Thursday, September 12, 2013

ইসালামের নবীর সাক্ষাৎকার


সা= সাংবাদিক
ম= নবী মুহাম্মদ
---------------------------------------------------------------------------------------------------

ইসলামের নবী মুহাম্মদ বর্তমানের বহুধা বিভক্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন--

সা-  ও আমাদের প্রিয় নবী।  আপনাকে কিছু প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  আপনার এই দয়ার কথা কখনো ভুলবো না।

ম-  যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। (১:২)

সা-  হ্য , তাতো বটেই।  দুঃখিত এমন প্রশ্নের জন্য--এখন আপনি কি আমাদের বলবেন , আপনি কে এবং ইসলাম ধর্মে আপনার অবস্থান কোথায়? 

ম-  বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।(৭:১৫৮)

সা-  বোঝা গেল আপনি আল্লাহ প্রেরিত রসূল। তো... রসূল হিসাবে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

ম-  আমি তাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি, তার কোন একটি যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই কিংবা আপনাকে উঠিয়ে নেই, তাতে কি? আপনার দায়িত্ব তো পৌছে দেয়া এবং আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।(১৩:৪০)

সা-  আপনি বলছেন আপনার দায়িত্ব হলো শুধুই কোরানের বাণী পৌছে দেয়া? না না , তা কি করে হয়!! আবার বলেন না কোন রকম ব্যাখ্যা ও শিক্ষা দেয়া ছাড়াই তোতা পাখির মতো কোরান আবৃত্তি করাই আপনার দায়িত্ব?

ম-  প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নির্দেশাবলী ও যাবুর এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।(১৬:৪৪)

সা-  ওকে ... তাহলে কোরানের বাণী আপনি মানুষের কাছে কিভাবে বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করেন? 

ম-  আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।(১৬:৬৪)

 সা-  ওয়াও! এর মানে দাড়ালো এই গ্রন্থ দিয়েই আপনি পরিষ্কার বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করে দেন। কিন্তু .. তা কিভাবে সম্ভব?

ম-  সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।(১৬:৮৯)

     আমি এই কোরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপমা দ্বারা সব রকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি।(১৭:৮৯)

          অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।  এরপর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্ব।(৭৫:১৮-১৯)


সা-  দেখা যাচ্ছে কোরান নিজেই নিজের ব্যাখ্যা দেয় এবং এর বিষদ বর্ণনা দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহর। হুম ..  কিন্তু যাই বলেন ,  শুধুমাত্র একটি পিয়নের ভূমিকা আপনার হতে পারে না।  আপনার সম্পর্কে কত ভাল ভাল অত্যাশ্চর্য ঘটনা শুনেছি , তা তো আর মিথ্যা হতে পারে না।

ম-  আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।(৩:১৪৪)

সা-  দাড়ান দাড়ান ,  আপনি একি বলছেন? এত দিন যা শুনে এসেছি জেনে এসেছি তার কিছুর সাথেই তো মিলছে না। শুধু একটা --

ম-  আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়। আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।   অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভু-মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না।   অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (১২:১০৩-১০৬)

সা-  তাইতো বলি ,  আল্লাহর নামের সাথে কেন আপনার নাম ও উচ্চারিত হয় তা এখন বোধগম্য হচ্ছে।  আমাদের ধর্মগুরুরা বলে থাকেন আপনার ব্যাখ্যা ছাড়া কোরান বোঝা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

ম-   তারা আপনার কাছে কোন সমস্যা উপস্থাপিত করলেই আমি আপনাকে তার সঠিক জওয়াব ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি।(২৫:৩৩)

সা-  আপনি বলছেন কোরানের ব্যাখ্যা কোরান  নিজেই। ওয়াও!! পরীক্ষা করে  দেখা যাক কোরানে সকল সমস্যার জবাব আছে কি না? না না আমি আপনাকে টেলিভিশন খারাপ হলে কিভাবে ঠিক করতে হবে সে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব না , সে প্রশ্নটি থাকুক ফ্যসাদসৃষ্টিকারীদের জন্য।  কিন্তু তারপরেও  .. আমি শুনেছি কোরান বোঝা খুব কঠিন , মানে বলতে চাচ্ছি অন্য কেউ ব্যাখ্যা করে না দিলে কোরান বোঝা সম্ভব নয়।

ম-  আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (৫৪:১৭)

সা-   বিষ্ময়কর!  মুসলিম উম্মাহ ও ধর্মগুরুরা বলছে এক কথা আর আল্লাহ বলছেন সম্পুর্ন বিপরিত কথা।  এখন অন্য প্রসঙ্গে যাই -- 
আপনি ইসলামের রোল মডেল , যাকে নাকি অনুকরন ও অনুসরন করা লাগবে?

ম-  যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (৩৩:২১)


সা-  মুসলমানদের অনুকরন ও  অনুসরনের জন্য আপনিই কি একমাত্র উত্তম নমুনা?

ম- তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। (৬০:৪)

    তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ বেপরওয়া, প্রশংসার মালিক। (৬০:৬)


সা-  যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাদের বলবেন  , আপনাকে কোন মডেল কি  দেয়া হয়েছিল ? 

ম-  অতঃপর আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, ইব্রাহীমের দ্বীন অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং শিরককারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। (১৬:১২৩)

সা-  এক মিনিট .....মুসলমানদের আপনাকে মডেল মেনে অনুসরন করতে হবে এবং আপনি মডেল হিসাবে ইব্রাহিমকে অনুসরন করেন।  এর অর্থ কি এই , আপনি যেভাবে ঘুমাতেন ঠিক সেভাবেই ঘুমাতে হবে বা কোলগেট দিয়ে দাত মাজা যাবে না?

ম-  আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন ওহী আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।(১০:১০৯)

সা-  তাই বলেন!! আসলেইতো  .....আপনি অনুসরন করেন কোরানকে আর মুসলমানদের অনুসরন করতে হবে আপনাকে অর্থাৎ  কোরানকেই।   ধর্মগুরুরা বলে থাকেন আপনার মতো করে কাপড় পরতে হবে বা খেতে হবে , যেগুলা আমরা কোরানে পাইনা। এব্যপারে আপনি আল্লাহকে কি বলবেন?

ম-  রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে। (২৫:৩০)

সা-   ও নবী আমার তো কান্না পাচ্ছে এসব শুনে। কোরানের পরিস্কার আয়াত শোনার পরেও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আমাদের কি করার আছে?  প্লিজ সাহায্য করুন।

ম-  অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে পরিস্কার ভাবে সতর্ক করেছি এবং আমি জানি না, তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী।( ২১:১০৯)

  আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই। (৬:৬৬)


সা-   আরো অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করার ছিল , কিন্ত সময় শেষ। আশা করি ভবিষ্যতে যদি সুযোগ পাই তাহলে আপনাকে নিয়ে যে সকল রূপকথা ও গল্প চালু আছে , সে ব্যাপারে আপনার মতামত জানব ইনশাল্লাহ।

ম-  বলুনঃ আমাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। সুতরাংতোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে? (২১:১০৮)



সা-   হে প্রিয় নবী আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। ছালাম।








                   

Sunday, August 11, 2013

বেহেশত/জান্নাতের বিবরন


বেহেশত ও বেহেশত নিয়ে আলোচনার চেয়েও সুন্দর , মজাদার আর কি আছে.....এর আকাঙ্খা বুকে ধারন করেই অধিকাংশ মুসলমান নরকসম এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে যাত্রা করে।

প্রায় সকল ইসলামি পন্ডিতগণ বেহেশতের সুখ , বিলাসিতা এবং আনন্দদায়ক বর্ণনা সম্বলিত কোরানের আয়াতসমূহের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করে থাকেন তাদের 'পার্থিব' জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। এগুলো হলো- ঝুলন্ত পাকা টসটসে খেজুর , আঙ্গুর ও বিভিন্ন উপাদেয় ফল মূল সমৃদ্ধ বৃক্ষসমূহ , যার জন্য হাত বাড়িয়ে পাড়াও লাগবে না শুধু পাওয়ার ইচ্ছার অপেক্ষা, খাওয়ার ইচ্ছা হলেই এগুলো নিজে নিজেই মুখের ভিতরে ঢুকে যাবে , ঠান্ডা ঝর্ণার মুক্তার মতো স্বচ্ছ পানি , তাজা দুধ মদ ও মধুর নদী , ৭০টা কুমারী হুরী .....

যাই হোক ,  কোরান আমাদের 'সীমাবদ্ধ' এই বুঝের ব্যাখ্যা বহু আয়াতেই দিয়েছে। আল্লাহ বলেছেন , বেহেশতের বর্ণনাগুলো সাদৃশ্য বা রূপক ছাড়া আর কিছুই নয় ,  পার্থিব বাস্তবতা নয়।

৭৪:১৫ পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার সাদৃশ্য (مَثَلُ) নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?


বেহেশতের এই বর্ণনা হলো সাদৃশ্য বা রূপক।  বাস্তবের বেহেশত আমাদের সকলের কল্পনা ও জ্ঞানের উর্ধে। বাস্তবের এমন কোন ফুটন্ত পানির কথা আমরা জানিনা যা নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমন কোন শরাবের কথা জানিনা যা সুস্বাদু।

৩২:১৭ কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।
 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বেহেশতের সুখ ও আনন্দ লুক্কায়িত , গুপ্ত। যেমনটি দোযখের আযাব ও।  দোযখে আগুনের মাঝখানে 'জাকুম' নামে এক গাছ আছে যার ভিতরে ফুটন্ত পানি আছে যা পোড়ায়।

বাস্তবে এমন কোন গাছের কথা কি জানি যা আগুনের মাঝে জন্মে ও ফুটন্ত পানি ধারন করে?

যারা জননাঙ্গের দৃষ্টিকোন থেকে বেহেশতে যৌণসুখের কল্পনায় বিভোর , তাদের স্মরন করিয়ে দিতে চাই -  বেহেশতে বাচ্চা জন্ম দেয়ার কোন ব্যাপার স্যাপার নেই অর্থাৎ নুতন কোন বাচ্চা জন্মাবে না বা কেউ প্রেগন্যান্ট হবে না  বা প্রসব বেদনা ও থাকবে ন। যেকারনে বেহেশতে জননাঙ্গের প্রয়োজনীয়তাও নেই হয়ে যাবে। যেমনটি নেই হয়ে যাবে মলনালী/rectum, কারন বেহেশতে কেউ পায়খানা করবে না। বেহেশত যেহেতু শান্তির আবাস , সেহেতু থাকবে না কোন রোগ শোক , ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস। ফলে দরকার হবে না শরীরের রোগপ্রতিরোধক অঙ্গের (immune system)। হয় এসব অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ নাই হয়ে যাবে বা অব্যাবহারের ফলে এপেনডিক্সের মতো অবিকশিত rudimentary হয়ে যাবে।

১৫:৪৭ তাদের অন্তরে যে হিংসা ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে।

এর অর্থ দাড়ায় পরজন্মে শারীরিক অঙ্গের মতো মানসিক চিন্তার ও পরিবর্তন ঘটবে। সুতরাং নুতন সৃষ্টিতে (Nash'a Ukhra) আমরা ভিন্ন জন্ম ও ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক গঠনই মনে হয় পেতে যাচ্ছি।

৭৫:২২-২৩ সেদিন অনেক মুখমন্ডল সুখি হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকায় সুখ!! এমনি হবে পরজন্মের উচ্চ মার্গের সুখ , যা এই পৃথিবীতে আমাদের বুঝে আসে না।


পরকালের সুখ যে এমনি হবে তা পরিস্কার ভাবে আল্লাহ বুঝিয়েছেন পাপীদের উদ্দেশ্যে বলা নিচের এই আয়াতে- 
৩:৭৭ আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টিও দেবেন না।
এমনি কঠিন শাস্তি ও দুর্ভোগ পাপীরা রোজ হাশরের ময়দানে উপলব্ধি করবে।


আমরা কেমনে পালনকর্তা আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকব?  এটা কি আমাদের এই মানবিক চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকব , যা কিনা শুধু মাত্র দুরত্ব ও আকৃতি (shapes) দেখতে পারে? নাকি অন্তরের চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকব? এটাই রহস্য। এই রহস্যের উত্তর জানতে হলে আমাদের রোজ হাশরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা লাগবে এবং এই তাকিয়ে থাকার মধ্যে যে চরম সুখ ও শান্তি , তার গভীরতা রোজ হাশরের আগে পর্যন্ত গুপ্ত লুক্কায়িতই থেকে যাবে।

বেহেশত ও দোযখ গুপ্ত, এখনো সৃষ্টিই হয় নি। এর সাদৃশ্য হলো গুটি পোকা ও নয়ন জুড়ানো প্রজাপতির সৌন্দর্যের মাঝের সাদৃশ্যের মতোই। কুৎসিত গুটিপোকা দেখে কি প্রজাপতির সৌন্দর্যের কথা কল্পনায় আসে , যদি ও এরা একি প্রাণী।

৭৬:১৯ তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা।
 

ইসলাম বিদ্বেষীদের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় আক্রমনের লক্ষ্য হলো এই আয়াতটি , যা তাদের অসুস্থ সমকামী যৌণকামনার  বহিঃপ্রকাশ। চোখের সামনে নিজের বা পরের ছোট বাচ্চা কিশোর ঘুরঘুর করতে দেখে ও তাদের সাথে (যৌণতা মুক্ত) খেলা করে আনন্দ পায় না এমন লোক খুজে পাওয়া দুষ্কর। সিরিয়াল খুনী ও নিজের বাচ্চাকে আদর করে , ভালবাসে।  মনে রাখা দরকার , বেহেশতে যেহেতু নুতন বাচ্চা জন্ম নেবে না , সেকারনে কিশোর সঙ্গের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হওয়ার জন্যই এই ব্যাবস্থা।(সত্যি সত্যিই কিশোর থাকবে  নাকি কিশোর সঙ্গের আনন্দকে বোঝানোর জন্য এই সাদৃশ্য আয়াত , আমি জানি না)

বেহেশতের সুখ ও শান্তি পেট ও চ্যাটের আকাঙ্খা পূরনের জন্য যে নয় তা বুঝতে হলে কোরানের সকল বাণী অনুধাবন করা প্রয়োজন। আমরা ভ্রমনে আছি , লক্ষ্য পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছানো।

৮৪:৬হে মানুষ, তোমরা পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই নিরন্তর এগিয়ে চলেছ।"O humans, you are irreversibly heading for a meeting with your Lord." (84:6)

অনেক দুর পথ পাড়ি দেয়া লাগবে। আল্লাহ যেহেতু চিরজীবি চিরস্থায়ী , সেহেতু মনে হয় এই যাত্রা ও অনন্তকাল ধরেই চলতে থাকবে। বেহেশতের বাসিন্দা পূন্যবান নারী ও পুরুষ বলবে - 
৬৬:৮ তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন।


এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে , এই ভ্রমন এই যাত্রা বেহেশতে ও দোযখেও চলতে থাকবে। যে পূণ্যবান সে বেহেশতের সুখ ও আনন্দের মাঝে থেকে এই পথ পাড়ি দেবে , আর পাপী দোযখের কষ্টের মাঝে থেকে এই পথ পাড়ি দেবে।

তোমার প্রভুর কাছেই সমাপ্তি।

Tuesday, October 30, 2012

আমার নামাজ

(প্রথমেই আমি সকলকে সতর্ক করে দিতে চাই যে , নামাজ সম্পর্কে আমার এই বক্তব্য, সম্পুর্নরুপে আমার নিজস্ব।)

আমি এমন কোন গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি নই যে আমি কিভাবে নামাজ পড়ি সেটা অন্যদের জানা আবশ্যক বা অন্যদের জন্য অনুকরনীয়। আমি মনে করি কে কিভাবে নামাজ পড়বে এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরন করবে ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে , সেটা যার যার নিজস্ব বিষয়।

আমি প্রচলিত নিয়মেই কোরানের আলোকে কিছু সংশোধনীসহ দৈনিক ৫ বার ফরজ নামাজ পড়ি। কোন সুন্নত নামাজ পড়ি না। ফরজ নামাজের প্রচলিত নিয়ম বা রাকাত সংখ্যা তো কোরানে নেই। তাহলে কোরান বহির্ভূত পদ্ধতিতে নামাজ পড়ে আমি দ্বিচারিতা বা ভন্ডামি করছি কিনা? না , করছি না। কারন-

১) কোরানে যেহেতু নামাজ পড়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা রাকাত সংখ্যার উল্লেখ নেই , সেহেতু আমি মনে করি আল্লাহ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন যার যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে নামাজ পড়ার। নামাজের মধ্যে শিস না দিলে ও তালি না বাজালেই হলো (৮:৩৫)।

২) কোরান অনুযায়ী নামাজের যে ৩ অঙ্গভঙ্গির কথা বলা হয়েছে – দাড়ানো , রূকু ও সিজদা , এর সবগুলোই আমরা প্রচলিত নামাজের সময় করে থাকি। সুতরাং প্রচলিত নিয়মে নামাজ পড়ে আমি কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু করছি না।

৩) আমি নামাজ শিখেছি বাপ মার নামাজ পড়া দেখে ও নামাজের খুটি নাটি জেনেছি সম্ভবত আমাদের বাড়িতে যে মৌলভি সাহেব লজিং থাকতেন , তার কাছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ লোক এভাবেই নামাজ পড়া শেখে। এটাকেই বলে ‘বিল মারুফ’ বা সমাজে প্রচলিত , অনুমোদিত ও গৃহীত কোন নিয়ম। ভিন্ন ভিন্ন সমাজের জন্য ‘বিল মারুফ’ সাধারনত ভিন্ন হয়ে থাকে। কোরানে বহু বার বিল মারুফ অনুযায়ী বিচার করতে বা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

৪) একটা বিষয় লক্ষনীয় , কোরানে না থাকলেও সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে ফরজ নামাজের রাকাতের সংখ্যা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই , আর নামাজ পড়ার ধরনের মধ্যেও যে পার্থক্য , তা খুবই সামান্য। এর থেকে কি এটাই প্রতীয়মান হয়না যে , আল্লাহ নামাজকে মানুষের পালনের মাধ্যমে সংরক্ষন করছেন বা সংরক্ষন করবেন কেয়ামত পর্যন্ত। যে কারনে কোরানে নামাজ কত রাকাত , বা সঠিক ভাবে নামাজ কি ভাবে পড়তে হবে , তা লেখেন নি। খেয়াল করুন ফরজ নামাজে কোন বিভক্তি নেই। ইচ্ছা করলেই কেউ ফরজ নামাজের সংখ্যা বা রাকাত সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেনা বা যদি করেও কেউ মানবে না। ৪:১০২ আয়াত থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে , নামাজে রাকাতের সংখ্যা দুই বা ততোধিক। একারনে ফরজ নামাজে প্রচলিত রাকাত সংখ্যা কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক নয় বিধায় আমি প্রচলিত রাকাত সংখ্যা অনুযায়ী নামাজ পড়ে থাকি।

সংশোধনিসমূহ-

১) আমি নামাজের শুরুতে কোন নিয়ত করি না। আল্লাহ প্রতিটি বান্দার মনের খবর জানেন। একারনে ঘটা করে নিয়ত করাকে আমার কাছে বাহুল্য মনে হয়।

২) আমি সাধারনত বাড়িতে একাকি নামাজ পড়ি। ১০৭ সূরাতে লোক দেখানো নামাজ পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শুধু জুম্মার নামাজ মসজিদে পড়ি এবং কখনো কার্যোপলক্ষে বাড়ির বাইরে থাকলে মসজিদে ওয়াক্তের নামাজ জামাতের সাথে পড়ি।

৩) বাড়িতে পুরো নামাজই ২ , ৩ বা ৪ রাকাত যখন যেটা প্রযোজ্য , মধ্যম স্বরে পড়ি। এমনকি রুকু ও সিজদার সময় তাসবীহ এবং বৈঠকের সময় শাহাদা ও কোরান থেকে দোয়া মধ্যম স্বরে পড়ি।

৪) ১ম ২ রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ‘قُلْ ‘ শব্দটি বাদ দিয়ে সূরা ফালাক্ক ও সূরা নাস পড়ি।

৫) বৈঠকে আত্তাহিয়াতু ও দরূদ পড়ি না। বদলে ৩:১৮ আয়াত শাহাদা হিসাবে এবং কোরান থেকে বিভিন্ন দোয়া পড়ি।

পরিশেষে এটাই বলব , আমার নামাজ সময়ের সাথে আমার জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

কোরান থেকে নামাজ

৬:১১৪-১১৫. তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
 
আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

নামাজ ফারসি শব্দ। কোরানে বর্ণীত আকিমুস সালাতের অর্থ ব্যাপক হলেও আমরা সাধারনত সালাত বলতে নামাজ পড়াকেই বুঝে থাকি।কোরানে ৬৭ বার সালাতের উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরে ও সালাতের খুটিনাটির খোঁজে যারা কোরান ছাড়া অন্য গ্রন্থের স্মরনাপন্ন হয় , তারা কোরানে বর্নীত সেই ইহুদিদের কথাই মনে করিয়ে দেয় , যাদেরকে গরু জবাই করতে বলা হয়েছিল। যে কোন একটি গরু জবাই দিলেই যখন সহজে কাজ সমাধা হয়ে যেত , সেখানে খুটিনাটি জানতে চেয়ে তারা গরু খোঁজার কাজটি কঠিন করে তুলেছিল।
২:৬৭-৭০ যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

তারা বলল, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলছেন, সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয়-বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল।

তারা বলল, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যে, তার রঙ কিরূপ হবে? মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভী-যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে।

তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন-তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয়। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়-হবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত।

একে একে কোরান থেকে নিম্ন লিখিত বিষয় নিয়ে লিখব -
১) সালাতের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য
২) সালাতের ইতিহাস
৩) সালাত পূর্ব করনীয়
৪) সালাতে অঙ্গবিন্যাস
৫) সালাতে কি বলতে হবে?
৬) দৈনিক সালাতের সংখ্যা
৭) কয় রাকাত?
৮) জুমা বারের সালাত
৯) আমার সালাত

১) সালাতের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য
আল্লাহকে স্মরন করার জন্যই সালাত।
২০:১৪ আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।
সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।
২৯:৪৫ আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।
এই আয়াত থেকে আমরা আরো জানতে পারি – আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। সালাত আল্লাহকে স্মরন করার একটা উপায় মাত্র। সালাত ছাড়াও আল্লাহকে স্মরন করা যায় এবং সকলসময় সেটাই করতে বলা হয়েছে কোরানে।
৪:১০৩ অতঃপর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন সালাত ঠিক করে পড়। নিশ্চয় সালাত মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
সালাত পরকালের জন্য সর্বোত্তম বিনিয়োগ
৩৫:২৯ যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসা আশা কর, যাতে কখনও লোকসান হবে না।
সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে বলা হয়েছে।
২:৪৫ ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর সালাতের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।
২:১৫৩ হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

২) সালাতের ইতিহাস

সালাতের ইতিহাস অনেক পুরনো। কোরান থেকে যেটা জানা যায় ইব্রাহিম নবীর সময় থেকে শুরু করে পরবর্তি সকল নবী রসূলের আমলে সালাত প্রচলিত ছিল। সময়ের সাথে সাথে মানুষ সঠিক সালাত ভুলে গিয়েছিল বা বিকৃত করে ফেলেছিল।
সালাত ১৪০০ বছর আগের নুতন কোন আবিস্কার নয়। কোরান থেকেই জানতে পারি , রসূল মুহাম্মদের সমসাময়িক কাফের মুশরিকরা ও সালাত পালন করত। তবে তাদের প্রধান উপাস্য আল্লাহর সাথে সাথে অন্যান্য শরীক আলাত , মানাত ও উজ্জার উপাসনা ও করত। তাদের বিশ্বাস ছিল এই শরীকরা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তি করবে , তাদের জন্য সুপারিশ করবে। রসূলকে দিয়ে আল্লাহ সালাতকে শরীকমুক্ত করে শুধুমাত্র আল্লাহ বন্দনা ও আল্লাহর স্মরনে সঠিক সালাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

শয়তান তো আর হাত গুটিয়ে বসে নেই। তাই তো দেখতে পাই আজকের মুসলমানেরা সালাতে আল্লাহর সাথে সাথে অন্যান্য শরিকদের স্মরন করে , তাদের জন্য প্রার্থনা করে। না করলে নাকি সালাতই হবে না। এদের বিশ্বাস এই শরীকরা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তি করবে , আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করবে। শরীকদের গ্রন্থ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব অনুসরনের কথা বল্লে , গালাগালির নহর বয়ে যায় , শারীরিক নিগ্রহের ধামকি দেয় , কন্ঠরোধের হুমকিই শুধু দেয় না বাস্তবেই কন্ঠরোধ করে।

ইব্রাহিমের সালাত।
২:১২৫ যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের ( مُصَلًّى) জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।
মূসা ও হারুনের সালাত
১০:৮৭ আর আমি নির্দেশ পাঠালাম মূসা এবং তার ভাইয়ের প্রতি যে, তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরের মাটিতে বাস স্থান নির্ধারণ কর। আর তোমাদের ঘরগুলো বানাবে কেবলামুখী করে এবং সালাত কায়েম কর আর যারা ঈমানদার তাদেরকে সুসংবাদ দান কর।
ঈসার সালাত
১৯:৩১ আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।
শুয়েবের সালাত।
১১:৮৭ তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার সালাত কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।
জাকারিয়ার সালাত।
৩:৩৯ যখন তিনি কামরার ভেতরে সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
বণী ইস্রাইলের সালাত।
২:৪৩ আর সালাত কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং সালাতে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়।

লুকমানের সালাত।
৩১:১৭ হে বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
রসূলের সমসাময়িক কাফেরদের সালাত।
৮:৩৫ আর কা’বার নিকট তাদের সালাত শিস দেয়া আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কোন কিছুই ছিল না। অতএব, এবার নিজেদের কৃত কুফরীর আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।
আল্লাহর নিকটবর্তি হওয়ার আশায় শরীকদের জন্য উপাসনা।
৩৯:৩ জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
৩) সালাত পূর্ব করনীয়
৪:১০৩ …….. নিশ্চয় সালাত বিশ্বাসীদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
আল্লাহর স্মরন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাস্তবে আমরা জীবণ ও জীবিকার অন্বেষনে এমনই ব্যাস্ত হয়ে পড়ি যে আল্লাহকে সকল সময় স্মরন করার কথা ভুলেই যাই। সকল কাজ কাম বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সালাত ফরজ হওয়ায় আল্লাহকে স্মরনের কাজটি বিশ্বাসীদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে।
সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার। সালাতের পূর্বে ও সালাত চলাকালিন কিছু শর্ত পালন আবশ্যকীয়। এই শর্ত মানসিক ও শারিরীক উভয় প্রকারের।
সচেতন মন
যেহেতু বিশ্বাসীরা সালাতের মাধ্যমে আল্লাহকে আল্লাহকে স্মরন করে ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে , সে কারনে সালাতে কি বলছে সেটা বোঝা আবশ্যকীয় করা হয়েছে। একারনে আমরা দেখতে পাই নেশাগ্রস্থ অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তি হতে নিষেধ করা হয়েছে।
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, ………
বিনয়ী বিনীত
২৩:১-২ মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্র।
লোক দেখানো সালাত
১০৭:৪-৬ অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর (না বুঝে পড়ে); যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে।
পরিধেয় বস্ত্র
৭:৩১ হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও,………
জুতা
২০:১২ আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।
ওজু – গোসল – তায়াম্মুম
৫:৬ হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।
৪:৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
কিবলা
২:১৪২ এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।
২:১৪৪ নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।
২:১৭৭ সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
সালাতে অঙ্গবিন্যাস
কোরানে সালাত ব্যাপক অর্থে ব্যাবহৃত হলেও এই পোস্টে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সালাত যেটাকে আমরা নামাজ বলে জানি , সেটার ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকব।

আনুষ্ঠানিক সালাতের উদাহরন আমরা দেখতে পাই ৪:১০২ আয়াতে। কোরানের আয়াতগুলো থেকে আমরা সালাতে ৩ টি পজিশান বা শারীরিক অবস্থানের কথা জানতে পারি। দাড়ানো , রুকু ও সেজদা।
৪:১০২ নং আয়াত থেকে এটা পরিস্কার , সালাত শুরু হবে দাড়ানোর মাধ্যমে এবং শেষ হবে সেজদার মধ্য দিয়ে।

দাড়ানো
২:২৩৮ সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত
আদবের সাথে দাঁড়াও।

রুকু
২:৪৩ আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং সালাতে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। ( যেটাকে আমরা রুকু বলে জানি وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ)
৯:১১২ তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।

সেজদা
৪:১০২ যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।

সালাতে কি বলতে হবে?

সালাতে আমরা যেটাই বলিনা কেন , সেটা বুঝে বলতে হবে এবং মধ্যম স্বরে বলতে হবে। মনে মনে ও না বা চেচিয়ে পাড়া মাথায় করাও না। এটাই কোরানিক নির্দেশ। ১৭:১১০ আয়াত যেহেতু সালাত সংক্রান্ত , সেহেতু ১৭:১১১ আয়াতেও সালাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেই ধরে নেয়া যেতে পারে। সালাতের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর স্মরন করি , তার সাহায্য প্রার্থনা করি , তার প্রশংসা করি সর্বপরি তার উপাসনা করি। সুরা ফাতেহার ৭ টি আয়াতের মাধ্যমে এগুলোর সবি করা সম্ভব। ধারনা করা হয় ১৫:৮৭ আয়াতে সুরা ফাতেহার কথাই বলা হয়েছে (আল্লাহই ভাল জানেন)। আল্লাহ কোরানে তার পবিত্রতা ঘোষনা করতে বলছেন , যেটা আমরা করে থাকি রুকু ও সেজদাতে।

সালাতে মধ্যম স্বর

১৭:১১০ বলুনঃ আল্লাহ বলে আহবান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই। আপনি নিজের নামায আদায়কালে স্বর উচ্চগ্রাসে নিয়ে গিয়ে পড়বেন না এবং নিঃশব্দেও পড়বেন না। এতদুভয়ের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন।

তাকবীর (আল্লাহু আকবর) বা আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করা

১৭:১১১ বলুনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি না কোন সন্তান রাখেন, না তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন শরীক আছে এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না, যে কারণে তাঁর কোন সাহয্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং আপনি স-সম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ন (وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا) বর্ণনা করতে থাকুন।

কোরান থেকে পাঠ করা

২৯:৪৫ আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন।

সূরা ফাতেহা
১৫:৮৭আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি।

রুকু ও সেজদাতে তাসবীহ

৫৬:৭৪
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
৮৭:১
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى
আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন
৫০:৪০ রাত্রির কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং নামাযের পশ্চাতেও (السُّجُودِ)।

শাহাদা

৩:১৮ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
 
দৈনিক সালাতের সংখ্যা
 
কোরানে পরিস্কারভাবে বলা নেই , দৈনিক কয়বার সালাতের জন্য দাড়ানো লাগবে। কেন কোরানে দৈনিক সালাতের সংখ্যার পরিস্কার উল্লেখ নেই , তার গূঢ় কারন আল্লাহই ভাল জানেন। যেহেতু কোরানে দৈনিক সালাতের সংখ্যার পরিস্কার উল্লেখ নেই , সেহেতু ধরে নেয়া যায় দৈনিক সালাতের সংখ্যা নির্ধারনের ভার আল্লাহ মুত্তাকিনদের বুঝের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন।
একারনে আমরা দেখতে পাই , কেউ বলছেন কোরানে দৈনিক ৫ বার , কেউ বা দৈনিক ৩ বার , আবার কেউ বা দৈনিক ২ বার সালাতের কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করছেন।
যারা দৈনিক ২বার সালাতের কথা বলেন তাদের যুক্তি হলো , কোরানে ২ টি সালাতের নাম খুজে পাওয়া যায় – ‘সালাতুল ফজর’ এবং ‘সালাতুল ঈশা’। যোহর , আছর ও মাগরিব নামে কোন সালাতের কথা কোরানে বলা নেই।
যারা দৈনিক ৩/৫ বার সালাতের কথা বলেন তাদের যুক্তি হলো , কোরানে ২:২৩৮
حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ ‘সালাওয়াত’ সংরক্ষনের কথা বলা হয়েছে। ‘সালাওয়াত’ সালাতের বহুবচন অর্থাৎ তিন বা ততোধিক সালাত। এর সপক্ষে এরা আরো একটি সালাতের কথা বলেন , যার নাম ‘সালাতুল উস্তা’। ‘সালাতুল উস্তা’ অর্থ কেউ করেছেন মধ্যবর্তী সালাত , আর দৈনিক ২বার সালাতের সমর্থকরা করেছেন উত্তম সালাত , যেটা ফজর বা ঈশাকেই নির্দেশ করে।
দৈনিক ২বার সালাত
24:58 হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনি ভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
11:114 আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।
দৈনিক ৩ বার সালাত
2:238 সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
দৈনিক ৫ বার সালাত
17:78 সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
(1) The Dawn Prayer (Fajr in Arabic) given in 11:114, 24:58
(2) The Noon Prayer (Zuher in Arabic) , given in 17:78
(3) The Afternoon Prayer (Asr in Arabic), given in 2:238
(4) The sunset Prayer (Maghrib in Arabic), given in 11:114
(5) The Night Prayer (Isha in Arabic), given in 24:58
কয় রাকাত?
কোরানে রাকাতের কথা বলা নেই। তবে যদি আমরা ৪:১০২ নং আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করি , তাহলে সালাতে ২ টি রাকাত আছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
৪:১০২ যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়।

Thursday, August 30, 2012

কোরানে নামাজ


হাদিস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কোরান অনুসরন করার কথা বল্লেই , অবধারিত ভাবেই যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় তা হলো – হাদিস না থাকলে নামাজ কিভাবে পড়ব? কোরান থেকে দেখিয়ে দিন নামাজ কিভাবে পড়তে হবে?
মজার ব্যাপার হলো বিশ্বের ৫% মুসলমান ও দৈনিক নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না এবং যারা পড়ে তাদের কয়জন নামাজে কি পড়ছে তা জানে , বলা দুরূহ। সাকুল্যে ১% মুসলমান কোরান বুঝে পড়ে কিনা সন্দেহ। (৫% ও ১% এর পরিসংখ্যানটি আনুমানিক।) তারপরেও নামাজ নিয়ে বিতর্কে এদের উৎসাহে কমতি নেই। কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে তার খুটিনাটি বর্ণনা নেই এটা যেমন সত্য , তেমনি হাদিস থেকে নামাজ শিখতে গেলে বিভ্রান্তি যে আরো বাড়বে সেটা ও তেমন সত্য।

তাহলে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে , সেটা বলতে আল্লাহ কি ভুলে গিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ) নাকি আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে? কোরানে যে ‘সালাতের‘ কথা বলা হচ্ছে তার অর্থ কি নামাজ? নাকি এ দুটি ভিন্ন কোন বিষয়? অথবা নামাজ সালাতের একটি ক্ষুদ্রতর অংশ , এমন কি হতে পারে?

কোরানে সালাত নিয়ে কি বলেছে , সেটা জানার আগে চলুন হাদিস নামাজ নিয়ে আমাদের কি শেখাচ্ছে সেটা জেনে নেই-
ওজু

- হজরত আনাস বলেছেন: রসূল প্রতিবার নামাজের আগে ওজু করতেন। (বুখারি)
- হজরত ইবনে আব্বাস বলেছেন: রসূল কিছুক্ষন ঘুমালেন – মসজিদে গেলেন ও ওজু ছাড়া নামাজ পড়লেন। (বুখারি)
- রসূলের সাহাবারা ঘুম থেকে উঠে ওজু না করেই নামাজ পড়তেন। (মুসলিম)

ফরজ গোসল

- হজরত উসমান বলেছেন: যদি কেউ বীর্যপাতের আগেই পুরুষাঙ্গ বের করে নিয়ে আসে , তাহলে সে যেন পুরুষাঙ্গ ধৌত করে ও ওজু করে। (গোসল করা লাগবে না) (বুখারি)
- প্রবেশ করালেই ওজু করা বাধ্যতামূলক। (মুয়াত্তা)
- রসূল বলেছেন: যখন কেউ স্ত্রীলোকের পায়ের মাঝে বসে জোরে ঠেলে , বীর্যপাত হোক বা না হোক গোসল বাধ্যতামূলক। (মুসলিম)
- উব্বি বিন কাব রসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন , ” যদি কেউ সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাতের আগেই বের হয়ে আসে , তার কি গোসল করা লাগবে? তিনি উত্তর দিলেন , ” তার উচিৎ ওজু করে প্রার্থনা (pray) করা।

খাওয়ার পরে ওজু

- রসূল বলেছেন: আগুনে রান্না করা কোন কিছু খাওয়ার পরেই নুতন করে ওজু কর। (মুসলিম)
- ইবনে আব্বাস বলেছেন , ” রসূলুল্লাহ ছাগলের ঘাড়ের রোস্ট খাওয়ার পরে ওজু না করেই নামাজ পড়লেন। (মুসলিম)

তাকবীর

- হজরত বিলালকে আদেশ করা হয়েছিল আজানে দুই তাকবীর এবং ইকামাতে এক তাকবীর বলার জন্য। (মুসলিম)
- এখন মসজিদে ইকামতের সময় ও ২ তাকবীর বলা হয়। হয়তো বা ইকামতের সময় ২ তাকবীর বলার হাদিস ও আছে। হাদীস অনুসারীরা ভাল বলতে পারবেন।

নামাজে সুরা ও দোয়া পড়া-

- নামাজে সুরা ফাতিহার পরে আর কিছু পড়া লাগবে কি না , এমন প্রশ্নের জবাবে আবু হুরাইরা বল্লেন , যে কোন সুরা পড়াই ভাল , কিন্তু শুধু মাত্র সুরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ঠ। (মুসলিম)
- ফিকহের সকল ইমামগনের মত হলো শধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়লে নামাজ হবে না।

- হজরত উমর “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” জোরে জোরে পড়তেন।(মুসলিম)
- ইমামগণ আমাদের “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” মনে মনে পড়তে বলেছেন।
- হজরত আনাস বলেছেন ,” আমি রসুলুল্লাহ , আবু বকর , উমর এবং উসমানের পিছনে নামাজ পড়েছি। তারা আল-ফাতিহা দিয়ে নামাজ শুরু করেছেন , “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” দিয়ে নয়। (মুসলিম)

- যখন মসজিদে নববিতে মিম্বার তৈরি হলো , রসূল এর উপরে উঠলেন , কিবলার দিকে ফিরলেন , তাকবীর দিলেন , লোকজন সারিবদ্ধ হলো। আবৃত্তির (recitation) পরে উনি হাটুর উপরে রূকুতে গেলেন , তারপর মিম্বার থেকে নেমে আসলেন , মাটিতে সিজদা দিলেন , তারপর আবার মিম্বারে উঠলেন। তিনি আবারো রূকুতে গেলেন এবং তারপরে মাটিতে নেমে এসে সিজদা দিলেন। (বুখারি) (এমনভাবে নামাজ পড়ার কথা আগে কখনো শুনিনি বা দেখিনি , আপনারা শুনেছেন?)

- রসুলুল্লাহ তার মেয়ে ‘জয়নাবে’র ছোট্ট মেয়ে ‘আমামা’কে তুলে নিয়ে (কোলে নাকি ঘাড়ে – জানি না) নামাজ পড়া শুরু করলেন। যখন সিজদায় গেলেন , তিনি তাকে মাটিতে নামিয়ে রাখলেন এবং যখন উঠলেন তাকে (‘আমামা’) আবার তুলে নিলেন। (বুখারি)

- যদি কেউ নামাজীর সামনে দিয়ে যায় , তাকে থামাও। যদি সে না থামে , তাকে হত্যা কর কারন সে শয়তান। (বুখারি)
-আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন , ” আমি একটি মেয়ে-গাধায় চড়ে মিনায় গেলাম। রসুলুল্লাহ নামাজ পড়াচ্ছিলেন। আমি কয়েকজন নামাজির সামনে দিয়ে যেয়ে গাধার পিঠ থেকে নামলাম ও নামাজে যোগ দিলাম। কেউ প্রতিবাদ করেনি।(বুখারি)
- হজরত সাদ বিন আবি ওয়াকাস নামাজের চলাকালীন সামনে দিয়ে যেতেন। (মুয়াত্তা)
- নামাজ চলাকালীন কেউ সামনে দিয়ে গেলে নামাজের ক্ষতি হয় না। (মুয়াত্তা)

- রসুলুল্লাহ বলেছেন , ” সামনে দিয়ে স্ত্রীলোক , গাধা বা কুকুর গেলে নামাজ ভেঙ্গে যায়। (মুসলিম)
- হজরত আয়েশা বলেছেন ,”তোমরা (হাদিস বর্ণনাকারীগণ) আমাদেরকে গাধা ও কুকুর বানিয়েছ। আল্লাহর কসম! রসুলুল্লাহ যখন নামাজ পড়তেন , তখন আমি তার সামনে কম্বলের উপরে শুয়ে থাকতাম।(মুসলিম)

- বুখারিতে ৪ টি হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে: রসূল রূকুতে যাওয়ার আগে ও আত্তাহিয়াতু পড়ে ওঠার সময় কান পর্যন্ত দুই হাত তুলতেন। (আমাদের দেশের মুসলমানেরা কেন হাত তোলে না? তাহলে কি তারা বুখারির হাদিস মানে না?)

-রসূলুল্লাহ কোন ওজর ছাড়াই বা ভ্রমন না করলেও যোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে পড়তেন। (মুয়াত্তা , মুসলিম)

- মুয়াবিয়া বিন হাকাম রসূলের সাথে নামাজ পড়ছিলেন। এক নামাজী হাঁচি দিলেন এবং আমি প্রথামতো “ইয়ারহামাকাল্লাহ”বল্লাম। নামাজ শেষে রসূল বল্লেন ,”নামাজের ভিতরে মনুষ্য কথার অনুমতি নেই। (মুসলিম)
- একদা নামাজ পড়া অবস্থায় রসূলের সামনে শয়তান আসল এবং তিনি ৩ বার বল্লেন , “তোমার উপরে আল্লাহর অভিশাপ”। (মুসলিম) (হতে পারে , রসূলের কথা মনুষ্য কথা নয়)

- বৃষ্টির জন্য দো’য়া করার সময় ছাড়া আর কোন সময় রসূল হাত তুলতেন না। (বুখারি)
- যে কোন দো’য়া করার সময় তিনি হাত তুলতেন।(সুত্র এত বেশি যে উল্লেখ করলাম না)

- রসুলুল্লাহ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তেন। (বুখারি , মুসলিম, নিসায়ি)

- সাহাবারা তীরবিদ্ধ জায়গা থেকে রক্ত পড়তে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়তেন। (বুখারি , মুসলিম , ইবনে মাজাহ ও আরো অনেকে)
- শরীরের কোন জায়গা থেকে রক্ত বের হলে নামাজ ও ওজু দুটোই বাতিল হয়ে যায়। ( বুখারি , মুসলিম , ইবনে মাজাহ ও আরো অনেকে)

- হজরত আনাস বলেছেন , “রসূল পুরো নামাজ খুবি অল্প সময়ে পড়তেন। (মুসলিম)
- রসূল সেই ইমামদের বকতেন , যারা লম্বা সময় ধরে নামাজ পড়াতেন। (মুসলিম)
- হজরত আনাস বলেছেন ,” রসূল রুকুর পরে এত দীর্ঘ সময় স্থীর ভাবে দাড়িয়ে থাকতেন যে মনে হোত তিনি সামনে বাড়তে ভুলে গেছেন। সিজদার সময়ও একি অবস্থা হোত। (মুসলিম)
- আবু সায়িদ খাদরি বর্ণনা করেছেন: রসুলুল্লাহ এত দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়াতেন যে ধরা যাক দুপুরের নামাজ শুরু হলো। এক লোক বাকী কবরস্থানে হেটে গেল , বাড়িতে ফিরে এসে ওজু করে মসজিদে গিয়ে দেখতে পাবে তখনো তিনি প্রথম রাকাত পড়াচ্ছেন। (মুসলিম)

এছাড়াও বুখারি ও মুসলিমে নামাজের বিভিন্ন পয়েন্টে কোন দো’য়া পড়তে হবে , তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অসংখ্য হাদিস পাওয়া যায়।

এই হলো হাদিস থেকে নামাজ শিক্ষা।

১) ঘুমের মধ্যে নাক ডাকলে , আপনার ওজু করা লাগবে না। দুঃখিত , ওজু করা লাগবে।
২) রান্না করা খাবার খেলে ওজু ভেঙ্গে যায় কিন্তু ছগলের রোষ্ট খেলে ওজু ভাঙ্গে না।
৩) রক্ত পড়লে নামাজ ও ওজু বাতিল হয় না। দুঃখিত , বাতিল হয়।
৪) বীর্যপাত না হলে গোসল লাগবে না। দুঃখিত , লাগবে।
৫) আপনি জোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে পড়তে পারবেন। দুঃখিত , একত্রে পড়তে পারবেন না।
৬) দো’য়ার সময় হাত তুলুন। না না , দো’য়ার সময় হাত তুলবেন না।
৭) রুকুতে যাওয়ার আগে ঘাড় পর্যন্ত দুই হাত তুলুন। না না , হাত তুলবেন না।
৮) বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়তে পারেন। আপনি এমনটি করতে পারেন না।(ফিকহ)
৯) নামাজের সময় ঈমাম সিড়ি বেয়ে ওঠা নামা করতে পারে। আদৌ নয়।(ফিকহ)
১০) নামাজে শুধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ট। দুঃখিত , যথেষ্ট নয়।
১১) নামাজের শুরুতে ‘সুভানাকাল্লাহুম্মা’ পড়া যায়। না না , যায় না।
১২) নামাজের ভিতরে আপনি শয়তান বা অন্য কাউকে অভিশাপ দিতে পারেন। না না , কখনো না।
১৩) আত্তাহিয়াতুর পরে যে কোন দো’য়া পড়তে পারেন। না , শুধুমাত্র এইটা আর এইটা।
১৪) নামাজের সময় যেই সামনে দিয়ে যাবে , মানা করলে না শুনলে তাকে হত্যা কর। শুধুমাত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও সাদ বিন আবি ওয়াকাসকে ছাড়া।
১৫) স্ত্রীলোক , গাধা ও কুকুর সামনে দিয়ে গেলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তবে তোমার স্ত্রী নামাজের সময় তোমার সামনে জায়নামাজে শুয়ে থাকলেও নামাজ বাতিল হবে না।

সহীহ হাদীস অমান্য না করে আপনি কিভাবে নামাজ পড়বেন , সেটা আপনিই ঠিক করুন। আমার পক্ষে এই ধাঁধার সমাধান করা দুরূহ ব্যাপার।

পরের পর্বে কোরান নামাজ নিয়ে কি বলে , সেটা নিয়ে আমার ধারনা জানাব ইনশাল্লাহ।
.

Tuesday, August 21, 2012

মা মালাকাত আইমানুকুম

মা মালাকাত আইমানুকুম যার অর্থ করা হয়েছে যুদ্ধবন্দী যৌণদাসী। অমুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীদের ইসলাম বিরোধী প্রপাগান্ডার একটি বড় হাতিয়ার হলো , কোরানে নাকি যুদ্ধবন্দী যৌণদাসী মুসলমানদের জন্য হালাল করা হয়েছে। অবশ্য ওদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর জন্য দায়ী হলো মুসলমান খলিফাদের অনুগ্রহপুষ্ট রাজ দরবারের পারস্য ঈমামগণ (বুখারি , মুসলিম , তিরমিজি , শাফেঈ প্রমূখ) ও ইহুদী-নাসারা পারিষদবর্গ। খলিফারা ঈমামদের বিকৃত অনুবাদের মাধ্যমে নুতন নুতন রাজ্য জয় করতে সৈন্যদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধবন্দী যৌণদাসীর টোপ ব্যবহার করেছেন।

“মা মালাকাত আইমানুকুম” এর অর্থ যুদ্ধবন্দী যৌণদাসী ও নয় বা তোমার ডান হাতের অধীনস্ত ও নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো – “তারাই , যারা তোমার শপথ বা অঙ্গীকারের আওতাধীন”

“আইমানু” শব্দটি হলো “ইয়ামিন” শব্দের বহুবচন , যার অর্থ হলো – শপথ বা অঙ্গীকার , ইংরেজিতে OATH.
নিচে কোরান থেকে কিছু উদাহরন দেয়া হলো -

আর তোমাদের শপথের (আইমানুকুম) জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না…………[2:224]

যারা আল্লাহর নামে কৃত তাদের অঙ্গীকার (আইমানুহুম) এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে …[3:77]

তারা তাদের জোর শপথ (আইমানুহুম) নিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। …[6:109]

আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি শপথ (আল-আইমান) করার পর তা ভঙ্গ করো না, …[16:91]


এইরুপ আরো অনেক আয়াত আছে কোরানে , যেখানে ‘আইমানুকুমের’ অর্থ শপথ হলেই কেবল আয়াতের মানে অর্থবহ হয়।

মজার ব্যাপার হলো “মা মালাকাত আইমানুকুম” শুধুমাত্র নারীর জন্য প্রযোজ্য তা কিন্তু নয়। “মা মালাকাত আইমানুকুম” পুরুষ ও হতে পারে। এর প্রমাণ স্বরূপ নিচের আয়াতটি পড়ে দেখতে পারেন -

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত দাঁস (আইমানুহুন্না), যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, …[24:31]
তাহলে এই আয়াতের কি এটাই অর্থ করব যে , ঈমানদার নারীরা যৌণদাঁস রাখতে পারবে??

কোরানের “মা মালাকাত আইমানুকুম” কোন যৌণ দাঁস বা দাঁসী রাখার স্বীকৃতি দিচ্ছে না , যেমনটি অতীতের ঈমামগণ , তাফসীরকারগণ ও তাদের অন্ধ অনুসারী বর্তমানের অনুবাদকগণ অনুবাদ করেছেন। বরং সেই সকল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পতিত হতভাগ্য পুরুষ ও নারীদের কথা বলেছে , যাদের ভরনপোষনের ভার নিতে ইমাণদার পুরুষ ও নারীরা শপথ করেছেন। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পতিত এই হতভাগ্য পুরুষ ও নারী, এরা কারা?

এর উত্তর কোরানেই আছে। কোরান থেকেই আমরা জানতে পারি ইসলামের সুচনালগ্নে আত্মরক্ষার্থে বিভিন্ন যুদ্ধে বহুসংখ্যক পুরুষ শহিদ হন , ফলে তাদের পরিবার মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পতিত হয় বা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এছাড়াও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারনে বহু সংখ্যক পুরুষ ও নারী নিজবাসভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ে। অনেক নারী ইসলাম গ্রহণ করার কারনে তাদের পৌত্তলিক স্বামী কতৃক বিতাড়িত হয় বা পৌত্তলিক স্বামীকে ছেড়ে এসে মুসলমানদের আশ্রয় গ্রহণ করে , ফলে তারাও মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পতিত হয় বা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। নিচের আয়াতটি পড়ুন-

মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। …[60:10]

যেমনটি দেখা যাচ্ছে এই সেই বিবাহিতা নারীরা , যাদেরকে মোহরানার বিনিময়ে বিবাহ করা হালাল করা হয়েছে , কোন যৌণ দাসীকে হালাল করার কথা কোরানে বলা হয় নি। আরো একটি আয়াতের কথা না বল্লেই নয় –

আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের শপথভুক্ত মুসলিম নারীকে(আইমানুকুম) বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের পরিবারের (أَهْلِهِنَّ) অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। …[4:25]

এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে পরিবারের অনুমতি নিয়েই এবং মোহরানা দিয়েই কেবল কোন “মা মালাকাত আইমানুকুমের” সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়। যারা “মা মালাকাত আইমানুকুমের” অর্থ যৌণদাসী করেছেন , তারা বোধহয় এই আয়াতের কথা ভুলে গিয়েছিলেন।

Wednesday, May 30, 2012

নাসেখ ও মানসূখ - একটি মিথ্যা প্রচারনা

নাসেখ মানসূখের এই কোরান বিরোধী মিথ্যা প্রথমে চালু হয় ৪০০ হিঃ বা ১০০০সনের শেষের দিকে তখনকার কিছু আলেম ওলামা কতৃক , যাদের অন্যতম আহমেদ বিন ইশাক আল দিনারি(মৃঃ ৩১৮ হিঃ), মোহাম্মদ বিন বাহার আল-আসবাহানি (মৃঃ ৩২২হিঃ) , হেবাতাল্লাহ বিন সালামাহ (মৃঃ ৪১০হিঃ) এবং মুহাম্মাদ মূসা আল-হাজমি (মৃঃ ৫৪৮ হিঃ)। তাদের দাবী , কোরানের কিছু আয়াত বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হয়েছে কোরানের অন্য আয়াত দ্বারা। যে আয়াত অন্য আয়াতকে বাতিল করেছে , তাকে বলা হয় 'নাসেখ' এবং বাতিলকৃত আয়াত - 'মানসূখ'।

আসলেই কোরানের কোন আয়াত মানসূখ বা বাতিল হয়নি এবং কোরানের দুটি আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অমুসলিমরা ও কোরানস্কেপ্টিকরা এই আয়াতগুলি ব্যবহার করে দুটি আয়াতের ভিতরে বিরোধ দেখিয়ে এটা প্রমান করতে যে , কোরান পারফেক্ট নয় ।

যে দুটি আয়াতের উপর ভিত্তি করে আলেমরা নাসেখ মানসুখের দাবী করেন , চলুন সেই আয়াত দুটি বিশ্লেষন করা যাক -

প্রথম আয়াত ২:১০৬
"আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?"

আলেমদের দাবী এই আয়াত প্রমান করে যে কোরানের কিছু আয়াত অন্য আয়াত দিয়ে বাতিল করা হয়েছে। তারা 'আয়াত' এর শব্দগত মানে করেছে কোরানের আয়াত , যদিও কোরানে আমরা 'আয়াত' এর ৪ রকমের শব্দগত মানে পাই।

১) 'আয়াত' = অলৌকিক ঘটনা (miracle)
"১৭:১০১ আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন( آيَاتٍ ) দান করেছি।"

২) 'আয়াত' = উদাহরন (example)
"২৫:৩৭ নূহের সম্প্রদায় যখন রসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল, তখন আমি তাদেরকে নিমজ্জত করলাম এবং তাদেরকে মানবমন্ডলীর জন্যে নিদর্শন(آيَةً) করে দিলাম।"

৩) 'আয়াত' = চিহ্ন (sighn)
"১৯:১০ সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন(آيَةً) দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।"

৪) 'আয়াত' = কোরানের আয়াত।
"৩৮:২৯ এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ(آيَاتِهِ) লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।"

এখন
২:১০৬ "আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?"

আয়াতটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে প্রতীয়মান হয় যে , এই আয়াতে 'আয়াত' এর মানে কোরানের আয়াত না হয়ে বাকি ৩ টি মানেই বেশি যুক্তিযুক্ত। কারন - এই আয়াতেরি কয়েকটি শব্দের দিকে খেয়াল করুন -

১) "বিস্মৃত করিয়ে দিলে"- কোরানের আয়াত বিস্মৃত হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা , তদুপরি কোরান একবার লেখা হয়ে গেলে তো আর ভোলা সম্ভব নয়। যদি মেনেও নেই আয়াতটি বাতিল হয়ে গেছে , তবুও সেটা কোরানেই লেখা থাকবে এবং সেটা ভুলে যাওয়া কখনৈ সম্ভব নয়। অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন ভুলে যাওয়া সম্ভব।

২) "সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন" - একটি কোরানের আয়াত বাতিল করে তারি মতো সমপর্যায়ের আরেকটি আয়াত আনয়নের মধ্যে কোন যুক্তি আছে কি? আল্লাহ কি খেলা করছেন? (আল্লাহ মাফ করুন)। বরং মূসা বা অন্য রসূলের কাছে এমন কোন অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন দেয়া হয়েছিল যা মানুষ ভুলে গেলে উত্তম বা সমপর্যায়ের অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন আনয়ন বেশি অর্থবহ।

৩) আপনি যদি এই আয়াতের কন্টেক্সট দেখেন অর্থাৎ আগে পিছের আয়াত পড়েন , তাহলে বুঝবেন , ২:১০৬ নং আয়াতে 'আয়াত' এর মানে কোরানের আয়াত নয়। এখানে 'আয়াত' শব্দটি দিয়ে আল্লাহর কুদরতের কথা বলা হয়েছে যা অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরনের সমার্থক।

আল্লাহ মানুষকে বোঝানোর জন্য যখনি কোন (আয়াতের) অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরনের আনয়ন করেন , তখন তা পূর্ববর্তী আয়াতের সমান বা বৃহৎ হয়ে থাকে।
"৪৩:৪৬-৪৮ আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী (بِآيَاتِنَا) দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার রসূল। অতঃপর সে যখন তাদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী (بِآيَاتِنَا) উপস্থাপন করল, তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল। আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই (آيَةٍ) দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।"



২য় আয়াত ১৬:১০১
"এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।"

এখানে কোন আয়াতের প্রতিস্থাপনের কথা বলা হচ্ছে , তা বুঝতে হলে , এই আয়াতেরি শেষের অংশটি খেয়াল করুন - "তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।" এখানে এই 'তারা' টা কারা? যারা রসূলকে মনগড়া বা বানিয়ে কথা বলার দায়ে অভিযুক্ত করছে? এরা নিশ্চয় রসূলের অনুসারীরা না। এমন কথা মূসলমানেরা তাদের রসূলকে বলতে পারে না।

এরা হলো তারাই , যারা রসূলকে বিশ্বাস করে না এবং রসূলের কাছে নাযিলকৃত কোরানের আয়াত তাদের কাছে রক্ষিত আল্লাহর আয়াত থেকে ভিন্ন। ফলে তারা রসূলকে মনগড়া উক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত করছে। বোঝা গেল এরা হলো আহলে কিতাবের অনুসারীরা (ইহুদী ও খৃষ্টানরা)। শুধু এই আয়াতের মাধ্যমেই নয় , অন্য আয়াতের মাধ্যমেও আল্লাহ জানিয়েছেন যে , কোরান অনুসারীদের জন্য পূর্বের রসূলগনের জন্য নাযিলকৃত কিছু কিছু আয়াত বা আইনের পরিবর্তন করেছেন। আল্লাহ কোরানে একটি আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করলেন কিনা তা ইহুদী ও খৃষ্টানদের যেমন জানার কথা নয় , তেমনি তাদের জন্য কোন মাথা ব্যাথার কারন হতে পারেনা বা তার জন্য ক্ষেপে যেয়ে রসূলকে মনগড়া উক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেনা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ "আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন" এই বাক্য দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে , এই আয়াতে কোরানের আয়াত প্রতিস্থাপনের কথা বলা হয় নি । বরং আহলে কিতাবদের গ্রন্থে যে আয়াত আছে , তার স্থলে নুতন বা উত্তম আয়াত রসূলের কাছে নাযিলের কথা বলা হয়েছে।