Monday, August 24, 2020

এক স্বঘোষিত নাস্তিকের প্রশ্নের জবাব



সুরা ফাতেহার ১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছেঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’ আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।


আপনার আপত্তি হলো , আল্লাহ কেন রাজা বাদশাহ বা মানুষের মতো প্রশংসা পেয়ে প্রচন্ড খুশি হন? আল্লাহ প্রশংসা পেয়ে প্রচন্ড খুশি হোন এটা আপনি জেনেছেন বা এই স্বীদ্ধান্তে আপনি উপনীত হয়েছেন একটি শোনা কথার উপরে ভিত্তি করে। কথাটা হলো – “কেউ যদি একবার আলহামদুলিল্লাহ কথাটি উচ্চারণ করেছেন, তখনই তাকে ৭০ রাকাত নফল নামাজের ছওয়াব প্রদান করা হয়।” এমন কথা কোরানের কোথাও লেখা নেই। আপনি যখন কোরানের আয়াত ১:১ অনুসারে প্রশ্ন তুলেছেন , তখন সত্য জানার খাতিরে লোকমুখের শোনা কথার উপরে নির্ভর না করে আপনার কি উচিৎ ছিলনা কোরানে খুজে দেখা ? আদৌ কি আল্লাহ প্রচন্ড খুশি হন? সারা কোরান খুজেও খুশি হওয়ার স্বপক্ষে কোন আয়াত পেলাম না । যেটা পেলাম –


35:15 O people, you are the ones who need GOD, while GOD is in no need for anyone, the Most Praiseworthy

হে মানুষ, তোমাদেরি আল্লাহকে দরকার; তার কাউকে দরকার নেই (অভাবমুক্ত), প্রশংসিত।


29:6 Hence, whoever strives hard [in God’s cause] does so only for his own good: for, verily, God does not stand in need of anything in all the worlds!যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ব বাসী থেকে বে-পরওয়া।


আল্লাহর কাছে যদি মানুষের ও কোন কিছুর দরকার না থাকে , তাহলে তো প্রশংসার দরকার ও না থাকারি কথা। যুক্তি তো তাই বলে।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে , সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য একথাটা মুত্তাকীদের শেখানোর দরকার কেন পড়ল?

এর উত্তর জানার আগে আপনার উল্লিখিত ২:২ আয়াত নিয়ে আপনার সন্দেহগুলো নিয়ে আলোচনা দরকার।


“ইহা সেই কিতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ-নির্দেশক ।”


আপনি ঠিকি ধরেছেন , কোরান শুধুই মুত্তাকীদের জন্য। যে সকল মোল্লা দাবী করে কোরান বিশ্ব মানবতার পথ প্রদর্শক , তাদের দাবী যে ভুল ও বানোয়াট , তার বড় প্রমান এই আয়াতটি। এখন জানা দরকার মুত্তাকী , মুমেন বা মুসলমান কারা? তাহলে আপনার অনেক প্রশ্ন বা সন্দেহের জবাব আপনি নিজেই খুজে পাবেন।

মুত্তাকীদের পরিচয় ২:৩,৪ আয়াতে দেয়া আছে।


“যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।”


মুমেন মানে বিশ্বাসী। কিসে বিশ্বাস ? অদেখা বিষয়, সকল আসমানি কিতাব ও আখিরাতে বিশ্বাস।

মুসলমান হলো তারাই , যারা আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তার ( নামে কি এসে যায় , আল্লাহ , ভগবাণ ,গড , ইয়াহয়ে ইত্যাদি যে কোন নামেই ডাকা যায়) কাছে আত্মসমর্পন করে তার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে। এ কারনেই সকল রসুলদের অনুসারীদেরকে কোরানে মুসলমান বলা হয়েছে। শুধু কোরান/ মুহম্মদের অনুসারীরাই মুসলমান এমন দাবি কোরান অনুযায়ী ঠিক নয়। মুসলমান হওয়ার জন্য ধর্মান্তর নিষ্প্রয়োজন! ধুতি, পৈতা, প্যান্ট-সার্ট ত্যাগ করে নুনু কাটা, দাড়ি রাখা, যুব্বা-কাব্বা, স্যালোয়ার কামিজ পরা , সুরমা, মেহদি লাগানো অপ্রয়োজন। কারণ আল্লাহ বয়স, রূপ-রস চেহারা পিয়াসী নন! এমন কি পশু-পক্ষি, আগুন-পানি, আলো-বাতাসো মানুষের রূপ চেহারায়  আকৃষ্ঠ হয়না।

কোরান শুধুমাত্র মুত্তাকীদের জন্য। যারা মুত্তাকী না , তাদের কাছে কোরান মিথ্যা মনে হবেই। এর বিরুদ্ধে যুক্তি তর্কেরো অভাব হবে না। যার বড় প্রমাণ আপনার এই পোস্ট। আপনি কি মুত্তাকী? আপনার এই পোস্ট সাক্ষ্য দেয় , কোরান সত্য।

Sunday, August 16, 2020

অধিকাংশ

 অধিকাংশের দোহাই দেওয়া এসমাজের লোকদের একটা রোগে পরিনত হয়েছে। যেমন কেউ    কেউ বলে এত লোকএত হুজুর সবাই কী ভুল করেঅথচ তারা একটু ভেবে দেখে না এটা একটা প্রহসনশয়তানের হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলার আইনের কথা যারা বলে তারা   আল্লাহ্‌র দেখানো আইনের বিরুদ্ধে চলেদেখুন অধিকাংশ সম্পর্কে আল্লাহ পাকের একটা আয়াতই যথেষ্ট ছিল। তথাপিও কথাটা কুরআন ঘুরে ঘুরে বলে , তবুও আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।


১। অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। (/সূরা আল বাক্বারাহ১০০)



২। মানুষের মধ্যে অধিকাংশই নাফরমান। (/সূরা আল মায়েদা৪৯)



৩। তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই। (/সূরা মায়েদাহ১০৩)



৪। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (/সূরা আল আনআম৩৭)



৫। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মূর্খ। (/সূরা আল আনআম১১১)



৭। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। (/সূরা আল রাফ১৭)



৮। আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনিবরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী। (/সূরা আল রাফ১০২)



৯। অধিকাংশই জানে না। (/সূরা আল রাফ১৩১)



১০। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়। (/সূরা আল আনফাল৩৪)



১১। তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী। (/সূরা আত তাওবাহ)



১২। তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলেঅথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোনো কাজেই আসে না।



১৩। বরং তাদের অধিকাংশই সত্য জানে নাঅতএব তারা টালবাহানা করে। (২১/সূরা আম্বিয়া২৪)



১৪। তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। (২৩/সূরা আল মুমিনূন৭০)



১৫। আপনি কি মনে করেন যেতাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝেতারা তো চতুস্পদ জন্তুর মতবরং আরও পথভ্রান্ত।(২৫/সূরা আল ফুরকান৪৪)



১৬। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। (২৬/সূরা আশ শোআরা)



১৭। তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। (২৬/সূরা আশ শোআরা২২৩)



১৮। তাদের অধিকাংশই জানে না। (২৭/সূরা নমল৬১)



১৯। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (২৮/সূরা আল কাসাস৫৭)



২০। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। (২৯/সূরা আল আনকাবুত৬৩)



২১। তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। (৩০/আর রূম)



২২। তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। (৩১/সূরা লোকমান২৫)



২৩। তাদের অধিকাংশের জন্যে শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। (৩৬/সূরা ইয়াসীন)



২৪। তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল। (৩৭/সূরা আস সাফফাত৭১)



২৫। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেতারা শুনে না। (৪১/সূরা হামীম সেজদাহ)



২৬। আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছিকিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ! (৪৩/সূরা যুখরুফ৭৮)



২৭। আপনি বলুনআল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেনঅতঃপর মৃত্যু দেনঅতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেনযাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। (৪৫/সূরা আল জাসিয়া২৬)



২৮। অধিকাংশই অবুঝ। (৪৯/সূরা আল হুজরাত)



২৯। সুতরাংআপনি কি মনে করেন তাদের অধিকাংশ শুনে অথবা বুঝেতারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং আরও পথভ্রান্ত।(২৫:৪৪)



৩০। অধিকাংশই জানে না। (৩৪:২৮,৩৬)



৩১। তাদের অন্তর রয়েছেতার দ্বারা বিবেচনা করে নাতাদের চোখ রয়েছেতার দ্বারা দেখে নাআর তাদের কান রয়েছেতারদ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতবরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেলশৈথিল্যপরায়ণ। (সূরা আলরাফ:১৭৯)



৩২। বস্তুত তারা অধিকাংশই অনুমানের উপর চলে। (১০:৩৬)



৩৩। তারা আল্লাহর আয়াতকে বানচাল করার চেষ্টা করে। (সাবা )



৩৪। তারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্ক করে (৪০:৩৫,৫৬)



৩৫। কাফেররাই আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্ক করে। (৪০:)



৩৬। অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে কিন্তু সাথে শিরিকও করে। (সূরা ইউসুফ১০৬)



৩৭। সুতরাং অধিকাংশের কথা মতো চলো তা হলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। (সূরা আনআম১১৬)



৩৮। এরাই তারা যারা কুরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে ফুরকান ৩০। (সূরা ইউনুস/১০৩৬)



৩৯। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। (১২/সূরা ইউসুফ২১)



৪০। অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাপার সম্পর্কে অবগত নয়। (১২/সূরা ইউসুফ৬৮)



৪১। আপনি যতই চান না কেনঅধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। (১২/সূরা ইউসুফ১০৩)



৪২। অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেকিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (১২/সূরা ইউসুফ১০৬)



৪৩। অধিকাংশ মানুষ এতে বিশ্বাস করে না। (১৩/সূরা রাদ)



৪৪। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনেএরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ। (১৬/সূরা নাহল৮৩)



৪৫। তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। (১৬/সূরা নাহল১০১)



৪৬। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি। (১৭/সূরা বনী ইসরাঈল৮৯)


সৌজন্যেমুরাদ বিন আমজাদ।