Sunday, January 26, 2020

আস্তিক ও নাস্তিকের গল্প


এক সুন্দর বিকালে আস্তিক ও নাস্তিক দুই বন্ধু , আস্তিকের বাসার বৈঠকখানায় চা নাস্তা খেতে খেতে তর্কে মেতে উঠল।
নাস্তিক: তুমি একই সাথে দুটোরই পক্ষ নিতে পার না। হয় তোমাকে বাইবেলের পক্ষ নিতে হবে অথবা বিবর্তনবাদের। বাইবেল বলছে পৃথিবীতে মানুষ ও অন্যান্য জীব ও গাছপালার বয়স অনধিক ১০ হাজার বছর এবং সূর্য তথা মহাবিশ্বের আগে পৃথিবীর জন্ম। কিন্তু বিজ্ঞান এবং বিবর্তনবাদিরা বলছে , ওরা ৩৬০ কোটি বছরের পুরানো জীবাশ্ম (fossil) খুজে পেয়েছে।মহাবিশ্বের আগে পৃথিবীর জন্ম অসম্ভব।পরষ্পরবিরোধী দাবী।
আস্তিক: অবশ্যই তুমি দুপক্ষ নিতে পার।এর জন্য তোমাকে কিছু তথ্য জানা লাগবে।
নাস্তিক চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললো : ঠিক আছে। বলো শুনি। সাবধান, উল্টাপাল্টা বুঝ দিয়ে কিন্তু পার পাবে না।
আস্তিক কোন কথা না বলে, সোফা থেকে উঠে বুকশেল্ফ থেকে রাজা জেম্‌স ভার্সান বাইবেল (সবচেয়ে বেশি পঠিত) ও ইংলিশ-হিব্রু-ইংলিশ ডিকশনারি এনে নাস্তিককে দিয়ে বললো: ঈশ্বরবাদী ও বিবর্তনবাদী উভয়েই বাইবেলের প্রথম দুটি আয়াতের মানে বুঝতে ভুল করেছে। সমস্ত রহস্য মাত্র একটা শব্দের মধ্যে নিহিত।
নাস্তিক: একটা শব্দ ! কোনটা?
আস্তিক: ঈশ্বরবাদী ও বিবর্তনবাদীর মধ্যেকার বিতর্ক শুধু শেষই করবে না , ওদেরকে এক করে দেবে। ঠিক আছে , বাইবেল খুলে প্রথম আয়াত দুটি পড়ে শোনাও।
নাস্তিক: Genesis
1:1 In the beginning God created the heaven and the earth. (ঈশ্বর প্রথমে মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী সৃষ্টি করলো)
1:2 And the earth was without form, and void; and darkness was upon the face of the deep. And the Spirit of God moved upon the face of the waters.(এবং পৃথিবী ছিল নিরাকার ও শূন্যময়; অতল গহ্ববরের উপর অন্ধকার বিরাজ করত। ঐশ্বরিক এক বায়ু জলরাশির উপর বইত।)
আস্তিক: জানোই তো বাইবেল হিব্রু ভাষায় নাযিল হয়েছিল। এখন ডিকশনারি খুলে দেখতো , “ছিল”র (was) সমার্থক আর কি কি শব্দ আছে? হওয়া বা হয়ে গেল (it came to pass or became) আছে না? ২য় আ্য়াতের সঠিক মানে হবে পৃথিবী হয়ে গেল (became) বিশৃঙ্খল (chaotic) ও খালি (empty)।
নাস্তিক রেগে গিয়ে বললো: তুমি বাইবেল নুতন করে লিখবে নাকি?
আস্তিক: আমি তোমাকে আদি হিব্রু থেকে ২য় আয়াতের মানে দেখাচ্ছি , ইংরাজি অনুবাদ ভুলে যাও। আদি হিব্রুতে নিরাকার ও শূন্যময়ের আরো মানে হয় - বিশৃঙ্খল ও খালি। আরো দেখ , হিব্রু শব্দ “হায়া , তহু আর বোহু” র সঠিক কোন ইংরাজি প্রতিশব্দ নেই।এই সবকিছু এক করলে দেখবা , ১ম ও ২য় আয়াতের মাঝে শত শত কোটি বছরের ব্যবধান। বাইবেলে মাঝের এই সময়ের কোন বর্ননা নেই। 
১ম আয়াত - ঈশ্বর প্রথমে মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন। সেটা বিগ ব্যন্গের মতো শুরু হতেই পারে , ঈশ্বর যখন বলেন নি কেমনে তিনি সৃষ্টি করেছেন। 
২য় আয়াত অনুযায়ী পৃথিবী বিশৃঙ্খল ও খালি হওয়ার আগ পর্যন্ত (ঈশ্বরবাদীদের দাবী অনুযায়ি ১০ হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত) মহাবিশ্ব বিজ্ঞানিদের ধারনার সাথে মিল রেখে বিকশিত হয়েছে এবং এ পৃথিবীতে ডারউইনের থিওরী অনুযায়ি জীবণের বিকাশ ঘটেছে।
নাস্তিক: সে না হয় হলো, তা ১০ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবী খালি হলো কি করে? যার ফলে ঈশ্বর কে আবার সবকিছু নুতন করে সৃষ্টি করতে হোলো, বাইবেলে যেমন বলা হয়েছে?
আ্স্তিক: সঠিক বলতে পারব না । এর কারন বিজ্ঞানিরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি কিছু ধারনার কথা বলতে পারি। হয়ত প্রকান্ড কোন উল্কাপাত হয়েছিল বা দীর্ঘদিন ধরে বিশাল অগ্নুৎপাত হয়েছিল , যার ফলে সমগ্র পৃথিবী আগুনে পুড়ে যায় ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে সূর্য রশ্মি ভূপৃষ্ঠে না পৌছার ফলে তৃণ , গাছপালা সব মরে যায়। ফলশ্রুতিতে সকল জীব মারা যায় খাদ্যের অভাবে। সূর্যের তাঁপের অভাবে শুরু হয় বরফ যুগ। সমস্ত পৃথিবী বরফে ঢেকে নিরাকার ও খালি হয়ে যায়। সমুদ্রের গভীরে কিছু মাছ জাতীয় প্রাণী বেচে থাকতে পারে। কিছু কিছু প্রমানের কথা শুনতে পাই , সত্যি মিথ্যা জানি না। ম্যমথের গনকবর পাওয়া গেছে , তারা নাকি হটাৎ বরফে জমে ঘাস খেতে খেতে মারা গেছে , মুখে নাকি ঘাস ছিল। এটা নাকি ঘটেছিল আনুমানিক ১০ হাজার বছর আগে। একই সময়কার টক্সিক ভলকানিক ডাস্ট নাকি পাওয়া যায় , যা পুরো পৃথিবীকে ঢেকে ফেলেছিল।
নাস্তিক: হুম ! এ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে , কিন্তু বাইবেলে পরে যা বলা হয়েছে , তা তো বিশ্বাসযোগ্য না।

আস্তিক: সন্ধ্যা হয়ে গেছে । মাগরেবের নামাজ পড়বো। আজ বাড়ি যাও। আরেকদিন বাকিগুলো নিয়ে আলাপ করব।

Friday, October 11, 2019

ইসলাম কী?

প্রিয় ইব্রাহিম ( https://faruk55kw.blogspot.com/2017/07/blog-post_15.html ) ভাই ও বোনেরা , আপনারা যারা নিজ আত্মাকে রোগমু্ক্ত করার প্রচন্ড তৃষ্ণা অনুভব করেন , তাদের স্বাদ আস্বাদনের জন্য নিম্নের এই আয়াত দিয়ে শুরু করছি-
১০:৫৭
‎يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاء لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী (ওয়াজ)এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময় (شِفَا)ও হেদায়েত ও রহমত মুমিনদের জন্য।


সম্ভবত আপনাদেরকে বলা হয়েছে ইসলাম মানে আত্মসমর্পন। সাথে সাথে এটাও বাখ্যা করা হয়েছে যে , ইসলাম মানে শান্তি। ইসলামকে কি সুন্দর মোড়কে আবৃত করা হয়েছে , তাই না? এখন আমরা ইসলাম শব্দের শব্দগত মানে পুনরায় আবিষ্কার করব। 
‎سلم: مقاييس اللغة
‎السين واللام والميم معظم بابه من الصحة والعافية; ويكون فيه ما يشذ, والشاذ عنه قليل, فالسلامة: ان يسلم الإنسان من العاهة والأذى
আত্মসমর্পন নয়, শান্তি ও নয়। ইসলামের মূলে যে শব্দ আছে سلم অর্থাৎ সুস্থ (রোগ মুক্ত)। শারীরিক ও মানসিক রোগের অনুপুস্থীতিই হলো সুস্থতা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ইসলাম মানে মানসিক বা অন্তরের রোগ মুক্তি। ভুল বিশ্বাস ও সকল প্রকার মূর্খতা , জড়তাই হলো অন্তরের রোগ। শারীরিক রোগ থেকে মুক্তির নিরাময় বা শেফা (شِفَاء) আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা। আর অন্তরের রোগের নিরাময় বা শেফা (شِفَاء) পরোয়ারদেগারের উপদেশবাণী অর্থাৎ এই কোরান। 
মুসলিম (مفعل) সেই যে নিজের অন্তরকে সুস্থ করার আশায় এই চিকিৎসাবিদ্যা বা ইসলাম (إفعال) বাস্তবায়ন করে। মিথ্যা ও ছাইপাঁশে ভরপুর এপৃথিবীতে সম্ভবত এ এক অলীক , অবাস্তব আশা।

Tuesday, October 8, 2019

হিকমাহ

কোরানই হিকমত/জ্ঞ্যান/الْحِكْمَةَ
আল্লাহ বলেছেন , "তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত (وَالْحِكْمَةَ)। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। ৬২:২"
প্রচলিত বিশ্বাস এই যে আল্লাহ রসূলকে দুটি ভিন্ন জিনিষ দিয়েছেন। কিতাব তথা কোরান এবং হিকমাত তথা সহীহ হাদীস সমূহ। প্রমাণ হিসাবে তারা উপরের আয়াতে সংযোজক অব্যয় পদ وَ (ওয়াও) এর উল্লেখ করেন। কিন্তু কোরানে وَ শুধু ভিন্নতার জন্য নয় বরং একই জিনিষের ভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট করার জন্য ও ব্যবহৃত হয়। যেমন দেখুন - "আমি মূসা ও হারুণকে দান করেছিলাম মীমাংসাকারী গ্রন্থ ও আলো ও উপদেশ, আল্লাহ ভীরুদের জন্যে। ২১:৪৮" এই আয়াতে দেখুন আলো ও উপদেশের আগে সংযোজক পদ 'ওয়াও' আছে , কিন্তু এখানে ৩টি ভিন্ন জিনিষের কথা বলা হচ্ছে না। একটি গ্রন্থের কথাই বলা হচ্ছে। 
নিঃসন্দেহে কোরানই যে হিকমত , তা আমরা জানতে পারি ২:২৩১ আয়াত থেকে। "আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা (الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ) তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়"। কিতাব ও হিকমত দুটি ভিন্ন জিনিস হলে , (এক বচন) 'যার' দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয় না বলে ,(বহুবচন) যাদের দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়" বলা হোত।
কোরানের আয়াতই হিকমত এবং ওহীকৃত হিকমত সম্পর্কে আল্লাহ জানিয়েছেন ১৭ নং সূরার ২২ আয়াত থেকে ৩৯ আয়াতের মাধ্যমে। শুরু হয়েছে নির্দেশের মাধ্যমে -
"স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। ১৭:২২" 
শেষ হয়েছে - "এগুলো ঐ হিকমতের অন্তর্ভূক্ত, যা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ওহী মারফত দান করেছেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন। ১৭:৩৯"
হিকমত পড়ে অর্জন করতে হয়। আল্লাহর দেয়া এ হিকমত আমাদের এই ঘুনে ধরা সমাজের আমূল পরিবর্তন করে সত্যিকারের ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। একারনে কোরানের হিকমতের বাণীগুলো এখানে দিলাম , যাতে ইচ্ছুকরা পড়তে পারে ও হিকমত অর্জন করতে পারে। 
"স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভালই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্যে ক্ষমাশীল। আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। এবং তোমার পালনকর্তার করুণার প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল। তুমি একেবারে ব্যয়-কুষ্ঠ হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃতি, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। নিশ্চয় তোমার পালকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত,-সব কিছু দেখছেন। দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ। আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত। আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পন করা পর্যন্ত এবং অঙ্গীকার পূর্ন কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ। যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না। এ সবের মধ্যে যেগুলো মন্দকাজ, সেগুলো তোমার পালনকর্তার কাছে অপছন্দনীয়। এগুলো ঐ হিকমতের অন্তর্ভূক্ত, যা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ওহী মারফত দান করেছেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন। ১৭:২২-৩৯"

Thursday, August 22, 2019

সরল/সোজা পথ

যে সকল মুসলমান ভাইয়েরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ,তারা ন্যুনতম ১৭ বার
‎اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ অর্থাৎ আমাদেরকে সরল/সোজা পথ দেখাও, বলে থাকেন। কখনো কি জানার চেষ্টা করেছেন , এই সরল/সোজা পথ কোনটি? এই সরল/সোজা পথ সম্পর্কে কোরান কি বলে?
সরল/সোজা পথ হলো আমার রব্বের পথ-
১৪:৫৬ আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের রব্ব। বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। নিশ্চয় আমার রব্ব সরল পথের উপরে।
১৪:১ আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন-পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য রব্বের নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।
সরল/সোজা পথ নিজের জন্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে করা চুক্তি মেনে চলি-
৩৬:৬০-৬১ হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদের সাথে চুক্তি করিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
৩:৫১ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদের ও রব্ব-তাঁর এবাদত কর, এটাই হলো সরল পথ।
১৯:৩৬ তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব্ব ও তোমাদের রব্ব। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।
১৫:৪১-৪২ আল্লাহ বললেনঃ এটা আমার পর্যন্ত সোজা পথ। যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু সেই সকল উদভ্রান্তরা ছাড়া যারা তোমার অনুসরন করে। 
কেমনে সরল/সোজা পথে চলতে হবে-
৬:১৫১-১৫৩ আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রেøর কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।
এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।
আল্লাহ কোরানের মাধ্যমে সরল/সোজা পথে পরিচালিত করেন- 
৩৪:৬ যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, তারা আপনার পালনকর্তার নিকট থেকে অবর্তীর্ণ কোরআনকে সত্য জ্ঞান করে এবং এটা মানুষকে পরাক্রমশালী, প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে।
১০:৩৫ জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য? অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?

Tuesday, March 19, 2019

ইসলাম ও শাফায়াত (সুপারিশ) শেষ...


"তারা কি আল্লাহ ব্যতীত সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, তাদের কোন এখতিয়ার না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও? বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান যমীনে তাঁরই সাম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।" ৩৯:৪৩-৪৪

উপরের এই আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ ছাড়া কোন সুপারিশকারী নেই| কিন্তু  ৫৩:২৬ আয়াত অনুযায়ী "আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন"| তাহলে আয়াত দুটি কি পরষ্পর বিরোধী হয়ে গেল না? না| কারন - ফেরেশতারা নিজের ইচ্ছায় কিছু করেন না , তারা আল্লাহর নির্দেশ অনুমতিক্রমেই সব  কিছু করেন| কারনে ফেরেশতাদের কাজ কে আল্লাহর কাজ বলেই ধরা হয়| এটা বুঝতে নিচের আয়াতদুটি দেখুন ...

"আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়,"... ৩৯:৪২
"বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে।"৩২:১১

একই যুক্তিতে বলা যায় আল্লাহ যখন কোন ব্যাক্তিকে করুনা করতে চান , তখন ফেরেশতাদের সুপারিশ করার অনুমতি দেন| প্রথম থেকে শুরু করা যাক , আল্লাহ প্রতিটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্বক্ষনের  জন্য দুটি ফেরেশতাকে নিয়োজিত করেছেন তার সকল কর্ম নথীভুক্ত করার জন্য|

"আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। যখন দুই ফেরেশতা ডানে বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।" ৫০:১৬-১৮

"অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর। "৮২:১০-১২

শেষ বিচারের দিন সকলেই একাকি উত্থিত হবে ,অর্থাৎ কোন মানব আত্মা তার সঙ্গে থাকবে না| (নবী রসূলরাও মানব আত্মা) শুধু থাকবে দুই ফেরেশতা তাদের সঙ্গে..

"এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক কর্মের সাক্ষী। তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ন। তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই। তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে,"৫০:২০-২৪

বিচার শেষ এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করাও সম্পন্ন| এর ভিতরেই যা করার করতে হবে| আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে নিজের ওকালতি নিজেকেই করতে হবে এবং সাক্ষী হিসাবে সর্বক্ষনের সঙ্গী এই ফেরেশতারারা ছাড়া আর কেউ থাকবে না| সুতরাং সত্যিকারের সুপারিশ তো এই ফেরেশতারাই করবে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে| এদের পক্ষেই করা সম্ভব সুপারিশ করা , কারন এরা তার সকল কাজের সাক্ষী| কোন মানুষের পক্ষে সুপারিশকারী হওয়া সম্ভব নয় , কারন  তারা সকল কর্মের সাক্ষী বাস্তবিকভাবে হতে পারে না|

সুতরাং আমরা এই উপসংহারে পৌছাতে পারি যে , আল্লাহ যার উপর করুনা করতে চান তার জন্য ফেরেশতাদের অনুমতি দেবেন তার ভাল কাজের সাক্ষ্য তথা সুপারিশ করতে|