Friday, August 14, 2020

তাগুত/الطَّاغُوتِ


তাগুত কে বা কারা? শুধুমাত্র কোরানে বিশ্বাসীদের অনেকেই তাগুতের ব্যখ্যা নিয়ে একটি ধোঁয়াসার মাঝে আছেন। তাগুত কোরানে ব্যবহৃত একটি শব্দ। এর সঠিক মানে জানতে হলে কোরানে যত আয়াতে তাগুত বা তাগুতের ভিন্ন ভিন্ন রুপ এসেছে , সেই আয়াতগুলো পর্যালাচনা / বিশ্লেষন করলেই সঠিক মানে জানা সম্ভব। কোরানের এক আয়াত দিয়ে অন্য আয়াত বা শব্দের এই পর্যালাচনা করাকেই তারতিল করা বলে। 


তাগুত শব্দটি ৮ রুপে কোরানে ৩৯ বার এসেছে। এর মূলে আছে তাগা/ ط غ ي এই আরবি শব্দটির আভিধানিক মানে-  

الطاء والغين والحرف المعتل أصلٌ صحيح منقاس ، وهو مجاوَزَة الحدِّ في العِصيان. يقال هو طاغٍ.

অর্থাৎ যে অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করে।


কোরান থেকে উদাহারন -

20:24

اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى

ফেরাউনের নিকট যাওসে অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে।

(তাগা)

69:11

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاء حَمَلْنَاكُمْ فِيالْجَارِيَةِ

যখন পানি সীমা পার করেছিল (তাগাতখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।

96:6

كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى

সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে (ইয়াতগা)


বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আয়াতে

53:52

وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَوَأَطْغَى

এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেতারা ছিল আরও জালেম এবং আরও অবাধ্য। (আতগা),


তাগুতের এক রূপ আতগা দিয়ে অবাধ্যর ও অবাধ্য অর্থাৎ সর্বোচ্চ অবাধ্যদের বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ আতগা শব্দটি দিয়ে কোন ডিক্টেটর বা শাসনকর্তাকে বোঝাননি , বরং নূহের সম্প্রদায়ের সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং যেসকল কোরান অনুসারী তাদের ছেলেমেয়েকে স্কুল কলেজে পড়াতে চান না তাগুতের স্কুল কলেজ দাবী করে , বোঝায় যাচ্ছে তাদের দাবীর কোন ভিত্তি নেই কোরান অনুযায়ী।


তাগুতের আরেক রূপ তাগি অর্থাৎ যে সীমা অতিক্রম করে। তাগি শব্দটি ও সাধারন জনগনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে - 

37:30

وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ بَلْ كُنتُمْقَوْمًا طَاغِينَ

এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল নাবরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

51:53

أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ

তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছেবস্তুতঃ ওরা সীমালংঘনকারীসম্প্রদায়।

52:32

أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌطَاغُونَ

তাদের বুদ্ধি কি  বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করেনা তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

68:31

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا طَاغِينَ

তারা বললঃ হায়দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী।

69:5

فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ

অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক তাগিয়া দ্বারা। (প্রলয়ংকরবিপর্যয় ???)

78:22

لِلْطَّاغِينَ مَآبًا

সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে।


প্রিয় পাঠকবৃন্দ তাগুত শব্দ নিয়ে আলোচনার আগেই আমরা জানলাম যে তাগা , আতগা ও তাগি দিয়ে শাসনকর্তা , সাধারন মানুষের সাথে সাথে পানি , বিপর্যয়ের  সীমা অতিক্রমকে ও বোঝানো হয়েছে কোরানে। 



যে সকল আয়াতে তাগুত শব্দটি আছে সেগুলো একে একে বিশ্লেষন করব। প্রথম যে আয়াত আলোচনায় আসবে তা এই- 

5:60

قل هل أنبئكم بشر من ذلك مثوبةعند الله من لعنه الله وغضب عليهوجعل منهم القردة والخنازير وعبدالطاغوت أولئك شر مكانا وأضل عنسواء السبيل

বলুনঃ আমি তোমাদেরকে জানাই , তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছেযাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেনযাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেনযাদের কতককে বানর  শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা তাগুতের দাসত্ব করেছেতারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।


এই ৫:৬০ আয়াতের শুরুই হয়েছে ‘উনাব্বিউকুম’ (আমি তোমাদেরকে জানাই) বাক্য দিয়ে। আল্লাহ জানালেন , আমরা জানলাম অর্থাৎ নবী / অবহিত হলাম। কিন্তু না , আমরা নবী হলাম না , নবী হতে অস্বীকার করলাম। কারন আমরা বিশ্বাস করি শেষ যে ব্যক্তি নবী হয়েছেন , আল্লাহর কাছ থেকে অবহিত হয়েছেন , তিনি মুহাম্মদ। আর কেউ নবী হবে না , অবহিত হবে না , জানবেনা। ফলে  আল্লাহ আমাদের কোরানের আয়াতের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত জানাতে থাকলেও আমরা জানছি না , কোরানে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলছি না অর্থাৎ আল্লাহর দাসত্ব করছি না। কার দাসত্ব করছি? তাগুতের। এরা কারা? এরা তাঁরাই যারা দাড়ি রেখে , টুপি পাগড়ি পরে , ওয়াজ মহফিল করে আল্লাহর নামে মিথ্যা প্রচার করছে , কোরানে যা নেই সেগুলোকে ধর্মীয় বিধিনিষেধ বানিয়েছে , জান্নাতে যাওয়ার অভিনব সব রাস্তা দেখিয়েছে , জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে , দানের নুতন নুতন খাত বানিয়েছে , নিজেকে রবের আসনে বসিয়েছে। 


এই তাগুতের পরিচয় আরো পরিস্কার ভাবে আল্লাহ জানিয়েছেন নিম্নের আয়াতে- 

4:60

ألم تر إلى الذين يزعمون أنهم آمنوابما أنزل إليك وما أنزل من قبلكيريدون أن يتحاكموا إلى الطاغوت وقدأمروا أن يكفروا به ويريد الشيطان أنيضلهم ضلالا بعيدا

আপনি কি তাদেরকে দেখেননিযারা দাবী করে যেযা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিচারের জন্য  তাগুতের কাছে যেতে চায়অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছেযাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।


ভাবুন - ধর্মীয় বিরোধ বা বিধি নিষেধের বিচারের জন্য কারা তাগুতের কাছে যায়? এরা সেই সকল বিশ্বাসী মুমিন যারা দাবী করে তারা কোরান ও এর পূর্বের কিতাব সমূহে ঈমান এনেছে কিন্তু বিচারের জন্য কোরানের পরিবর্তে যায় তাগুতের কাছে , যদিও তাগুতকে না মানতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মানে দাড়ায় তাগুত তাদের মতোই মানুষ , যার কাছে বিচারের জন্য যাওয়া যায়।এই আয়াত থেকে এটাও পরিস্কার শয়তান ও তাগুত দুইটি ভিন্ন সত্বা।  এরা কি সেই সকল বিশ্বাসী শিয়া সুন্নী নয় যারা বিশ্বাস করার দাবী করে কোরানে কিন্তু ধর্মীয় নির্দেশের জন্য যায় তাগুত তথা হুজুরদের কাছে?


আরো একটি আয়াত- 

4:51

ألم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتابيؤمنون بالجبت والطاغوت ويقولون للذينكفروا هؤلاء أهدى من الذين آمنوا سبيلا

তুমি কি তাদেরকে দেখনিযারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছেযারা বিশ্বাস করে ঝাঢ় ফুকে  তাগুতে এবং এই কাফেরদেরকে বলে যেএরা বিশ্বাসীদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।

ভাবুন - কারা ঝাঢ় ফুক দেয়া হুজুরে তথা তাগুতে বিশ্বাস করে? কারা শুধুমাত্র কোরানে বিশ্বাসীদেরকে কাফের , পথভ্রষ্ট বলে?



https://youtu.be/Vx63I14DHMk




এই সব তাগুতের বাহ্যিক রুপ দেখে মনে হবে এরা কত না জ্ঞানী , এদের থেকে ধার্মিক আর কেউ নেই। এদের দেয়া বিভিন্ন আমলও দোয়ার বর্ণনা শুনে মনে হবে বেহেস্তের  চাবিকাঠি এদের হাতে। এরা মানুষের এমনই মগজ ধোলাই করেছে যে সুন্নীরা ভাবে যত পাপই করেন না কেন , সরিষা পরিমান বিশ্বাস থাকলেই রসুলের শাফায়াতের মাধ্যমে বেহেস্ত যাওয়া নিশ্চিত।

2:257

الله ولي الذين آمنوا يخرجهم منالظلمات إلى النور والذين كفرواأوليآؤهم الطاغوت يخرجونهم من النورإلى الظلمات أولئك أصحاب النار همفيها خالدون

যারা ঈমান এনেছেআল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসীচিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।


আরো গভীরে যাওয়ার দরকার আছে কী? যারা আল্লাহকে অভিভাবক মেনেছে , আল্লাহ তাদেরকে কোরানের বাণীর মাধ্যমে আলোর দিকে তথা আল্লাহর দিকে নিয়ে যান। আল্লাহই আলো। “২৪:৩৫ আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আলো।” আজকের মুসলমান নামধারীদের অভিভাবক এই সব হুজুর তথা তাগুত। এই তাগুতরা কোরানে নির্দেশিত আমল তথা ভাল কাজের(আমালুস সালেহা) পরিবর্তে এই নামাজ , সেই নামাজ , এই রোজা সেই রোজা , এতবার এই দোয়া, অতবার সেই অজিফা- এইরকম হাজারো উদ্ভট আমলের কথা বলে মানুষকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। 

2:256

لا إكراه في الدين قد تبين الرشد منالغي فمن يكفر بالطاغوت ويؤمن باللهفقد استمسك بالعروة الوثقى لاانفصام لها والله سميع عليم

দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুতদেরকে মানবেনা এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবেসে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।


আল্লাহ বলছেন : দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। এই তাগুতরা কি বলছে? মুরতাদদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।বলেই ক্ষান্ত হয়নি , আইন নিজের হাতে তুলে নিতে মানুষকে উৎসাহিত করছে। ফলে গত কয়েক বছরে অভিজিত , রাজীব এবংআরো বেশ কিছু নাস্তিক নিহত হয়েছে , হুমায়ুন আজাদ , তসলিমা নাসরিন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে রসুল মুহাম্মদের মতো।আল্লাহর রাস্তা শান্তির রাস্তা। ভাল কথা বলে , বুঝিয়ে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার রাস্তা। অন্যায় কাজে নিষেধ করতে হবে।তাগুতের রাস্তা অশান্তির রাস্তা , জিহাদের নামে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে যুদ্ধের রাস্তা। 

4:76

الذين آمنوا يقاتلون في سبيل الله والذينكفروا يقاتلون في سبيل الطاغوت فقاتلواأولياء الشيطان إن كيد الشيطان كانضعيفا

যারা ঈমানদার তারা যেজেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবেশয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।

Sunday, August 2, 2020

সবার অংক মেলে - আমার অংক মেলেনা

সালামুন আলাইকুম - দুটি পরস্পর বিরোধী হাদীস - রসূল হাদীস লিখতে নিষেধ করেছেন , রসূল হাদীস লিখতে বলেছেন। দুটৈ সহী। এটা ১০০% বিশ্বাসযোগ্য কারন রসুল একজনকে যখন একটা হাদীস বলেছেন , অন্যজন সেটা শোনেনি। এই দুই বিপরিত কথা বলার মাঝে বিস্তর সময়ের ব্যবধান। সুতরাং দুটো বিপরিত হাদীস বলার মাঝে সময়ের দাবী ও যৌক্তিকতা ছিল। আমার লজিক সেন্স কম আমি বুঝিনি।
এখন এই বুদ্ধিমানেরা কি জবাব দেবেন , যখন দেখি বিদায় হজ্জের মতো গুরুত্বপূর্ন ভাষনটি যা হাজার হাজার মানুষ একি সময়ে শুনেছিল , সেই ভাষনকে কোট করে ২টি নয় ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!!
১) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরআন) ও আমার পরিবার কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ৪৪/৪ , নু ২৪০৮/৩৩১৯, ইবনে হাম্বল ৪/৩৬৬, দারিমি ২৩/১।
২) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরআন) ও আমার সুন্নাহকে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুয়াত্তা ৪৬/৩।
৩) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এটাকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ১৫/১৯, নু ১২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫/৮৪, আবু দাউদ ১১/৫৬।
দেখুন বিদায় হজ্বের বাণী হাজার হাজার সমবেত মুসলমান শোনার পরেও এর ৩টি ভার্ষান পাওয়া যায়। প্রতিটিই সহী হাদীস। তাহলেই বুঝুন হাদীস বানানো কত সোজা ছিল এবং কেনো লক্ষ লক্ষ হাদীসের ছড়াছড়ি ছিল।
এই মিথ্যা হাদীস ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে যে বিভক্তি এসেছে , তার প্রমান ১ নং হাদীসটি শীয়ারা বিশ্বাস করে শীয়া হয়েছে আর ২ নং হাদীসটি বিশ্বাস করে সুন্নিরা সুন্নি হয়েছে।

সবার অংক মেলে - আমার অংক মেলেনা

আজকের আলোচনার বিষয় -- বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা!!
দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না। তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ।

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

মদ খাওয়া কি হারাম?

আমার বক্তব্যই যে নির্ভুল সে দাবী আমি করি না।
আমার পোষ্ট পড়ে মানুষকে চিন্তা করতে হবে ও নিজের স্বীদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। 
মোল্লাদের উপরে দোষ দিয়ে পরকালে পার পাওয়া যাবে না , কারন আল্লাহ আমাদের ব্রেণ দিয়েছেন সেটা ব্যবহারের জন্য এবং যার যার ব্রেণের জিম্মাদার সে নিজে।
কোরআনে হারাম জিনিষকে 'হারাম'-ই বলা হয়েছে। এখানে 'হারাম' (حرم) শব্দ ব্যাবহার হয়েছে। যে সকল জিনিষকে হারাম বলা হয়েছে , তার জন্য কোন কারন আল্লাহ দেন নি। এটা আল্লাহর নির্দেশ এবং অনেক জায়গায় কোন কিছুকে হারাম করার জন্য দোজখের ভয় ও দেখানো হয়েছে।
কোরআনে দেখুন মৃত , রক্ত ও শুকরের মাংসকে কিভাবে হারাম করা হয়েছে -
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ
৫:৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস.....।
কোরআনে ৫টা আয়াত পাওয়া যায় , যেখানে মদ/নেশা নিয়ে বলা হয়েছে।
১)
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,......।
এই আয়াতে হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। কেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কারন নামাজে কি বলছি সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ , না বুঝলে সে নামাজ পড়ার কোন মানে নেই।( চিন্তা করুন , আমরা কয়জন বাঙালী নামাজে কি পড়ি , সেটা বুঝেই পড়ি)। যেহেতু নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানুষের বোধ বুদ্ধি এমনি লোপ পায় যে সে কি বলছে তা বোঝেনা , সেকারনেই নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নেশাগ্রস্থ হতে কিন্তু নিষেধ করা হয় নি। এখন কেউ যদি অল্প নেশা করে এবং তার বোধ বুদ্ধিও লোপ না পায় , তাহলে কি তাকে কোরানের এই আয়াত অনুযায়ী দোষ দেয়া যাবে?
২)আপনার দেয়া আয়াত-
৫:৯০-৯১ "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা(কে) বর্জন কর তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ, জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।"
এই আয়াতে ও হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। সুতরাং মদকে হারাম বলা যায় না। পরন্তু আয়াতটিতে দেখুন فَاجْتَنِبُوهُ /ফাআজতানেবুহু অর্থাৎ তাকে(শয়তানকে) বর্জন করতে বলা হয়েছে। শব্দের শেষে যে 'হু' আছে , তা একবচন। যদি মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর সবগুলোকেই বর্জন করতে বলা হতো তাহলে 'হুম' বহুবচন থাকতো। আয়াতটি ভালো করে পড়লে যা বোঝা যায় , এগুলো শয়তানের হাতিয়ার , যা দিয়ে মানুষকে বিপথে নেয়। একারনেই শয়তানকে বর্জন করতে বলা হয়েছে , যাতে আমরা সফলকাম হতে পারি।
৩)
৫:৯৩ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ(جُنَاحٌ) নেই....
Muhammad Asad 5:93 Those who have attained to faith and do righteous deeds incur no sin by partaking of whatever they may, so long as they are conscious of God and [truly] believe and do righteous deeds, and continue to be conscious of God and to believe, and grow ever more conscious of God, and persevere in doing good: for God loves the doers of good.
Rashad Khalifa 5:93 Those who believe and lead a righteous life bear no guilt by eating any food, so long as they observe the commandments, believe and lead a righteous life, then maintain their piety and faith, and continue to observe piety and righteousness. GOD loves the righteous.
এই আয়াতটিতে ইংরেজি অনুবাদ দিলাম এই কারনে যে বাংলা অনুবাদে এমন কিছু শব্দ ঢোকানো হয়েছে যা আরবি কোরআনে নেই। এই আয়াতটিতে দেখুন , হারাম ব্যতীত সকল খাবার খাওয়া যায়। খাবার নয় , সৎ কাজের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৎ ভাল কাজের কথা বারে বারেই বলা হয়েছে।
৪)
১৬:৬৭ এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা নেশা (سَكَرًا) ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
এখানেও নেশা বা মদকে হারাম বলা হয় নি। বরং নেশা ও উত্তম খাদ্য একি কাতারে ফেলা হয়েছে।
৫)
২:২১৯ তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।(إِثْمٌ كَبِيرٌ) আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।
মদের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে , যা আগের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট। এআয়াতেও দেখুন মদের উপকরিতা ও অপকারিতা নিয়ে বলা হয়েছে। উপকারিতার বিপরীত অপকারিতা বা অপব্যাবহার হয় , পাপ হয় না। কিন্তু কেন জানি আমাদের আলেমরা إِثْمٌ كَبِيرٌ এর মানে মহা পাপ বলছেন , যা বোধগম্য নয়। আরবিতে পাপ হলো যুনাহুন/جُنَاحٌ। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন إِثْمٌ كَبِيرٌ এর সঠিক মানে মহা পাপ নাকি মহা অপকারিতা বা অপব্যাবহার?
আল্লাহ কোরআনে কোন কিছুকে নিজ থেকে হালাল বা হারাম বলতে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিষেধ করেছেন। কোরআনের কোথাও মদ/নেশাকে সরাসরি হারাম বলা হয় নি। মদের ভাল বা মন্দের উল্লেখি কোরআনে করা হয়েছে, এখন আপনারাই বিবেচনা করুন।

Tuesday, April 7, 2020

কোরানের নির্দেশ লঙ্ঘনের ভিত্তি ও সূচনা খোলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার সময়ে আরব সম্রাজ্য বিস্তার

আবুবকর , ওমর, ওসমান ও আলীর নেতৃত্বে আরবদের যে বিজয়গাথা নিয়ে আজো মুসলমানরা গর্ববোধ করে , সে বিজয় কোরানের সুস্পষ্ট দুটি নির্দেশের লঙ্ঘন। কারন আরবের ভিতরে ও বাইরে যে সকল জনপদ ও রাজ্য তারা আগ্রাসনের মাধ্যমে জয় করেছিল , সেই সকল জনপদ ও রাজ্য কখনোই আরবদের আগে থেকে আক্রমন করেনি। কোরানে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোরানে চারটি হারাম তথা নিষিদ্ধ মাসের উল্লেখ আছে , যে সকল মাসে যুদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই খলিফারা কোরানের এই নির্দেশ ও উপেক্ষা করে হারাম এই মাসগুলোতে যুদ্ধ করেছে। আমরা যদি আজকের জমানার ইরাক ইরান যুদ্ধ, আফগানিস্তানের যুদ্ধ , সিরায়ার যুদ্ধের দিকে তাকাই , তাহলে দেখিযে আজকের মুসলমানেরাও হারাম মাসে যুদ্ধ না করার কোরানিক নির্দেশ মানছে না। 
পাঠকরা চলুন কোরানের সেই আয়াতগুলি স্মরন করি যেখানে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং শান্তিপূর্ন জনপদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে অপরাধ ও গুরুতর পাপ বলা হয়েছে-
২:১৯০ আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি আগ্রাসন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
৬০:৮-৯ ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। 
২২:৩৯-৪০ যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রীষ্টানদের) নির্ঝন গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।
আগ্রাসন দুরের কথা , বিনা অনুমতিতে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ -
২৪:২৭-২৮
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত অনুমতি না চাও এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।
২:২১৭ নিষিদ্ধ মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

নবী পরবর্তী আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে সকল যোদ্ধা বা সাহাবীরা অংশগ্রহন করেছিল , তারা প্রাকইসলাম যূগের পৌত্তলিকদের থেকেও বেশি অবিশ্বাসী ছিল নিষিদ্ধ মাস লঙ্ঘনের ব্যাপারে।
৯:৩৬ নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
এর অর্থ দাড়ায় সামরিক আগ্রাসন নিষিদ্ধ, তথাপি মুসলমান্দের বর্নীত ইতিহাস অনুযায়ী মুহম্মদের মৃত্যুর পর পরই ইসলামি সম্রাজ্য প্রসারের জন্য যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল , সে যুদ্ধ ছিল নৃশংস। কোন রকম প্ররোচনা ছাড়াই আরব ও আরবের বাইরের নগর , জনপদ , রাজ্য দখল , সেখানকার নিরীহ অধিবাসীদের হত্যা অথবা দাস দাসী বানানো , লুন্ঠন এ সকলি করেছিল ইসলাম প্রচারের অজুহাতে। যদিও জোর করে ধর্মান্তরিত করার কোন নির্দেশ কোরানে নেই। এবং এ সবি ঘটেছিল খোলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার নেতৃত্বে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পরবর্তি উমাইয়া , আব্বাসীয় , ফাতেমি ও তুরস্ক ভিত্তিক ইসলামি সম্রাজ্য পর্যন্ত। এই ভয়ঙ্কর পাপ শুরু করেছিল নবীর একান্ত সহচর ও সাহাবিরাই। এরা এমনকি নিষিদ্ধ মাসগুলোতেও যুদ্ধ করেছিল। এরা এই অন্যায় যুদ্ধের নাম দিয়েছে ইসলামি জিহাদ। 
ইসলামপূর্ব আরব পৌত্তলিকরা ও এই চারটি নিষিদ্ধ মাসগুলোকে সম্মান করত এবং এই মাসগুলোতে তারা যুদ্ধ করত না। তবে তাদের অপরাধ ছিল এই মাসগুলোকে তারা ইচ্ছামত পরিবর্তন করত।
৯:৩৭ এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
আবুবকর, ওমর, ওসমান , আলি এরা কি কোরানের এই আয়াতগুলো পড়েনি বা জানত না? অবশ্যই জানত, তবুও তারা ইসলামি জিহাদের নামে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কোরান বিরোধী যুদ্ধ করেছিল রাজনৈতিক ও জাগতিক লাভের আশায়। এই যুদ্ধের ফলে তারা অশেষ ধন সম্পদ, ভূমি, দাস দাসী ও ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এদেরকে যুদ্ধবাজ নেতা বা warlord বলাই বেশি শ্রেয়। এই পাপের জন্য এরা বা মুসলমানেরা কখনোই অনুতপ্ত তো হয় নি , বরং এখনো গর্ববোধ করে। 
২:২৫৬ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই।
২৭:৯২ এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।
৮৮:২১-২২ অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের শাসক নন,
১০:৯৯ আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

চলুন প্রাচীন এক সুন্নী বইয়ের অংশ বিশেষ পর্যালোচনা করি , যার ফলে আমরা প্রমান পাব কিভাবে সুন্নী শরিয়া আইন কোরানের ইসলামের বিপরীত-
আল-ব্লাথারি তার বই "রাজ্য জয়/Conquests of Lands" বইতে বিজীত রাজ্য সমূহে রাজস্ব ও ভূমিকর আইন বিষয়ে বলেছেন , " ১০১৬- আবু ইউসুফ বলেছেন লেভান্ট (ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীরের রাজ্য সমূহ), ইরাক এবং অন্যান্য বিজীত রাজ্য সমূহের যে সকল জমি জোরপূর্বক বাজেয়াপ্ত করা হবে তা খলিফা কতৃক বিজয়ী সৈন্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে এবং সেখানকার লোকজন তাদের দাঁস..." এই উদ্ধৃতি থেকে এটাই প্রমানীত হয় যে , সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশসমূহ দখল করা হয়েছিল একটি মাত্র উদ্দেশ্যে , তা হল লুন্ঠন ও জোরপূর্বক দখল। লেখক যে আবু ইউসুফের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই আবু ইউসুফ আব্বাসীয় খেলাফতের শুরুর সময়কালের বিখ্যাত হানাফি ইমাম ও প্রধান বিচারক। এই ফতোয়া দেয়ার সময় তিনি কোন কোরানের আয়াতের উদ্ধৃতি দেন নি। 
২:১৮৮ তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।

নবীর মৃত্যুর পর পরই কোরানের নির্দেশ অমান্য করে তারই নিকট সহচরদের নেতৃত্বে সাহবীরা আরব ও আরবের বাইরের জনপদ ও রাজ্য নৃশংস সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দখল , লুন্ঠন , নিরীহ মানুষকে দাঁস দাঁসী বানিয়ে ভোঁগের উপকরন বানাতে কেন মেতে উঠল? {বলে রাখা ভাল যে কোন যুদ্ধই নৃশংস। যুদ্ধে সর্বকালে সাধারন মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারাই জান ও মাল হারায়, এদের বউ বাচ্চারা দাঁস দাঁসী হিসাবে ভোঁগের উপকরন হয়। প্রাচীনকালে সাধারন মানুষের জীবনের কোন দাম ছিল না । প্রাচীন কালের কথাই বা বলি কেন? এই কয়েক বছর আগে আইসিস যোদ্ধারা ইরাকে কিভাবে ইয়াজিদি নারীদের ভোঁগ করেছে সেটাতো আমরা সবাই জানি। যদি কারো মনে মুসলমানদের সামরিক অভিযানের নৃশংসতা নিয়ে কোন সংশয় থাকে , তাহলে মুসলমান ঐতিহাসিকদের লেখা বিজয়ের কাহিনীগুলো পড়ে দেখতে পারেন।}
এর একটা ব্যাখ্যা থাকা উচিৎ। 
কোরায়েশরা মূলত যোদ্ধাবাজ জাতি। সেই সময়ে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ ও জোরপূর্বক দাঁস দাঁসী বানানো সেকালে অহরহ ঘটত , বলা যায় এটাই নিয়ম ছিল। রসূলের সাথে হিজরত করা তার সহচর ও সাহাবী কোরায়েশরা তাদের এই সহজাত স্বভাবকে সাময়িক দমন করে রেখেছিল। রসূলের মৃত্যুর পরে তাদের পূর্বের স্বভাবে ফিরতে দেরি হয় নি। তার নিকট সহচর ও সাহাবীদের মাঝে অনেক মুনাফেক ছিল , যাদেরকে রসূল চিনতেন না। এদের সম্পর্কে আল্লাহ কোরানে সাবধান করে দিয়েছেন। 
৯:১০১ আর তোমার আশ-পাশের আরবদের মধ্যে মুনাফেক আছে এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
একটা জিনিষ খেয়াল করুন। খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফার কারো স্বাভাবিক মৃত্যু হয় নি। আবু বকরকে মারা হয়েছিল বিষ প্রয়োগে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে খালেদ বিন ওয়ালিদকে সরানোর জন্য ওমর আবুবকরকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন , কারন আবুবকরের প্রিয় পাত্র ছিলেন খালেদ বিন ওয়ালিদ। খলিফা হয়েই ওমর প্রথম যে কাজটি করেন সেটা হলো যুদ্ধ চলাকালীন খালেদ বিন ওয়ালিদকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে পদচ্যুত করা। কেন ওমর খালেদ বিন ওয়ালিদকে সরানোন জন্য ব্যাস্ত হয়েছিলেন , সে গল্প আরেকদিন। ওমর , ওসমান ও আলী আততায়ীর হাতে নিহত হন।

কোরানে দুই ধরনের যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। একটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ , অপরটি শয়তানের রাস্তায়। কিন্তু কোথাও ইসলাম প্রসার ও প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করতে বলা হয় নি। 
৪:৭৫-৭৬ 
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। যারা ঈমানদার তারা , যে জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
শয়তানের পক্ষের যুদ্ধ কোনটি? অন্যায় যুদ্ধ, ক্ষমতার জন্য বিনা প্ররোচনায় দখলের জন্য যুদ্ধ, মানুষের জান মাল হরনের জন্য যুদ্ধ, লুন্ঠন , ধর্ষন, দাঁস দাঁসী বানানোর জন্য যুদ্ধ। 
যতই মুসলমানরা ইসলাম প্রসারের নামে আগ্রাসী এই সকল যুদ্ধগুলোকে রসূলের আদর্শ অনুকরনে করা বলে দাবী করুন না কেন , সত্য হল রসূল কেবল মাত্র আত্মরক্ষার্থে যারা তাকে ও তার অনুসারীদের শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার জন্য দেশ ছাড়া করেছিল , অত্যাচার করত এবং ইসলামকে সমূলে ধংস করতে মুসলমানদের আক্রমন ও ষঢ়যন্ত্র করত , কেবল মাত্র তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। কারন কোন রসূলের পক্ষে সম্ভব নয় আল্লাহর পরিস্কার নির্দেশের বিপরিত কোন কাজ করা। 
১০:৯৯ আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসত সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

ইতিহাস ধর্ম নয়। ধর্মের অনুশাসন নির্ধারিত হয় আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতে অর্থাৎ কোরানে লিপিবদ্ধ আল্লাহর বাণীর ভিত্তিতে। আল্লাহর বাণী নির্ভুল বলে আমরা সকল মুসলমান বিশ্বাস করি। পক্ষান্তরে ইতিহাস নির্ভুল নয় এবং ইতিহাস লিখিত হয় বিজয়ীর নির্দেশে , বিজয়ীকে মহান প্রতিপন্ন করে। এমনি ভাবে বিজয়ীরা রসূলের মৃত্যুর পরে কোরায়েশদের নেতৃত্বে কোরান বিরোধী ইসলামি সমাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার নায়ক ও সহচরদের মুসলমানদের হৃদয়ে হিরো , মহানায়ক হিসাবে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয় , রসূলের নামে বানানো মিথ্যা হাদিস ও সুন্নাহর মাধ্যমে কোরানিক ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে , যেখানে অন্যায় আগ্রাসী যুদ্ধ হয়ে গেছে ধর্ম যুদ্ধ , জিহাদ। 
সূরা আত তওবা (৯) তে আল্লাহ প্রকাশ করেছেন যে বিশ্বাস ও ভাল কাজের ভিত্তিতে রসূলের সঙ্গী বা সাহাবাদের প্রকারভেদ ছিল। স্থানীয় মদিনাবাসী ও হিজরত করে আসা সাহাবীদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস ও ভাল কাজের ব্যাপারে ছিলেন অগ্রগামী , কেউ কেউ ভাল কাজের সাথে মন্দ কাজ মিশিয়ে ফেলতেন এবং এদের তওবা হয়তো বা আল্লাহ কবুল করবেন। আর আছে মুনাফিক। এই মুনাফিক সাহাবারা আবার দুই ধরনের। একদল তাদের কাজ ও ষঢ়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের মুনাফিক চরিত্র প্রকাশ করে ফেলত , আরেকদল তাদের মনোভাব গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আল্লাহ উভয়দলকে পরকালের আযাব সম্পর্কে সাবধান করেছেন। কোরানে এই সকল সাহাবিদের সাধারন বর্ননা এসেছে কোন নাম ধাম ছাড়াই। পক্ষান্তরে ইতিহাসে নাম ধাম , ঘটনা ও কাজের বর্ননা এসেছে , যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। আমরা বিচার করব কোরানের আলোকে। 
আরবের সাহাবীরা যে কোরানের নিয়ম কানুন অগ্রাহ্য করে আগ্রাসী হবে ও মুনাফেকি করবে, সে কথা কোরানে পরিস্কার বলা আছে। 
৯:৯৭ আরবরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
৯:৯৯-১০২ আরবদের মধ্যে যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলকে সাহায্যের ( وَصَلَوَاتِ) উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।
এবং হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে দৌড়ে প্রথম এরা এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
আর কিছু কিছু তোমার আশ-পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।
৩৫:৩১-৩২ আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য-পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন কারী নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সব জানেন, দেখেন। অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।



৯:৪০ যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে (সাহাবা) বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আগ্রাসী যুদ্ধের খলনায়কদের কিভাবে নায়ক বানানো হয়েছে সেটা বুঝতে হলে উপরের এই আয়াতটির বিশ্লেষন করা দরকার। এই আয়াতটিতে কোন নাম কি আছে? নেই। আল্লাহ কি রসূলের সঙ্গীর (সাহাবা) নাম উল্লেখ করতে পারতেন না? নিশ্চয় পারতেন , কিন্তু করেন নি। কারন আমাদের বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের জন্য এই সঙ্গীর নাম জানা গুরুত্বপূর্ন নয়। এই সুযোগটাই নিয়েছে খলিফাদের অনুগ্রহপুষ্ঠ মুসলিম ঐতিহাসিকগন। তাদের দাবীমতে রসূলের ঐ সঙ্গী ছিলেন আবু বকর। 
যদিও মুসলমানরা আবুবকরকে সিদ্দিক (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করেছে, কিন্তু এই আয়াত থেকে জানার উপায় নেই রসূলের এই সঙ্গী তার আজীবনের সাথী / বন্ধু ছিলেন কিনা বা সত্যবাদী অগ্রগামি ধার্মিক ছিলেন কিনা। আয়াতটিতে দেখুন আল্লাহ স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন শুধু রসূলের প্রতি , তার সঙ্গীর প্রতি নয়। সঙ্গীর বিষন্ন হওয়া থেকে ধারনা করা যায় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি তার ভরসা খুব দৃঢ় ছিল না। সুতরাং এই উপসংহারে আসা মনে হয় ভুল হবে না যে এই সঙ্গী রসূলের সফর সঙ্গীই ছিলেন , এর বেশি কোন গুরুত্ব তার নেই। 
কোরানে বর্ণীত সঙ্গীরা (সাহাবা) সাধারনত বিপরিত বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিল বা পৌত্তলিক ছিল। একটি মাত্র আয়াতে সম বিশ্বাসে বিশ্বাসীর দেখা মেলে এবং তারা কাফের ছিল -
৫৪:২৯ অতঃপর তারা তাদের সঙ্গীকে ডাকল। সে তাকে ধরল এবং বধ করল। 
বিপরিত বিশ্বাসের সঙ্গীর বর্ননা-
১৮:৩৪-৩৮ সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব। তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।
পৌত্তলিক , কাফের , মুনাফিক , ধার্মিক সকলেই রসূলের সঙ্গী (সাহাবা) ছিল-
৭:১৮৪ তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।
৩৪-৪৬ বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
৫৩:২ তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
কোরানের আয়াত সমূহ পর্যালোচনা করলেএটাই প্রমানিত হয় যে গুহায় রসূলের সঙ্গী (সাহাবা) যদি মুসলমানদের দাবী অনুযায়ী আবুবকর হয়েই থাকেন , তবে তার রসূলের বিপরিত বিশ্বাসে বিশ্বাসী বা সংশয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারন তিনি ছিলেন বিষন্ন এবং আল্লাহ তাকে স্বীয় সান্তনা দেন নাই।



১৮:২৮ আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।
যারা রসূলের সমালোচনা শুনতে চান না , তারা অনুগ্রহ করে এই পোস্ট পড়বেন না। রসূল আমাদের মতোই মানুষ ছিলেন , দুনিয়ার সৌন্দর্য তাকে ও আকৃষ্ট করত , সমাজের গরিব অগ্রগামী ধার্মিক সাহাবাদের থেকে উচ্চস্তরের ধনী প্রশ্নবিদ্ধ সাহাবীদের সংসর্গ তার বেশি কাম্য ছিল। একারনে আল্লাহ বহু আয়াতের মাধ্যমে রসূলকে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন , তিরস্কার করেছেন। উপরের আয়াতটি মনযোগ দিয়ে পড়লে প্রতীয়মান হয় যে - ১) রসূলকে গরিব সাহাবীদের সঙ্গ বিব্রত করত , তাদেরকে এড়িয়ে চলতেন। ২) সমাজের উপরের স্তরের নেতা ও ধনী প্রশ্নবিদ্ধ সাহাবীদের সাথে বেশি ওঠা বসা করতেন। ৩) এই সকল নেতাদের কথা মানতেন , এদের ধন সম্পদ তাকে আকৃষ্ট করত। ৪) এই নেতাদের মনকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছেন এবং এরা নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা । 
নেতাদের এই যে বর্ননা আমরা কোরান থেকে পাই , তা নবীর মৃত্যু পররবর্তী আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার নায়কদের কথাই স্মরন করিয়ে দেয়। এরা কোরায়েশ , যারা নবুয়্যতের শুরু থেকেই ইসলামের বিরোধীতা করেছে , সাধারন গরিব মুসলমানদের অত্যাচার করেছে , দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে , মুসলমানদের ধ্বংশ করার জন্য যুদ্ধ করেছে আবার ইসলামের নামে আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে তার জাগতিক লাভ ভোগ করেছে। 
২০:১৩১ আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
৯:৫৪-৫৫ তাদের অর্থ ব্যয় কবুল না হওয়ার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাসী, তারা নামাযে আসে অলসতার সাথে ব্যয় করে সঙ্কুচিত মনে। সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আযাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া কুফরী অবস্থায়।
৯:৮৫ আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির দরুন। আল্লাহ তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে। 
বারে বারে আল্লাহ রসূলকে একি আদেশ করেছেন , এর অর্থ রসূল বারে বারে একি ভুল করেছেন। 
নিচের আয়াতগুলো পড়ুন ও ভাবুন- ৮০:১-১০
তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত , অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হত। পরন্তু যে বেপরোয়া, আপনি তার চিন্তায় মশগুল। সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোন দোষ নেই। যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন। কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবানী।