কেমন হয় , যদি বলি বিবর্তনবাদ সত্য , তবে ডারউইন যেটা বলেছিলেন , তার থেকে কিছুটা ভিন্ন?
কেমন হয় , যদি বিবর্তনের এমন একটা নুতন মডেল থাকত , যেটায় জীবাশ্ম ( fossils ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ বছর ধরে জীবের প্রায় কোনই পরিবর্তন না ঘটার ..... অতঃপর হটাৎ ঘটে যাওয়া ক্যাম্ব্রিয়ান বিষ্ফোরনের (Cambrian Explosion) ব্যাখ্যা থাকত? ক্যাম্ব্রিয়ান বিষ্ফোরন: প্রায় রাতারাতিই হাজার হাজার নুতন জীবের প্রেক্ষাপটে আগমন।
কেমন হয় , যদি "বিবর্তনবাদ বনাম সৃষ্টিতত্ত্ববাদ" , হয় এটা নয় ওটা এই অবস্থান না নিয়ে "দুটৈ+আরো কিছু" অবস্থান নিতে পারি?
কেমন হয় , যদি জীবাশ্ম নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক না করে , আমরা '1' ও '0' র মতৈ নির্ভুলভাবে বিবর্তনের ইতিহাস জানতে পারতাম?
কেমন হয় , বিজ্ঞান ও বিশ্বাস যদি অনন্তর পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত না থাকে?
এ সকল কিছুই শুধু সম্ভব-ই নয় , বরং বর্তমানের বাস্তবতা। আমি জানি এটা একটা অসম্ভব দাবী , তবে সকলের কাছে অনুরোধ , একটু ধৈর্য ধরে আমার কথাগুলো পড়ে দেখুন নির্বোধের মতো কিছু বলছি কি না।
সত্যি সত্যিই আমার কাছে বিবর্তনের একটি নুতন থিওরী আছে। শুধু তাই নয় , এই নুতন থিওরীর সাহায্যে আগামি ৩-২০ বছরে নুতন কি আবিষ্কৃত হবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব হবে।
ডারউইন ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে , জীবাশ্মের সাহায্যে দেখানো সম্ভব হবে , কিভাবে সরল এককোষী জীব নিয়মিত গতিতে ক্রমে ক্রমে বহুকোষী ও জটিল জীবে বিবর্তিত হয়েছে। এখন এটা সর্বজন বিদিত যে , নিয়মিত গতিতে বিবর্তন না ঘটে লাফ দিয়ে দিয়ে বিবর্তন ঘটেছে , অর্থাৎ লম্বা সময় স্থিতীশীল থেকে হটাৎ হটাৎ সামনে ঝাপ দিয়েছে।
স্টিফেন জে গৌল্ড এর নাম দিয়েছেন 'বিরাম ভারসাম্য' (punctuated equilibrium)। ঐ সময়ে এটা কিভাবে ঘটেছিল , তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আজ আমাদের হাতে অনেক যোগসুত্র ( clues ) আছে , যার সাহায্যে এর উত্তর পাওয়া সম্ভব।
ডারউইন বলেছিলেন বিবর্তনের চালিকাশক্তি হলো বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি (random mutation) ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের যোগফল।
ডারউইনের এই মতবাদ আধা সঠিক এবং আধা ভুল। ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ব্যাপারে অবশ্যই সঠিক ছিলেন।
পক্ষপাতহীন ভাবে বল্তে গেলে প্রাকৃতিক নির্বাচন যে সঠিক , এটা জানতে রকেট সায়েন্স জানা লাগে না। দুর্বলের মৃত্যু ঘটে আর সবলেরা বেচে থাকে। আমার মনে হয় আমাদের গুহা মানবেরা ও এর সাথে পরিচিত ছিল।
(রহিম করিমের মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করল এবং মেরে ফেলল। অতঃপর দুজনেই ক্ষুধার্ত বাঘের পেটে গেল। Survival of the fittest.... এটাই স্বাভাবিক।)
প্রাকৃতিক নির্বাচনের কোন সৃজনশক্তি নেই , যেটা করে তা হলো প্রসবকৃত শাবকগুলোর ক্ষুদ্রতমটিকে বা বামন গাছটিকে মেরে ফেলা।
বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তির রহস্য বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির (random mutation) মাঝেই নিহিত হতে হবে।
ডারউইন , তার সময়ে, বিশ্বাস করতেন বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তির বা ভিন্নতার ( variation ) মধ্য দিয়েই সকল প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে। তিনি বলেছিলেন : বেশিরভাগ সময় এটা ক্ষতিকারক , কিন্তু কখনো কখনো এটা সকল ধরনের সুন্দর ও নুতন আকার দিতে সাহায্য করে , মনে হয় যেন নকশা করা।
বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি কি? সকল জীববিজ্ঞানের বইয়ে বলা হয়েছে- এটা দুর্ঘটনাজনিত 'ডিএনএ'র ভুল নকল বা প্রতিলিপি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী , এটা আসলে অবিশুদ্ধ ডাটা ( corrupted data ), যা মাঝে মাঝে ক্ষতি না করে , উপকার করে।
এখানেই ডারউইন ও জীববিজ্ঞানের বইগুলো ভুল করছে।
একজন প্রকৌশলীর দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে এটা ১০০% ভুল। প্রকৌশলের এমন কোন বিভাগ নেই , যেখানে দেখানো সম্ভব অবিশুদ্ধ ডাটা ক্ষতির বদলে উপকার করে। এটা সব সময় ক্ষতিকারক। ভুল নকল বা ভুল ডাটা প্রেরন (data transmission) কখনোই সঙ্কেতকে (signal) কে সাহায্য করে না। তারা শুধু ক্ষতিই করে।
অনুগ্রহ করে ভুল বুঝবেন না। আমি বলছিনা যে বিবর্তন ঘটে নি বা ঘটবে না। এটাই বলতে চাচ্ছি যে , ডারউইন যেভাবে বলেছিলেন , ঠিক সেভাবে ঘটেনি। ভিন্নভাবে বিবর্তন ঘটেছে।
কিভাবে বিবর্তন ঘটেছে তা বিস্তারিতভাবে বলার আগে , বিক্ষিপ্ততা (randomness ) কিভাবে তথ্যকে জঞ্জাল (garbage) বানিয়ে ফেলে তার ব্যাখ্যা করা দরকার।
আমরা নিচের বাক্য দিয়ে শুরু করতে পারি।
"The quick brown fox jumped over the lazy dog"
এখন যদি আমরা বিক্ষিপ্ত বা এলোপাতাড়িভাবে এই বাক্যের বর্ণগুলো পরিবর্তন বা মিউটেট করি , তাহলে নিম্নের বাক্যগুলোর মতো দেখা যাবে।
The 6uHck brown fox jukped over the lazyHdog
Tze quick bro0n foL juXped over the lazy doF
Tae quick browY fox jumped oGer tgePlazy dog
The iuick brown fox jumped lver the lazy dog
The quiikQbKowSwfox .umped oveh the lazy dog
আপনি দুনিয়ার সকল প্রাকৃতিক নির্বাচন এর পরে প্রয়োগ করার পরেও একটি সুন্দর বাক্যকে ধ্বংশ ছাড়া কোন বোধগম্য বাক্য তৈরী করতে পারবেন না। www.RandomMutation.com এই ওয়েবসাইটে যেয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
এটা কেন কাজ করে না? কারন হলো , একেকবারে একটি বর্ণ পরিবর্তন করে একটি বাক্য তৈরি করা কখনৈ সম্ভব নয় , ইচ্ছাকৃত ভাবে চেষ্টা যদি করেন তবু ও।
প্রযুক্তিগতভাবে , এটা হয় কারন সকল বিক্ষিপ্ত পরিব্যক্তি (random mutation) হলো গোলমেলে বা অতিরিক্ত শব্দ (noise) , যা সঙ্কেতকে (signal) ধ্বংশ করে। ক্লড শ্যানন এটাকে বলেছেন - তথ্য এন্ট্রপি। এন্ট্রপি কখনো বিপরিতমুখী হয় না। অতিরিক্ত শব্দ কখনৈ সঙ্কেতের উন্নতি করে না , বরং সঙ্কেতকে গোবর বানিয়ে ফেলে।
বিবর্তন সফল হওয়ার একটাই রাস্তা , আর তা হলো যদি বিবর্তন ভাষার নিয়ম অনুসরন করে।
সুতরাং.. সফল বিবর্তন ঘটলে বাক্যটি এমনটাই দেখাবে
The fast brown fox jumped over the slothful dog.
The dark brown fox jumped over the light brown dog.
The big brown fox leaped over the lazy dog.
The quick black fox sped past the sleeping dog.
The hot blonde fox sauntered past the sunbathing man.
ইংরেজিতে সফল বিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদের নির্ভুল প্রতিস্থাপন এবং ভাষার নিয়ম অনুসরন করা।
'ডিএনএ' ও এর ব্যাতিক্রম নয়। কারন 'ডিএনএ'র নিজস্ব ভাষা আছে। ফ্যাক্ট হলো , হাজার হাজার ভাষাবিদ মানব জেনোম প্রজেক্টে জীনের ডিকোড বা অর্থোদ্ধারে সাহায্য করেছেন। ডজন ডজন ভাষার বইতে বর্ননা করা হয়েছে 'ডিএনএ' ও মানুষের মুখের ভাষার মধ্যেকার রহস্যজনক সাদৃশ্য নিয়ে।
পরের পর্বে নুতন বিবর্তনবাদ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখা হবে।
Newsweek Magazine: "Was Darwin Wrong About Evolution?"
http://www.newsweek.com/id/180103
"Darwin: Brilliantly Half Right, Tragically Half Wrong"
http://www.cosmicfingerprints.com/blog/darwin-half-right/
"A 3rd Way" - James Shapiro's 21st century view of evolution
http://shapiro.bsd.uchicago.edu/Shapiro.1997.BostonReview1997.ThirdWay.pdf
সুরা আল-যুমার(৩৯) আয়াত ১৮ যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে , অতঃপর যা উত্তম , তার অনুসরন করে। তাদেরকেই আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।
Sunday, March 6, 2011
বিস্ময়কর এই মহাবিশ্ব হলোগ্রাম/ছায়া/মায়া ছাড়া আর কিছু নয় (২)
গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম এসপেক্ট ও তার দলের আবিস্কার নিয়ে – "নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সাব-এটমিক পার্টিকেল , যেমন ইলেক্ট্রন একে অন্যের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করে/রাখে , তা একে অন্যের থেকে যত দুরে বা নিকটে থাকুক না কেন।" এবং শেষ করেছিলাম বোহমের এই বক্তব্য দিয়ে - "আমরা সাব-এটমিক কণিকাগুলোকে একে অন্যের থেকে পৃথক ভাবি , কারন আমরা তাদের বাস্তবতার একটি অংশই কেবল দেখতে পাই।"
বোহমের মতে এই কনিকাগুলোর স্বতন্ত্র কোন অস্তিত্ব নেই , এরা বৃহৎ কোন এককের এক একটি অংশ , হলোগ্রাফিক গোলাপের মতোই অবিভাজ্য। যেহেতু আমাদের এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই এই জাদুর কণিকা দিয়ে তৈরি , সেকারনে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি , এই মহাবিশ্ব হলোগ্রাম/ছায়া/মায়া ছাড়া আর কিছু নয়।
মহাবিশ্বের এই ছায়াপ্রকৃতি আরো অনেক অভূতপূর্ব বৈশিষ্ঠের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কণিকাগুলোর এই আপাতদৃষ্টে ভিন্ন অবস্থান যদি মায়া হয় , এর অর্থ দাড়ায় বাস্তবতার আরো গভিরতর লেভেলে কণিকাগুলো একে অন্যের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত। মানুষের ব্রেনের একটি কার্বন অনুর ইলেক্ট্রন , সাতরে বেড়ানো সকল সালমান মাছের ব্রেনের বা সকল জীবিত প্রাণীর বা আকাশে যত তারা আছে , তাদের প্রত্যেকের সাব-এটমিক কণিকার সাথে যোগাযোগ রক্ষার মধ্য দিয়ে জড়িত। এই মহাবিশ্বের সকলকিছুই একে অন্যের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত , এরা একটি তারবিহীন জালের অংশ। এদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ঠ খোজা অর্থহীন।
এই হলোগ্রাম বা ছায়া বিশ্বে সময় ও স্থান বা স্পেস বলে কিছু নেই। কারন মহাবিশ্বের কোনকিছুই যখন কোনকিছুর থেকে পৃথক নয় , তখন অবস্থানের ধারনাই বাতিল হয়ে যায়। একারনেই মনে হয় স্পেসকে মহাশুন্য বলে।
গভিরতর লেভেলে বাস্তবতা হলো একটি সুপার হলোগ্রাম , যেখানে অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত একসাথে অবস্থান করে। ধারনা করতে দোষ নেই , ভবিষ্যতে সঠিক প্রযুক্তির উদ্ভব হলে , সুপার হলোগ্রাম লেভেলের বাস্তবতায় যেয়ে সুদুর অতীতের ভুলে যাওয়া কোন দৃশ্য তুলে এনে সকলের সামনে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে। তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারব এই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছিল , মানুষ কিভাবে ধাপে ধাপে জীবের বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল , কোন বিতর্ক বা অবিশ্বাসের অবকাশ আর থাকবে না।
বোহম-ই একমাত্র গবেষক নন যিনি 'আমাদের এই মহাবিশ্ব যে একটা হলোগ্রাম' তার স্বপক্ষে যুক্তি প্রমান হাজির করার চেষ্টা করেছেন। ব্রেন নিয়ে গবেষনা করতে যেয়ে স্টানফোর্ড নেউরোফিজিওলোজিস্ট কার্ল পিরিব্রাম স্বাধীনভাবে এই হলোগ্রাম লেভেলের বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ব্রেনের ঠিক কোন অংশে স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে , এটার গবেষনা করতে যেয়ে গবেষকগণ আশ্চর্য হয়ে দেখেন ব্রেনের কোন একটি বিশেষ অংশে স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে না , বরং সম্পুর্ণ ব্রেনটাতেই স্মৃতি ছড়িয়ে থাকে। ১৯২০ সালে ব্রেন বিজ্ঞানী কার্ল ল্যাশলী দেখেন যে , ইদুরের ব্রেনের যে কোন অংশই অস্ত্রোপচার করে বাদ দেন না কেন , ইদুরটি অস্ত্রোপচারের পূর্বে শেখানো জটিল কিছু কাজের অভ্যাস ভুলছে না। সমস্যা দেখা দিল ব্রেনের ‘প্রতিটি অংশে সম্পুর্ন’ স্মৃতি সংরক্ষনের এই বিষয়টি ব্যাখ্যা সে সময়ে কারো জানা ছিল না।
১৯৬০ সালে কার্ল পিরিব্রাম হলোগ্রামের ধারনার সাথে পরিচিত হয়ে উপলব্ধি করলেন, ব্রেন বিজ্ঞানীরা এতদিন যে সমস্যার জবাব খুজে পাচ্ছিলেন না , তার জবাব লুকিয়ে আছে হলোগ্রামের ভিতরে , অর্থাৎ পুরো ব্রেনটাই একটা হলোগ্রাম। পুরো ব্রেন কিভাবে স্মৃতি সংরক্ষন করে তা লিখে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি না ঘটিয়ে এটুকু বলা যায় যে , আমাদের পঞ্চেন্দ্রীয় বাহ্যিক বাস্তবতার যে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল পাঠায় , তা আমাদের ব্রেন যাচাই বাছাই করে একটি প্যাটার্ন হিসাবে সমগ্র ব্রেনে সংরক্ষিত রাখে , গোলাপফুলের যে হলোগ্রামের কথা লিখেছিলাম গত পর্বে , সেটার মতো। আমরা সহ আমাদের চারিপাশের এই মহাবিশ্বের বাস্তবতা আমাদের ব্রেনে ধারনকৃত ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল ছাড়া আর কিছু নয় এবং এরা সকলেই একে অন্যের সাথে সবসময় কোন না কোন ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এর ভিতরেই হয়তোবা প্যারানর্মাল কার্যকলাপ বা কোইন্সিডেন্সের (আকস্মিক যোগাযোগ বা ঘটনা) রহস্য লুকিয়ে আছে।
যারা আরো বিস্তারিত জানতে চান , তারা মাইকেল ট্যালবটের Spirituality and Science: The Holographic Universe পড়ে দেখতে পারেন।
বোহমের মতে এই কনিকাগুলোর স্বতন্ত্র কোন অস্তিত্ব নেই , এরা বৃহৎ কোন এককের এক একটি অংশ , হলোগ্রাফিক গোলাপের মতোই অবিভাজ্য। যেহেতু আমাদের এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই এই জাদুর কণিকা দিয়ে তৈরি , সেকারনে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি , এই মহাবিশ্ব হলোগ্রাম/ছায়া/মায়া ছাড়া আর কিছু নয়।
মহাবিশ্বের এই ছায়াপ্রকৃতি আরো অনেক অভূতপূর্ব বৈশিষ্ঠের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কণিকাগুলোর এই আপাতদৃষ্টে ভিন্ন অবস্থান যদি মায়া হয় , এর অর্থ দাড়ায় বাস্তবতার আরো গভিরতর লেভেলে কণিকাগুলো একে অন্যের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত। মানুষের ব্রেনের একটি কার্বন অনুর ইলেক্ট্রন , সাতরে বেড়ানো সকল সালমান মাছের ব্রেনের বা সকল জীবিত প্রাণীর বা আকাশে যত তারা আছে , তাদের প্রত্যেকের সাব-এটমিক কণিকার সাথে যোগাযোগ রক্ষার মধ্য দিয়ে জড়িত। এই মহাবিশ্বের সকলকিছুই একে অন্যের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত , এরা একটি তারবিহীন জালের অংশ। এদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ঠ খোজা অর্থহীন।
এই হলোগ্রাম বা ছায়া বিশ্বে সময় ও স্থান বা স্পেস বলে কিছু নেই। কারন মহাবিশ্বের কোনকিছুই যখন কোনকিছুর থেকে পৃথক নয় , তখন অবস্থানের ধারনাই বাতিল হয়ে যায়। একারনেই মনে হয় স্পেসকে মহাশুন্য বলে।
গভিরতর লেভেলে বাস্তবতা হলো একটি সুপার হলোগ্রাম , যেখানে অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত একসাথে অবস্থান করে। ধারনা করতে দোষ নেই , ভবিষ্যতে সঠিক প্রযুক্তির উদ্ভব হলে , সুপার হলোগ্রাম লেভেলের বাস্তবতায় যেয়ে সুদুর অতীতের ভুলে যাওয়া কোন দৃশ্য তুলে এনে সকলের সামনে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে। তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারব এই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছিল , মানুষ কিভাবে ধাপে ধাপে জীবের বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল , কোন বিতর্ক বা অবিশ্বাসের অবকাশ আর থাকবে না।
বোহম-ই একমাত্র গবেষক নন যিনি 'আমাদের এই মহাবিশ্ব যে একটা হলোগ্রাম' তার স্বপক্ষে যুক্তি প্রমান হাজির করার চেষ্টা করেছেন। ব্রেন নিয়ে গবেষনা করতে যেয়ে স্টানফোর্ড নেউরোফিজিওলোজিস্ট কার্ল পিরিব্রাম স্বাধীনভাবে এই হলোগ্রাম লেভেলের বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ব্রেনের ঠিক কোন অংশে স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে , এটার গবেষনা করতে যেয়ে গবেষকগণ আশ্চর্য হয়ে দেখেন ব্রেনের কোন একটি বিশেষ অংশে স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে না , বরং সম্পুর্ণ ব্রেনটাতেই স্মৃতি ছড়িয়ে থাকে। ১৯২০ সালে ব্রেন বিজ্ঞানী কার্ল ল্যাশলী দেখেন যে , ইদুরের ব্রেনের যে কোন অংশই অস্ত্রোপচার করে বাদ দেন না কেন , ইদুরটি অস্ত্রোপচারের পূর্বে শেখানো জটিল কিছু কাজের অভ্যাস ভুলছে না। সমস্যা দেখা দিল ব্রেনের ‘প্রতিটি অংশে সম্পুর্ন’ স্মৃতি সংরক্ষনের এই বিষয়টি ব্যাখ্যা সে সময়ে কারো জানা ছিল না।
১৯৬০ সালে কার্ল পিরিব্রাম হলোগ্রামের ধারনার সাথে পরিচিত হয়ে উপলব্ধি করলেন, ব্রেন বিজ্ঞানীরা এতদিন যে সমস্যার জবাব খুজে পাচ্ছিলেন না , তার জবাব লুকিয়ে আছে হলোগ্রামের ভিতরে , অর্থাৎ পুরো ব্রেনটাই একটা হলোগ্রাম। পুরো ব্রেন কিভাবে স্মৃতি সংরক্ষন করে তা লিখে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি না ঘটিয়ে এটুকু বলা যায় যে , আমাদের পঞ্চেন্দ্রীয় বাহ্যিক বাস্তবতার যে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল পাঠায় , তা আমাদের ব্রেন যাচাই বাছাই করে একটি প্যাটার্ন হিসাবে সমগ্র ব্রেনে সংরক্ষিত রাখে , গোলাপফুলের যে হলোগ্রামের কথা লিখেছিলাম গত পর্বে , সেটার মতো। আমরা সহ আমাদের চারিপাশের এই মহাবিশ্বের বাস্তবতা আমাদের ব্রেনে ধারনকৃত ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল ছাড়া আর কিছু নয় এবং এরা সকলেই একে অন্যের সাথে সবসময় কোন না কোন ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এর ভিতরেই হয়তোবা প্যারানর্মাল কার্যকলাপ বা কোইন্সিডেন্সের (আকস্মিক যোগাযোগ বা ঘটনা) রহস্য লুকিয়ে আছে।
যারা আরো বিস্তারিত জানতে চান , তারা মাইকেল ট্যালবটের Spirituality and Science: The Holographic Universe পড়ে দেখতে পারেন।
বিস্ময়কর এই মহাবিশ্ব হলোগ্রাম/ছায়া/মায়া ছাড়া আর কিছু নয় (১)
১৯৮২ সালে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকদল পদার্থবিদ এলেন এসপেক্টের নেতৃত্বে এক পরীক্ষা চালান , যা বিংশ শতাব্দির গুরুত্বপূর্ণ গবেষনাগুলোর একটি বলে ধারনা করা যেতে পারে। বাস্তবে যারা সচরাচর বৈজ্ঞানিক জার্নাল পড়েন না , তাদের এলেন এসপেক্টের নাম জানার কথা নয়। কিছু লোকের ধারনা , এলেন এসপেক্টের আবিস্কার , মহাবিশ্ব সম্পর্কে এপর্যন্ত বিজ্ঞানীদের অর্জিত সকল জ্ঞানকে আমূল পাল্টে দেবে।
এসপেক্ট ও তার দলের আবিস্কারটা হলো - নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সাব-এটমিক পার্টিকেল , যেমন ইলেক্ট্রন একে অন্যের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করে/রাখে , তা একে অন্যের থেকে যত দুরে বা নিকটে থাকুক না কেন। দুরত্ব এখানে কোন সমস্যা নয় , তা একে অন্যের থেকে ১০ ফুট দুরেই থাকুক বা ১০ হাজার কোটি মাইল দুরেই থাকুক।
কোন না কোনভাবে প্রতিটি পার্টিকেল বা কণিকা জানে অন্যগুলো কি করছে। একটাই সমস্যা , এসপেক্ট ও তার দলের আবিস্কারটা , কোন যোগাযোগ আলোর গতির বেশি হতে পারেনা , আইনস্টাইনের এই মতবাদ/বিশ্বাস্বের পরিপন্থি। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য , প্রচলিত ধারনা বহির্ভূত কিছু মৌলিক ব্যাখ্যা এসেছে। এমনি এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ডেভিড বোহম। বোহমের মতে এস্পেক্টের আবিস্কার এটাই ইঙ্গিত করে যে , বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার (objective reality) কোন অস্তিত্ব নেই। আমাদের এই মহাবিশ্ব এক ছায়া/মায়া মাত্র , এক অতিকায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সাজানো চমৎকার ত্রিমাতৃক (3-D) ছবি বা হলোগ্রাম।
বোহম কি বলতে চাচ্ছেন , তা বুঝতে হলে , আমাদের হলোগ্রাম সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারনা থাকা দরকার। হলোগ্রাম হলো লেজার রশ্মির সাহায্যে তোলা ত্রিমাতৃক ছবি। যে বস্তুর ছবি তোলা হবে , তার উপরে একটি লেজার রশ্মি ফেলে প্রতিফলিত করা হয়। ঐ প্রতিফলিত রশ্মির উপরে দ্বিতীয় একটি লেজার রশ্মি ফেলা হয়। এই দুই রশ্মির মিলিত প্যাটার্নকে (the area where the two laser beams commingle) একটি ফিল্মে ধারন করা হয়। তারপরে ঐ ফিল্মকে ডেভেলপ করা হয়। ডেভেলপ করা ঐ ফিল্মের ভিতর দিয়ে লেজার রশ্মি পাঠালেই কেবল ত্রিমাতৃক ছবি দেখা যায়। ত্রিমাতৃকতাই কেবল হলোগ্রামের বৈশিষ্ঠ নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ হলো , হলোগ্রামের প্রতিটি বিন্দুই সম্পুর্ন বস্তুর ছবি ধারন করে। যদি গোলাপ ফুলের একটি হলোগ্রামকে কেটে দুভাগ করা হয় এবং যে কোন একাংশের ভিতর দিয়ে লেজার রশ্মি পাঠানো হয় , তাহলে অর্ধেক ফুল নয় , পুরো গোলাপ ফুলটার ত্রিমাতৃক ছবি দেখা যাবে , যা আয়তনে অর্ধেক। যত খুশি হলোগ্রামকে কেটে ছোট করুন না কেন , প্রতিটি অংশই আয়তনে ছোট কিন্তু পুরো ফুলটির ছবি দেখাবে।
'প্রতিটি অংশে সম্পুর্ন' ("whole in every part) হলোগ্রামের এই প্রকৃতি , আমাদের সামনে চিন্তার এক নুতন দুয়ার খুলে দিয়েছে। পশ্চিমা বিজ্ঞান আমাদের এতদিন এই শিক্ষা দিয়েছে যে , কোন জিনিষকে , তা একটি ব্যাঙ হোক বা অনুই হোক , ভালভাবে জানতে বা বুঝতে হলে , তাকে কেটে ছোট করে প্রতিটি অংশের গুনাবলি বিশ্লেষন করাই সর্বোত্তম পন্থা। হলোগ্রাম আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে , এই মহাবিশ্বে এমন ও কিছু আছে , যাকে কেটে ছোট করে বিশ্লেষন করা সম্ভব নয়। যদি কোনকিছু হলোগ্রামের মতো করে তৈরি হয়ে থাকে , তবে আমরা কখনৈ জানব না এটা কি দিয়ে তৈরি। কারন আমরা একে যতই ভাগ করি না কেন , আমরা পাব আয়তনে ছোট কিন্তু পুরাটাই (smaller wholes)।
হলোগ্রামের এই বৈশিষ্ঠই বোহমকে সাহায্য করেছে এস্পেক্টের আবিস্কারের নুতন ব্যাখ্যা দিতে। বোহমের মতে , সাব-এটমিক কণিকাগুলো একে অন্যের সাথে কোন রহস্যজনক তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখে না , বরং তাদের মধ্যেকার দুরত্বটা এক মায়া। এই
সাব-এটমিক কণিকাগুলোর আলাদা আলাদা কোন অস্তিত্ব নেই , এরা সকলেই মৌলিক কোন একটি জিনিষের সম্প্রসারন বা সংযোজিত অংশ।
বোহম ঠিক কি বলতে চেয়েছেন , সেটা বোঝানোর জন্য নিম্নের উপমা বর্ননা করেছেন-
একটি মাছ ভর্তি এক্যুয়ারিয়াম কল্পনা করুন , যেটা আপনি সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন না। মাছ ও এক্যুয়ারিয়ামটির ছবি দুটি ভিডিও ক্যামেরা , যার একটি এক্যুয়ারিয়ামের সামনে থেকে ও আরেকটি একপাশ থেকে তুলে টেলিভিশনের পর্দায় পাঠাচ্ছে। আপনি একটি টেলিভিশনের পর্দায় সামনে থেকে তোলা ও আরেকটিতে একপাশ থেকে তোলা ছবি যুগপথ দেখছেন। যেহেতু ভিন্ন কোন(angle) থেকে ছবি তোলা হচ্ছে , সেকারনে আপনার কাছে মনে হবে দুই পর্দায় দেখতে পাওয়া মাছটি একি মাছ নয় , দুটি ভিন্ন মাছ। আপনি যতই মাছ দুটি দেখতে থাকবেন , ততই আপনার কাছে প্রতীয়মান হবে যে মাছ দুটির মাঝে নিশ্চিত একটি সম্পর্ক আছে। কারন যখন একটি মাছ ঘুরবে বা পাশ ফিরবে , তখন অন্যটি ও নিশ্চিতভাবেই কিছুটা ভিন্নভাবে হলেও ঘুরবে বা পাশ ফিরবে। একটিতে যদি মাছটি আপনার দিকে মুখ করে থাকে , অন্যটাতে আপনার দিকে পাশ ফিরে থাকবে। আপনার যদি এই পুরা সেটআপ সম্মন্ধে জানা না থাকে , তাহলে আপনার মনে হবে , মাছ দুটি একে অন্যের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে , যা আদৌ সত্য নয়। কারন এখানে দুটি নয় , একটিই মাছ আপনি দেখছেন।
বোহম বলছেন , ঠিক এভাবেই এস্পেক্টের গবেষনায় পাওয়া সাব-এটমিক পার্টিকেলগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে , দুরত্ব যেখানে কোন বাধায় নয়। বোহমের মতে আপাতদৃষ্টে আলোর চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন সাব-এটমিক কণিকাগুলোর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এটাই ইঙ্গিত করে যে , বাস্তবতার আরো গভিরতর লেভেলে অনেক জটিল মাত্রা (dimension) আছে , যা আমাদের পঞ্চেন্দ্রীয় দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন , আমরা সাব-এটমিক কণিকাগুলোকে একে অন্যের থেকে পৃথক ভাবি , কারন আমরা তাদের বাস্তবতার একটি অংশই কেবল দেখতে পাই। চলবে....
এসপেক্ট ও তার দলের আবিস্কারটা হলো - নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সাব-এটমিক পার্টিকেল , যেমন ইলেক্ট্রন একে অন্যের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করে/রাখে , তা একে অন্যের থেকে যত দুরে বা নিকটে থাকুক না কেন। দুরত্ব এখানে কোন সমস্যা নয় , তা একে অন্যের থেকে ১০ ফুট দুরেই থাকুক বা ১০ হাজার কোটি মাইল দুরেই থাকুক।
কোন না কোনভাবে প্রতিটি পার্টিকেল বা কণিকা জানে অন্যগুলো কি করছে। একটাই সমস্যা , এসপেক্ট ও তার দলের আবিস্কারটা , কোন যোগাযোগ আলোর গতির বেশি হতে পারেনা , আইনস্টাইনের এই মতবাদ/বিশ্বাস্বের পরিপন্থি। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য , প্রচলিত ধারনা বহির্ভূত কিছু মৌলিক ব্যাখ্যা এসেছে। এমনি এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ডেভিড বোহম। বোহমের মতে এস্পেক্টের আবিস্কার এটাই ইঙ্গিত করে যে , বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার (objective reality) কোন অস্তিত্ব নেই। আমাদের এই মহাবিশ্ব এক ছায়া/মায়া মাত্র , এক অতিকায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সাজানো চমৎকার ত্রিমাতৃক (3-D) ছবি বা হলোগ্রাম।
বোহম কি বলতে চাচ্ছেন , তা বুঝতে হলে , আমাদের হলোগ্রাম সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারনা থাকা দরকার। হলোগ্রাম হলো লেজার রশ্মির সাহায্যে তোলা ত্রিমাতৃক ছবি। যে বস্তুর ছবি তোলা হবে , তার উপরে একটি লেজার রশ্মি ফেলে প্রতিফলিত করা হয়। ঐ প্রতিফলিত রশ্মির উপরে দ্বিতীয় একটি লেজার রশ্মি ফেলা হয়। এই দুই রশ্মির মিলিত প্যাটার্নকে (the area where the two laser beams commingle) একটি ফিল্মে ধারন করা হয়। তারপরে ঐ ফিল্মকে ডেভেলপ করা হয়। ডেভেলপ করা ঐ ফিল্মের ভিতর দিয়ে লেজার রশ্মি পাঠালেই কেবল ত্রিমাতৃক ছবি দেখা যায়। ত্রিমাতৃকতাই কেবল হলোগ্রামের বৈশিষ্ঠ নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ হলো , হলোগ্রামের প্রতিটি বিন্দুই সম্পুর্ন বস্তুর ছবি ধারন করে। যদি গোলাপ ফুলের একটি হলোগ্রামকে কেটে দুভাগ করা হয় এবং যে কোন একাংশের ভিতর দিয়ে লেজার রশ্মি পাঠানো হয় , তাহলে অর্ধেক ফুল নয় , পুরো গোলাপ ফুলটার ত্রিমাতৃক ছবি দেখা যাবে , যা আয়তনে অর্ধেক। যত খুশি হলোগ্রামকে কেটে ছোট করুন না কেন , প্রতিটি অংশই আয়তনে ছোট কিন্তু পুরো ফুলটির ছবি দেখাবে।
'প্রতিটি অংশে সম্পুর্ন' ("whole in every part) হলোগ্রামের এই প্রকৃতি , আমাদের সামনে চিন্তার এক নুতন দুয়ার খুলে দিয়েছে। পশ্চিমা বিজ্ঞান আমাদের এতদিন এই শিক্ষা দিয়েছে যে , কোন জিনিষকে , তা একটি ব্যাঙ হোক বা অনুই হোক , ভালভাবে জানতে বা বুঝতে হলে , তাকে কেটে ছোট করে প্রতিটি অংশের গুনাবলি বিশ্লেষন করাই সর্বোত্তম পন্থা। হলোগ্রাম আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে , এই মহাবিশ্বে এমন ও কিছু আছে , যাকে কেটে ছোট করে বিশ্লেষন করা সম্ভব নয়। যদি কোনকিছু হলোগ্রামের মতো করে তৈরি হয়ে থাকে , তবে আমরা কখনৈ জানব না এটা কি দিয়ে তৈরি। কারন আমরা একে যতই ভাগ করি না কেন , আমরা পাব আয়তনে ছোট কিন্তু পুরাটাই (smaller wholes)।
হলোগ্রামের এই বৈশিষ্ঠই বোহমকে সাহায্য করেছে এস্পেক্টের আবিস্কারের নুতন ব্যাখ্যা দিতে। বোহমের মতে , সাব-এটমিক কণিকাগুলো একে অন্যের সাথে কোন রহস্যজনক তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখে না , বরং তাদের মধ্যেকার দুরত্বটা এক মায়া। এই
সাব-এটমিক কণিকাগুলোর আলাদা আলাদা কোন অস্তিত্ব নেই , এরা সকলেই মৌলিক কোন একটি জিনিষের সম্প্রসারন বা সংযোজিত অংশ।
বোহম ঠিক কি বলতে চেয়েছেন , সেটা বোঝানোর জন্য নিম্নের উপমা বর্ননা করেছেন-
একটি মাছ ভর্তি এক্যুয়ারিয়াম কল্পনা করুন , যেটা আপনি সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন না। মাছ ও এক্যুয়ারিয়ামটির ছবি দুটি ভিডিও ক্যামেরা , যার একটি এক্যুয়ারিয়ামের সামনে থেকে ও আরেকটি একপাশ থেকে তুলে টেলিভিশনের পর্দায় পাঠাচ্ছে। আপনি একটি টেলিভিশনের পর্দায় সামনে থেকে তোলা ও আরেকটিতে একপাশ থেকে তোলা ছবি যুগপথ দেখছেন। যেহেতু ভিন্ন কোন(angle) থেকে ছবি তোলা হচ্ছে , সেকারনে আপনার কাছে মনে হবে দুই পর্দায় দেখতে পাওয়া মাছটি একি মাছ নয় , দুটি ভিন্ন মাছ। আপনি যতই মাছ দুটি দেখতে থাকবেন , ততই আপনার কাছে প্রতীয়মান হবে যে মাছ দুটির মাঝে নিশ্চিত একটি সম্পর্ক আছে। কারন যখন একটি মাছ ঘুরবে বা পাশ ফিরবে , তখন অন্যটি ও নিশ্চিতভাবেই কিছুটা ভিন্নভাবে হলেও ঘুরবে বা পাশ ফিরবে। একটিতে যদি মাছটি আপনার দিকে মুখ করে থাকে , অন্যটাতে আপনার দিকে পাশ ফিরে থাকবে। আপনার যদি এই পুরা সেটআপ সম্মন্ধে জানা না থাকে , তাহলে আপনার মনে হবে , মাছ দুটি একে অন্যের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে , যা আদৌ সত্য নয়। কারন এখানে দুটি নয় , একটিই মাছ আপনি দেখছেন।
বোহম বলছেন , ঠিক এভাবেই এস্পেক্টের গবেষনায় পাওয়া সাব-এটমিক পার্টিকেলগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে , দুরত্ব যেখানে কোন বাধায় নয়। বোহমের মতে আপাতদৃষ্টে আলোর চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন সাব-এটমিক কণিকাগুলোর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এটাই ইঙ্গিত করে যে , বাস্তবতার আরো গভিরতর লেভেলে অনেক জটিল মাত্রা (dimension) আছে , যা আমাদের পঞ্চেন্দ্রীয় দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন , আমরা সাব-এটমিক কণিকাগুলোকে একে অন্যের থেকে পৃথক ভাবি , কারন আমরা তাদের বাস্তবতার একটি অংশই কেবল দেখতে পাই। চলবে....
Wednesday, October 20, 2010
শাফায়াত বা সুপারিশকারী
প্রায় সব বাঙালি মুসলমান রোজ হাশরে রসুল মুহাম্মদের শাফায়াতের আশা করে একনিষ্ঠ ভাবে তার সুন্নত পালন করেন।
কোরানে আল্লাহ শাফায়াত সম্পর্কে কি বলেছেন :
সুরা আল-যুমার(৩৯) আয়াত ৪৩-৪৪
"তারা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সুপারিশকারী গ্রহন করেছে? বলুন , এমনকি কোনকিছুর উপরে তাদের কোন ক্ষমতা না থাকলেও বা তাদের কোন বুদ্ধি জ্ঞান না থাকলেও ! বলুন , সকল সুপারিশের মালিক আল্লাহ , আসমান ও যমীনে তারি রাজত্ব। অতঃপর তারি কাছে তোমাদের ফিরতে হবে।"
সুরা সেজদাহ(৩২) আয়াত ৪
"আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল , ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে আসীন হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন ওলী বা সুপারিশকারী নেই। এরপর ও কি তোমরা বুঝবে না?"
সুরা বাকারাহ(২) আয়াত ২৫৪
"হে ঈমানদারগণ ! আমি তোমাদের যা রিজিক্ দিয়েছি , তা থেকে ব্যায় কর সেদিন (রোজ হাশর) আসার পূর্বে, যেদিন চলবে না কোন দরাদরি বা থাকবেনা কোন সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই (অস্বীকারকারী) হলো প্রকৃত যালেম।"
কোরানে সুপারিশের উপর আরো অনেক আয়াত আছে। কিন্তু কোথাও বলা হয়নি মুহাম্মদ উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য রোজ হাশরে শাফায়াত বা সুপারিশ করবেন। এখানে ৪টি স্পষ্ট আয়াতের অনুবাদ দিলাম , কোন ব্যখ্যা ছাড়াই। মানা বা না মানার দায়িত্ব , যার যার নিজের।
মাজার জিয়ারত
মাজার , কবর পুজার বিস্তৃতি কি ভয়াবহ আকার ধারনা করেছে তার কিছু উদাহরন :
১) সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন সিলেট মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে।
২) এমনকি অন্যতম ইসলামি দল ,জামায়াতে ইসলামির আমির নিজামি আর অতদুর যাননি , তবে পত্রিকায় দেখেছি নিজের বাপের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন।
সুরা আল-ফাত্বির(৩৫) আয়াত ২২
“আর জীবিত ও মৃত একসমান নয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন। আর যারা কবরে আছে তাদের তুমি শোনাতে পারবে না।“
১) সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন সিলেট মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে।
২) এমনকি অন্যতম ইসলামি দল ,জামায়াতে ইসলামির আমির নিজামি আর অতদুর যাননি , তবে পত্রিকায় দেখেছি নিজের বাপের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন।
সুরা আল-ফাত্বির(৩৫) আয়াত ২২
“আর জীবিত ও মৃত একসমান নয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন। আর যারা কবরে আছে তাদের তুমি শোনাতে পারবে না।“
Friday, October 15, 2010
মদ খাওয়া কি হারাম?
আমার বক্তব্যই যে নির্ভুল সে দাবী আমি করি না। আমার পোষ্ট পড়ে মানুষকে চিন্তা করতে হবে ও নিজের স্বীদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। মোল্লাদের উপরে দোষ দিয়ে পরকালে পার পাওয়া যাবে না , কারন আল্লাহ আমাদের ব্রেণ দিয়েছেন সেটা ব্যবহারের জন্য এবং যার যার ব্রেণের জিম্মাদার সে নিজে।
কোরানে হারাম জিনিষকে 'হারাম'-ই বলা হয়েছে। এখানে 'হারাম' (حرم) শব্দ ব্যাবহার হয়েছে। যে সকল জিনিষকে হারাম বলা হয়েছে , তার জন্য কোন কারন আল্লাহ দেন নি। এটা আল্লাহর নির্দেশ এবং অনেক জায়গায় কোন কিছুকে হারাম করার জন্য দোজখের ভয় ও দেখানো হয়েছে।
কোরানে দেখুন মৃত , রক্ত ও শুকরের মাংসকে কিভাবে হারাম করা হয়েছে -
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ
৫:৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস.....।
কোরানে দেখুন মানুষ খুনকে কিভাবে শাস্তির ভয় দেখিয়ে হারাম করা হয়েছে--
৪:৯৩ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে বিশ্বাসীকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
কোরানে ৫টা আয়াত পাওয়া যায় , যেখানে মদ/নেশা নিয়ে বলা হয়েছে।
১)
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,......।
এই আয়াতে হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। কেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কারন নামাজে কি বলছি সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ , না বুঝলে সে নামাজ পড়ার কোন মানে নেই।( চিন্তা করুন , আমরা কয়জন বাঙালী নামাজে কি পড়ি , সেটা বুঝেই পড়ি)। যেহেতু নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানুষের বোধ বুদ্ধি এমনি লোপ পায় যে সে কি বলছে তা বোঝেনা , সেকারনেই নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নেশাগ্রস্থ হতে কিন্তু নিষেধ করা হয় নি। এখন কেউ যদি অল্প নেশা করে এবং তার বোধ বুদ্ধিও লোপ না পায় , তাহলে কি তাকে কোরানের এই আয়াত অনুযায়ী দোষ দেয়া যাবে?
২)আপনার দেয়া আয়াত-
৫:৯০-৯১ "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা(কে) বর্জন কর তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ, জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।"
এই আয়াতে ও হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। সুতরাং মদকে হারাম বলা যায় না। পরন্তু আয়াতটিতে দেখুন فَاجْتَنِبُوهُ /ফাআজতানেবুহু অর্থাৎ তাকে(শয়তানকে) বর্জন করতে বলা হয়েছে। শব্দের শেষে যে 'হু' আছে , তা একবচন। যদি মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর সবগুলোকেই বর্জন করতে বলা হতো তাহলে 'হুম' বহুবচন থাকতো। আয়াতটি ভালো করে পড়লে যা বোঝা যায় , এগুলো শয়তানের হাতিয়ার , যা দিয়ে মানুষকে বিপথে নেয়। একারনেই শয়তানকে বর্জন করতে বলা হয়েছে , যাতে আমরা সফলকাম হতে পারি।
৩)
৫:৯৩ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ(جُنَاحٌ) নেই....
Muhammad Asad 5:93 Those who have attained to faith and do righteous deeds incur no sin by partaking of whatever they may, so long as they are conscious of God and [truly] believe and do righteous deeds, and continue to be conscious of God and to believe, and grow ever more conscious of God, and persevere in doing good: for God loves the doers of good.
Rashad Khalifa 5:93 Those who believe and lead a righteous life bear no guilt by eating any food, so long as they observe the commandments, believe and lead a righteous life, then maintain their piety and faith, and continue to observe piety and righteousness. GOD loves the righteous.
এই আয়াতটিতে ইংরেজি অনুবাদ দিলাম এই কারনে যে বাংলা অনুবাদে এমন কিছু শব্দ ঢোকানো হয়েছে যা আরবি কোরানে নেই। এই আয়াতটিতে দেখুন , হারাম ব্যতীত সকল খাবার খাওয়া যায়। খাবার নয় , সৎ কাজের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৎ ভাল কাজের কথা বারে বারেই বলা হয়েছে।
৪)
১৬:৬৭ এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা নেশা (سَكَرًا) ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
এখানেও নেশা বা মদকে হারাম বলা হয় নি। বরং নেশা ও উত্তম খাদ্য একি কাতারে ফেলা হয়েছে।
৫)
২:২১৯ তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।(إِثْمٌ كَبِيرٌ) আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।
মদের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে , যা আগের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট। এআয়াতেও দেখুন মদের উপকরিতা ও অপকারিতা নিয়ে বলা হয়েছে। উপকারিতার বিপরীত অপকারিতা বা অপব্যাবহার হয় , পাপ হয় না। কিন্তু কেন জানি আমাদের আলেমরা إِثْمٌ كَبِيرٌ এর মানে মহা পাপ বলছেন , যা বোধগম্য নয়। আরবিতে পাপ হলো যুনাহুন/جُنَاحٌ। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন إِثْمٌ كَبِيرٌ এর সঠিক মানে মহা পাপ নাকি মহা অপকারিতা বা অপব্যাবহার?
আল্লাহ কোরানে কোন কিছুকে নিজ থেকে হালাল বা হারাম বলতে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিষেধ করেছেন। কোরানের কোথাও মদ/নেশাকে সরাসরি হারাম বলা হয় নি। মদের ভাল বা মন্দের উল্লেখি কোরানে করা হয়েছে। মদকে আমাদের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন আপনারাই বিবেচনা করুন।
ইতিহাস থেকে যতদুর জানা যায় তুর্কি সেলজুক খলিফারাই তাদের সৈন্যদের মদ খাওয়া থেকে নিবৃত্ত করার জন্য হাদীসের মাধ্যমে মদকে হারাম করে। এদের আগের উমাইয়া ও আব্বাসী খলিফারা যে মদ খেত তার ভুরি ভুরি প্রমান আছে।
কোরানে হারাম জিনিষকে 'হারাম'-ই বলা হয়েছে। এখানে 'হারাম' (حرم) শব্দ ব্যাবহার হয়েছে। যে সকল জিনিষকে হারাম বলা হয়েছে , তার জন্য কোন কারন আল্লাহ দেন নি। এটা আল্লাহর নির্দেশ এবং অনেক জায়গায় কোন কিছুকে হারাম করার জন্য দোজখের ভয় ও দেখানো হয়েছে।
কোরানে দেখুন মৃত , রক্ত ও শুকরের মাংসকে কিভাবে হারাম করা হয়েছে -
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ
৫:৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস.....।
কোরানে দেখুন মানুষ খুনকে কিভাবে শাস্তির ভয় দেখিয়ে হারাম করা হয়েছে--
৪:৯৩ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে বিশ্বাসীকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
কোরানে ৫টা আয়াত পাওয়া যায় , যেখানে মদ/নেশা নিয়ে বলা হয়েছে।
১)
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,......।
এই আয়াতে হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। কেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কারন নামাজে কি বলছি সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ , না বুঝলে সে নামাজ পড়ার কোন মানে নেই।( চিন্তা করুন , আমরা কয়জন বাঙালী নামাজে কি পড়ি , সেটা বুঝেই পড়ি)। যেহেতু নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানুষের বোধ বুদ্ধি এমনি লোপ পায় যে সে কি বলছে তা বোঝেনা , সেকারনেই নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নেশাগ্রস্থ হতে কিন্তু নিষেধ করা হয় নি। এখন কেউ যদি অল্প নেশা করে এবং তার বোধ বুদ্ধিও লোপ না পায় , তাহলে কি তাকে কোরানের এই আয়াত অনুযায়ী দোষ দেয়া যাবে?
২)আপনার দেয়া আয়াত-
৫:৯০-৯১ "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা(কে) বর্জন কর তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ, জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।"
এই আয়াতে ও হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। সুতরাং মদকে হারাম বলা যায় না। পরন্তু আয়াতটিতে দেখুন فَاجْتَنِبُوهُ /ফাআজতানেবুহু অর্থাৎ তাকে(শয়তানকে) বর্জন করতে বলা হয়েছে। শব্দের শেষে যে 'হু' আছে , তা একবচন। যদি মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর সবগুলোকেই বর্জন করতে বলা হতো তাহলে 'হুম' বহুবচন থাকতো। আয়াতটি ভালো করে পড়লে যা বোঝা যায় , এগুলো শয়তানের হাতিয়ার , যা দিয়ে মানুষকে বিপথে নেয়। একারনেই শয়তানকে বর্জন করতে বলা হয়েছে , যাতে আমরা সফলকাম হতে পারি।
৩)
৫:৯৩ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ(جُنَاحٌ) নেই....
Muhammad Asad 5:93 Those who have attained to faith and do righteous deeds incur no sin by partaking of whatever they may, so long as they are conscious of God and [truly] believe and do righteous deeds, and continue to be conscious of God and to believe, and grow ever more conscious of God, and persevere in doing good: for God loves the doers of good.
Rashad Khalifa 5:93 Those who believe and lead a righteous life bear no guilt by eating any food, so long as they observe the commandments, believe and lead a righteous life, then maintain their piety and faith, and continue to observe piety and righteousness. GOD loves the righteous.
এই আয়াতটিতে ইংরেজি অনুবাদ দিলাম এই কারনে যে বাংলা অনুবাদে এমন কিছু শব্দ ঢোকানো হয়েছে যা আরবি কোরানে নেই। এই আয়াতটিতে দেখুন , হারাম ব্যতীত সকল খাবার খাওয়া যায়। খাবার নয় , সৎ কাজের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৎ ভাল কাজের কথা বারে বারেই বলা হয়েছে।
৪)
১৬:৬৭ এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা নেশা (سَكَرًا) ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
এখানেও নেশা বা মদকে হারাম বলা হয় নি। বরং নেশা ও উত্তম খাদ্য একি কাতারে ফেলা হয়েছে।
৫)
২:২১৯ তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।(إِثْمٌ كَبِيرٌ) আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।
মদের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে , যা আগের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট। এআয়াতেও দেখুন মদের উপকরিতা ও অপকারিতা নিয়ে বলা হয়েছে। উপকারিতার বিপরীত অপকারিতা বা অপব্যাবহার হয় , পাপ হয় না। কিন্তু কেন জানি আমাদের আলেমরা إِثْمٌ كَبِيرٌ এর মানে মহা পাপ বলছেন , যা বোধগম্য নয়। আরবিতে পাপ হলো যুনাহুন/جُنَاحٌ। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন إِثْمٌ كَبِيرٌ এর সঠিক মানে মহা পাপ নাকি মহা অপকারিতা বা অপব্যাবহার?
আল্লাহ কোরানে কোন কিছুকে নিজ থেকে হালাল বা হারাম বলতে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিষেধ করেছেন। কোরানের কোথাও মদ/নেশাকে সরাসরি হারাম বলা হয় নি। মদের ভাল বা মন্দের উল্লেখি কোরানে করা হয়েছে। মদকে আমাদের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন আপনারাই বিবেচনা করুন।
ইতিহাস থেকে যতদুর জানা যায় তুর্কি সেলজুক খলিফারাই তাদের সৈন্যদের মদ খাওয়া থেকে নিবৃত্ত করার জন্য হাদীসের মাধ্যমে মদকে হারাম করে। এদের আগের উমাইয়া ও আব্বাসী খলিফারা যে মদ খেত তার ভুরি ভুরি প্রমান আছে।
Monday, October 11, 2010
মুহম্মদ ছঃ এর নিজের বা অন্য কারো ভালো বা ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই
সুরা ইউনুস(১০) আয়াত ৪৯:
"তুমি বল, আল্লাহ যাহা চান তাহা ব্যতীত আমার নিজের ক্ষতি কিংবা ভালো করার ক্ষমতা আমার নেই। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল। যখন তাদের সময় শেষ হয়ে যাবে , তখন তারা তা এক ঘন্টার জন্যেও পিছাতেও পারবেনা বা এগিয়ে আনতেও পারবে না।"
সুরা আল-জিন(৭২) আয়াত ২১
"বলুন: আমার ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি করার বা সুপথে আনার।"
"তুমি বল, আল্লাহ যাহা চান তাহা ব্যতীত আমার নিজের ক্ষতি কিংবা ভালো করার ক্ষমতা আমার নেই। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল। যখন তাদের সময় শেষ হয়ে যাবে , তখন তারা তা এক ঘন্টার জন্যেও পিছাতেও পারবেনা বা এগিয়ে আনতেও পারবে না।"
সুরা আল-জিন(৭২) আয়াত ২১
"বলুন: আমার ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি করার বা সুপথে আনার।"
Subscribe to:
Comments (Atom)