Sunday, August 2, 2020

সবার অংক মেলে - আমার অংক মেলেনা

আজকের আলোচনার বিষয় -- বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা!!
দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না। তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ।

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

মদ খাওয়া কি হারাম?

আমার বক্তব্যই যে নির্ভুল সে দাবী আমি করি না।
আমার পোষ্ট পড়ে মানুষকে চিন্তা করতে হবে ও নিজের স্বীদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। 
মোল্লাদের উপরে দোষ দিয়ে পরকালে পার পাওয়া যাবে না , কারন আল্লাহ আমাদের ব্রেণ দিয়েছেন সেটা ব্যবহারের জন্য এবং যার যার ব্রেণের জিম্মাদার সে নিজে।
কোরআনে হারাম জিনিষকে 'হারাম'-ই বলা হয়েছে। এখানে 'হারাম' (حرم) শব্দ ব্যাবহার হয়েছে। যে সকল জিনিষকে হারাম বলা হয়েছে , তার জন্য কোন কারন আল্লাহ দেন নি। এটা আল্লাহর নির্দেশ এবং অনেক জায়গায় কোন কিছুকে হারাম করার জন্য দোজখের ভয় ও দেখানো হয়েছে।
কোরআনে দেখুন মৃত , রক্ত ও শুকরের মাংসকে কিভাবে হারাম করা হয়েছে -
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ
৫:৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস.....।
কোরআনে ৫টা আয়াত পাওয়া যায় , যেখানে মদ/নেশা নিয়ে বলা হয়েছে।
১)
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,......।
এই আয়াতে হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। কেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কারন নামাজে কি বলছি সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ , না বুঝলে সে নামাজ পড়ার কোন মানে নেই।( চিন্তা করুন , আমরা কয়জন বাঙালী নামাজে কি পড়ি , সেটা বুঝেই পড়ি)। যেহেতু নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানুষের বোধ বুদ্ধি এমনি লোপ পায় যে সে কি বলছে তা বোঝেনা , সেকারনেই নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নেশাগ্রস্থ হতে কিন্তু নিষেধ করা হয় নি। এখন কেউ যদি অল্প নেশা করে এবং তার বোধ বুদ্ধিও লোপ না পায় , তাহলে কি তাকে কোরানের এই আয়াত অনুযায়ী দোষ দেয়া যাবে?
২)আপনার দেয়া আয়াত-
৫:৯০-৯১ "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা(কে) বর্জন কর তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ, জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।"
এই আয়াতে ও হারাম বা নিষিদ্ধ শব্দটি নেই বা দোজখের ভয়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেও দেখানো হয় নি। সুতরাং মদকে হারাম বলা যায় না। পরন্তু আয়াতটিতে দেখুন فَاجْتَنِبُوهُ /ফাআজতানেবুহু অর্থাৎ তাকে(শয়তানকে) বর্জন করতে বলা হয়েছে। শব্দের শেষে যে 'হু' আছে , তা একবচন। যদি মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়ক শর সবগুলোকেই বর্জন করতে বলা হতো তাহলে 'হুম' বহুবচন থাকতো। আয়াতটি ভালো করে পড়লে যা বোঝা যায় , এগুলো শয়তানের হাতিয়ার , যা দিয়ে মানুষকে বিপথে নেয়। একারনেই শয়তানকে বর্জন করতে বলা হয়েছে , যাতে আমরা সফলকাম হতে পারি।
৩)
৫:৯৩ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ(جُنَاحٌ) নেই....
Muhammad Asad 5:93 Those who have attained to faith and do righteous deeds incur no sin by partaking of whatever they may, so long as they are conscious of God and [truly] believe and do righteous deeds, and continue to be conscious of God and to believe, and grow ever more conscious of God, and persevere in doing good: for God loves the doers of good.
Rashad Khalifa 5:93 Those who believe and lead a righteous life bear no guilt by eating any food, so long as they observe the commandments, believe and lead a righteous life, then maintain their piety and faith, and continue to observe piety and righteousness. GOD loves the righteous.
এই আয়াতটিতে ইংরেজি অনুবাদ দিলাম এই কারনে যে বাংলা অনুবাদে এমন কিছু শব্দ ঢোকানো হয়েছে যা আরবি কোরআনে নেই। এই আয়াতটিতে দেখুন , হারাম ব্যতীত সকল খাবার খাওয়া যায়। খাবার নয় , সৎ কাজের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৎ ভাল কাজের কথা বারে বারেই বলা হয়েছে।
৪)
১৬:৬৭ এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা নেশা (سَكَرًا) ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
এখানেও নেশা বা মদকে হারাম বলা হয় নি। বরং নেশা ও উত্তম খাদ্য একি কাতারে ফেলা হয়েছে।
৫)
২:২১৯ তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।(إِثْمٌ كَبِيرٌ) আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।
মদের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে , যা আগের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট। এআয়াতেও দেখুন মদের উপকরিতা ও অপকারিতা নিয়ে বলা হয়েছে। উপকারিতার বিপরীত অপকারিতা বা অপব্যাবহার হয় , পাপ হয় না। কিন্তু কেন জানি আমাদের আলেমরা إِثْمٌ كَبِيرٌ এর মানে মহা পাপ বলছেন , যা বোধগম্য নয়। আরবিতে পাপ হলো যুনাহুন/جُنَاحٌ। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন إِثْمٌ كَبِيرٌ এর সঠিক মানে মহা পাপ নাকি মহা অপকারিতা বা অপব্যাবহার?
আল্লাহ কোরআনে কোন কিছুকে নিজ থেকে হালাল বা হারাম বলতে শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিষেধ করেছেন। কোরআনের কোথাও মদ/নেশাকে সরাসরি হারাম বলা হয় নি। মদের ভাল বা মন্দের উল্লেখি কোরআনে করা হয়েছে, এখন আপনারাই বিবেচনা করুন।

Tuesday, April 7, 2020

কোরানের নির্দেশ লঙ্ঘনের ভিত্তি ও সূচনা খোলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার সময়ে আরব সম্রাজ্য বিস্তার

আবুবকর , ওমর, ওসমান ও আলীর নেতৃত্বে আরবদের যে বিজয়গাথা নিয়ে আজো মুসলমানরা গর্ববোধ করে , সে বিজয় কোরানের সুস্পষ্ট দুটি নির্দেশের লঙ্ঘন। কারন আরবের ভিতরে ও বাইরে যে সকল জনপদ ও রাজ্য তারা আগ্রাসনের মাধ্যমে জয় করেছিল , সেই সকল জনপদ ও রাজ্য কখনোই আরবদের আগে থেকে আক্রমন করেনি। কোরানে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোরানে চারটি হারাম তথা নিষিদ্ধ মাসের উল্লেখ আছে , যে সকল মাসে যুদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই খলিফারা কোরানের এই নির্দেশ ও উপেক্ষা করে হারাম এই মাসগুলোতে যুদ্ধ করেছে। আমরা যদি আজকের জমানার ইরাক ইরান যুদ্ধ, আফগানিস্তানের যুদ্ধ , সিরায়ার যুদ্ধের দিকে তাকাই , তাহলে দেখিযে আজকের মুসলমানেরাও হারাম মাসে যুদ্ধ না করার কোরানিক নির্দেশ মানছে না। 
পাঠকরা চলুন কোরানের সেই আয়াতগুলি স্মরন করি যেখানে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং শান্তিপূর্ন জনপদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে অপরাধ ও গুরুতর পাপ বলা হয়েছে-
২:১৯০ আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি আগ্রাসন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
৬০:৮-৯ ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। 
২২:৩৯-৪০ যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রীষ্টানদের) নির্ঝন গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।
আগ্রাসন দুরের কথা , বিনা অনুমতিতে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ -
২৪:২৭-২৮
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত অনুমতি না চাও এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।
২:২১৭ নিষিদ্ধ মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

নবী পরবর্তী আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে সকল যোদ্ধা বা সাহাবীরা অংশগ্রহন করেছিল , তারা প্রাকইসলাম যূগের পৌত্তলিকদের থেকেও বেশি অবিশ্বাসী ছিল নিষিদ্ধ মাস লঙ্ঘনের ব্যাপারে।
৯:৩৬ নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
এর অর্থ দাড়ায় সামরিক আগ্রাসন নিষিদ্ধ, তথাপি মুসলমান্দের বর্নীত ইতিহাস অনুযায়ী মুহম্মদের মৃত্যুর পর পরই ইসলামি সম্রাজ্য প্রসারের জন্য যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল , সে যুদ্ধ ছিল নৃশংস। কোন রকম প্ররোচনা ছাড়াই আরব ও আরবের বাইরের নগর , জনপদ , রাজ্য দখল , সেখানকার নিরীহ অধিবাসীদের হত্যা অথবা দাস দাসী বানানো , লুন্ঠন এ সকলি করেছিল ইসলাম প্রচারের অজুহাতে। যদিও জোর করে ধর্মান্তরিত করার কোন নির্দেশ কোরানে নেই। এবং এ সবি ঘটেছিল খোলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার নেতৃত্বে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পরবর্তি উমাইয়া , আব্বাসীয় , ফাতেমি ও তুরস্ক ভিত্তিক ইসলামি সম্রাজ্য পর্যন্ত। এই ভয়ঙ্কর পাপ শুরু করেছিল নবীর একান্ত সহচর ও সাহাবিরাই। এরা এমনকি নিষিদ্ধ মাসগুলোতেও যুদ্ধ করেছিল। এরা এই অন্যায় যুদ্ধের নাম দিয়েছে ইসলামি জিহাদ। 
ইসলামপূর্ব আরব পৌত্তলিকরা ও এই চারটি নিষিদ্ধ মাসগুলোকে সম্মান করত এবং এই মাসগুলোতে তারা যুদ্ধ করত না। তবে তাদের অপরাধ ছিল এই মাসগুলোকে তারা ইচ্ছামত পরিবর্তন করত।
৯:৩৭ এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
আবুবকর, ওমর, ওসমান , আলি এরা কি কোরানের এই আয়াতগুলো পড়েনি বা জানত না? অবশ্যই জানত, তবুও তারা ইসলামি জিহাদের নামে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কোরান বিরোধী যুদ্ধ করেছিল রাজনৈতিক ও জাগতিক লাভের আশায়। এই যুদ্ধের ফলে তারা অশেষ ধন সম্পদ, ভূমি, দাস দাসী ও ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এদেরকে যুদ্ধবাজ নেতা বা warlord বলাই বেশি শ্রেয়। এই পাপের জন্য এরা বা মুসলমানেরা কখনোই অনুতপ্ত তো হয় নি , বরং এখনো গর্ববোধ করে। 
২:২৫৬ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই।
২৭:৯২ এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।
৮৮:২১-২২ অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের শাসক নন,
১০:৯৯ আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

চলুন প্রাচীন এক সুন্নী বইয়ের অংশ বিশেষ পর্যালোচনা করি , যার ফলে আমরা প্রমান পাব কিভাবে সুন্নী শরিয়া আইন কোরানের ইসলামের বিপরীত-
আল-ব্লাথারি তার বই "রাজ্য জয়/Conquests of Lands" বইতে বিজীত রাজ্য সমূহে রাজস্ব ও ভূমিকর আইন বিষয়ে বলেছেন , " ১০১৬- আবু ইউসুফ বলেছেন লেভান্ট (ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীরের রাজ্য সমূহ), ইরাক এবং অন্যান্য বিজীত রাজ্য সমূহের যে সকল জমি জোরপূর্বক বাজেয়াপ্ত করা হবে তা খলিফা কতৃক বিজয়ী সৈন্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে এবং সেখানকার লোকজন তাদের দাঁস..." এই উদ্ধৃতি থেকে এটাই প্রমানীত হয় যে , সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশসমূহ দখল করা হয়েছিল একটি মাত্র উদ্দেশ্যে , তা হল লুন্ঠন ও জোরপূর্বক দখল। লেখক যে আবু ইউসুফের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই আবু ইউসুফ আব্বাসীয় খেলাফতের শুরুর সময়কালের বিখ্যাত হানাফি ইমাম ও প্রধান বিচারক। এই ফতোয়া দেয়ার সময় তিনি কোন কোরানের আয়াতের উদ্ধৃতি দেন নি। 
২:১৮৮ তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।

নবীর মৃত্যুর পর পরই কোরানের নির্দেশ অমান্য করে তারই নিকট সহচরদের নেতৃত্বে সাহবীরা আরব ও আরবের বাইরের জনপদ ও রাজ্য নৃশংস সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দখল , লুন্ঠন , নিরীহ মানুষকে দাঁস দাঁসী বানিয়ে ভোঁগের উপকরন বানাতে কেন মেতে উঠল? {বলে রাখা ভাল যে কোন যুদ্ধই নৃশংস। যুদ্ধে সর্বকালে সাধারন মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারাই জান ও মাল হারায়, এদের বউ বাচ্চারা দাঁস দাঁসী হিসাবে ভোঁগের উপকরন হয়। প্রাচীনকালে সাধারন মানুষের জীবনের কোন দাম ছিল না । প্রাচীন কালের কথাই বা বলি কেন? এই কয়েক বছর আগে আইসিস যোদ্ধারা ইরাকে কিভাবে ইয়াজিদি নারীদের ভোঁগ করেছে সেটাতো আমরা সবাই জানি। যদি কারো মনে মুসলমানদের সামরিক অভিযানের নৃশংসতা নিয়ে কোন সংশয় থাকে , তাহলে মুসলমান ঐতিহাসিকদের লেখা বিজয়ের কাহিনীগুলো পড়ে দেখতে পারেন।}
এর একটা ব্যাখ্যা থাকা উচিৎ। 
কোরায়েশরা মূলত যোদ্ধাবাজ জাতি। সেই সময়ে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ ও জোরপূর্বক দাঁস দাঁসী বানানো সেকালে অহরহ ঘটত , বলা যায় এটাই নিয়ম ছিল। রসূলের সাথে হিজরত করা তার সহচর ও সাহাবী কোরায়েশরা তাদের এই সহজাত স্বভাবকে সাময়িক দমন করে রেখেছিল। রসূলের মৃত্যুর পরে তাদের পূর্বের স্বভাবে ফিরতে দেরি হয় নি। তার নিকট সহচর ও সাহাবীদের মাঝে অনেক মুনাফেক ছিল , যাদেরকে রসূল চিনতেন না। এদের সম্পর্কে আল্লাহ কোরানে সাবধান করে দিয়েছেন। 
৯:১০১ আর তোমার আশ-পাশের আরবদের মধ্যে মুনাফেক আছে এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
একটা জিনিষ খেয়াল করুন। খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফার কারো স্বাভাবিক মৃত্যু হয় নি। আবু বকরকে মারা হয়েছিল বিষ প্রয়োগে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে খালেদ বিন ওয়ালিদকে সরানোর জন্য ওমর আবুবকরকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন , কারন আবুবকরের প্রিয় পাত্র ছিলেন খালেদ বিন ওয়ালিদ। খলিফা হয়েই ওমর প্রথম যে কাজটি করেন সেটা হলো যুদ্ধ চলাকালীন খালেদ বিন ওয়ালিদকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে পদচ্যুত করা। কেন ওমর খালেদ বিন ওয়ালিদকে সরানোন জন্য ব্যাস্ত হয়েছিলেন , সে গল্প আরেকদিন। ওমর , ওসমান ও আলী আততায়ীর হাতে নিহত হন।

কোরানে দুই ধরনের যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। একটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ , অপরটি শয়তানের রাস্তায়। কিন্তু কোথাও ইসলাম প্রসার ও প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করতে বলা হয় নি। 
৪:৭৫-৭৬ 
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। যারা ঈমানদার তারা , যে জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
শয়তানের পক্ষের যুদ্ধ কোনটি? অন্যায় যুদ্ধ, ক্ষমতার জন্য বিনা প্ররোচনায় দখলের জন্য যুদ্ধ, মানুষের জান মাল হরনের জন্য যুদ্ধ, লুন্ঠন , ধর্ষন, দাঁস দাঁসী বানানোর জন্য যুদ্ধ। 
যতই মুসলমানরা ইসলাম প্রসারের নামে আগ্রাসী এই সকল যুদ্ধগুলোকে রসূলের আদর্শ অনুকরনে করা বলে দাবী করুন না কেন , সত্য হল রসূল কেবল মাত্র আত্মরক্ষার্থে যারা তাকে ও তার অনুসারীদের শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার জন্য দেশ ছাড়া করেছিল , অত্যাচার করত এবং ইসলামকে সমূলে ধংস করতে মুসলমানদের আক্রমন ও ষঢ়যন্ত্র করত , কেবল মাত্র তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। কারন কোন রসূলের পক্ষে সম্ভব নয় আল্লাহর পরিস্কার নির্দেশের বিপরিত কোন কাজ করা। 
১০:৯৯ আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসত সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

ইতিহাস ধর্ম নয়। ধর্মের অনুশাসন নির্ধারিত হয় আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতে অর্থাৎ কোরানে লিপিবদ্ধ আল্লাহর বাণীর ভিত্তিতে। আল্লাহর বাণী নির্ভুল বলে আমরা সকল মুসলমান বিশ্বাস করি। পক্ষান্তরে ইতিহাস নির্ভুল নয় এবং ইতিহাস লিখিত হয় বিজয়ীর নির্দেশে , বিজয়ীকে মহান প্রতিপন্ন করে। এমনি ভাবে বিজয়ীরা রসূলের মৃত্যুর পরে কোরায়েশদের নেতৃত্বে কোরান বিরোধী ইসলামি সমাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার নায়ক ও সহচরদের মুসলমানদের হৃদয়ে হিরো , মহানায়ক হিসাবে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয় , রসূলের নামে বানানো মিথ্যা হাদিস ও সুন্নাহর মাধ্যমে কোরানিক ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে , যেখানে অন্যায় আগ্রাসী যুদ্ধ হয়ে গেছে ধর্ম যুদ্ধ , জিহাদ। 
সূরা আত তওবা (৯) তে আল্লাহ প্রকাশ করেছেন যে বিশ্বাস ও ভাল কাজের ভিত্তিতে রসূলের সঙ্গী বা সাহাবাদের প্রকারভেদ ছিল। স্থানীয় মদিনাবাসী ও হিজরত করে আসা সাহাবীদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস ও ভাল কাজের ব্যাপারে ছিলেন অগ্রগামী , কেউ কেউ ভাল কাজের সাথে মন্দ কাজ মিশিয়ে ফেলতেন এবং এদের তওবা হয়তো বা আল্লাহ কবুল করবেন। আর আছে মুনাফিক। এই মুনাফিক সাহাবারা আবার দুই ধরনের। একদল তাদের কাজ ও ষঢ়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের মুনাফিক চরিত্র প্রকাশ করে ফেলত , আরেকদল তাদের মনোভাব গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আল্লাহ উভয়দলকে পরকালের আযাব সম্পর্কে সাবধান করেছেন। কোরানে এই সকল সাহাবিদের সাধারন বর্ননা এসেছে কোন নাম ধাম ছাড়াই। পক্ষান্তরে ইতিহাসে নাম ধাম , ঘটনা ও কাজের বর্ননা এসেছে , যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। আমরা বিচার করব কোরানের আলোকে। 
আরবের সাহাবীরা যে কোরানের নিয়ম কানুন অগ্রাহ্য করে আগ্রাসী হবে ও মুনাফেকি করবে, সে কথা কোরানে পরিস্কার বলা আছে। 
৯:৯৭ আরবরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
৯:৯৯-১০২ আরবদের মধ্যে যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলকে সাহায্যের ( وَصَلَوَاتِ) উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।
এবং হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে দৌড়ে প্রথম এরা এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
আর কিছু কিছু তোমার আশ-পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।
৩৫:৩১-৩২ আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য-পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন কারী নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সব জানেন, দেখেন। অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।



৯:৪০ যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে (সাহাবা) বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আগ্রাসী যুদ্ধের খলনায়কদের কিভাবে নায়ক বানানো হয়েছে সেটা বুঝতে হলে উপরের এই আয়াতটির বিশ্লেষন করা দরকার। এই আয়াতটিতে কোন নাম কি আছে? নেই। আল্লাহ কি রসূলের সঙ্গীর (সাহাবা) নাম উল্লেখ করতে পারতেন না? নিশ্চয় পারতেন , কিন্তু করেন নি। কারন আমাদের বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের জন্য এই সঙ্গীর নাম জানা গুরুত্বপূর্ন নয়। এই সুযোগটাই নিয়েছে খলিফাদের অনুগ্রহপুষ্ঠ মুসলিম ঐতিহাসিকগন। তাদের দাবীমতে রসূলের ঐ সঙ্গী ছিলেন আবু বকর। 
যদিও মুসলমানরা আবুবকরকে সিদ্দিক (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করেছে, কিন্তু এই আয়াত থেকে জানার উপায় নেই রসূলের এই সঙ্গী তার আজীবনের সাথী / বন্ধু ছিলেন কিনা বা সত্যবাদী অগ্রগামি ধার্মিক ছিলেন কিনা। আয়াতটিতে দেখুন আল্লাহ স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন শুধু রসূলের প্রতি , তার সঙ্গীর প্রতি নয়। সঙ্গীর বিষন্ন হওয়া থেকে ধারনা করা যায় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি তার ভরসা খুব দৃঢ় ছিল না। সুতরাং এই উপসংহারে আসা মনে হয় ভুল হবে না যে এই সঙ্গী রসূলের সফর সঙ্গীই ছিলেন , এর বেশি কোন গুরুত্ব তার নেই। 
কোরানে বর্ণীত সঙ্গীরা (সাহাবা) সাধারনত বিপরিত বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিল বা পৌত্তলিক ছিল। একটি মাত্র আয়াতে সম বিশ্বাসে বিশ্বাসীর দেখা মেলে এবং তারা কাফের ছিল -
৫৪:২৯ অতঃপর তারা তাদের সঙ্গীকে ডাকল। সে তাকে ধরল এবং বধ করল। 
বিপরিত বিশ্বাসের সঙ্গীর বর্ননা-
১৮:৩৪-৩৮ সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব। তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।
পৌত্তলিক , কাফের , মুনাফিক , ধার্মিক সকলেই রসূলের সঙ্গী (সাহাবা) ছিল-
৭:১৮৪ তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।
৩৪-৪৬ বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
৫৩:২ তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
কোরানের আয়াত সমূহ পর্যালোচনা করলেএটাই প্রমানিত হয় যে গুহায় রসূলের সঙ্গী (সাহাবা) যদি মুসলমানদের দাবী অনুযায়ী আবুবকর হয়েই থাকেন , তবে তার রসূলের বিপরিত বিশ্বাসে বিশ্বাসী বা সংশয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারন তিনি ছিলেন বিষন্ন এবং আল্লাহ তাকে স্বীয় সান্তনা দেন নাই।



১৮:২৮ আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।
যারা রসূলের সমালোচনা শুনতে চান না , তারা অনুগ্রহ করে এই পোস্ট পড়বেন না। রসূল আমাদের মতোই মানুষ ছিলেন , দুনিয়ার সৌন্দর্য তাকে ও আকৃষ্ট করত , সমাজের গরিব অগ্রগামী ধার্মিক সাহাবাদের থেকে উচ্চস্তরের ধনী প্রশ্নবিদ্ধ সাহাবীদের সংসর্গ তার বেশি কাম্য ছিল। একারনে আল্লাহ বহু আয়াতের মাধ্যমে রসূলকে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন , তিরস্কার করেছেন। উপরের আয়াতটি মনযোগ দিয়ে পড়লে প্রতীয়মান হয় যে - ১) রসূলকে গরিব সাহাবীদের সঙ্গ বিব্রত করত , তাদেরকে এড়িয়ে চলতেন। ২) সমাজের উপরের স্তরের নেতা ও ধনী প্রশ্নবিদ্ধ সাহাবীদের সাথে বেশি ওঠা বসা করতেন। ৩) এই সকল নেতাদের কথা মানতেন , এদের ধন সম্পদ তাকে আকৃষ্ট করত। ৪) এই নেতাদের মনকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছেন এবং এরা নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা । 
নেতাদের এই যে বর্ননা আমরা কোরান থেকে পাই , তা নবীর মৃত্যু পররবর্তী আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার নায়কদের কথাই স্মরন করিয়ে দেয়। এরা কোরায়েশ , যারা নবুয়্যতের শুরু থেকেই ইসলামের বিরোধীতা করেছে , সাধারন গরিব মুসলমানদের অত্যাচার করেছে , দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে , মুসলমানদের ধ্বংশ করার জন্য যুদ্ধ করেছে আবার ইসলামের নামে আরব সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে তার জাগতিক লাভ ভোগ করেছে। 
২০:১৩১ আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
৯:৫৪-৫৫ তাদের অর্থ ব্যয় কবুল না হওয়ার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাসী, তারা নামাযে আসে অলসতার সাথে ব্যয় করে সঙ্কুচিত মনে। সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আযাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া কুফরী অবস্থায়।
৯:৮৫ আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির দরুন। আল্লাহ তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে। 
বারে বারে আল্লাহ রসূলকে একি আদেশ করেছেন , এর অর্থ রসূল বারে বারে একি ভুল করেছেন। 
নিচের আয়াতগুলো পড়ুন ও ভাবুন- ৮০:১-১০
তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত , অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হত। পরন্তু যে বেপরোয়া, আপনি তার চিন্তায় মশগুল। সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোন দোষ নেই। যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন। কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবানী।




Sunday, January 26, 2020

আস্তিক ও নাস্তিকের গল্প


এক সুন্দর বিকালে আস্তিক ও নাস্তিক দুই বন্ধু , আস্তিকের বাসার বৈঠকখানায় চা নাস্তা খেতে খেতে তর্কে মেতে উঠল।
নাস্তিক: তুমি একই সাথে দুটোরই পক্ষ নিতে পার না। হয় তোমাকে বাইবেলের পক্ষ নিতে হবে অথবা বিবর্তনবাদের। বাইবেল বলছে পৃথিবীতে মানুষ ও অন্যান্য জীব ও গাছপালার বয়স অনধিক ১০ হাজার বছর এবং সূর্য তথা মহাবিশ্বের আগে পৃথিবীর জন্ম। কিন্তু বিজ্ঞান এবং বিবর্তনবাদিরা বলছে , ওরা ৩৬০ কোটি বছরের পুরানো জীবাশ্ম (fossil) খুজে পেয়েছে।মহাবিশ্বের আগে পৃথিবীর জন্ম অসম্ভব।পরষ্পরবিরোধী দাবী।
আস্তিক: অবশ্যই তুমি দুপক্ষ নিতে পার।এর জন্য তোমাকে কিছু তথ্য জানা লাগবে।
নাস্তিক চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললো : ঠিক আছে। বলো শুনি। সাবধান, উল্টাপাল্টা বুঝ দিয়ে কিন্তু পার পাবে না।
আস্তিক কোন কথা না বলে, সোফা থেকে উঠে বুকশেল্ফ থেকে রাজা জেম্‌স ভার্সান বাইবেল (সবচেয়ে বেশি পঠিত) ও ইংলিশ-হিব্রু-ইংলিশ ডিকশনারি এনে নাস্তিককে দিয়ে বললো: ঈশ্বরবাদী ও বিবর্তনবাদী উভয়েই বাইবেলের প্রথম দুটি আয়াতের মানে বুঝতে ভুল করেছে। সমস্ত রহস্য মাত্র একটা শব্দের মধ্যে নিহিত।
নাস্তিক: একটা শব্দ ! কোনটা?
আস্তিক: ঈশ্বরবাদী ও বিবর্তনবাদীর মধ্যেকার বিতর্ক শুধু শেষই করবে না , ওদেরকে এক করে দেবে। ঠিক আছে , বাইবেল খুলে প্রথম আয়াত দুটি পড়ে শোনাও।
নাস্তিক: Genesis
1:1 In the beginning God created the heaven and the earth. (ঈশ্বর প্রথমে মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী সৃষ্টি করলো)
1:2 And the earth was without form, and void; and darkness was upon the face of the deep. And the Spirit of God moved upon the face of the waters.(এবং পৃথিবী ছিল নিরাকার ও শূন্যময়; অতল গহ্ববরের উপর অন্ধকার বিরাজ করত। ঐশ্বরিক এক বায়ু জলরাশির উপর বইত।)
আস্তিক: জানোই তো বাইবেল হিব্রু ভাষায় নাযিল হয়েছিল। এখন ডিকশনারি খুলে দেখতো , “ছিল”র (was) সমার্থক আর কি কি শব্দ আছে? হওয়া বা হয়ে গেল (it came to pass or became) আছে না? ২য় আ্য়াতের সঠিক মানে হবে পৃথিবী হয়ে গেল (became) বিশৃঙ্খল (chaotic) ও খালি (empty)।
নাস্তিক রেগে গিয়ে বললো: তুমি বাইবেল নুতন করে লিখবে নাকি?
আস্তিক: আমি তোমাকে আদি হিব্রু থেকে ২য় আয়াতের মানে দেখাচ্ছি , ইংরাজি অনুবাদ ভুলে যাও। আদি হিব্রুতে নিরাকার ও শূন্যময়ের আরো মানে হয় - বিশৃঙ্খল ও খালি। আরো দেখ , হিব্রু শব্দ “হায়া , তহু আর বোহু” র সঠিক কোন ইংরাজি প্রতিশব্দ নেই।এই সবকিছু এক করলে দেখবা , ১ম ও ২য় আয়াতের মাঝে শত শত কোটি বছরের ব্যবধান। বাইবেলে মাঝের এই সময়ের কোন বর্ননা নেই। 
১ম আয়াত - ঈশ্বর প্রথমে মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন। সেটা বিগ ব্যন্গের মতো শুরু হতেই পারে , ঈশ্বর যখন বলেন নি কেমনে তিনি সৃষ্টি করেছেন। 
২য় আয়াত অনুযায়ী পৃথিবী বিশৃঙ্খল ও খালি হওয়ার আগ পর্যন্ত (ঈশ্বরবাদীদের দাবী অনুযায়ি ১০ হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত) মহাবিশ্ব বিজ্ঞানিদের ধারনার সাথে মিল রেখে বিকশিত হয়েছে এবং এ পৃথিবীতে ডারউইনের থিওরী অনুযায়ি জীবণের বিকাশ ঘটেছে।
নাস্তিক: সে না হয় হলো, তা ১০ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবী খালি হলো কি করে? যার ফলে ঈশ্বর কে আবার সবকিছু নুতন করে সৃষ্টি করতে হোলো, বাইবেলে যেমন বলা হয়েছে?
আ্স্তিক: সঠিক বলতে পারব না । এর কারন বিজ্ঞানিরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি কিছু ধারনার কথা বলতে পারি। হয়ত প্রকান্ড কোন উল্কাপাত হয়েছিল বা দীর্ঘদিন ধরে বিশাল অগ্নুৎপাত হয়েছিল , যার ফলে সমগ্র পৃথিবী আগুনে পুড়ে যায় ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে সূর্য রশ্মি ভূপৃষ্ঠে না পৌছার ফলে তৃণ , গাছপালা সব মরে যায়। ফলশ্রুতিতে সকল জীব মারা যায় খাদ্যের অভাবে। সূর্যের তাঁপের অভাবে শুরু হয় বরফ যুগ। সমস্ত পৃথিবী বরফে ঢেকে নিরাকার ও খালি হয়ে যায়। সমুদ্রের গভীরে কিছু মাছ জাতীয় প্রাণী বেচে থাকতে পারে। কিছু কিছু প্রমানের কথা শুনতে পাই , সত্যি মিথ্যা জানি না। ম্যমথের গনকবর পাওয়া গেছে , তারা নাকি হটাৎ বরফে জমে ঘাস খেতে খেতে মারা গেছে , মুখে নাকি ঘাস ছিল। এটা নাকি ঘটেছিল আনুমানিক ১০ হাজার বছর আগে। একই সময়কার টক্সিক ভলকানিক ডাস্ট নাকি পাওয়া যায় , যা পুরো পৃথিবীকে ঢেকে ফেলেছিল।
নাস্তিক: হুম ! এ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে , কিন্তু বাইবেলে পরে যা বলা হয়েছে , তা তো বিশ্বাসযোগ্য না।

আস্তিক: সন্ধ্যা হয়ে গেছে । মাগরেবের নামাজ পড়বো। আজ বাড়ি যাও। আরেকদিন বাকিগুলো নিয়ে আলাপ করব।

Friday, October 11, 2019

ইসলাম কী?

প্রিয় ইব্রাহিম ( https://faruk55kw.blogspot.com/2017/07/blog-post_15.html ) ভাই ও বোনেরা , আপনারা যারা নিজ আত্মাকে রোগমু্ক্ত করার প্রচন্ড তৃষ্ণা অনুভব করেন , তাদের স্বাদ আস্বাদনের জন্য নিম্নের এই আয়াত দিয়ে শুরু করছি-
১০:৫৭
‎يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاء لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী (ওয়াজ)এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময় (شِفَا)ও হেদায়েত ও রহমত মুমিনদের জন্য।


সম্ভবত আপনাদেরকে বলা হয়েছে ইসলাম মানে আত্মসমর্পন। সাথে সাথে এটাও বাখ্যা করা হয়েছে যে , ইসলাম মানে শান্তি। ইসলামকে কি সুন্দর মোড়কে আবৃত করা হয়েছে , তাই না? এখন আমরা ইসলাম শব্দের শব্দগত মানে পুনরায় আবিষ্কার করব। 
‎سلم: مقاييس اللغة
‎السين واللام والميم معظم بابه من الصحة والعافية; ويكون فيه ما يشذ, والشاذ عنه قليل, فالسلامة: ان يسلم الإنسان من العاهة والأذى
আত্মসমর্পন নয়, শান্তি ও নয়। ইসলামের মূলে যে শব্দ আছে سلم অর্থাৎ সুস্থ (রোগ মুক্ত)। শারীরিক ও মানসিক রোগের অনুপুস্থীতিই হলো সুস্থতা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ইসলাম মানে মানসিক বা অন্তরের রোগ মুক্তি। ভুল বিশ্বাস ও সকল প্রকার মূর্খতা , জড়তাই হলো অন্তরের রোগ। শারীরিক রোগ থেকে মুক্তির নিরাময় বা শেফা (شِفَاء) আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা। আর অন্তরের রোগের নিরাময় বা শেফা (شِفَاء) পরোয়ারদেগারের উপদেশবাণী অর্থাৎ এই কোরান। 
মুসলিম (مفعل) সেই যে নিজের অন্তরকে সুস্থ করার আশায় এই চিকিৎসাবিদ্যা বা ইসলাম (إفعال) বাস্তবায়ন করে। মিথ্যা ও ছাইপাঁশে ভরপুর এপৃথিবীতে সম্ভবত এ এক অলীক , অবাস্তব আশা।

Tuesday, October 8, 2019

হিকমাহ

কোরানই হিকমত/জ্ঞ্যান/الْحِكْمَةَ
আল্লাহ বলেছেন , "তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত (وَالْحِكْمَةَ)। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। ৬২:২"
প্রচলিত বিশ্বাস এই যে আল্লাহ রসূলকে দুটি ভিন্ন জিনিষ দিয়েছেন। কিতাব তথা কোরান এবং হিকমাত তথা সহীহ হাদীস সমূহ। প্রমাণ হিসাবে তারা উপরের আয়াতে সংযোজক অব্যয় পদ وَ (ওয়াও) এর উল্লেখ করেন। কিন্তু কোরানে وَ শুধু ভিন্নতার জন্য নয় বরং একই জিনিষের ভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট করার জন্য ও ব্যবহৃত হয়। যেমন দেখুন - "আমি মূসা ও হারুণকে দান করেছিলাম মীমাংসাকারী গ্রন্থ ও আলো ও উপদেশ, আল্লাহ ভীরুদের জন্যে। ২১:৪৮" এই আয়াতে দেখুন আলো ও উপদেশের আগে সংযোজক পদ 'ওয়াও' আছে , কিন্তু এখানে ৩টি ভিন্ন জিনিষের কথা বলা হচ্ছে না। একটি গ্রন্থের কথাই বলা হচ্ছে। 
নিঃসন্দেহে কোরানই যে হিকমত , তা আমরা জানতে পারি ২:২৩১ আয়াত থেকে। "আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা (الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ) তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়"। কিতাব ও হিকমত দুটি ভিন্ন জিনিস হলে , (এক বচন) 'যার' দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয় না বলে ,(বহুবচন) যাদের দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়" বলা হোত।
কোরানের আয়াতই হিকমত এবং ওহীকৃত হিকমত সম্পর্কে আল্লাহ জানিয়েছেন ১৭ নং সূরার ২২ আয়াত থেকে ৩৯ আয়াতের মাধ্যমে। শুরু হয়েছে নির্দেশের মাধ্যমে -
"স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। ১৭:২২" 
শেষ হয়েছে - "এগুলো ঐ হিকমতের অন্তর্ভূক্ত, যা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ওহী মারফত দান করেছেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন। ১৭:৩৯"
হিকমত পড়ে অর্জন করতে হয়। আল্লাহর দেয়া এ হিকমত আমাদের এই ঘুনে ধরা সমাজের আমূল পরিবর্তন করে সত্যিকারের ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। একারনে কোরানের হিকমতের বাণীগুলো এখানে দিলাম , যাতে ইচ্ছুকরা পড়তে পারে ও হিকমত অর্জন করতে পারে। 
"স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভালই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্যে ক্ষমাশীল। আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। এবং তোমার পালনকর্তার করুণার প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল। তুমি একেবারে ব্যয়-কুষ্ঠ হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃতি, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। নিশ্চয় তোমার পালকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত,-সব কিছু দেখছেন। দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ। আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত। আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পন করা পর্যন্ত এবং অঙ্গীকার পূর্ন কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ। যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না। এ সবের মধ্যে যেগুলো মন্দকাজ, সেগুলো তোমার পালনকর্তার কাছে অপছন্দনীয়। এগুলো ঐ হিকমতের অন্তর্ভূক্ত, যা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ওহী মারফত দান করেছেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন। ১৭:২২-৩৯"

Thursday, August 22, 2019

সরল/সোজা পথ

যে সকল মুসলমান ভাইয়েরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ,তারা ন্যুনতম ১৭ বার
‎اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ অর্থাৎ আমাদেরকে সরল/সোজা পথ দেখাও, বলে থাকেন। কখনো কি জানার চেষ্টা করেছেন , এই সরল/সোজা পথ কোনটি? এই সরল/সোজা পথ সম্পর্কে কোরান কি বলে?
সরল/সোজা পথ হলো আমার রব্বের পথ-
১৪:৫৬ আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের রব্ব। বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। নিশ্চয় আমার রব্ব সরল পথের উপরে।
১৪:১ আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন-পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য রব্বের নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।
সরল/সোজা পথ নিজের জন্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে করা চুক্তি মেনে চলি-
৩৬:৬০-৬১ হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদের সাথে চুক্তি করিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
৩:৫১ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদের ও রব্ব-তাঁর এবাদত কর, এটাই হলো সরল পথ।
১৯:৩৬ তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব্ব ও তোমাদের রব্ব। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।
১৫:৪১-৪২ আল্লাহ বললেনঃ এটা আমার পর্যন্ত সোজা পথ। যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু সেই সকল উদভ্রান্তরা ছাড়া যারা তোমার অনুসরন করে। 
কেমনে সরল/সোজা পথে চলতে হবে-
৬:১৫১-১৫৩ আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রেøর কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।
এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।
আল্লাহ কোরানের মাধ্যমে সরল/সোজা পথে পরিচালিত করেন- 
৩৪:৬ যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, তারা আপনার পালনকর্তার নিকট থেকে অবর্তীর্ণ কোরআনকে সত্য জ্ঞান করে এবং এটা মানুষকে পরাক্রমশালী, প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে।
১০:৩৫ জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য? অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?