Sunday, August 16, 2020

অধিকাংশ

 অধিকাংশের দোহাই দেওয়া এসমাজের লোকদের একটা রোগে পরিনত হয়েছে। যেমন কেউ    কেউ বলে এত লোকএত হুজুর সবাই কী ভুল করেঅথচ তারা একটু ভেবে দেখে না এটা একটা প্রহসনশয়তানের হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলার আইনের কথা যারা বলে তারা   আল্লাহ্‌র দেখানো আইনের বিরুদ্ধে চলেদেখুন অধিকাংশ সম্পর্কে আল্লাহ পাকের একটা আয়াতই যথেষ্ট ছিল। তথাপিও কথাটা কুরআন ঘুরে ঘুরে বলে , তবুও আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।


১। অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। (/সূরা আল বাক্বারাহ১০০)



২। মানুষের মধ্যে অধিকাংশই নাফরমান। (/সূরা আল মায়েদা৪৯)



৩। তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই। (/সূরা মায়েদাহ১০৩)



৪। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (/সূরা আল আনআম৩৭)



৫। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মূর্খ। (/সূরা আল আনআম১১১)



৭। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। (/সূরা আল রাফ১৭)



৮। আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনিবরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী। (/সূরা আল রাফ১০২)



৯। অধিকাংশই জানে না। (/সূরা আল রাফ১৩১)



১০। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়। (/সূরা আল আনফাল৩৪)



১১। তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী। (/সূরা আত তাওবাহ)



১২। তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলেঅথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোনো কাজেই আসে না।



১৩। বরং তাদের অধিকাংশই সত্য জানে নাঅতএব তারা টালবাহানা করে। (২১/সূরা আম্বিয়া২৪)



১৪। তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। (২৩/সূরা আল মুমিনূন৭০)



১৫। আপনি কি মনে করেন যেতাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝেতারা তো চতুস্পদ জন্তুর মতবরং আরও পথভ্রান্ত।(২৫/সূরা আল ফুরকান৪৪)



১৬। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। (২৬/সূরা আশ শোআরা)



১৭। তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। (২৬/সূরা আশ শোআরা২২৩)



১৮। তাদের অধিকাংশই জানে না। (২৭/সূরা নমল৬১)



১৯। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (২৮/সূরা আল কাসাস৫৭)



২০। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। (২৯/সূরা আল আনকাবুত৬৩)



২১। তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। (৩০/আর রূম)



২২। তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। (৩১/সূরা লোকমান২৫)



২৩। তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। (৩৬/সূরা ইয়াসীন)



২৪। তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল। (৩৭/সূরা আস সাফফাত৭১)



২৫। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেতারা শুনে না। (৪১/সূরা হামীম সেজদাহ)



২৬। আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছিকিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ! (৪৩/সূরা যুখরুফ৭৮)



২৭। আপনি বলুনআল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেনঅতঃপর মৃত্যু দেনঅতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেনযাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। (৪৫/সূরা আল জাসিয়া২৬)



২৮। অধিকাংশই অবুঝ। (৪৯/সূরা আল হুজরাত)



২৯। সুতরাংআপনি কি মনে করেন তাদের অধিকাংশ শুনে অথবা বুঝেতারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং আরও পথভ্রান্ত।(২৫:৪৪)



৩০। অধিকাংশই জানে না। (৩৪:২৮,৩৬)



৩১। তাদের অন্তর রয়েছেতার দ্বারা বিবেচনা করে নাতাদের চোখ রয়েছেতার দ্বারা দেখে নাআর তাদের কান রয়েছেতারদ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতবরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেলশৈথিল্যপরায়ণ। (সূরা আলরাফ:১৭৯)



৩২। বস্তুত তারা অধিকাংশই অনুমানের উপর চলে। (১০:৩৬)



৩৩। তারা আল্লাহর আয়াতকে বানচাল করার চেষ্টা করে। (সাবা )



৩৪। তারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্ক করে (৪০:৩৫,৫৬)



৩৫। কাফেররাই আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্ক করে। (৪০:)



৩৬। অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে কিন্তু সাথে শিরিকও করে। (সূরা ইউসুফ১০৬)



৩৭। সুতরাং অধিকাংশের কথা মতো চলো তা হলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। (সূরা আনআম১১৬)



৩৮। এরাই তারা যারা কুরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে ফুরকান ৩০। (সূরা ইউনুস/১০৩৬)



৩৯। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। (১২/সূরা ইউসুফ২১)



৪০। অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাপার সম্পর্কে অবগত নয়। (১২/সূরা ইউসুফ৬৮)



৪১। আপনি যতই চান না কেনঅধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। (১২/সূরা ইউসুফ১০৩)



৪২। অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেকিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (১২/সূরা ইউসুফ১০৬)



৪৩। অধিকাংশ মানুষ এতে বিশ্বাস করে না। (১৩/সূরা রাদ)



৪৪। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনেএরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ। (১৬/সূরা নাহল৮৩)



৪৫। তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। (১৬/সূরা নাহল১০১)



৪৬। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি। (১৭/সূরা বনী ইসরাঈল৮৯)


সৌজন্যেমুরাদ বিন আমজাদ।



Friday, August 14, 2020

তাগুত/الطَّاغُوتِ


তাগুত কে বা কারা? শুধুমাত্র কোরানে বিশ্বাসীদের অনেকেই তাগুতের ব্যখ্যা নিয়ে একটি ধোঁয়াসার মাঝে আছেন। তাগুত কোরানে ব্যবহৃত একটি শব্দ। এর সঠিক মানে জানতে হলে কোরানে যত আয়াতে তাগুত বা তাগুতের ভিন্ন ভিন্ন রুপ এসেছে , সেই আয়াতগুলো পর্যালাচনা / বিশ্লেষন করলেই সঠিক মানে জানা সম্ভব। কোরানের এক আয়াত দিয়ে অন্য আয়াত বা শব্দের এই পর্যালাচনা করাকেই তারতিল করা বলে। 


তাগুত শব্দটি ৮ রুপে কোরানে ৩৯ বার এসেছে। এর মূলে আছে তাগা/ ط غ ي এই আরবি শব্দটির আভিধানিক মানে-  

الطاء والغين والحرف المعتل أصلٌ صحيح منقاس ، وهو مجاوَزَة الحدِّ في العِصيان. يقال هو طاغٍ.

অর্থাৎ যে অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করে।


কোরান থেকে উদাহারন -

20:24

اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى

ফেরাউনের নিকট যাওসে অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে।

(তাগা)

69:11

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاء حَمَلْنَاكُمْ فِيالْجَارِيَةِ

যখন পানি সীমা পার করেছিল (তাগাতখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।

96:6

كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى

সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে (ইয়াতগা)


বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আয়াতে

53:52

وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَوَأَطْغَى

এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেতারা ছিল আরও জালেম এবং আরও অবাধ্য। (আতগা),


তাগুতের এক রূপ আতগা দিয়ে অবাধ্যর ও অবাধ্য অর্থাৎ সর্বোচ্চ অবাধ্যদের বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ আতগা শব্দটি দিয়ে কোন ডিক্টেটর বা শাসনকর্তাকে বোঝাননি , বরং নূহের সম্প্রদায়ের সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং যেসকল কোরান অনুসারী তাদের ছেলেমেয়েকে স্কুল কলেজে পড়াতে চান না তাগুতের স্কুল কলেজ দাবী করে , বোঝায় যাচ্ছে তাদের দাবীর কোন ভিত্তি নেই কোরান অনুযায়ী।


তাগুতের আরেক রূপ তাগি অর্থাৎ যে সীমা অতিক্রম করে। তাগি শব্দটি ও সাধারন জনগনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে - 

37:30

وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ بَلْ كُنتُمْقَوْمًا طَاغِينَ

এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল নাবরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

51:53

أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ

তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছেবস্তুতঃ ওরা সীমালংঘনকারীসম্প্রদায়।

52:32

أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌطَاغُونَ

তাদের বুদ্ধি কি  বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করেনা তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

68:31

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا طَاغِينَ

তারা বললঃ হায়দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী।

69:5

فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ

অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক তাগিয়া দ্বারা। (প্রলয়ংকরবিপর্যয় ???)

78:22

لِلْطَّاغِينَ مَآبًا

সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে।


প্রিয় পাঠকবৃন্দ তাগুত শব্দ নিয়ে আলোচনার আগেই আমরা জানলাম যে তাগা , আতগা ও তাগি দিয়ে শাসনকর্তা , সাধারন মানুষের সাথে সাথে পানি , বিপর্যয়ের  সীমা অতিক্রমকে ও বোঝানো হয়েছে কোরানে। 



যে সকল আয়াতে তাগুত শব্দটি আছে সেগুলো একে একে বিশ্লেষন করব। প্রথম যে আয়াত আলোচনায় আসবে তা এই- 

5:60

قل هل أنبئكم بشر من ذلك مثوبةعند الله من لعنه الله وغضب عليهوجعل منهم القردة والخنازير وعبدالطاغوت أولئك شر مكانا وأضل عنسواء السبيل

বলুনঃ আমি তোমাদেরকে জানাই , তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছেযাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেনযাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেনযাদের কতককে বানর  শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা তাগুতের দাসত্ব করেছেতারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।


এই ৫:৬০ আয়াতের শুরুই হয়েছে ‘উনাব্বিউকুম’ (আমি তোমাদেরকে জানাই) বাক্য দিয়ে। আল্লাহ জানালেন , আমরা জানলাম অর্থাৎ নবী / অবহিত হলাম। কিন্তু না , আমরা নবী হলাম না , নবী হতে অস্বীকার করলাম। কারন আমরা বিশ্বাস করি শেষ যে ব্যক্তি নবী হয়েছেন , আল্লাহর কাছ থেকে অবহিত হয়েছেন , তিনি মুহাম্মদ। আর কেউ নবী হবে না , অবহিত হবে না , জানবেনা। ফলে  আল্লাহ আমাদের কোরানের আয়াতের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত জানাতে থাকলেও আমরা জানছি না , কোরানে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলছি না অর্থাৎ আল্লাহর দাসত্ব করছি না। কার দাসত্ব করছি? তাগুতের। এরা কারা? এরা তাঁরাই যারা দাড়ি রেখে , টুপি পাগড়ি পরে , ওয়াজ মহফিল করে আল্লাহর নামে মিথ্যা প্রচার করছে , কোরানে যা নেই সেগুলোকে ধর্মীয় বিধিনিষেধ বানিয়েছে , জান্নাতে যাওয়ার অভিনব সব রাস্তা দেখিয়েছে , জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে , দানের নুতন নুতন খাত বানিয়েছে , নিজেকে রবের আসনে বসিয়েছে। 


এই তাগুতের পরিচয় আরো পরিস্কার ভাবে আল্লাহ জানিয়েছেন নিম্নের আয়াতে- 

4:60

ألم تر إلى الذين يزعمون أنهم آمنوابما أنزل إليك وما أنزل من قبلكيريدون أن يتحاكموا إلى الطاغوت وقدأمروا أن يكفروا به ويريد الشيطان أنيضلهم ضلالا بعيدا

আপনি কি তাদেরকে দেখেননিযারা দাবী করে যেযা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিচারের জন্য  তাগুতের কাছে যেতে চায়অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছেযাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।


ভাবুন - ধর্মীয় বিরোধ বা বিধি নিষেধের বিচারের জন্য কারা তাগুতের কাছে যায়? এরা সেই সকল বিশ্বাসী মুমিন যারা দাবী করে তারা কোরান ও এর পূর্বের কিতাব সমূহে ঈমান এনেছে কিন্তু বিচারের জন্য কোরানের পরিবর্তে যায় তাগুতের কাছে , যদিও তাগুতকে না মানতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মানে দাড়ায় তাগুত তাদের মতোই মানুষ , যার কাছে বিচারের জন্য যাওয়া যায়।এই আয়াত থেকে এটাও পরিস্কার শয়তান ও তাগুত দুইটি ভিন্ন সত্বা।  এরা কি সেই সকল বিশ্বাসী শিয়া সুন্নী নয় যারা বিশ্বাস করার দাবী করে কোরানে কিন্তু ধর্মীয় নির্দেশের জন্য যায় তাগুত তথা হুজুরদের কাছে?


আরো একটি আয়াত- 

4:51

ألم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتابيؤمنون بالجبت والطاغوت ويقولون للذينكفروا هؤلاء أهدى من الذين آمنوا سبيلا

তুমি কি তাদেরকে দেখনিযারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছেযারা বিশ্বাস করে ঝাঢ় ফুকে  তাগুতে এবং এই কাফেরদেরকে বলে যেএরা বিশ্বাসীদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।

ভাবুন - কারা ঝাঢ় ফুক দেয়া হুজুরে তথা তাগুতে বিশ্বাস করে? কারা শুধুমাত্র কোরানে বিশ্বাসীদেরকে কাফের , পথভ্রষ্ট বলে?



https://youtu.be/Vx63I14DHMk




এই সব তাগুতের বাহ্যিক রুপ দেখে মনে হবে এরা কত না জ্ঞানী , এদের থেকে ধার্মিক আর কেউ নেই। এদের দেয়া বিভিন্ন আমলও দোয়ার বর্ণনা শুনে মনে হবে বেহেস্তের  চাবিকাঠি এদের হাতে। এরা মানুষের এমনই মগজ ধোলাই করেছে যে সুন্নীরা ভাবে যত পাপই করেন না কেন , সরিষা পরিমান বিশ্বাস থাকলেই রসুলের শাফায়াতের মাধ্যমে বেহেস্ত যাওয়া নিশ্চিত।

2:257

الله ولي الذين آمنوا يخرجهم منالظلمات إلى النور والذين كفرواأوليآؤهم الطاغوت يخرجونهم من النورإلى الظلمات أولئك أصحاب النار همفيها خالدون

যারা ঈমান এনেছেআল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসীচিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।


আরো গভীরে যাওয়ার দরকার আছে কী? যারা আল্লাহকে অভিভাবক মেনেছে , আল্লাহ তাদেরকে কোরানের বাণীর মাধ্যমে আলোর দিকে তথা আল্লাহর দিকে নিয়ে যান। আল্লাহই আলো। “২৪:৩৫ আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আলো।” আজকের মুসলমান নামধারীদের অভিভাবক এই সব হুজুর তথা তাগুত। এই তাগুতরা কোরানে নির্দেশিত আমল তথা ভাল কাজের(আমালুস সালেহা) পরিবর্তে এই নামাজ , সেই নামাজ , এই রোজা সেই রোজা , এতবার এই দোয়া, অতবার সেই অজিফা- এইরকম হাজারো উদ্ভট আমলের কথা বলে মানুষকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। 

2:256

لا إكراه في الدين قد تبين الرشد منالغي فمن يكفر بالطاغوت ويؤمن باللهفقد استمسك بالعروة الوثقى لاانفصام لها والله سميع عليم

দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুতদেরকে মানবেনা এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবেসে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।


আল্লাহ বলছেন : দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। এই তাগুতরা কি বলছে? মুরতাদদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।বলেই ক্ষান্ত হয়নি , আইন নিজের হাতে তুলে নিতে মানুষকে উৎসাহিত করছে। ফলে গত কয়েক বছরে অভিজিত , রাজীব এবংআরো বেশ কিছু নাস্তিক নিহত হয়েছে , হুমায়ুন আজাদ , তসলিমা নাসরিন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে রসুল মুহাম্মদের মতো।আল্লাহর রাস্তা শান্তির রাস্তা। ভাল কথা বলে , বুঝিয়ে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার রাস্তা। অন্যায় কাজে নিষেধ করতে হবে।তাগুতের রাস্তা অশান্তির রাস্তা , জিহাদের নামে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে যুদ্ধের রাস্তা। 

4:76

الذين آمنوا يقاتلون في سبيل الله والذينكفروا يقاتلون في سبيل الطاغوت فقاتلواأولياء الشيطان إن كيد الشيطان كانضعيفا

যারা ঈমানদার তারা যেজেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবেশয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।

Sunday, August 2, 2020

সবার অংক মেলে - আমার অংক মেলেনা

সালামুন আলাইকুম - দুটি পরস্পর বিরোধী হাদীস - রসূল হাদীস লিখতে নিষেধ করেছেন , রসূল হাদীস লিখতে বলেছেন। দুটৈ সহী। এটা ১০০% বিশ্বাসযোগ্য কারন রসুল একজনকে যখন একটা হাদীস বলেছেন , অন্যজন সেটা শোনেনি। এই দুই বিপরিত কথা বলার মাঝে বিস্তর সময়ের ব্যবধান। সুতরাং দুটো বিপরিত হাদীস বলার মাঝে সময়ের দাবী ও যৌক্তিকতা ছিল। আমার লজিক সেন্স কম আমি বুঝিনি।
এখন এই বুদ্ধিমানেরা কি জবাব দেবেন , যখন দেখি বিদায় হজ্জের মতো গুরুত্বপূর্ন ভাষনটি যা হাজার হাজার মানুষ একি সময়ে শুনেছিল , সেই ভাষনকে কোট করে ২টি নয় ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!!
১) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরআন) ও আমার পরিবার কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ৪৪/৪ , নু ২৪০৮/৩৩১৯, ইবনে হাম্বল ৪/৩৬৬, দারিমি ২৩/১।
২) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরআন) ও আমার সুন্নাহকে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুয়াত্তা ৪৬/৩।
৩) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এটাকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ১৫/১৯, নু ১২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫/৮৪, আবু দাউদ ১১/৫৬।
দেখুন বিদায় হজ্বের বাণী হাজার হাজার সমবেত মুসলমান শোনার পরেও এর ৩টি ভার্ষান পাওয়া যায়। প্রতিটিই সহী হাদীস। তাহলেই বুঝুন হাদীস বানানো কত সোজা ছিল এবং কেনো লক্ষ লক্ষ হাদীসের ছড়াছড়ি ছিল।
এই মিথ্যা হাদীস ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে যে বিভক্তি এসেছে , তার প্রমান ১ নং হাদীসটি শীয়ারা বিশ্বাস করে শীয়া হয়েছে আর ২ নং হাদীসটি বিশ্বাস করে সুন্নিরা সুন্নি হয়েছে।

সবার অংক মেলে - আমার অংক মেলেনা

আজকের আলোচনার বিষয় -- বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা!!
দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না। তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ।

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

মদ খাওয়া কি হারাম?

আমার বক্তব্যই যে নির্ভুল সে দাবী আমি করি না।
আমার পোষ্ট পড়ে মানুষকে চিন্তা করতে হবে ও নিজের স্বীদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। 
মোল্লাদের উপরে দোষ দিয়ে পরকালে পার পাওয়া যাবে না , কারন আল্লাহ আমাদের ব্রেণ দিয়েছেন সেটা ব্যবহারের জন্য এবং যার যার ব্রেণের জিম্মাদার সে নিজে।
কোরআনে হারাম জিনিষকে 'হারাম'-ই বলা হয়েছে। এখানে 'হারাম' (حرم) শব্দ ব্যাবহার হয়েছে। যে সকল জিনিষকে হারাম বলা হয়েছে , তার জন্য কোন কারন আল্লাহ দেন নি। এটা আল্লাহর নির্দেশ এবং অনেক জায়গায় কোন কিছুকে হারাম করার জন্য দোজখের ভয় ও দেখানো হয়েছে।
কোরআনে দেখুন মৃত , রক্ত ও শুকরের মাংসকে কিভাবে হারাম করা হয়েছে -
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ
৫:৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস.....।
কোরআনে ৫টা আয়াত পাওয়া যায় , যেখানে মদ/নেশা নিয়ে বলা হয়েছে।
১)
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,......।
এই আয়াতে হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। কেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কারন নামাজে কি বলছি সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ , না বুঝলে সে নামাজ পড়ার কোন মানে নেই।( চিন্তা করুন , আমরা কয়জন বাঙালী নামাজে কি পড়ি , সেটা বুঝেই পড়ি)। যেহেতু নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানুষের বোধ বুদ্ধি এমনি লোপ পায় যে সে কি বলছে তা বোঝেনা , সেকারনেই নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নেশাগ্রস্থ হতে কিন্তু নিষেধ করা হয় নি। এখন কেউ যদি অল্প নেশা করে এবং তার বোধ বুদ্ধিও লোপ না পায় , তাহলে কি তাকে কোরানের এই আয়াত অনুযায়ী দোষ দেয়া যাবে?
২)আপনার দেয়া আয়াত-
৫:৯০-৯১ "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা(কে) বর্জন কর তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ, জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।"
এই আয়াতে ও হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। সুতরাং মদকে হারাম বলা যায় না। পরন্তু আয়াতটিতে দেখুন فَاجْتَنِبُوهُ /ফাআজতানেবুহু অর্থাৎ তাকে(শয়তানকে) বর্জন করতে বলা হয়েছে। শব্দের শেষে যে 'হু' আছে , তা একবচন। যদি মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর সবগুলোকেই বর্জন করতে বলা হতো তাহলে 'হুম' বহুবচন থাকতো। আয়াতটি ভালো করে পড়লে যা বোঝা যায় , এগুলো শয়তানের হাতিয়ার , যা দিয়ে মানুষকে বিপথে নেয়। একারনেই শয়তানকে বর্জন করতে বলা হয়েছে , যাতে আমরা সফলকাম হতে পারি।
৩)
৫:৯৩ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ(جُنَاحٌ) নেই....
Muhammad Asad 5:93 Those who have attained to faith and do righteous deeds incur no sin by partaking of whatever they may, so long as they are conscious of God and [truly] believe and do righteous deeds, and continue to be conscious of God and to believe, and grow ever more conscious of God, and persevere in doing good: for God loves the doers of good.
Rashad Khalifa 5:93 Those who believe and lead a righteous life bear no guilt by eating any food, so long as they observe the commandments, believe and lead a righteous life, then maintain their piety and faith, and continue to observe piety and righteousness. GOD loves the righteous.
এই আয়াতটিতে ইংরেজি অনুবাদ দিলাম এই কারনে যে বাংলা অনুবাদে এমন কিছু শব্দ ঢোকানো হয়েছে যা আরবি কোরআনে নেই। এই আয়াতটিতে দেখুন , হারাম ব্যতীত সকল খাবার খাওয়া যায়। খাবার নয় , সৎ কাজের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৎ ভাল কাজের কথা বারে বারেই বলা হয়েছে।
৪)
১৬:৬৭ এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা নেশা (سَكَرًا) ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
এখানেও নেশা বা মদকে হারাম বলা হয় নি। বরং নেশা ও উত্তম খাদ্য একি কাতারে ফেলা হয়েছে।
৫)
২:২১৯ তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।(إِثْمٌ كَبِيرٌ) আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।
মদের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে , যা আগের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট। এআয়াতেও দেখুন মদের উপকরিতা ও অপকারিতা নিয়ে বলা হয়েছে। উপকারিতার বিপরীত অপকারিতা বা অপব্যাবহার হয় , পাপ হয় না। কিন্তু কেন জানি আমাদের আলেমরা إِثْمٌ كَبِيرٌ এর মানে মহা পাপ বলছেন , যা বোধগম্য নয়। আরবিতে পাপ হলো যুনাহুন/جُنَاحٌ। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন إِثْمٌ كَبِيرٌ এর সঠিক মানে মহা পাপ নাকি মহা অপকারিতা বা অপব্যাবহার?
আল্লাহ কোরআনে কোন কিছুকে নিজ থেকে হালাল বা হারাম বলতে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিষেধ করেছেন। কোরআনের কোথাও মদ/নেশাকে সরাসরি হারাম বলা হয় নি। মদের ভাল বা মন্দের উল্লেখি কোরআনে করা হয়েছে, এখন আপনারাই বিবেচনা করুন।