Wednesday, October 5, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ। (৬ )

হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা প্রকৃতপক্ষে কট্টর খৃষ্টান।


গত হাজার বছর ধরে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা ইসলামের ঐশীগ্রন্থ কোরান অনুসরন না করে বাইবেলকেই অনুসরন করে চলেছেন । বাইবেলের যে সকল বানী আজকের খৃষ্টানরা অনুসরন করেন না , সেই একি বানী আজকের হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারিরা কট্টরভাবে মেনে চলেছেন। হাদীসের বানীগুলোর উৎস বাইবেল , কোরান নয়। এগুলো সম্ভব হয়েছে ইসলামের ১ম ২০০-৩০০ বছর দ্রুত ইসলামি রাজ্যের বিস্তারলাভের ফলে তৎকালীন খলিফা ও ইসলামি পন্ডিতগন ব্যপকভাবে খৃষ্টানদের সংস্পর্শে এসে বাইবেল কতৃক প্রভাবিত হয়ে ভূয়া হাদীস ও সুন্নাহর প্রচলন করার মধ্য দিয়ে। আমরা কোরানের আয়াত থেকে জানি আমাদের রসূল পূর্ববর্তী কেতাবসমূহ পড়েন নি , তিনি শুধু কোরানকেই অনুসরন করতে আল্লাহ কতৃক আদীষ্ট ছিলেন। আজকের অনেক হাদীস ও সুন্নাহ পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই , এগুলো কোরানে খুজে পাবেন না , কিন্তু বাইবেলে অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু খুজে পাবেন।


সুরা আল-ইমরান ৩:১০০ হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে।

যেমন ধরুন- ইসলাম পরিত্যাগকারীদের (apostates) শাস্তি মৃত্যু দন্ড। এই হাদীসটির সমর্থনে কোন আয়াত কোরানে পাবেন না। বাইবেল কি বলে?

Leviticus 24:16

'Moreover, the one who blasphemes the name of the LORD shall surely be put to death; all the congregation shall certainly stone him. The alien as well as the native, when he blasphemes the Name, shall be put to death.

Deuteronomy 13:6 – 10

"If your brother, your mother' s son, or your son or daughter, or the wife you cherish, or your friend who is as your own soul, entice you secretly, saying, 'Let us go and serve other gods' you shall not yield to him or listen to him; and your eye shall not pity him, nor shall you spare or conceal him. "But you shall surely kill him; your hand shall be first against him to put him to death, and afterwards the hand of all the people. "So you shall stone him to death because he has sought to seduce you from the LORD your God who brought you out from the land of Egypt, out of the house of slavery.


বাইবেলে বলা হচ্ছে যারা তার লর্ডের অবমাননা করবে বা অন্য ধর্ম গ্রহন করবে বা অন্য ধর্ম গ্রহন করতে প্রোরোচিত করবে , তারা তোমার ছেলে মেয়ে ভাই বোন নিকটাত্মীয় হলেও মেরে ফেল। সকলে মিলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেল। কোন মায়া দয়া করবে না। দেখুন তো আমাদের মোল্লাদের কথার সাথে মেলে কিনা? আরো লক্ষ্য করুন পাথর ছুড়ে মেরে ফেলার বর্বর এই ধরনের আদেশ কোরানের কোথাও নেই। শুধু একটি আয়াতেই উল্লেখ আছে , সেটা কাফেররা পাথর ছুড়ে মেরে ফেলে তার বর্ননা দিয়ে।


বাইবেলে এমনকি ভিন্ন চিন্তা করার শাস্তিও মৃত্যুদন্ড।

Deuteronomy 13 : 5

"But that prophet or that dreamer of dreams shall be put to death, because he has counseled rebellion against the LORD your God who brought you from the land of Egypt and redeemed you from the house of slavery, to seduce you from the way in which the LORD your God commanded you to walk. So you shall purge the evil from among you.

আজকে দেখুন ভিন্ন চিন্তার কারনে আমাদের ব্লগ মোল্লারা আমাকে মৃত্যুদন্ড না দিতে পারলেও ২টা ব্লগ থেকে ব্যান করেছেন, যেটা ভার্চুয়াল মৃত্যুদন্ডের সমান ও ব্যাক্তি আক্রমন করে চলেছেন। এদেরকে খৃষ্টান না মুসলিম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত? আপনারাই বলুন।

পরের পোস্টগুলিতে আরো হাদীসের বর্ননা দেব , যার উৎস বাইবেল। 

Tuesday, October 4, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ (৫)

খোলাফায়ে রাশেদীন ও হাদীস।



মূল নথিপত্রগুলো , যেমন ইবনে সা'দ (২৩০/৮৪৫), মালিক ইবনে আনাস (১৭৯/৭৯৫),

তায়ালিসি (২০৩/৮১৮), হুমায়দী (২১৯/৮৩৪) এবং ইবনে হাম্বাল (২৪১/৮৫৫) পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে খোলাফায়ে রাশেদীনের ৪ খলিফাই তাদের শাসনামলে রসূলের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাদীস লেখা ও সঙ্কলনের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিলেন।

আবুবকর , রসূলের হাদীস পুড়িয়ে ফেলার আদেশ শোনার পরে , ঠিক করতে পারছিলেন না কি করবেন। রসূলের সাথে দীর্ঘ কালীন এক সাথে থাকার সময় তিনি ৫০০ হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন কিন্তু সেই রাতে হাদীসগুলো না পোড়ানো পর্যন্ত তিনি ঘুমাতে পারেন নি।

ওমর ইবনে আল-খাত্তাব তার ছেলে আবদুল্লাহকে তারই সংগৃহিত হাদীসগুলো ধ্বংস করতে বাধ্য করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে এমন ঘটনা ও পাওয়া যায় যে , ওমর ইবনে আল-খাত্তাব ৪ ছাহাবীকে হাদীস বলা থেকে বিরত থাকার জন্য আদেশ করেছিলেন। এরা হলেন:- ইবনে মাসুদ , আবু আল-দারদা , আবু মাসুদ আল আনসারি এবং আবু দার আল-গফ্ফারি। ওমর ইবনে আল-খাত্তাব আবু হুরায়রাকে মিথ্যাবাদি বলেছিলেন এবং তাকে এই বলে শসিয়েছিলেন যে , যদি আবু হুরায়রা রসূলের সম্পর্কে মিথ্যা হাদীস বলা থেকে বিরত না হয় , তবে তাকে তার জন্মস্থান ইয়েমেনে ফেরৎ পাঠাবেন। ওমর ইবনে আল-খাত্তাবের জীবদ্দশায় আবু হুরায়রা আর কোন হাদীস বলেন নি।

৪র্থ খলিফা আলি ইবনে আবু তালেব এক খোতবায় বলেছিলেন , " যাদের কাছে আল্লাহর রসূলের কোন হাদীস আছে , আমি তাদেরকে অনুরোধ করব বাড়ি যেয়ে সেগুলো মুছে ফেলতে। তোমাদের আগের মানব সমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের ধর্মীয় পন্ডিতদের হাদীস অনুসরন করার জন্য এবং প্রভুর বাণী পরিত্যাগ করার জন্য।"(সুত্র- সুনান আল দারামি)


আবু হুরায়রা , সর্বাধিক হাদীসের বর্ননাকারী।


আবু হুরায়রা হিজরী ৭ সালে ইয়েমেন থেকে মদিনায় আসেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তিনি রসূলের সঙ্গী হয়েছিলেন ২ বছরের ও কম সময়ের জন্য । আশ্চর্যের ব্যাপার আবু হুরায়রা বর্নীত হাদীসের সংখ্যা, আবুবকর , ওমর , আলী ও আয়েশা যারা সারা জীবন রসূলের সাথে কাটিয়েছেন, তাদের বর্নীত হাদীসের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে ও বেশি। মুহাম্মদ জুবায়ের সিদ্দিকির বই হাদীস সাহিত্য থেকে জানা যায় :

১)আবু হুরায়রা ৫৩৭৪ টি হাদীস বর্ননা করেছেন।

২)আয়েশা ২২১০ টি হাদীস বর্ননা করেছেন।

৩)ওমর ৫৩৭ টি হাদীস বর্ননা করেছেন।

৪)আলি ৫৩৬ টি হাদীস বর্ননা করেছেন।

৫)আবুবকর ১৪২ টি হাদীস বর্ননা করেছেন।


আবু হুরায়রা বর্নীত হাদীসগুলোর বেশিরভাগি 'আহাদ' হাদীস , অর্থাৎ একজন ছাড়া আর কোন সাক্ষী নেই এই হাদীসগুলোর এবং সেই একজন হলেন আবু হুরায়রা। আয়েশা ও কিছু ছাহাবীর মতে আবু হুরায়রা রসূলের নামে বানিয়ে মিথ্যা হাদীস বলতেন সমাজে প্রতিপত্তি লাভের আশায়। মুয়াবিয়ার রাজত্বকালে সিরিয়াতে তার দরবারে থাকার সময় খলিফাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি অধিকাংস হাদীস বর্ননা করেন। আবু হুরায়রা একবার তার শোতৃমন্ডলীদের বলেছিলেন , তাদেরকে উনি যে হাদীস শোনাচ্ছেন , এটা যদি ওমরের সময় ঘটত , তবে তাকে বেতের বাড়ি খেতে হোত।

আবু হুরায়রা কিছু হাদীস সন্দেহযুক্ত , কারন তার দাবী মতে ঘটনার সময় তিনি যেখানে উপস্থিত ছিলেন , সেখানে তার থাকা সম্ভব ছিল না। যেমন রসূলের মেয়ে রুকাইয়ার চিরুনি দিয়ে রসূলের চুল আচড়ানোর সময় ওসমান সম্পর্কে রসূলের মন্তব্য। রুকাইয়া মৃত্যুবরন করেন হিজরী ৩ সালে , আর আবু হুরায়রা মদিনা আসেন হিজরী ৭ সালে।

ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায়, আবু হুরায়রা মদিনা এসে ছিলেন খালি হাতে এবং তার ভরনপোষন চলত দান ও ভিক্ষার ওপরে নির্ভর করে। এ ব্যাপারে আয়েশার একটি বিখ্যাত হাদীস ও আছে।(সুত্র-ইবনে কুতিবা আল-দিনোরির 'তাওইল মুখতালাফ আল হাদিথ বই)

খলিফা ওমরের সময় তাকে বাহরাইনের আমীর করে পাঠানো হয় এবং ২ বছর আমীর থাকার সুবাদে তিনি প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হয়ে যান। একারনে ওমর তাকে ফিরিয়ে আনেন ও বলেন : "তুমি , আল্লাহর শত্রু , তুমি আল্লাহর সম্পদ চুরি করেছ। আমি যখন তোমাকে বাহরাইনের আমীর করে পাঠিয়েছিলাম , তখন তোমার পায়ে এক জোড়া জুতা ও ছিল না। তুমি কোথা থেকে এত টাকা (৪০,০০০ দিরহাম??) পেয়েছ? ইতিহাস বলে ওমর তার কাছ থেকে ১০,০০০ দিরহাম উদ্ধার করেন। আবু হুরায়রা ২০,০০০ দিরহামের কথা স্বীকার করেছিল।



Sunday, October 2, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ (৪)

সহী বুখারি বইটি আদৌ বুখারির লেখা নয়।

কোরানের পরেই যে বইটিকে আমাদের সুন্নি আলেম সমাজ সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে সেটা হলো সহী বুখারি। মজার ব্যপার হলো এই বইটি যে বুখারি লিখেছেন তারো কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য আমাদের আলেমরা দিতে পারেন না বা মূল বুখারি বই বা তার কোন অনুলিপি কেউ দেখাতে পারবেন না। কারন বুখারির বই , একটি একক বই হিসাবে আসেনি। বেশিরভাগ আলেম কতৃক গৃহীত ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানির(মৃত্যু ৮৫২ হিজরী) বুখারির হাদীসের উপর লিখিত টীকা বা মন্তব্য মূলক বই 'ফাথ আল বারি' র উপর ভিত্তি করেই বর্তমান বুখারি হাদীসগুলিকে একটি বইয়ের আকার দেয়া হয়েছে। ইবনে হাজার আল-আসকালানি আবার তার টীকা টিপ্পনির জন্য নির্ভর করেছিলেন আল-কুশাইমানির (মৃত্যু ৩৮৯ হিজরি) লিখিত অনেকগুলো খন্ডের (রিওয়াইয়াত) উপর , যেগুলো বুখারির ছাত্র আল-ফিরাব্রির উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা। আসকালানি বা কুশাইমানি কারো সাথে বুখারির(মৃত্যু ২৫৬ হিজরী) দেখা হওয়ার সম্ভাবনা যেমন ছিলনা , তেমনি উনারা সরাসরি বুখারী কতৃক সঙ্কলিত হাদীসের বই ও পড়েন নি। একেই বলে আলেমদের চতুরতা। তাদের কাছে বুখারি লিখিত একক কোন গ্রন্থ নেই। যার অস্তিত্ব নেই তা থাকারো কথা না। যা আছে তা বুখারির মৃত্যর পরের ৬০০ বছর এখান থেকে কিছু ওখান থেকে কিছু , এমনি করেই কথিত বুখারির হাদীসের সংগ্রহ করে একক বইয়ের আকার দেয়া। হাদীসে যে 'সানাদ' বা ইসনাদ নিয়ে এত মাতামাতি , সেই সানাদেরি কোন ঠিক ঠিকানা নেই বুখারির মৃত্যুর পরের ৬০০ বছর।
৪ 

Saturday, October 1, 2011

হাদীস ও সুন্নাহ (৩)

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।

ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। ফলে একি ঘটনা বারে বারে ঘটে। ইহুদীরা মূসার মৃত্যুর শত শত বছর পরে মিসনাহ (হাদীস, নবীর কথা) ও গেমারাহ (সুন্নাহ , নবীর কর্ম) আবিস্কার করে । এর ভিতরে পরবর্তি কালের রাব্বীদের বানানো বিভিন্ন আইন অন্তর্ভুক্ত হয়। এখনকার ইহুদীদের জন্য আল্লাহ প্রেরিত তাওরাতের পাশাপাশি মিসনাহ ও গেমারাহ অনুসরন করা অত্যাবশ্যক , অর্থাৎ মানুষ রচিত মিসনাহ ও গেমারাহ কালের আবর্তে তাদের ধর্মেরই একটি অংশ হয়ে গিয়েছে।

খৃষ্টানদের বাইবেলের গসপেল ইমাম ম্যথিউ , ইমাম মার্ক , ইমাম লুক ও ইমাম জনের লেখা। ইতিহাস বলে এই ৪ জনের কেউ কখনো যীশুকে চোখে দেখেন নি। অথচ দেখুন নিউটেস্টামেন্টের ভিত্তি এই ৪ জনের লেখা বইয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। যে ট্রিনিটি খৃষ্টান ধর্মবিশ্বাসের মূল (কলেমা), যা না মানলে খৃষ্টান হওয়াই যায় না , জানেন কি ট্রিনিটির কোন অস্তিত্বই ছিল না খৃষ্টান ধর্মের প্রথম ৩০০বছর। ৩২৫ খৃষ্টাব্দে নিসেন শহরে প্যগান রোমান রাজা কনস্টান্টিনের অধীনে তৎকালীন পোপ ও বিশপদের কাউন্সিলে প্রথম ট্রিনিটি ধারনার সৃষ্টি ও র‌্যটিফিকেশন করা হয়।

অনুরুপ ইসলামের প্রথম ২০০ বছর হাদীস বা হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত শরীয়া আইনের কোন অস্তিত্বই ছিল না। শরীয়া আইনের ভিত্তি রচনা করেন বিখ্যাত ইমাম শাফেয়ী ,হিজরি ২০৪/৮২০ খৃষ্টাব্দে। এরি পর পর আবির্ভাব হলো বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থগুলো, সহী সেত্তাহ বা ছয়টি বইয়ের। এগুলোর সঙ্কলক হলেন ইমাম বুখারি(২৫৬/৮৭০) , মুসলিম (২৬১/৮৭৫), আবু দাউদ (২৭৫/৮৮৮), তিরমিজি (২৭৯/৮৯২), ইবনে মাযা (২৭৩/৮৮৬) এবং আল নাসাঈ (৩০৩/৯১৫)। লক্ষ্য করুন , এদের কেউই আমাদের নবীকে জীবিত দেখেন নি বা এই হাদীসগুলোর কোন জীবিত সাক্ষী থাকা নবীর মৃত্যুর ২৫০ বছর পরে সম্ভব ছিল না। অনেকে প্রশ্ন করেন , কোরান মানতে পারলে , হাদীস মানতে অসুবিধা কোথায়? তারা ভুলে যান , কোরানের বর্তমান ভার্ষান ওসমানের সময় যখন সঙ্কলন হয় তখনো , বহু হাফেজ ও সাহাবী বেচে ছিলেন , যারা সরাসরি নবীর কাছ থেকে কোরান শিখেছিলেন। সুতরাং ভুল কিছু কোরানে ঢোকানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু হাদীসের বেলা তা খাটেনা।

তাওরাত ও ইন্জিলের মতোই হাদীস ও সুন্নাহ ইসলাম ধর্মের অংশ হয়ে উঠেছে।

সুরা মায়েদাহ(৫) আয়াত ৬৭
হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

এখানে হাদীস ও সুন্নাহর কথা বলা হয় নি। আল্লাহর পয়গাম কোরানকেই মানুষের কাছে পৌছানোর কথা বলা হয়েছে। (বালাগা)।

হাদীস ও সুন্নাহ।(২)

কোরানে হাদীস সম্পর্কীয় আয়াত।

কোরানে ব্যবহৃত হাদীস শব্দটির পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে , আল্লাহ চান আমরা তারই হাদীস অর্থাৎ কোরান ছাড়া যেন অন্য কোন হাদীস অনুসরন না করি।

নিম্নে আমি কয়েকটি আয়াতের অনুবাদ দিচ্ছি , যেগুলো পড়লে পরিস্কার হয়ে যাবে আল্লাহ কি বলেছেন। এখানে আরবি শব্দ হাদীসের কোন মানে করা হয় নাই। হাদীস শব্দটিই কোরানে ব্যবহার হইয়াছে।

সূরা আল আ’রাফ (৭) আয়াত ১৮৫
তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর আর কোন হাদীসের উপর ঈমান আনবে?

সূরা লোকমান (৩১) আয়াত ৬
একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর হাদীস সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

সূরা আল জাসিয়া (৪৫) আয়াত ৬
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে।

সূরা আত্ব তূর (৫২) আয়াত ৩৪
যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর (কোরানের) অনুরূপ কোন হাদীস উপস্থিত করুক।

সূরা আল মুরসালাত (৭৭) আয়াত ৫০
এরপরে (কোরানের) আর কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে?

যারা আল্লাহর উপরোক্ত আয়াতগুলো বিশ্বাস করবে না , তাদের স্মরনের জন্য নিম্নের আয়াত।
 
সূরা সেজদাহ (৩২) আয়াত ২২
যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব।

৩১) সূরা লোকমান ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ৭
যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও।

হাদীস ও সুন্নাহ।(১)

হাদীস ও সুন্নাহ কি আসলেই ইসলামের অবিচ্ছেদ্দ অংশ নাকি এটা একটি ভিত্তিহীন প্রথা যা কোরানের শান্তির বাণীকে পঙ্গু করে দিচ্ছে?

বর্তমানে প্রতিটি মুসলমানের জন্য হাদীস ও সুন্নাহ মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং কোরানের পরেই একে স্থান দেয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী মুসলমানরা দাবী করেন যে , যারা হাদীস ও সুন্নাহ বিশ্বাস করেন না তারা কাফের। হাদীস বলতে বুঝায় মুহাম্মদের কথাকে যা তিনি কোরানের নির্দেশের বাইরে বলেছিলেন (আদেশ , নির্দেশ উপদেশ..) এবং সুন্নাহ হলো মুহাম্মদ কতৃক প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান।

প্রচলিত বিশ্বাস হল ,কোরান নবী মুহাম্মদের জীবদ্দশায় তারই তত্বাবধানে লিখিত হত (কোরান সংকলন হয় আবুবকর ও ওসমানের সময়) কিন্তু হাদীস লেখার ব্যপারে নবী মুহম্মদের পরিস্কার নিষেধ ছিল , যে কারনে হাদীস মুখে মুখে প্রচলিত ছিল এবং নবীর মৃত্যুর ১০০ বৎসর পরেই কেবল লিখিত আকারে আসা শুরু করে। সর্বাধিক প্রচলিত হাদীস গ্রন্থ সহী বুখারীর লেখক বুখারীর জন্ম নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর প্রায় ২০০ বৎসর পরে।

১) ইবনে সাঈদ আল খুদরি ইরশাদ করেছেন যে আল্লাহর নবী বলেছেন : তোমরা কোরান ছাড়া আমার কোন কথা লিপিবদ্ধ করবে না। যদি কেউ কোরান ছাড়া অন্যকিছু লিখে থাকে , তবে তা মুছে ফেলবে।

২)যায়িদ ইবনে থাবিত (রসুলের মৃত্যুর ৩০ বষর পরে) মুয়াবিয়ার দরবারে রসূলের সম্পর্কে একটি গল্প বলেছিলেন। মুয়াবিয়ার গল্পটি ভালো লাগে এবং এটি লিখে রাখার আদেশ দেন। কিন্তু যায়িদ বল্লেন : রসূল আমাদেরকে আদেশ করেছেন তার কোন হাদীস কখনো না লিখতে। (ইবনে হাম্বল থেকে) এই গল্প থেকে বুঝা যায় হাদীস লেখার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা রসূল মৃত্যুর আগে তুলে নেন নি।

৩)ইবনে সালাহ'র উলুম আল হাদীস বই তে উল্লেখ আছে - আবু হুরায়রা বলেছেন: আমরা একদিন যখন হাদীস লিখছিলাম তখন আল্লাহর রসূল এসে বল্লেন , তোমরা কি লিখছ? হাদীস , যা আমরা আপনার কাছ থেকে শুনি। তিনি বল্লেন: আল্লাহর বই ছাড়া অন্য আরেকটা বই? আবু হুরায়রা বল্লেন: আমরা যত হাদীস লিখেছিলাম , তা একত্র করে আগুনে পুড়িয়ে দিলাম।

৪) তাকঈদ আল ইলম বইতে উল্লেখ আছে- আবু সাঈদ আল খুদরি বলেছেন: আমি আল্লাহর রসূলের কাছে হাদীস লেখার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন।

একারনেই নবীর জীবদ্দশায় বা তার মৃত্যুর পরে ২০০ বৎসর পর্যন্ত হাদীস লিখিত আকারে সংকলিত হয় নি। আজ যারা হাদীসের সমর্থক তারা উপরে বর্নীত হাদীসকে পালন না করে হাদীস লিখে ও প্রচার করে চলেছেন যা হাদীস ও সুন্নাহর পরিপন্থি।

ইসলামের নবীর সাথে বিয়ের সময় মা আয়েশার প্রকৃত বয়স কত ছিল? ৬ নাকি ১৯?

ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের একটি অতি প্রিয় প্রচারনা হলো – শেষ নবী মুহম্মদ শিশু নির্যাতনকারী ছিলেন। কথিত আছে মুহম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন , তখন তার বয়স মাত্র ৬ বছর ছিল এবং তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয় আয়েশার ৯ বছর বয়সে। এই নাস্তিকদেরি বা দোষ কি? বহু মুসলমান বিশেষ করে সুন্নি মুসলমানরা ও অন্ধভাবে এটাই বিশ্বাস করে। তাদের এই অভিযোগ বা বিশ্বাসের ভিত্তি হলো চরম মুহাম্মদ বিদ্বেষী বুখারীর একটি হাদীস । বুখারীর হাদীসগ্রন্থে এমন বহু হাদীস পাওয়া যায় , যেগুলো আমাদের প্রিয় নবী মুহম্মদের অবমাননাকারী। এই হাদীসটি যে বুখারী কোন রকম যাচাই বাছাই না করেই তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন শুধুমাত্র মুহম্মদ বিদ্বেষের কারনে , তার প্রমান হলো এমন আরো হাদীসের বর্ননা তার গ্রন্থে পাওয়া যায় , যেগুলো এই হাদীসের পরিপন্থি বা সাংঘর্ষিক।

নবী মুহাম্মদ কোরানের আদর্শেই জীবন পরিচালিত করতেন। তার জীবনাদর্শ সর্বকালের মুসলমানদের জন্য অনুকরনীয়। তিনি কোরানের পরিপন্থি কোন কাজ করতে পারেন না। কোরান থেকে বিবাহের যোগ্যতা বা উপযুক্ত বয়সের যে দিগনির্দেশনা পাওয়া যায় , তাতে এটা প্রতীয়মান হয় যে শিশুবিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ। যারা আগ্রহী তারা ৪:৬ , ৪:২১ , ৩০:২১ ও ২৫:৭৪ আয়াতগুলো পড়ে দেখতে পারেন। এই আয়াতগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় গেলাম না , কারন নাস্তিকরা কোরানে বিশ্বাস করে না এবং সুন্নি মুসলমানরা ও কোরানের চেয়ে হাদীসের বর্ননায় বেশি আস্থাবান। যেহেতু এই অভিযোগের ভিত্তি হলো বুখারী বর্নীত একটি হাদীস , তাই হাদীস থেকেই প্রমানের চেষ্টা করব যে উক্ত হাদীসট ছিল ভূয়া। বুখারী হাদীসটি তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন মুহাম্মদ তথা ইসলামকে অবমাননা করার জন্য কিনা তা আল্লাহই ভালো জানেন।

১) এই হাদীসটির বর্ননাকারীদের শেষ ব্যাক্তি হিশাম বিন উর্‌ওয়া তার বাপের কাছ থেকে হাদীসটি শুনেছিলেন। হাদীসটি মূলত আহাদ হাদীস। হিশাম তার জীবনের প্রথম ৭১ বছর মদিনায় কাটালেও মদিনার কেউ এই হাদীসটি শোনেনি , এমনকি তার বিখ্যাত ছাত্র মালিক বিন আনাস ও এই হাদীসের উল্লেখ করেন নি। হিশামের শেষ জীবন কাটে ইরাকে । একারনেই এই হাদীসের বর্ননাকারী বাকি সকলেই ইরাকি। ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেছেন , “হিশামের সকল হাদীস বিশ্বাসযোগ্য , শুধুমাত্র ইরাকিরা যেগুলো বর্ননা করেছে সেগুলো ছাড়া।” মালিক বিন আনাস , যিনি হিশামের ছাত্র ছিলেন , তিনি হিশামের ইরাকিদের মাধ্যমে বর্নীত হাদীসগুলোকে সন্দেহকরে ওগুলোকে বাতিল করেন। (সুত্র – তেহজিবুল তেহজিব , লেখক-ইবনে হাজার আল আশকানি। বইটি হাদীস বর্ননাকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে লিখিত।)

২) এমন বিবরন পাওয়া যায় যে , হিশাম বিন উর্‌ওয়া শেষ বয়সে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভুগেছিলেন , যেকারনে তার শেষ বয়সের অর্থাৎ ইরাকে বসবাসকালীন বর্নীত হাদীসগুলোতে বিশ্বাস করা যায় না। (সুত্র- আল যাহবি লিখিত “মিজানুল-আই
তিদাল”। বইটি হাদীস বর্ননাকারীদের জীবনী নিয়ে লিখিত।)

৩) বুখারীর কিতাবুল তাফসিরে একটি হাদীস পাওয়া যায় , যেখানে আয়েশা নিজেকে সূরা ৫৪ নাযিলের সময় কিশোরি মেয়ে ‘যারিয়াহ’ (শিশু ‘সিবিয়াহ’ নয়) হিসাবে দাবী করেছেন।

Volume 6, Book 60, Number 399:
Narrated Yusuf bin Mahik:

I was in the house of ‘Aisha, the mother of the Believers. She said, “This revelation: “Nay, but the Hour is their appointed time (for their full recompense); and the Hour will be more previous and most bitter.” (54.46) was revealed to Muhammad at Mecca while I was a playfull little girl.”

স্মরন থাকে যে , সূরা ৫৪ হিজরীপূর্ব ৯ সালে মক্কায় অবতীর্ন হয়। আয়েশার সাথে নবীর বিয়ে হয় ২য় হিজরীতে। এখন সূরা ৫৪ নাযিলের সময় আয়েশার বয়স ৫ বছর ও হয় (যেহেতু তার এই ঘটনা স্মরন আছে এবং এর নিচে হলে তাকে কিশোরি না বলে শিশু বলা উচিৎ ছিল) তাহলে বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ৫+৯+২=১৬ বছর ন্যুনতম ছিল। দাম্পত্য জীবন শুরু হয় আরো ২ বছর পরে। তাহলে আমরা কোন হাদীসটি বিশ্বাস করব? এটি নাকি হিশাম বিন উর্‌ওয়া বর্নীত হাদীসটি? ১৬ নাকি ৬? বুখারী এই আপাত বিরোধী ২ টি হাদীস কিভাবে তার গ্রন্থে সংকলন করলেন? বলাবাহুল্য দুটৈ সহী হাদীস!!

৪) অনেক হাদীসের বর্ননায় পাওয়া যায় আয়েশা ওহুদের যুদ্ধে নবীর সফরসঙ্গী ছিলেন। ওহুদের যুদ্ধে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে ১৫ বছরের নিচে কাউকে যুদ্ধে নেয়া হয় নি। ওহুদের যুদ্ধ ২য় হিজরীর নিকটবর্তী কোন এক সময় সংঘটিত হয়। এর অর্থ দাড়ায় আয়েশার বয়স বিয়ের সময় ১৫ বছরের বেশি ছিল।

৫) ঐতিহাসিকগন মহিলা সাহাবি ‘আসমা’র বয়স সম্পর্কে একমত। আসমা , আয়েশার বড় বোন ও বয়সে আয়েশার থেকে ১০ বছরের বড়। তাকরিবুল তেহজিব ও আল-বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ বই দুটিতে বর্নীত হয়েছে যে , আসমা ৭৩ হিজরী সালে ১০০ বছর বয়সে মারা যান। এর অর্থ দাড়ায় , হিজরতের সময় আসমার বয়স ছিল ২৭ বছর। আয়েশা যেহেতু আসমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট , তাহলে হিজরতের সময় আয়েশার বয়স ছিল ১৭ বছর। আয়েশার বিয়ে হয় ২য় হিজরীতে । এই হিসাবে আয়েশার বয়স বিয়ের সময় হয় ১৯ বছর।
(For Asma being 10 years older than Ayesha, see A`la’ma’l-nubala’, Al-Zahabi, Vol 2, Pg 289, Arabic, Mu’assasatu’l-risalah, Beirut, 1992. Ibn Kathir confirms this fact, [Asma] was elder to her sister [Ayesha] by ten years” (Al-Bidayah wa’l-nihayah, Ibn Kathir, Vol 8, Pg 371, Arabic, Dar al-fikr al-`arabi, Al-jizah, 1933). For Asma being 100 years old, see Al-Bidayah wa’l-nihayah, Ibn Kathir, Vol 8, Pg 372, Arabic, Dar al-fikr al-`arabi, Al-jizah, 1933). Ibn Hajar al-Asqalani also has the same information: “She [Asma (ra)] lived a hundred years and died in 73 or 74 AH.” Taqribu’l-tehzib, Ibn Hajar Al-Asqalani, Pg 654, Arabic, Bab fi’l-nisa’, al-harfu’l-alif, Lucknow).

৬) তাবারি তার ইসলামের ইতিহাস বইতে উল্লেখ করেছেন যে , আবুবকরের ৪ সন্তানের সকলেই ইসলামপূর্ব ৬১০ সালের আগেই জন্মগ্রহন করেন। আয়েশার বিয়ে হয় ৬২৪ সাল বা ২য় হিজরীতে। এর মানে দাড়ায় বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ন্যুন্নতম ১৪ বছর ছিল। (Tarikhu’l-umam wa’l-mamlu’k, Al-Tabari, Vol 4, Pg 50, Arabic, Dara’l-fikr, Beirut, 1979).

৭) ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের বর্ননামতে আয়েশা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের বেশ কিছু আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এর অর্থ দাড়ায় আয়েশা ৬১০ সালের কাছাকাছি সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন । এখন যদি ধরা যায় তিনি বুঝে শুনে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন , তাহলে তখন তার বয়স ছিল ৭-৮ বছর। এই হিসাবে আয়েশার বয়স বিয়ের সময় ২০ বছরের উপরে হয়। (Al-Sirah al-Nabawiyyah, Ibn Hisham, vol 1, Pg 227 – 234 and 295, Arabic, Maktabah al-Riyadh al-hadithah, Al-Riyadh).

এইরুপ আরো অনেক হাদীস বা ঐতিহাসিকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমান করা যায় যে আয়েশার বয়স বিয়ের সময় ৬-৭ বছর ছিল না। স্মরন করা যেতে পারে যে , রসূল নিজমুখে কিন্তু বলেননি যে , বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ছিল ৬-৭ বছর। এই দাবী করেছে হিশাম ইবনে উরওয়া নামে এক লোক তার বাপের বরাত দিয়ে। বুখারী এইরুপ একটি বিতর্কিত হাদীস সংকলন করে প্রমান করেছেন , তিনি কতটুকু সততা ও পরিশ্রম করে হাদীস সংকলন করেছিলেন।