Saturday, December 31, 2011

যীশু ও ইসা কি একি ব্যাক্তি? (১)

সকলকে ছালাম।

খৃষ্টান ধর্মের উৎপত্তি ও এর বিবর্তন এবং সেইসাথে কোরান ও নিউ টেস্টামেন্টের তুলনা নিয়ে সাম্প্রতিক পঠিত একট সুন্দর লেখা সকলের সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই এই পোস্ট।  কোরানের মরিয়ম পুত্র ইসা ও নিউ টেস্টামেন্টের যীশু কি একি ব্যাক্তি? এর উত্তর খুজতে গেলে খৃষ্টান ও মুসলমান দাবীদার উভয় গোষ্ঠীর রোশানলে পড়া বিচিত্র নয়। কারন উভয়েই যীশু/ইসাকে নিয়ে বিভ্রান্ত।

খৃষ্টান ধর্মের প্রবর্তন -
(থিওরি)

ডেভিড (দাউদ নবী) যে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন , সেটাই ছিল ইস্রাইলীদের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রথম স্বাধীন রাজ্য (Kingdom of Judah)। ডেভিডের পরে তার পু্ত্র সলোমন (সুলাইমান নবী) এই রাজ্যের রাজা হন এবং তারি আমলে এই রাজ্য শৌর্য্য বীর্য অর্থ সম্পদ ও আয়তনে প্রভূত বিস্তার লাভ করে। তবে সলোমনের মৃত্যুর পরে রাজ্যটি অন্তর্দ্বন্দ্ব বিভেদ ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরিণতিতে খৃঃপূঃ -৫৮৬ সালে ব্যাবিলনের রাজা নেবুচাদনেজার রাজ্যটি দখল করেন এবং হাজার হাজার ইস্রাইলীকে যুদ্ধবন্দি হিসাবে ব্যাবিলনে নিয়ে যান।

সেই তখন থেকে , ১৯৪৮ সালে বর্তমানের প্যালেস্টাইনে স্বাধীন ইস্রাইল প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত , সুদীর্ঘ ২৫০০ বছর ইস্রাইলী ও অন্যান্য ইহুদীরা , অইহুদী (‘gentiles’) কর্তৃক শাসিত হয়ে আসছিল এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সময়ে তারা অব্যাহতভাবে স্বপ্ন দেখত নিজেদের মধ্য থেকে এক পরিত্রাতার (savior), যে কিনা তাদেরকে বিদেশি শাসন থেকে তাদের আবাসভূমিকে মুক্ত করে তাদের সকল গোত্রকে একত্রে বসবাসের সুযোগ করে দেবে। তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী এই পরিত্রাতা 'মেসিয়াহ' “Messiah” , যিনি কিনা ডেভিডের বংশধর কেউ হবেন।

+২৮/+৩০ সালের দিকে ডেভিডের বংশদ্ভূত এক লোক , যার নাম ছিল যীশু (Jesus يسوع), তার মা , খালা মরিয়ম , ৪ ভাই ও কিছু অনুসারীকে নিয়ে প্যালেস্টাইনে আসেন এবং দাবী করেন যে, তিনিই মেসিয়াহ এবং তিনি এসেছেন রোমান শাসন থেকে প্যালেস্টাইনকে মুক্ত করে শুধুমাত্র ইস্রাইলী ও ইহুদীদের জন্য স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ডেভিডের সময়কার পূর্ব গৌরব ফিরিয়ে আনতে। যীশু প্যালেস্টাইনকে বেছে নিয়েছিলেন , কারন সেই সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য জায়গা থেকে সর্বাধিক ইস্রাইলী ইহুদীর বাস ছিল এই প্যালেস্টাইনে।

প্যালেস্টাইনে আসার পর থেকেই , তিনি শহরে শহরে যেয়ে অত্যাচারী রোমান শাসন থেকে তাদের মুক্ত স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে তার সাথে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতে লাগলেন। অনেক গরিব সাধারন মানুষ উন্নত জীবণের আকাংখায় তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার সাথে যোগ দিল। তবে সচরাচর যা ঘটে থাকে , ইহুদী মোল্লা (Pharisees, Jewish priests of non-Israeli lineage) ও এলিট শ্রেণী তার বিরোধীতা করল। কারন রোমাণ সম্রাজ্যে তারা ছিল সুযোগ ও সুবিধা প্রাপ্ত গোষ্ঠী। এদেরি চক্রান্তে যীশু যে রাতে রোমাণ গভর্ণর হেরডকে হত্যার পরিকল্পনা করেন , সেই রাতে গ্রেফতার হন এবং রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে বিচারে তার মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় ও ক্রুশবিদ্ধ করে তাকে মেরে ফেলা হয়।

যীশু নামের অখ্যাত অপরিচিত লোকটি ও তার রোমাণ শাসন মুক্ত করে ইহুদীদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ব্যার্থ প্রচেষ্টা , একটি ক্ষুদ্র ঘটনা হিসাবে ইতিহাসের গহ্বরে হয়তো বা হারিয়েই যেত , যদি না তার ৪ ভাই ও কিছু অতি অনুগত অনুসারী গোপনে স্বাধীন ইস্রাইলী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে মানুষের মাঝে প্রচারের মাধ্যমে জীইয়ে না রাখত।

রোমাণ গভর্নর হেরড তার সকল শাসন ক্ষমতা যীশুর অনুসারীদের দমনে ব্যাবহার করেন ও তাদের ধরে ধরে জেলে পোরেন বা হত্যা করেন। অনেক বছর পরে 'সল' নামে রোমাণ বংশদ্ভূত এক ইহুদী মোল্লা যীশুর অনুসারীদের দমন , অত্যাচার ও নিধনে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তিনি যীশুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং শত শত অনুসারীকে হত্যা করেন। তার এই প্রচেষ্টা সত্বেও যীশুর অনুসারীদের সংখ্যা কমার বদলে বাড়তেই লাগল।

রোমাণ ম্যান্ডেট নিয়ে যীশু অনুসারীদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে দামেস্ক যান 'সল'। সেখানে তার সাথে সাক্ষাৎ হয় ইহুদী ধর্ম যাজক আনানিয়াসের। আনানিয়াসের বুদ্ধি ও পরামর্শে যীশু অনুসারীদের নির্মূল করার রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনেন সল। শক্তি প্রয়োগ , হত্যা , জেল জুলুমের পরিবর্তে ভিন্ন পন্থায় ভিতর থেকে যীশু প্রবর্তিত স্বাধীন ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেতনার পরিবর্তন করে তাদের আন্দোলনকে দমানোর উদ্যোগ নেন।

তার নুতন কৌশলের অংশ হিসাবে , তিনি যীশুর অনুসারীদের মধ্যে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস প্রচার শুরু করেন যে , যীশু কখনোই ইহুদীদের মুক্ত করে স্বাধীন ইস্রাইলী রাষ্ট্র করার জন্য আসেন নি , বরং সমগ্র মানব সম্প্রদায়কে মুক্ত করার জন্য এই ধরাধামে আগমন করেছিলেন এবং সকল মানুষের পাপমোচনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। এ পৃথিবীতে নয় , বরং তার রাজত্ব হবে মৃত্যু পরবর্তি জমানায়।

বছরের পর বছর যীশুর অনুসারীরা সলের এই ভ্রান্ত প্রচারনা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোন চেষ্টায় কাজে আসেনি , কারন সল এই সময় 'পল' নাম ধারন করেন ও তার সমর্থনে ছিল রোমাণ রাজশক্তি। ফলে পলের অনুসারীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং যীশুর ভাই ও অনুসারীরা  স্বাধীনতা কামী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে দেশ ও সমাজ থেকে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যায়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে খৃষ্টান ধর্মের উৎপত্তিই হয়েছিল স্বাধীনতাকামী ইহুদীদের ইস্রাইলী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও আন্দোলনকে বান্চাল করার মানসে পল ও আনানিয়াসের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। এই নুতন ধর্ম ও হয়তো হারিয়েই যেত , যদি না রোমাণ প্যাগান রাজা  কনস্টান্টিন ৪০০ বছর পরে একে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারী ধর্ম হিসাবে ঘোষণা দিতেন। ফলে খৃষ্টান ধর্ম নব জীবণ লাভ করে এবং এর অনুসারীর সংখ্যা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়তে বাড়তে বর্তমান অবস্থায় পৌচেছে। প্যাগান কনস্টান্টিনের রাজত্বকালেই নিসেন কাউন্সিলে খৃষ্টান ধর্মের মূল মতবাদগুলো গৃহীত হয় এবং রাজা কনস্টান্টিনকে খুশি করার জন্য প্যাগানদের কিছু রীতি নীতি খৃষ্টান ধর্মে অনুপ্রবেশ করানো হয়। যেমন - রোববারে প্রার্থনা (প্যাগানদের রবি বা সূর্য দেবতার সম্মানে), খৃষ্টমাস , সান্টাক্লজ , ইস্টার ইত্যাদি।

পক্ষান্তরে বর্তমানের মুসলমান নামধারীরা বিশ্বাস করেন যে -
১) আদি খৃষ্টান ধর্ম আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত নবী মরিয়ম পুত্র ইসা কর্তৃক প্রচলিত ধর্ম যা পরবর্তিতে বিকৃত হয়েছে।
২) খৃষ্টানদের আদি ধর্ম গ্রন্থ ইন্জিল , যা পরবর্তিতে একাধিক ধর্মযাজক কর্তৃক বিকৃত হয়ে বর্তমানের নিউটেস্টামেন্টে পরিণত হয়েছে।
৩) যীশুই (يسوع) ইসা (عيسى) এবং নামের উচ্চারনের এই ভিন্নতার কারন হলো ইসা কে হিব্রুতে যীশু বলা হয়।

খৃষ্টান ও মুসলমানরা যে সকল বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করেন -
১) যীশু/ইসার জন্ম কুমারী মাতার গর্ভে।
২) তিনি জীবিত অবস্থায় স্বর্গারোহন করেছেন , এখনো জীবিত আছেন এবং ভবিষ্যতে কোন এক সময় পুনর্বার এই ধরাধামে আসবেন আল্লাহর/গডের শাসন প্রতিষ্ঠায় , যদিও কোরানে বলা আছে তিনি আর সকল নবী রসূলের মতোই মৃত্যু বরণ করেছেন।

আসলেই যীশু ও কোরানে বর্ণীত মরিয়মপুত্র ইসা কি একি ব্যাক্তি , নাকি ভিন্ন দুই জন ব্যাক্তি , যাদের জন্মস্থান ও বিচরন কাল ভিন্ন ছিল? পরবর্তি পর্বগুলোতে কোরান নিউটেস্টামেন্ট ও ইতিহাস থেকে এর উত্তর খোজার চেষ্টা করব।

Sunday, October 23, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ। (১১)

হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা। আসলেই কি তাই?

সহীহ বুখারী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ। দেখা যাক বুখরীর হাদীস থেকে আমরা কি ধরনের কোরানের ব্যখ্যা পাই। আমার এই বক্তব্যের রেফারেন্সের জন্য ডঃ মুহাম্মদ মুহসিন খানের লেখা (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি , মদিনা মুনাওয়ারা) 'সহীহ আল-বুখারী' ৬ষ্ঠ খন্ড , প্রকাশক কিতাব ভবন নয়া দিল্লি , দেখতে পারেন।

যদিও কোরানে ১১৪ টা সূরা আছে , বুখারী কিন্তু সকল সূরার সকল আয়াতের ব্যখ্যা দেন নি। ২৮ টি সুরার ব্যাখ্যা সম্বলিত কোন হাদীস বুখারীতে নেই। সূরা বাক্কারাহতে ২৮৬ টি আয়াত আছে , বুখারীতে মাত্র ৫০ টির মতো আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীস পাবেন। এর অর্থ দাড়ায় ২০% আয়াতের ব্যাখ্যা আছে , বাকি ৮০% এর জন্য আপনাকে উলামাদের কল্পনাশক্তির উপরে নির্ভর করা লাগবে।

এখন দেখা যাক ব্যাখ্যার ধরন। সূরা আল-কাওসারে(১০৮) ৩টি আয়াত আছে। একটি মাত্র শব্দের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই পুরা সুরার ব্যাখ্যা সম্পন্ন করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। বুখারী বলেছেন - 'কাওসার' জান্নাতের একটি নদী। বুখারী যে আরবি জানতেন না এটা মনে হয় তার একটা উদাহরন। কারন 'কাওসার' মানে পর্যাপ্ত পরিমানে ভালো কিছু। 'কাথির' মানে অনেক , পর্যাপ্ত।


সুরা হুদ(১১)

إِلَى اللّهِ مَرْجِعُكُمْ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ 04

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُواْ مِنْهُ أَلا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ 05

জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।

وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلاَّ عَلَى اللّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ 06

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।
এই আয়াতগুলোর মানে বোঝা কি কষ্টকর? সরল মানে দাড়ায় - আমরা সকলেই আল্লাহ্‌র কাছে ফিরে যাব। কোন কিছুই আল্লাহ্‌র কাছ থেকে লুকানো সম্ভব না। প্রতিটি জীবিত প্রাণী , ক্ষুদ্র ও বৃহৎ , সকলের রেকর্ড তার কাছে আছে।


বুখারীর হাদীস থেকে উপরোক্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা - ভলুম ৬ হাদীস নং ২০৩ - মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর বর্ননা করেছেন - "তিনি ইবনে আব্বাসের এই আয়াতের ব্যখ্যায় বলতে শুনেছেন - কিছু লোক যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা জায়গায় বসত , তখন কাপড় দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে নিত , যাতে আকাশ থেকে তাদেরকে দেখা না যায়। এই লোকদের উদ্দেশ্যেই ৫ নং আয়াত নাযিল হয়।" বুখারীর এই হাদীসের বর্ননার কারন এটাই বুঝানো যে , যেহেতু আল্লাহ সবকিছুই জানেন ও দেখেন , ফলে পেশাব পায়খানার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার কোন দরকার নেই । এই আয়াতের পরে যে সকল সাহাবা স্ত্রীদের সাথে সফর করতেন , তারা সংযম পরিত্যাগ করেন , কারন আল্লাহ যখন সব দেখতে পান , তখন আর সংযম করে ফায়দা কি। তাহলেই বুঝুন ব্যাখ্যার কি দশা!!

এই রকম বিকৃত ব্যখ্যা আরো অনেক আয়াতের দেয়া হয়েছে। যেগুলো লিখে কয়েক খন্ডেও শেষ করা যাবে না।

পরিশেষে বলব - যে ২৮ টি সূরার ব্যখ্যার কোন হাদীসই পাওয়া যায় না , সে সম্পর্কে কি বলবেন , হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা , এই মতবাদের সমর্থকরা? এই সূরাগুলো হলো 23, 27, 29, 35, 51, 57, 58, 64, 67, 69, 70, 73, 76, 81, 82, 86, 88, 89, 90, 94, 100, 101, 103, 104, 105, 106, 107, এবং 109। বুখারী বলেছেন , এই সূরাগুলোর ব্যাখ্যায় কোন হাদীস নাই।

হাদীস ও সুন্নাহ। (১০)

দুটি পরস্পর বিরোধী হাদীস - রসূল হাদীস লিখতে নিশেধ করেছেন , রসূল হাদীস লিখতে বলেছেন। দুটৈ সহী। এটা ১০০% বিশ্বাসযোগ্য কারন রসুল একজনকে যখন একটা হাদীস বলেছেন , অন্যজন সেটা শোনেনি। এই দুই বিপরিত কথা বলার মাঝে বিস্তর সময়ের ব্যবধান। সুতরাং দুটো বিপরিত হাদীস বলার মাঝে সময়ের দাবী ও যৌক্তিকতা ছিল। আমার লজিক সেন্স কম আমি বুঝিনি।

এখন এই বুদ্ধিমানেরা কি জবাব দেবেন , যখন দেখি বিদায় হজ্জের মতো গুরুত্বপূর্ন ভাষনটি যা হাজার হাজার মানুষ একি সময়ে শুনেছিল , সেই ভাষনকে কোট করে ২টি নয় ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!!

১) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার পরিবার কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ৪৪/৪ , নু ২৪০৮/৩৩১৯, ইবনে হাম্বল ৪/৩৬৬, দারিমি ২৩/১।

২) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার সুন্নাহকে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না।   মুয়াত্তা ৪৬/৩।

৩) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এটাকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ১৫/১৯, নু ১২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫/৮৪, আবু দাউদ ১১/৫৬।


দেখুন বিদায় হজ্বের বাণী হাজার হাজার সমবেত মুসলমান শোনার পরেও এর ৩টি ভার্ষান পাওয়া যায়। প্রতিটিই সহী হাদীস। তাহলেই বুঝুন হাদীস বানানো কত সোজা ছিল এবং কেনো লক্ষ লক্ষ হাদীসের ছড়াছড়ি ছিল। এই মিথ্যা হাদীস ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে যে বিভক্তি এসেছে , তার প্রমান ১ নং হাদীসটি শীয়ারা বিশ্বাস করে শীয়া হয়েছে আর ২ নং হাদীসটি বিশ্বাস করে সুন্নিরা সুন্নি হয়েছে।

Thursday, October 6, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ। (৯ )

বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা!!


দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না। তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ।

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

হাদীস ও সুন্নাহ (৮ )



ছবিটা একটু ভালো করে দেখুন। সহী সিত্তাহ বা যে ছয়টি হাদীস গ্রন্থ আছে , এদের সঙ্কলক কারো বাড়ি সৌদি আরব বা আরব দেশে না এবং এদের কারো মাতৃভাষা আরবি ও না। এরা সকলেই ফার্সি ভাষী ইরানি বংশোদ্ভূত।



কারো কি খটকা লাগে না আরব বা আরবি ভাষীরা কেনো হাদীসের সঙ্কলন করে নি? ইরানে কেনো হাদীসের এই সব বড় বড় আলেমদের আগমন? হাজার বছর আগে যখন উট ও ঘোড়া ই ছিল যানবাহনের একমাত্র উপায় , তখন তারা শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে কিভাবে হাদীস জোগাড় করেছেন ও সত্যাসত্য পরীক্ষা করেছেন? আমার তো খটকা লাগে। চিন্তা করে কুল কিনারা পাই না। কেউ কি আমাকে সাহায্য করবেন।


হাদীস ও সুন্নাহ। (৭ )

ব্যভিচারের শাস্তির শরীয়া আইনের বিধান , আদতে বানরের আইন , যেটা বাইবেল থেকে চুরি করা।

শরীয়া আইনের নির্দেশ হলো - ব্যভিচারি ও ব্যভিচারিনীকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে। যদি তারা অবিবাহিত হয় , তবে প্রত্যেকের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।

এই আইন দিয়ে ইসলামি উলেমারা ইসলামকে জনসমক্ষে হেয় করেছেন। কারন আগেই বলেছি , কোরানের কোথাও পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ডের বিধান নেই। তবে আমাদের উলেমারা মুসলমানদেরকে বিশ্বাস করানোর জন্য একটি গল্প ফেদেছেন , আর তাহলো পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ডের কোরানের আয়াতটি যে পর্চামের ওপরে লেখা ছিল , মুহাম্মদের মৃত্যুর পরে ছাগল পর্চামটি উমরের বালিশের তলা থেকে বের করে খেয়ে ফেলেছিল। যেকারনে 'রজম'(পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা) ও 'রেজাহ কবির' আয়াতদুটি কোরানে নেই। সুত্র- Sahih al Bukhari (Volume 8, pages 209-210, translation by Dr Muhammad Muhsin Khan) আমাদের উলেমারা কেমন ছাগল , এর চেয়ে ভালো কোনো কল্পনা তাদের মাথায় খেলেনি।


যে হাদীসের উপর ভিত্তি করে এই শরীয়া আইনটি লেখা হয়েছে , তা নিম্নরুপ।

Bukhari Volume 5, Book 58, Number 188:

আমর বিন মাইমুন বর্নীত : ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে আমি দেখলাম একটি মেয়ে বানরকে অনেকগুলো বানর মাথর ছুড়ে মারছে। তাকে পাথর ছুড়ে মারছে , কারন মেয়ে বানরটি ব্যভিচার করেছিল। আমিও ওকে অন্যান্য বানরের সাথে পাথর ছুড়ে মেরেছিলাম।


কি সুন্দর বানরের আইন। আমার তো মনে হয় বিবর্তনের থিওরি অনুযায়ী মানুষ বানর থেকে সৃষ্টি , তার সমর্থনে এর থেকে ভালো কোন প্রমান আর পাওয়া যাবে না।



এখন দেখা যাক বাইবেল কি বলে?


Deuteronomy 22: 23 - 24

22 If a man is found sleeping with another man's wife, both the man who slept with her and the woman must die. You must purge the evil from Israel.

23 If a man happens to meet in a town a virgin pledged to be married and he sleeps with her,

24 you shall take both of them to the gate of that town and stone them to death-the girl because she was in a town and did not scream for help, and the man because he violated another man's wife. You must purge the evil from among you.

Leviticus 20:10

10 " 'If a man commits adultery with another man's wife- with the wife of his neighbor- both the adulterer and the adulteress must be put to death.


বাইবেলে বলা হচ্ছে যদি কোন ব্যক্তি অন্যের বা প্রতিবেশির স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে , তবে দুইজনকেই পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে। এটাই আমাদের শরীয়া আইনের উৎস। শরীয়া আইনের সাথে বিব্লিকাল আইনের কোন পার্থক্য চোখে পড়ে কি?


সময় হয়েছে চিন্তা করার , আমরা কোরানের আইন অনুসরন করব , নাকি হাদীস অনুযায়ী শরীয়া আইন তথা বানর ও বাইবেলের আইন অনুসরন করব? Choice is yours.

Wednesday, October 5, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ। (৬ )

হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা প্রকৃতপক্ষে কট্টর খৃষ্টান।


গত হাজার বছর ধরে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা ইসলামের ঐশীগ্রন্থ কোরান অনুসরন না করে বাইবেলকেই অনুসরন করে চলেছেন । বাইবেলের যে সকল বানী আজকের খৃষ্টানরা অনুসরন করেন না , সেই একি বানী আজকের হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা কট্টরভাবে মেনে চলেছেন। হাদীসের বানীগুলোর উৎস বাইবেল , কোরান নয়। এগুলো সম্ভব হয়েছে ইসলামের ১ম ২০০-৩০০ বছর দ্রুত ইসলামি রাজ্যের বিস্তারলাভের ফলে তৎকালীন খলিফা ও ইসলামি পন্ডিতগন ব্যপকভাবে খৃষ্টানদের সংস্পর্শে এসে বাইবেল কতৃক প্রভাবিত হয়ে ভূয়া হাদীস ও সুন্নাহর প্রচলন করার মধ্য দিয়ে। আমরা কোরানের আয়াত থেকে জানি আমাদের রসূল পূর্ববর্তী কেতাবসমূহ পড়েন নি , তিনি শুধু কোরানকেই অনুসরন করতে আল্লাহ কতৃক আদীষ্ট ছিলেন। আজকের অনেক হাদীস ও সুন্নাহ পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই , এগুলো কোরানে খুজে পাবেন না , কিন্তু বাইবেলে অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু খুজে পাবেন।


সুরা আল-ইমরান ৩:১০০ হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে।

যেমন ধরুন- ইসলাম পরিত্যাগকারীদের (apostates) শাস্তি মৃত্যু দন্ড। এই হাদীসটির সমর্থনে কোন আয়াত কোরানে পাবেন না। বাইবেল কি বলে?

Leviticus 24:16

'Moreover, the one who blasphemes the name of the LORD shall surely be put to death; all the congregation shall certainly stone him. The alien as well as the native, when he blasphemes the Name, shall be put to death.

Deuteronomy 13:6 – 10

"If your brother, your mother' s son, or your son or daughter, or the wife you cherish, or your friend who is as your own soul, entice you secretly, saying, 'Let us go and serve other gods' you shall not yield to him or listen to him; and your eye shall not pity him, nor shall you spare or conceal him. "But you shall surely kill him; your hand shall be first against him to put him to death, and afterwards the hand of all the people. "So you shall stone him to death because he has sought to seduce you from the LORD your God who brought you out from the land of Egypt, out of the house of slavery.


বাইবেলে বলা হচ্ছে যারা তার লর্ডের অবমাননা করবে বা অন্য ধর্ম গ্রহন করবে বা অন্য ধর্ম গ্রহন করতে প্রোরোচিত করবে , তারা তোমার ছেলে মেয়ে ভাই বোন নিকটাত্মীয় হলেও মেরে ফেল। সকলে মিলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেল। কোন মায়া দয়া করবে না। দেখুন তো আমাদের মোল্লাদের কথার সাথে মেলে কিনা? আরো লক্ষ্য করুন পাথর ছুড়ে মেরে ফেলার বর্বর এই ধরনের আদেশ কোরানের কোথাও নেই। শুধু একটি আয়াতেই উল্লেখ আছে , সেটা কাফেররা পাথর ছুড়ে মেরে ফেলে তার বর্ননা দিয়ে।


বাইবেলে এমনকি ভিন্ন চিন্তা করার শাস্তিও মৃত্যুদন্ড।

Deuteronomy 13 : 5

"But that prophet or that dreamer of dreams shall be put to death, because he has counseled rebellion against the LORD your God who brought you from the land of Egypt and redeemed you from the house of slavery, to seduce you from the way in which the LORD your God commanded you to walk. So you shall purge the evil from among you.

আজকে দেখুন ভিন্ন চিন্তার কারনে আমাদের ব্লগ মোল্লারা আমাকে মৃত্যুদন্ড না দিতে পারলেও ২টা ব্লগ থেকে ব্যান করেছেন, যেটা ভার্চুয়াল মৃত্যুদন্ডের সমান ও ব্যাক্তি আক্রমন করে চলেছেন। এদেরকে খৃষ্টান না মুসলিম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত? আপনারাই বলুন।

পরের পোস্টগুলিতে আরো হাদীসের বর্ননা দেব , যার উৎস বাইবেল।