার্থপরতা এইসবের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। আর স্রষ্টার পক্ষে এই ধরনের কাজ সাজেনা। সব কিছু যদি উনি পারেন, তাহলে উনার পক্ষে স্রষ্টা হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে, আমি আপনি না হয় স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বলি, ক্লান্ত হলে ঘুমাই, কিন্তু স্রষ্টার মিথ্যা বলার দরকার কি? ঘুমানোর দরকার কি? তিনি এসব দুর্বলতা থেকে মুক্ত বলেই তিনি স্রষ্টা। এই ব্যপারে কুরআনে আয়াতুল কুরসিতে বলা আছে। এইসব কাজ স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাঙ্ঘর্শিক। তিনি এই ধরনের Ungodly কাজ করতে পারেন না। আর আল্লাহ নিজেও কখনও দাবি করেন নি যে, তিনি “সব পারেন” বরং তিনি বলেছেন, “সবকিছুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।’’ মানে সবকিছুকে control করার, destroy করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
(একটু ইতঃস্তত ভাব যেন দেখা গেলো মাঝবয়সী বাবুর মাঝে, তবে হার মানতে নারাজ তিনি)
মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু আমার প্রশ্নের সাথে তো আপনার উত্তরের কোন মিলই নাই। আমি কি জিজ্ঞাসা করলাম, আর আপনি কি উত্তর দিলেন?
মোল্লাঃ আমি ভেবেছিলাম, আপনি জ্ঞানী, বুঝে নিবেন। (দুইপাশে হাত ছড়িয়ে) যাই হোক, ঐ যে বলছিলাম, প্রশ্নটার premise ভুল। এই প্রশ্নে ধরা হয়েছে যে, “স্রষ্টা সবকিছু পারে”। এই ভিত্তিতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “স্রষ্টা কি এমন কোন পাথর বানাতে পারে যা তিনি ধ্বংস করতে পারেন না?’’ premise ভুল এই কারনে যে, আমি একটু আগেই বললাম, স্রষ্টা আসলে সবকিছু পারেনা, উনি Ungodly জিনিস করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, এই প্রশ্নটার structure এও ভুল আছে। এই প্রশ্নটা logical প্রশ্ন। একটা Universal truth কে base ধরে এই method এ logic দাঁড় করান হয়। এই method কে বলা হয় logical deduction method। কিন্তু এই প্রশ্নটায় universal truth কে base ধরে করা হয়নি।
(একটু চিন্তা করে)
যেমন ধরুন, ‘মানুষ মরনশীল’ এটা একটা সার্বজনীন সত্য। এটাকে premise ধরে প্রশ্ন করা হল, ‘রহিম একজন মানুষ, রহিম কি মরণশীল?’.. কিন্তু আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তাতে বলা হয়েছে, এমন কোন বস্তু তৈরি করা যাবে কিনা, যা স্রষ্টা ধ্বংস করতে পারেনা? আমাদের আশপাশে এমন কোন উদাহরন নাই যেখানে কেউ কোন কিছু বানাল অথচ তা নষ্ট করতে পারেনা। আপনি যদি একটা গ্লাস বানান, আপনি জানেন, কত জোরে আঘাত করলে তা ভেঙ্গে যাবে। আপনি একটা কম্পিউটার বানালে জানেন যে, পানিতে চুবাইলে এইটা শেষ। এটা কখনই সম্ভব না যে, কেউ কোন একটা জিনিসকে তৈরি করেছে অথচ তা ধ্বংস করতে পারছেনা। তৈরি করার সাথে সাথেই ঐ জিনিষটার দুর্বলতা এবং নাড়ী নক্ষত্র স্রষ্টার জানা হয়ে যায়, যেভাবে আপনি জানেন আপনার তৈরি করা মেশিনটা কয়দিন সার্ভ করবে, কি করলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা স্রষ্টার দুর্বলতা নয়, বঋরং সৃষ্টির, স্রষ্টাকে অতিক্রম করতে না পারার অক্ষমতা!
(ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন মাঝবয়সী বাবু। এ প্রশ্নের এরকম উত্তর তিনি জীবনেও শুনেন নি। মোল্লা যেভাবে প্রশ্নটার সার্জারি করে আবর্জনার স্তূপে ছুঁড়ে ফেলল, তাতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। অথচ এ প্রশ্ন দিয়েই তিনি কত তরুণকে নাস্তিক বানিয়েছেন, কত হুজুরকে ঘোল খাইয়েছেন, অপমান করেছেন!)
ফ্যাকাসে হাসি হাসলেন বাবু।
মাঝবয়সী বাবুঃ বুঝলাম, কিন্তু স্রষ্টা থাকলেই যে, তাকে মানতে হবে, এমন কোন কথা নেই।
মোল্লাঃ তারমানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, এ মহাবিশ্ব তৈরির পেছনে কোন objective নেই?
মাঝবয়সী বাবুঃ না কোন objective নাই।
মোল্লাঃ কেন আপনার এরকম মনে হল?
মাঝবয়সী বাবুঃ Objective থাকলে কি আর মানবজাতির মধ্যে এত হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি হত? যে যার মত খুশি, চলে। Objective থাকলে কি আর এরকম হত?
মোল্লাঃ (কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গীতে) তাহলে তো নাস্তিকরা মানবজাতির জন্য বড় উপকার করে যেতে পারে!
মাঝবয়সী বাবুঃ কিভাবে? (সন্দেহপূর্ণ দৃষ্টি)
মোল্লাঃ যেহেতু নাস্তিকদের জীবনের কোন অবজেক্টিভ নাই, সেহেতু আপনারা এক কাজ করলেই পারেন। গণহারে সবাই গলায় দড়ি দিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান হবে।, আপনারা মরে গিয়ে তেল, গ্যাস হবেন, আমাদের জ্বালানী সমস্যার সমাধান হবে। পৃথিবীতে আস্তিক নাস্তিকের মারামারিও থাকবেনা।
...... তো আপনারা মানবজাতির বিশাআআআআআআল উপকার সাধন করতে পারেন।
( এ কথা শুনে সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগল। চা দোকানদারের পান খাওয়া লাল দাঁত ও বেরিয়ে পড়ল)
মোল্লাঃ কি মামু? তোমার দোকানে না হয় দুই কাপ চা কম বিক্রি হবে, মাইন্ড কইরনা।
(দাঁত ৩২ টাই বের হল এবার)
(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন মাঝবয়সী বাবু)
মাঝবয়সী বাবুঃ ওরে বাপরে! সাড়ে এগারটা বেজে গেল। এবার উঠতে হয়, ভাই...
(সবাই মোচড় দেয়া শুরু করল)
মোল্লাঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাকেও উঠতে হবে......... তা আপনি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করছেন?
মাঝবয়সী বাবুঃ না, আমি সংশয়বাদী, কোনদিন clear cut প্রমাণ পেলে করব।
মোল্লাঃ দেইখেন আবার, নিজের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে থাইকেন না আবার! (বলেই বুঝল খোঁচাটা মারা ঠিক হয়নি)
মাঝবয়সী বাবুঃ তা আজ আসি। (বলেই ঘুরলেন, কি যেন মনে পড়ে গেলো মোল্লার, ডাক দিলেন.........পেছন ফিরে তাকাল বাবু)
মোল্লাঃ ভাই, আপনার জন্য একটা সুসংবাদ আছে।
মাঝবয়সী বাবুঃ (সন্দেহপূর্ন দৃষ্টি) কি?
(তার চুলের দিকেই কিনা ঠিক বোঝা গেলনা, শাহাদাত আঙ্গুল তাক করল মোল্লা)
মোল্লাঃ আপনাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন, “ সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই হেচড়িয়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুল ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের চুল!...... অপরাধীর পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা দেখে, তাদের পাকড়াও করা হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে”

Monday, March 9, 2015

সুবহানাল্লাহ অর্থাৎ শুন্যই আল্লাহ

আমরা কোন কারনে মুগ্ধ বা আশ্চর্য্যন্বীত হলে বলে থাকি সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহ মানে কী? কেউকি আমরা এটা জানি?

সুব্হ আরবি শব্দ , যার অর্থ শুন্য (sabh, meaning void)। সুবহান আল্লাহ মানে শুন্যই আল্লাহ।

আমাদের জানা সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে। আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। কেমনে কী? মাথাটা ঠিক আছে তো? এই বলছেন সকল কিছুর (every thing) শুরু আছে বা জন্ম আছে , আবার বলছেন আল্লাহর শুরু নেই , জন্ম নেই। যুক্তি বিদ্যা বলে একটা বিদ্যা আছে , সেটা কি জানেন? মুক্তমনার বোকা মেয়ের ৬০ টি প্রশ্নের একটি , যদিও ইদানিং প্রশ্নগুলোর লিঙ্ক মুক্তমনার প্রথম পাতায় আর দেখা যাচ্ছে না।

সমস্যা হলো আস্তিক নাস্তিক সকল যুক্তিবাদীরা ভেবে নিয়েছে আল্লাহ একটা কিছু (a thing) , সেকারনেই ধাঁধায় পড়ে যান। আসলে আল্লাহ কিছুই না , no thing. শুন্য। শুন্যের যেমন শুরু নেই জন্ম নেই , তেমনি আল্লাহর ও শুরু নেই জন্ম নেই। শূন্য যেন আমাদের দিয়েছে অসীমকে জানার প্রেরণা। আসলে শূন্য আর অসীম – একই সাথে পরস্পরের প্রতিচ্ছবি ও প্রতিপক্ষ।
সৃষ্টির আদিতে কিছুই ছিল না ইহসংসারে – এক শূন্য ছাড়া। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে ‘শূন্য’ থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি। অর্থাৎ ‘নাই’তেই ‘আছে’র জন্ম। ধাঁধার মতো লাগছে তো? ধাঁধাই বটে, কিন্তু মিথ্যে নয়। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার মহাপণ্ডিতদের দৃঢ় বিশ্বাস যে তার সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রকৃতির মাঝেই প্রতীয়মান শুধু নয়, বহুলাংশে দৃশ্যমানও।
( ref: "শুন্য থেকে মহাবিশ্ব" লেখক মীজান রহমান / অভিজিৎ রায়)


In quantum physics, a quantum fluctuation (or quantum vacuum fluctuation or vacuum fluctuation) is the temporary change in the amount of energy in a point in space, as explained in Werner Heisenberg's uncertainty principle.
Quantum fluctuation - Wikipedia, the free encyclopedia
en.wikipedia.org/wiki/Quantum_fluctuation

কুয়ান্টাম ফিজিক্সের শুন্য যেমন শুন্য নয় , কারন শুন্য থেকে কিছুই সৃষ্টি হয় না। এই শুন্যের ভিতরে শক্তি আছে , যার কুয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের ফলে ভার্চুয়াল পার্টিকেল তৈরি হয়। তেমনি আল্লাহ ও শুন্য নন , কারন আল্লাহ কোন তথ্য নন। Non information. তিনি নিজে তথ্য নন কিন্তু সকল তথ্যই ( মানুষ গরু ছাগল সহ এই মহাবিশ্ব ও এর ভিতরে যা কিছু দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব কিছুই) তার সৃষ্টি। 

আল্লাহর প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। এ কারনেই শুন্য। ওয়ালাম ইয়াকুন লাহু কুফুয়ান আহাদ। তিনি কারোর মতোই নন। তিনি সাদা নন কাল ও নন , তিনি আয়তাকার চতুর্ভূজ নন গোলাকার ও নন অর্থাৎ নিরাকার , তার শুরু নেই শেষ ও নেই অর্থাৎ তিনিই আলফা তিনিই ওমেগা , তিনি গুপ্ত গোপনীয় অপ্রকাশিত মিশরীয় গড আমুন, তিনি সর্বশক্তিমান কাহ্হার গ্রীক এপোলো , তিনিই ধ্বংসকারী শিব , তিনিই তাও .......... তবে যারা ভেবে থাকেন মেঘের উপরে আধশোয়া কোন বুড়ো গড বা সপ্তম আসমানের শেষ প্রান্তে কড়ই গাছের আড়ালে থেকে আল্লাহ বা চার মাথা ওয়ালা বিষ্ণু এই বিশ্বব্রমাণ্ড সৃষ্টি করেছেন , তারা ভুল লোককেই গড আল্লাহ বা ভগবান ভেবে বসে আছেন।

Friday, May 9, 2014

নাস্তিকতা - কতটুকু যৌক্তিক?

আমরা এমন এক যুগে বাস করি যেখানে সব কিছুই যুক্তি নির্ভর হতে হয়। অযৌক্তিক কোন বিষয়কেই মেনে নেয়া হয় না, কেউ সেটা মানলে সেটা তার ব্যাক্তিগত ব্যপার হতে পারে। যে কোন ধর্মের প্রথম শর্তই হলো অন্ধ বিশ্বাস, ইসলামেরও তাই।-সুরত আলী


নাস্তিকতার সাথে 'সর্বজনীন না' (universal negative) জড়িত যেটা যৌক্তিকভাবে ভুল/মিথ্যা বিশ্বাস (logical fallacy)  'আল্লাহ নেই' - নাস্তিকের এই ঘোষনার সাথে বিজ্ঞান বা বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। এটা নাস্তিকের একটি ভুল বিশ্বাস। কোন যুক্তি তর্ক ও বৈজ্ঞানিক গবেষনার উপরে ভিত্তি করে নাস্তিক এই ঘোষনাটি দেয় না বরং এই ঘোষনাটি দেয় অন্ধ বিশ্বাস থেকে।

বাস্তবতার বহু ডাইমেনশন আছে। বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ১০ টি ডাইমেনশনের খোজ পেয়েছেন বা বলা যায় কল্পনা করতে পেরেছেন। এর বাইরে যে ডাইমেনশন নেই বা আল্লাহর অস্তিত্ব নেই সেই দাবী করতে হলে নাস্তিককে বা বিজ্ঞানীকে বাস্তবতার সবকিছুই জানতে হবে , তারপরে ও সেকি যৌক্তিকভাবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে দাবী করতে পারে তার জানার বাইরে আর কোন অস্তিত্ব নেই?  না , পারে না। কারন জানার শেষ নেই। একারনেই 'সর্বজনীন না' (universal negative) একটি যৌক্তিক হেত্মাভাস (logical fallacy)।

কিছু নাস্তিক দৃঢ়তার সাথে বলে থাকে আল্লাহ নেই এবং বাকি নাস্তিকরা অন্ধ বিশ্বাসে তাদের অনুসরন করে।  আল্লাহ নেই , নিজস্ব জ্ঞান থেকে এই ঘোষনা কেউ দিতে চাইলে তাকে সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞানী এবং মহাবিশ্বের সকল জায়গায় একি সময়ে ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হাজির হওয়া লাগবে। কেন সেটা বুঝতে চাইলে ঐ নাস্তিককে প্রশ্ন করা যেতে পারে , সে কখনো ওয়াশিংটনস্থ লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসে গিয়েছে কিনা? উল্লেখ্য এই লাইব্রেরিতে ৭ কোটির উপরে বই , জার্নাল , ম্যাগাজিন ইত্যাদি আছে এবং এগুলো জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা যেমন : বিজ্ঞান , সাহিত্য , দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানী রথী মহারথীরাই লিখেছেন। এরপরে তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় -  লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের সকল বই , জার্নাল , ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে লিখিত সম্মিলিত জ্ঞানের কত শতাংশ আপনার নিজস্ব জ্ঞান হবে? উত্তর হবে জানি না বা যদি সাহসী হয় তাহলে বলবে ১%এর ভগ্নাংশ হতে পারে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যায় - আপনার নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বাইরে যে ৯৯.৯৯% জ্ঞান বিদ্যমান তার ভিতরে আল্লাহর প্রমান নেই , সেটা কি যৌক্তিকভাবে বলা যায়? 

আল্লাহ নেই নাস্তিকের এই দাবী যৌক্তিকভাবে বা বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ সম্ভব নয়। এটা একটা অন্ধ বিশ্বাস। কোন নাস্তিকেরই নাস্তিক হওয়ার মতো যথেষ্ঠ জ্ঞান নেই। যেমন ধরুন আমি যদি দাবী করি আপনার ঘরে কোন সরিষার দানা নেই , তাহলে এই দাবী করার আগে আমাকে আপনার ঘরের প্রতি বর্গমিলিমিটার জায়গা তন্ন তন্ন করে খুজতে হবে। যদি আপনার ঘর সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই না থাকে তাহলে এই দাবী কি ধোপে টিকবে? এই মহাবিশ্ব ও এর বাইরে যা আছে তার কতটুকু একজন নাস্তিক জানে যে সে দাবী করে আল্লাহ নেই?  কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই সে বিশ্বাস করে , এ মহাবিশ্ব নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে , এ জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই , মানে নেই , গন্তব্য নেই , নৈতিকতার কোন মাপকাঠি নেই।  এর থেকে বড় অন্ধ বিশ্বাস আর কি হতে পারে?

নাস্তিকের চিন্তা ও দাবী সেই জেলের মতো ,  যে দাবী করে সাগরে ১ ইঞ্চির ছোট কোন মাছ বা প্রাণী নেই। তার জালের ছিদ্র ১ ইঞ্চি এবং সেই জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতার আলোকেই সে এই দাবী করে। কারন তার জালে কখনোই ১ ইঞ্চির ছোট কোন প্রাণী  ধরা পড়েনি। লোকজন স্বভাবতই তার কথা বিশ্বাস করেনি এবং বলেছে সাগরে হাজারো প্রাণী আছে যা ১ ইঞ্চির ছোট। কে শোনে কার কথা? জেলের এক কথা , আমার জালে যা ধরা পড়ে না , সেটা মাছ না। নাস্তিকের ও এক কথা -  যা আমি দেখি না বা আমার বুঝে আসে না , তার অস্তিত্ব নেই। তার প্রকৃতির উপর এমনি অন্ধ বিশ্বাস যে অতিপ্রাকৃতিক (supernatural), আধ্যাত্মিক , অলৌকিক কোন কিছুর অস্তিত্ব সে আগেই নাকচ করে বসে আছে। 

নির্দিষ্ট করে বললে প্রতিটি নাস্তিক হলো এক একজন প্রকৃতিবাদী। প্রকৃতির বাইরে কোন কিছুর অস্তিত্ব সে তর্কে নামার আগেই বাতিল করে বসে আছে। সকল কিছুর ব্যাখ্যা ও প্রমাণ সে বিজ্ঞানের মধ্যেই খোজে। সেটা কেমন তা এক প্রফেসর ও তার ছাত্রের মাঝের এই কাল্পনিক বাতচিতেই ফুটে উঠেছে-

প্রফেসর: মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা কখনো ঘটে না। তুমি কি জান না , বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে অলৌকিক ঘটনা অসম্ভব , প্রকৃতিবিরুদ্ধ। তারপরেও তুমি কিভাবে বিশ্বাস করো আল্লাহ প্রার্থনার জবাব দেন , যীশু মৃত মানুষকে জীবিত করেন , ইত্যাদি--


ছাত্র: স্যার , জবাব দেয়ার আগে বিজ্ঞানের সংজ্ঞা নিয়ে দেখি একমত হতে পারি কিনা। এটা কি ভুল হবে যদি বলি , মহাবিশ্বে আমাদের চারপাশে আমরা যা কিছু পর্যবেক্ষন করি  তার প্রকৃতি ও কার্যকারন জানার জন্য মানুষের চেষ্টা ও কর্মযজ্ঞই  হলো বিজ্ঞান।

প্রফেসর: খুবি সুন্দর বলেছ। এটাই বিজ্ঞান।

ছাত্র: আর মিরাকল হলো এমন কোন ঘটনা , যা প্রকৃতির বাইরের কেউ ঘটিয়ে থাকে।

প্রফেসর: হ্যা , মিরাকলের এমন সংজ্ঞা মেনে নেয়া যায়।

ছাত্র: কিন্তু , আপনি তো প্রকৃতির বাইরে কোন কিছুর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না , যেকারনে আপনার কাছে মিরাকল অসম্ভব মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কী?

একজন সৎ নাস্তিক কখনো যৌক্তিকভাবে 'আল্লাহ নেই' এই দাবী করতে পারেনা। সে বরং বলতে পারে আল্লাহ আছে কি নেই আমি জানি না বা থাকলেও তিনি এই মহাবিশ্বের কোন কিছুতেই হস্তক্ষেপ করেন না। এদেরকে বলা হয় এগ্নস্টিক , যেমনটি আমার ব্লগের স্বঘোষিত আদিল মাহমুদ। এগ্নস্টিক ও কেন যৌক্তিকভাবে ভুল বিশ্বাস , তা নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।

A Muslim Convert Once More: Mu'tazilah: The Rise of Muslim Rationalism

A Muslim Convert Once More: Mu'tazilah: The Rise of Muslim Rationalism

Thursday, March 6, 2014

ইসলামের প্রথম জমানা থেকেই হাদিস বিরোধীতার শুরু

সম্প্রতি কিছু লোক আছে যারা হাদিস মানে না , তাফসির মানে না , তার পরে আবার নিজেদের মন মত কোরানের বানীর অর্থ করে। ভাবখানা আল্লাহ নতুন করে তাদের কাছে কোরান নাজিল করছে। সেটা না করে অবশ্য উপায়ও নেই , প্রচলিত কোরান , হাদিস , তাফসির গ্রহন করলে ইসলামের যে চেহারা দাড়ায় তা তাদেরকে লজ্জায় ফেলে দেয়।


যেমন একদল আছে যারা কোরানের নাসিক - মানসুক ( আয়াত রহিত/রদকরন ) মানে না। কারন এসব মানলে ইসলামের এমন চেহারা দাড়ায় যা সভ্য সমাজে গ্রহনযোগ্য হয় না। মুস্কিল হলো সাধারন মানুষ যারা কোরান হাদিস পড়ে না তারা কিন্তু এটা জানে না। আর মোল্লারা যারা এটা জানে , তারা বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে সাধারন মানুষের সামনে নাগাড়ে মিথ্যাচার করে যায়। বিষয়টা একটু ব্যখ্যা করা যাক---------

সম্প্রতি নয় , ইসলামের শুরু থেকেই হাদিস ও তাফসির না মানা মুসলমান বিদ্যমান ছিল। এদের হাতেই ছিল ইসলামের নবীর  মৃত্যু পরবর্তি শাসন ক্ষমতা। ইতিহাস থেকে জানা যায়- নবী জীবিত থাকা কালিন নবীর নির্দেশে আবুবকর ওমর সহ সকল সাহাবি তাদের কাছে রক্ষিত স্বলিখিত সকল হাদিস পুড়িয়ে ফেলেন। ওমর তার শাসনামলে সকল ধরনের হাদিস বর্ণনা ও প্রচার নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর কারন হিসাবে তিনি বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর বই 'কোরান' যথেষ্ঠ এবং তিনি চান না মুসলমানরা পূর্বের জাতিগুলোর ন্যায় রসূলের হাদিসকে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর বাণীকে গুরুত্বহীন করে ফেলুক। একারনে আমরা দেখতে পাই আবু হুরায়রা নিজেই স্বীকার করেছেন যে  বেতের ভয়ে ওমরের শাসনামলে তিনি কোন হাদিস বর্ণনা করেন নি। (উল্লেখ্য আব্বাসীয় আমলে বিব্লিওক্লাজম বা সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে ইসলামের শুরু থেকে পরবর্তী  ১৫০-২০০ বছরের যে ইতিহাস আমরা জানি তার সাথে সত্যের মিল সামান্যই বলে মনে হয়)

 অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে  যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষনের মাধ্যমে  ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত দলটি ইতিহাসে মুতাজিলা নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে ইব্রাহিম নাজ্জাম নামে এক বিখ্যাত মুতাজিলা নেতা ছিলেন , যিনি কোরানই ইসলামের একমাত্র উৎস বলে প্রচার করতেন এবং প্রচন্ডভাবে হাদিস ও সুন্নাহ বিরোধী ছিলেন। বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ সকল মুতাজিলাই কোরান অনলি মুসলমান ছিলেন।

সুন্নি ও শিয়া সুত্রানুসারে - মুতাজিলারা 'আহলে আদল ওয়া তাওহিদ' বা 'ন্যায় বিচার ও একেশ্বরবাদী' দল নামে পরিচিত। খলিফা আল মামুনের সময় মুতাজিলা মতবাদ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় ও বিস্তার লাভ করে। কাজি আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর সাথে মুতাজিলাদের রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটে। 

হাদিস বিরোধীতার সবচেয়ে পুরানো যে দলিল পাওয়া যায় , সেটা হলো ৭৬হিঃ/৬৯৫খৃঃ খলিফা আব্দুল মালেককে লেখা আব্দুল্লা ইবনে ইবাদের লেখা একটা চিঠি। উক্ত চিঠিতে কুফাবাসীদেরকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে কোরানকে পরিত্যাগ করে হাদিসকে ধর্মের ভিত্তি হিসাবে গ্রহন করার জন্য।"তারা এমন একটি বইতে বিস্বাস করে  যা আল্লাহর থেকে নয় , মানুষের হাত দ্বারা রচিত এবং এটাকে রসূলের বাণী বলে দাবী করে।"(Michael Cook, Muslim Dogma, Cambridge University Press, Cambridge, 1981)  


আব্বাসীয় আমলে ও পরবর্তিতে সেলজুক খলিফাদের শাসনামলে হাদীস বিরোধীদের  সকল বই ও গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেয়ার  কারনে হাদীস বিরোধী লেখা পাওয়া যায় না। তবে এদের উপস্থিতী ও যুক্তি সম্পর্কে জানা যায় শরিয়া আইনের জনক ও প্রবর্তক ইমাম শাফেয়ীর বই 'জিমা আল ইলম' ও ইবনে কুতাইবার লেখা থেকে। তাদের লেখা থেকে জানা যায় তাদের সময়ে হাদীস বিরোধীতা ছিল সর্বব্যাপি এবং তাদের লেখায় তারা হাদীস বিরোধীদের যুক্তিকে খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন।

 চতুর্দশ শতাব্দির দুই স্কলার আব্দুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ুতি (লেখক 'তাদরিব আর রাওয়ি' ১৩৭৯সাল) ও ইবনে হাজার ( লেখক 'হায়দাল-সারি' ১৩৮৩সাল) এবং বিংশ শতাব্দির পাক ভারত উপমহাদেশের সাইয়িদ আহমদ খান (১৮১৭-১৮৯৮) ও মিশরের মুহাম্মদ তৌফিক সিদকির ("al-Islam huwa ul-Qur'an Wahdahu" "Islam is the Qur'an Alone"১৯২০) লেখা পাওয়া যায়। এরা সকলেই হাদীস বিরোধী ও সমালোচক ছিলেন।

বর্তমানে পাকভারতের গুলাম মুহাম্মদ পারভেজ , ডাঃ শাব্বির , মিশরের রাশাদ খালিফা , আহম্মদ মনসুর , তুরষ্কের এডিপ ইয়ুকসেল হাদীস বিরোধী লেখা ও সমালোচনার জন্য অবদান রেখেছেন।

নবী মুহাম্মদ ভবিষ্যত (গায়েব) জানতেন কী?

কোরান থেকে উত্তর -

৫:১০৯ যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

৬:৫০ আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?

৭:১৮৮ আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। 

১০:২০ বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

১১:৩১ আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

২৭:৬৫ বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।

৪৬:৯ বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

 ভবিষ্যত ও ভবিষ্যতের জ্ঞান কেবল আল্লাহই জানেন এবং আমরা ততটুকুই অবগত যতটুকু আল্লাহ আয়াত/রেভেলেশনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। (3:44, 3:179, 11:49, 12:102, 30:2, 72:26-28)

যারা হাদীসে বিশ্বাসী , তাদের জন্য একটি সহী হাদিস-

বুখারি: ভল্যুম-৯, বই-৯৩,  নং-৪৭৭

Narrated Masruq:

'Aisha said, "If anyone tells you that Muhammad has seen his Lord, he is a liar, for Allah says: 'No vision can grasp Him.' (6.103) And if anyone tells you that Muhammad has seen the Unseen, he is a liar, for Allah says: "None has the knowledge of the Unseen but Allah."

মাসরুক বর্ণনা করেছেন:

'আয়েশা বল্লেন, "যদি কেউ বলে যে মুহাম্মদ আল্লাহকে দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না (৬:১০৩)। এবং কেউ যদি তোমাদেরকে বলে যে মুহাম্মদ অদৃশ্য দেখেছেন, সে মিথ্যুক, কারন আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো অদৃশ্যের জ্ঞান নেই"।

Saturday, March 1, 2014

হাজার বছরের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের বোঁঝা

মানুষের সহজাত ধর্ম হলো বাপদাদার ধর্মকে আকড়ে থাকা এবং তাদের ধর্মীয় স্কলারদের মতামতকে অন্ধভাবে অনুসরন করে নিজের ধর্মকেই সর্বশ্রেষ্ঠ গন্য করা। আজকের মুসলমানরাও এর ব্যাতিক্রম নয় , তারা ও শয়তানের ঐ একি ফাঁদে পড়েছে। তাদের দাবী গত হাজার বছর ধরে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের কাছ থেকে তারা যা কিছু উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে , তার সবই ইসলাম। হাজার হাজার খন্ড বই লেখা হয়েছে অতীতের এইসকল ঈমাম ও স্কলারদের ধার্মিকতা , ভক্তি ও ধর্মের জন্য অমানুষিক পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মহিমা বর্ননা করে। এই লোকগুলো ধার্মিক ও চিন্তায় সৎ ছিলেন কিনা তা আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন , তবে আজকের মুসলমানদের দাবী যেহেতু তারা ধার্মিক ও অধিকাংশ মুসলমানের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলেন , তাই তারা যে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তাই সত্য এবং এর কোন নড়চড় করা যাবে না। এই যুক্তির দুর্বলতা হলো একটি মানুষ ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্যে কোন ব্যাখ্যা বা নির্দেশ দিলে সেই ব্যাখ্যা বা নির্দেশ যে সঠিক হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই , কারন তার চিন্তা বা বিশ্লেষনে ভুল থাকতে পারে। তাই যদি না হবে তাহলে তো সকল ধর্মই সঠিক , কারন প্রতিটি ধর্মের স্কলার ও নেতারা বাহ্যিক ভাবে ধার্মিক ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই যার যার ধর্মের প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন।

কোরানে আল্লাহ এই ভুল যুক্তির একটি সহজ উত্তর দিয়েছেন -
“সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।” (২:১৪১)

মজার বিষয় হলো , আজকের মুসলমানরা বহুধা বিভক্ত হলেও , প্রতিটি গোষ্ঠিই কোরানকে ঐশীগ্রন্থ হিসাবে মানে। কোরান নিয়ে তাদের কোন মতভেদ নেই , মতভেদ হলো স্ব স্ব ঈমাম ও স্কলারদের নির্দেশিত পথ ও ব্যাখ্যা নিয়ে। এইসকল স্কলার ও ঈমামদের মতের উপর ভিত্তি করে একজন আরেকজনকে কাফের , যিন্দিক আখ্যা দিতে তাদের বিন্দুমাত্র বুক কাপে না। আল্লাহ্‌র বানী তাদের কাছে মুখ্য নয় , তাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলারদের দেখানো পথই মূখ্য। তাই যখনই কোরানের আয়াত দিয়ে তাদেরকে কোন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের ভুল দেখানো হয় , তখন তাদের জবাব হলো – গত হাজার বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষ ও স্কলাররা যা করে চলেছেন তা ভুল হতে পারে না। এর অর্থ দাড়ায় কোরানের বানীর থেকে তাদের ঈমাম ও স্কলারদের ধারনাই বেশি সত্য।

পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক , এই ধারনাই যূগে যূগে আল্লাহ্‌র বানীকে গ্রহন করতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা বিবেচিত হয়েছে। যখনি আল্লাহ কোন নবী বা রসূল কোন সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছেন , তারা , “পূর্বপুরুষ ও স্কলাররাই সঠিক”, এই যুক্তিতেই ঐ নবী বা রসূলকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন।

“আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না। আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।“(২”১৭০)

যখন নূহ নবী তাদেরকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের জবাব -
“….আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি।” ২৩:২৪

যখন হূদ নবী আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ্‌র সাথে আর কাউকে পূজা করতে নিষেধ করলেন-
“তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই?” ৭:৭০

একি উত্তর নবী সালেহ ও নবী শোয়েবকে দেয়া হয়েছিল।
“…আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর?..” (১১:৬২)
“তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত?…” (১১:৮৭)


ইব্রাহিম নবী যখন চাঁদ সূর্যের উপমা দিয়ে যুক্তির মাধ্যমে এক আল্লাহ্‌র পথে ডাকলেন , তাদের একটাই উত্তর -
“তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।” (২৬:৭৪)

যখনি মানুষ আল্লাহ্‌র বানীর মাধ্যমে নুতন কিছু শোনে , তখনি আশ্চর্য হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে , কারন তারা এমন কথা তাদের স্কলারদের কাছ থেকে কখনো শোনেনি। নবী মুহাম্মদ ও যখন কোরানের বানী প্রচার শুরু করেন , তখনো একি জবাব-
“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়।” (৩৪:৪৩)

আল্লাহ্‌র এই যে বিধান (সুন্নাতাল্লাহ) এর কোন পরিবর্তন নেই। এটা সর্বযূগে একি ছিল , আছে ও থাকবে।
“পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে (সুন্নাতাল্লাহلِسُنَّتِ اللَّهِ ) কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।” (৩৫:৪৩)

আজ তাফসীর ও হাদীসের হাজার হাজার বইয়ের ধুলার নিচে কোরান চাপা পড়ে গেছে। এর থেকে কোরানকে মুক্ত করা এত সোজা নয়।